বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

মহান মে দিবসে সাতক্ষীরায় ফার্নিচার ও রং শ্রমিক ইউনিয়নের র‌্যালি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
মহান মে দিবসে সাতক্ষীরায় ফার্নিচার ও রং শ্রমিক ইউনিয়নের র‌্যালি

নিজস্ব প্রতিনিধি: “শ্রমিক মালিক ভাই ভাই সোনার বাংলা গড়তে চাই” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সাতক্ষীরা সদর ফার্নিচার ও রং শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজনে শহরের পাকাপোল মোড় হতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সঙ্গীতা মোড়স্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

 

সাতক্ষীরা সদর ফার্নিচার ও রং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিয়ারাজ আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইছহাক সরদারের সঞ্চালনায় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ সরদার, সহ-সভাপতি আসাদুল ইসলাম, কামাল হোসেন, সহ-সম্পাদক আমিনুল মোল্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক আবিয়ার হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, আবু হাসান ও হাফিজুল ইসলাম প্রমূখ। এসময় সাতক্ষীরা সদর ফার্নিচার ও রং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

 

Ads small one

ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম
নিজস্ব প্রতিনিধি: যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ভলান্টিয়ার্স স্পার্ক আদারস (ভিএসও) বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ভলান্টিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (ভিডিএফ) সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচন-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনে জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে মো. হোসেন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইব্রাহিম খলিল নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচন-২০২৬-এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. আবুল হোসেনের আদেশক্রমে নির্বাচন কমিশনার নাজিয়া তারান্নুম স্বাক্ষরিত পত্রে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) সারাদেশে একযোগে ভিডিএফের জেলা নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে ভিডিএফ সাতক্ষীরা জেলা কমিটির ৫৭ জন সদস্য ভোট প্রদান করেন। ভোটগ্রহণ শেষে পরদিন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে জেলা নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি-১ (কৌশল ও পরিকল্পনা) পদে মিলন কুমার বিশ্বাস, সহসভাপতি-২ (কার্যক্রম ও পরিচালনা) পদে মো. ইলিয়াস হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে উম্মে ফুয়ারা, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অর্পণ বসু এবং কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম সাজেদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
ফলাফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সভাপতি মো. হোসেন আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, সাতক্ষীরার যেকোনো স্থানীয় সংকট ও সমস্যা সমাধানে এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং তরুণ ভলান্টিয়ারদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। যেকোনো মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সফলতা অর্জন করতে তারা স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজ এবং সকল ভলান্টিয়ারের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন তারা।
উল্লেখ্য, ভলান্টিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (ভিডিএফ) ভিএসও বাংলাদেশের সরাসরি সহযোগিতায় পরিচালিত বাংলাদেশব্যাপী তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক। দেশের ৬৪টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা এ সংগঠনটি যুব নেতৃত্বের বিকাশ, জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে টেকসই সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

৭৭ বছরে পা রাখলেন প্রবীণ সাংবাদিক শেখ আব্দুল ওয়াজেদ কচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
৭৭ বছরে পা রাখলেন প্রবীণ সাংবাদিক শেখ আব্দুল ওয়াজেদ কচি

পত্রদূত রিপোর্ট: ৭৬ পেরিয়ে ৭৭ বছরে পা রাখলেন সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিক, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার ও দ্য এডিটরস এর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল ওয়াজেদ কচি।

বাংলা ১৩৫৮ সালের ১০ ভাদ্র তিনি নড়াইল জেলার কামালপ্রতাপ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তৎকালীন ইউনিয়ন কৃষি সহকারী (ইউ.এ.এ) মরহুম শেখ মিরাজ উদ্দিন ও গৃহিনী মরহুম কায়ামন নেছা দম্পতির আট ছেলে-মেয়ের মধ্যে সাংবাদিক কচি মেজ।

তিনি ১৯৭০ সালে কাশিপুর অম্বিকা চরণ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৭১ সালে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নড়াইল জেলার (৮নং সেক্টর) কালিয়ায় মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। তিনি গেরিলা ট্রেনিংপ্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭২ সালে ঢাকায় গিয়ে সেকেন্দার হায়াত মজুমদার সম্পাদিত সাপ্তাহিক ও পরবর্তীতে দৈনিক পূর্বাভাস পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন শেখ আব্দুল ওয়াজেদ কচি।

সাংবাদিক কচি দৈনিক পূর্বাভাস পত্রিকায় ‘অধম’ নামে সপ্তাহে চারদিন ‘ডোন্ট মাইন্ড’ শিরোনামে কলাম লিখতেন।

তৎকালীন দেশের চারটি পত্রিকা ছাড়া সব পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি গ্রামে ফিরে যান। পরে পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি হলে নড়াইল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক প্রান্তিক পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করার পর যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক রানার পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন।

তিনি ঢাকায় থাকাকালীন দৈনিক আজাদ পত্রিকায় মাঝে মধ্যে কলাম লিখতেন এবং খুলনা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক গণবার্তার ঢাকা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৭৮ সালে তিনি সাতক্ষীরায় আসেন এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার রাজার বাগান এলাকায় জমি কিনে স্থায়ী হন ও তৎকালীন সময়ে সাতক্ষীরার একমাত্র পত্রিকা আব্দুল মোতালেব সম্পাদিত কাফেলায় (সাপ্তাহিক, পরবর্তীতে দৈনিক) যোগ দেন। কাফেলায় কর্মরত অবস্থায় তিনি যশোরের দৈনিক স্ফুলিংগ পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করেছেন। এরপর তিনি ১৯৮৬ সালের ৪ জুন দৈনিক ইনকিলাব বাজারে আসলে সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা হিসেবে যোগ দেন এবং অদ্যাবধি তিনি দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি আব্দুল মোতালেব সম্পাদিত দৈনিক কাফেলায় টানা প্রায় ১৭ বছর কর্মরত ছিলেন। পরে কিছুদিন সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের বার্তায় কাজ করেছেন।

বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা থেকে পরিচালিত মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল দ্য এডিটরস এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

তার নেতৃত্বে দ্য এডিটরস সাতক্ষীরা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ সাংবাদিক কচির এখন দিন কাটছে পত্রিকা পড়ে, এডিটরসকে পরামর্শ দিয়ে।

জন্মদিনে তার জন্য অজস্র শুভ কামনা।

সংস্কৃতি, অর্থনীতি, চিংড়ি শিল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাবনার জেলা সাতক্ষীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতি, অর্থনীতি, চিংড়ি শিল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাবনার জেলা সাতক্ষীরা

শ্যামল শীল

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সাতক্ষীরা। খুলনা বিভাগের অন্তর্গত এই উপকূলীয় জেলা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বিশাল অংশ, বিস্তীর্ণ নদ-নদী, জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বনাঞ্চল, দেশের অন্যতম বৃহৎ চিংড়ি উৎপাদন এলাকা এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্যের কারণে সাতক্ষীরা আজ দেশ-বিদেশে সুপরিচিত।

জেলার উত্তরে যশোর, পূর্বে খুলনা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও ভোমরা স্থলবন্দরকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশের বাণিজ্যে সাতক্ষীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় অবস্থানের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলেও এখানকার মানুষ সংগ্রাম করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছেন।

সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় পরিচয় বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন। শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনী ও নীলডুমুরসহ বিভিন্ন পর্যটন পয়েন্ট দিয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, কুমির, শুশুক, বানর এবং শত শত প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল এই বন শুধু জীববৈচিত্র্যের ভান্ডারই নয়, বরং উপকূলকে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করার প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবেও কাজ করে।

অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি চিংড়ি শিল্প। বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদনে দেশের শীর্ষস্থানীয় জেলা হিসেবে সাতক্ষীরা “সাদা সোনার জেলা” নামে পরিচিত। জেলার হাজার হাজার কৃষক, মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তা এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এখানকার উৎপাদিত চিংড়ি ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ সম্পদের উৎপাদনও জেলার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

কৃষিতেও সাতক্ষীরা একটি সম্ভাবনাময় জেলা। এখানকার হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, আম্্রপালি ও ফজলি আম দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। গ্রীষ্ম মৌসুমে সাতক্ষীরার আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। এছাড়া সুন্দরবনের খাঁটি মধু, গোলপাতা, মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বনজ সম্পদ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন মসজিদ, মন্দির, জমিদার বাড়ি, দিঘি ও প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন। তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ, দেবহাটার ঐতিহাসিক স্থাপনা, শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দির, কলারোয়ার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা এবং ভোমরা স্থলবন্দর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি মোজাফফর গার্ডেন, লেকভিউ, নদীবেষ্টিত প্রাকৃতিক পরিবেশ, সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ও গ্রামীণ জীবনযাত্রা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।

শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা, ক্রীড়া ও সামাজিক উন্নয়নেও সাতক্ষীরার মানুষ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত অসংখ্য কৃতী ব্যক্তি এই জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রেও সাতক্ষীরা একটি সমৃদ্ধ জনপদ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় এই জেলায়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও এখানকার মানুষ কৃষি, মৎস্য ও জীবিকার নতুন নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছেন। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন, নিরাপদ সুপেয় পানি, ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের নানা কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটনের সম্প্রসারণ, সীমান্ত বাণিজ্যের প্রসার এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সাতক্ষীরা প্রতিনিয়ত নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে সাতক্ষীরা দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ও আধুনিক জেলায় পরিণত হবে।
প্রকৃতি, সুন্দরবন, চিংড়ি শিল্প, সুস্বাদু আম, খাঁটি মধু, নদ-নদী, উপকূলীয় সৌন্দর্য, সীমান্ত বাণিজ্য এবং সংগ্রামী মানুষের জীবনচিত্র-সবকিছু মিলিয়ে সাতক্ষীরা সত্যিই বাংলাদেশের গর্ব, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র।

লেখক: সাবেক জবি শিক্ষার্থী ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা।