শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মেধা ও উদ্ভাবনে খুদে বিজ্ঞানীদের চমক: সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
মেধা ও উদ্ভাবনে খুদে বিজ্ঞানীদের চমক: সাতক্ষীরায় বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সদর উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ‘স্টার্টআপ বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী’ শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সাতক্ষীরা নবারুণ বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (ইইএসএস), এসইডিপি এবং ঢাকার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

মেলা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর কবীর এবং সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবুল হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন নবারুণ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল মালেক গাজী, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্বাস আলী সরদার এবং সাবেক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মনজুরুল হক। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপমা আহমেদ নাবিলা।

খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও প্রকল্প মূল্যায়নে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ইয়াকুব আলী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নিত্যানন্দ কুমার, আইসিটি বিভাগের প্রভাষক দেবাশীষ দাস এবং সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রভাষক মোঃ আফজাল করিম।
উপজেলা পর্যায়ের এই বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৮টি স্টল স্থান পায়। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। স্টলগুলোতে খুদে বিজ্ঞানীরা তাদের চমৎকার সব উদ্ভাবনী আইডিয়া ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করে নজর কাড়েন সবার।

মেলার প্যান্ডেলে ঢুকতেই প্রথমেই চোখে পড়ে বাঁকাল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্টল। কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া থেকে কার্বন শোষণ করে কীভাবে বাতাসে সাদা ধোঁয়া ছাড়া যায় এবং পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা যায়, সেই প্রযুক্তি প্রদর্শন করে তারা নজর কেড়েছে। একই ধরনের প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে সাতক্ষীরা পলাশপোল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরাও।

সাতক্ষীরা প্রাণনাথ হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা বর্জ্য ব্যবহার করে কীভাবে শক্তি উৎপাদন করা যায়, তা প্রদর্শন করে। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা টাউন গার্লস হাইস্কুলের স্টলে প্রদর্শন করা হয় পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্রযুক্তি।
দেশের সীমান্ত রক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদারে অটো রাডার ও মিসাইল সিস্টেম কীভাবে কাজ করে, তা প্রযুক্তির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে সাতক্ষীরা টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

চমৎকার পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় একটি সমৃদ্ধ আধুনিক কৃষি ও খামার প্রকল্প প্রদর্শন করে নজর কেড়েছে দ্য পোল স্টার অ্যান্ড পৌর হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। ভিন্নধর্মী এক আইডিয়া নিয়ে হাজির হয়েছিল পল্লী মঙ্গল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। রাস্তার ওপর দিয়ে মানুষ হাঁটলে বা চাপ পড়লেই কীভাবে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব, তা দেখিয়েছে তারা।
মেলায় নবারুণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি মেগা প্রকল্প প্রদর্শন করে। আগামী ৫০ বছর পর সাতক্ষীরা শহর কেমন হতে পারে-তার একটি দারুণ চিত্র তুলে ধরেছে তারা। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও খাদ্য, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বাসস্থানের আধুনিক রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়।

ফসলের মাঠ বা টবের মাটি শুকিয়ে গেলে কীভাবে মানুষের সাহায্য ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ দেওয়া সম্ভব, সেই অভিনব প্রযুক্তি দেখিয়েছে ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা। আর পানি বিশুদ্ধকরণের সহজ প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে সাতক্ষীরা নবজীবন ইনস্টিটিউটের খুদে বিজ্ঞানীরা। বল্লী আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে কীভাবে পানির সাহায্যে রকেট উড্ডয়ন করা যায়। একই সাথে তারা সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের উপায়ও প্রদর্শন করে। অন্যদিকে, সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করেছে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মেলায় বেশ নান্দনিক উপস্থাপনা ছিল সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। অতিরিক্ত লোড বা ওজনের কারণে পিচের রাস্তা নষ্ট হওয়া রোধে তারা একটি প্রযুক্তি প্রদর্শন করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো যানবাহন অতিরিক্ত লোড নিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে থেমে যাবে এবং চালক আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে যাবেন। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণেও তারা পৃথক প্রদর্শনী করে সবার নজর কাড়ে।
খুদে বিজ্ঞানীদের এমন সব উদ্ভাবনী ও আধুনিক চিন্তাভাবনা মেলায় আসা শিক্ষক, বিচারক ও দর্শনার্থীদের ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে।

সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় ১৯৪টি স্টলে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। আগামী ১৪ জুন অনুষ্ঠিত হবে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা। এরপর জাতীয় পর্যায়ে জেলা থেকে বিজয়ী দল অংশ নিবে। জাতীয় পর্যায়ে সারা দেশ থেকে ১০০টি দল অংশগ্রহণ করবে। সেখান থেকে সেরা ১০টি দলকে পুরস্কৃত করা হবে।

 

Ads small one

বনবিভাগের অভিযানে ১১০০ কেজি মধুসহ ১১ মৌয়াল আটক, চুক্তির মাধ্যমে বনে প্রবেশের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
বনবিভাগের অভিযানে ১১০০ কেজি মধুসহ ১১ মৌয়াল আটক, চুক্তির মাধ্যমে বনে প্রবেশের অভিযোগ

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মধু আহরণ করে ফেরার পথে ১১০০ কেজি মধুসহ ১১ জন মৌয়ালকে আটক করেছে বনবিভাগ। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে সাতক্ষীরা রেঞ্জের টেংরাখালী বন টহল ফাঁড়ির সদস্যরা সুন্দরবনের গহীন এলাকা থেকে দুটি নৌকাসহ তাদের আটক করে।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত মৌয়ালরা নিষিদ্ধ সময়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মধু সংগ্রহ করছিলেন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ১১০০ কেজি মধু জব্দ করা হয়। পরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাতক্ষীরা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তবে আটক হওয়া মৌয়ালদের অভিযোগ, বনবিভাগের এক দালাল পরিচয়ধারী জালাল মোল্লার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। গত ১ জুন থেকে সুন্দরবনে সকল ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ওই চুক্তির ভিত্তিতেই তারা মধু সংগ্রহের জন্য বনে যান। নির্ধারিত সময় শেষে ফিরতে না পারার পরে ১২ জুন ফেরার পথে বনবিভাগের সদস্যদের হাতে আটক হন।

আটককৃত কয়েকজন মৌয়াল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টাকা দিয়ে বনে যাওয়ার পরেও যদি বনবিভাগ আমাদের আটক করে, তাহলে সেই চুক্তির মূল্য কী? এখন আমাদের জেল-জরিমানা গুনতে হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

আটককৃতরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামের বানছার উদ্দীন গাজীর ছেলে মো. আমজাত হোসেন (৬৪), হাকিম শেখের ছেলে মো. কামরুল শেখ (৪৫), মতিয়ার রহমানের ছেলে আল-আমিন (৪০), আছান হাবিব (৩৫), মো. রাব্বানী (৩৫), মো. হায়াত আলী গাজী (৫৫), মো. মোবারক শেখ (৩২), মো. বাবলু রহমান (৩০), মো. মনিরুল খাঁ (৩৮), মো. আবিয়ার মালী (৪৫) ও মো. কবিরুল ইসলাম (৪৫)।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় কীভাবে মৌয়ালরা সুন্দরবনে প্রবেশ করলেন এবং চুক্তির নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ কতটুকু সত্য- তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে চাইলে ও এবিষয়ে কোন বন কর্মকর্তারা কথা না বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

পশ্চিম বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান এর সাথে যোগাযোগের জন্য তার মুঠো ফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেনি।

 

 

 

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য পাঠাতে হবে হোয়াটসঅ্যাপে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য পাঠাতে হবে হোয়াটসঅ্যাপে

সংবাদদাতা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ১৫ জুন থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে সরাসরি অধিদপ্তরে পৌঁছাবে। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক একটি কেন্দ্রীয় নজরদারি কাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রকিব উদ্দিন স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি দেশের সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান অনেকাংশে নির্ভর করে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা এবং শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতির ওপর।

 

প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় শিক্ষক উপস্থিতি মনিটরিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি উপজেলার ক্লাস্টারভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে একটি করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠন করা হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তা (এইউপিইও/এটিপিইও) ওই গ্রুপের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিদিন কর্মদিবসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সকাল ৯টা ২০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে ক্লাস্টার গ্রুপে পাঠাতে হবে। ঢাকা মহানগরের ক্ষেত্রে এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট। সরকারিভাবে বিদ্যালয়ের সময়সূচি পরিবর্তন হলে বিদ্যালয় শুরু হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে তথ্য পাঠাতে হবে।

 

উপস্থিতি প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষক পদ, কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত শিক্ষকের সংখ্যা, বিভিন্ন ধরনের অনুমোদিত ছুটিতে থাকা শিক্ষক, প্রশিক্ষণে থাকা শিক্ষক, সংযুক্ত শিক্ষক এবং বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত শিক্ষকের সংখ্যা পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে। ক্লাস্টার পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পর সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তারা সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সমন্বিত প্রতিবেদন পাঠাবেন। উপজেলা পর্যায়ে সব ক্লাস্টারের তথ্য একত্র করে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে।

 

এরপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে বিভাগীয় উপপরিচালকের কাছে জেলার সারসংক্ষেপ পাঠাবেন। বিভাগীয় উপপরিচালকরা বিভাগের সব জেলার তথ্য একত্র করে দুপুর ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত এক্সেল শিটে তথ্য সংযোজন করে ই-মেইলেও প্রেরণ করতে হবে। অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ প্রতিদিন দেশের সব বিভাগের তথ্য সমন্বয় করে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষক উপস্থিতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে এবং তা মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করবে।

 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকদের শুধু উপস্থিতির তথ্য পাঠালেই হবে না, শিক্ষক হাজিরা খাতার সংশ্লিষ্ট অংশের ছবিও তুলে সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। এসব ছবি উপজেলা শিক্ষা অফিসে সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ ছাড়া উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে তথ্য সন্নিবেশনের জন্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা নির্ধারিত এক্সেল শিট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত শিক্ষকদের নামের তালিকাও ওই শিটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 

নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিক্ষক উপস্থিতি-সংক্রান্ত তথ্য সঠিক ও নির্ভুলভাবে প্রদান করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বাড়বে, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নতুন এই মনিটরিং ব্যবস্থা সেই লক্ষ্য অর্জনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

 

 

আমাদী ইউনিয়নের হরিনগরে গ্রামবাসির সাথে মত বিনিময় করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জুবায়ের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
আমাদী ইউনিয়নের হরিনগরে গ্রামবাসির সাথে মত বিনিময় করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী জুবায়ের

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার ১ নং আমাদী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড হরিনগর গ্রামবাসির সাথে এক মত বিনিময় করেছেন আমাদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাবেক ছাএনেতা মোঃ জুবায়ের রহমান। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে হরিনগর গ্রামবাসীর সাথে তিনি মতবিনিময় করেন।

এসময় তিনি বলেন, এলাকায় রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা, সুপেয় পানির সংকট ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

গ্রামবাসিরা বলেন, গ্রামের কাঁচা রাস্তাগুলো বর্ষায় চলাচলের অনুপযোগী। বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ বাড়ানো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।