বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য পাঠাতে হবে হোয়াটসঅ্যাপে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য পাঠাতে হবে হোয়াটসঅ্যাপে

সংবাদদাতা: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী নতুন মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আগামী ১৫ জুন থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য ধাপে ধাপে উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পেরিয়ে সরাসরি অধিদপ্তরে পৌঁছাবে। এ জন্য হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক একটি কেন্দ্রীয় নজরদারি কাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রকিব উদ্দিন স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি দেশের সব বিভাগীয় উপপরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা ও থানা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান অনেকাংশে নির্ভর করে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা এবং শিক্ষকদের সময়মতো উপস্থিতির ওপর।

 

প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশ নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় শিক্ষক উপস্থিতি মনিটরিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি উপজেলার ক্লাস্টারভিত্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে একটি করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠন করা হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তা (এইউপিইও/এটিপিইও) ওই গ্রুপের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিদিন কর্মদিবসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সকাল ৯টা ২০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষক উপস্থিতির তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে ক্লাস্টার গ্রুপে পাঠাতে হবে। ঢাকা মহানগরের ক্ষেত্রে এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট। সরকারিভাবে বিদ্যালয়ের সময়সূচি পরিবর্তন হলে বিদ্যালয় শুরু হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে তথ্য পাঠাতে হবে।

 

উপস্থিতি প্রতিবেদনে বিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষক পদ, কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত শিক্ষকের সংখ্যা, বিভিন্ন ধরনের অনুমোদিত ছুটিতে থাকা শিক্ষক, প্রশিক্ষণে থাকা শিক্ষক, সংযুক্ত শিক্ষক এবং বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত শিক্ষকের সংখ্যা পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে। ক্লাস্টার পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পর সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তারা সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সমন্বিত প্রতিবেদন পাঠাবেন। উপজেলা পর্যায়ে সব ক্লাস্টারের তথ্য একত্র করে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে।

 

এরপর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে বিভাগীয় উপপরিচালকের কাছে জেলার সারসংক্ষেপ পাঠাবেন। বিভাগীয় উপপরিচালকরা বিভাগের সব জেলার তথ্য একত্র করে দুপুর ১১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠাবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত এক্সেল শিটে তথ্য সংযোজন করে ই-মেইলেও প্রেরণ করতে হবে। অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ প্রতিদিন দেশের সব বিভাগের তথ্য সমন্বয় করে জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষক উপস্থিতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে এবং তা মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করবে।

 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষকদের শুধু উপস্থিতির তথ্য পাঠালেই হবে না, শিক্ষক হাজিরা খাতার সংশ্লিষ্ট অংশের ছবিও তুলে সহকারী উপজেলা বা থানা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে। এসব ছবি উপজেলা শিক্ষা অফিসে সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ ছাড়া উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে তথ্য সন্নিবেশনের জন্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ করা নির্ধারিত এক্সেল শিট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত শিক্ষকদের নামের তালিকাও ওই শিটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

 

নির্দেশনায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিক্ষক উপস্থিতি-সংক্রান্ত তথ্য সঠিক ও নির্ভুলভাবে প্রদান করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষককে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বাড়বে, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নতুন এই মনিটরিং ব্যবস্থা সেই লক্ষ্য অর্জনেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

 

 

Ads small one

সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
সবুজে সাজবে কলারোয়া, ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ তরুণ প্রকৌশলী চয়নের
কলারোয়া প্রতিনিধি:  বজ্রপাত প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামীর প্রজন্মের জন্য সবুজ ও বাসযোগ্য কলারোয়া গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১০০ কিলোমিটার সড়কে তালবীজ রোপণের পর এবার ৪০০ কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ সিভিল প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল চয়ন। সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় তিনি এ পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।
বৃহস্পতিবার কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বর ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে ৫০টি কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচির সূচনা হয়। উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিজ হাতে কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরসহ উপজেলার ১ নম্বর জয়নগর, ২ নম্বর জালালাবাদ, ৩ নম্বর কয়লা, ১০ নম্বর কুশোডাঙ্গা, ১১ নম্বর দেয়াড়া ও ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রধান বাজারে পর্যায়ক্রমে এসব কাঠবাদাম গাছের চারা রোপণ করা হবে। আগামী চার দিন এ কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে।
রোপণ করা চারাগুলো যাতে গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুর কারণে নষ্ট না হয়, সে জন্য প্রতিটি চারার চারপাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে চারাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেগুলোকে বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কলারোয়া উপজেলার ১২ নম্বর যুগিখালী ইউনিয়নের প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন আসিফ ইকবাল চয়ন। তাঁর রোপণ করা তালবীজের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে চারা গজিয়েছে। ওই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আগামী ছয় বছরের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন প্রধান ও আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটারজুড়ে তালবীজ রোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
পরিবেশবান্ধব এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সড়কের পাশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ-শ্যামল উপজেলা গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
আসিফ ইকবাল চয়ন বলেন, “একটি সবুজ ও সুন্দর কলারোয়া উপজেলা গড়ে তুলতে আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে হাত বাড়াই।”

আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৩ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস। এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বিরল এই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা এবং পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। তুষার চিতাবাঘ শুধু প্রকৃতির অপূর্ব সৃষ্টি নয়, এশিয়ার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ সুস্থ রাখারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়া মানে শুধু একটি প্রাণী হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় বিপদের সংকেত।

দিবসটির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকের নাম। ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর সেখানে প্রথম বৈশ্বিক তুষার চিতাবাঘ ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। তুষার চিতাবাঘের আবাসভুক্ত ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা এ প্রাণী সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিশকেক ঘোষণা গ্রহণ করেন। এর প্রথম বার্ষিকী স্মরণে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস পালিত হয়। পরে ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৩ অক্টোবরকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবস ঘোষণা করে।

বৈজ্ঞানিকভাবে তুষার চিতাবাঘের নাম প্যানথেরা আনসিয়া। সহজে দেখা যায় না বলে একে ‘পাহাড়ের ভূত’ বলা হয়। এরা মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের খাড়া, পাথুরে ও দুর্গম পরিবেশে বসবাস করে। সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার মিটার উচ্চতার এলাকায় এদের বিচরণ দেখা যায়। আফগানিস্তান, ভুটান, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান-এই ১২টি দেশে এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল বিস্তৃত। এর মধ্যে চীনে এদের আবাসস্থলের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে।

বিশ্বে বন্য পরিবেশে তুষার চিতাবাঘের সংখ্যা আনুমানিক ৪ হাজার থেকে ৭ হাজারের মধ্যে বলে বিভিন্ন সংস্থা ধারণা করে। তবে দুর্গম আবাসস্থল, বিচরণক্ষেত্রের বিশালতা এবং সঠিক গণনার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন। এ প্রজাতির কোনো স্বীকৃত পৃথক উপপ্রজাতি বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত নয়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের লাল তালিকায় তুষার চিতাবাঘ ‘সংবেদনশীল’ শ্রেণিতে রয়েছে। অর্থাৎ প্রজাতিটি বন্য পরিবেশে বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৯৭৫ সাল থেকে এটি বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের বিপন্ন প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কনভেনশন-সাইটিসের পরিশিষ্ট-১ এবং ১৯৮৬ সাল থেকে পরিযায়ী বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক কনভেনশনের পরিশিষ্ট-১-এ অন্তর্ভুক্ত।

তুষার চিতাবাঘ পাহাড়ি খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ শিকারি প্রাণী। এরা মূলত আইবেক্স, নীল ভেড়া ও অন্যান্য বুনো তৃণভোজী প্রাণী শিকার করে। এর মাধ্যমে শিকারযোগ্য প্রাণীর সংখ্যা ও চারণের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। তুষার চিতাবাঘকে আমব্রেলা স্পিসিস বা ছাতাপ্রজাতি বলা হয়, কারণ এদের সংরক্ষণের জন্য বিস্তৃত প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হয়। ফলে একই সঙ্গে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থানও সুরক্ষিত হয়। এরা কীস্টোন স্পিসিস হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এদের উপস্থিতি একাই কোনো অঞ্চলের পানির উৎস বা পরিবেশের সুস্থতার নিশ্চয়তা দেয় না; বরং অন্যান্য পরিবেশগত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে এদের অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়।

তুষার চিতাবাঘের অস্তিত্ব আজ নানা সংকটে বিপন্ন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় ও আলতাইসহ বিভিন্ন পর্বতাঞ্চলের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল বদলে যাচ্ছে। বনসীমা উঁচুতে উঠে যাওয়া, মানুষের বসতি বৃদ্ধি, খনি খনন ও সড়ক নির্মাণের কারণে তাদের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত ও খন্ডিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পশুচারণ এবং বন্য প্রাণী শিকারের ফলে আইবেক্স ও নীল ভেড়ার মতো প্রধান খাদ্যের প্রাপ্যতাও কমছে। পাশাপাশি চামড়া, হাড় ও অন্যান্য অঙ্গের অবৈধ বাণিজ্যের জন্য চোরাশিকার এদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বও একটি বড় সমস্যা। প্রাকৃতিক শিকার কমে গেলে তুষার চিতাবাঘ কখনো কখনো লোকালয়ে এসে ছাগল, ভেড়া কিংবা ইয়াক শিকার করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও রাখালেরা প্রতিশোধ নিতে এদের হত্যা করতে পারেন। এ সমস্যা কমাতে গৃহপালিত পশুর নিরাপদ খোঁয়াড় নির্মাণ, ক্ষতিপূরণব্যবস্থা, বিকল্প জীবিকার সুযোগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করা জরুরি। শুধু আইন করে নয়, পাহাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুষার চিতাবাঘ রক্ষার উদ্যোগ নিতে হবে।

তুষার চিতাবাঘের আবাসভুক্ত দেশগুলো প্রজনন কর্মসূচি, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং আন্তসীমান্ত সহযোগিতার মাধ্যমে এ প্রজাতি রক্ষায় কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক তুষার চিতাবাঘ ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা কর্মসূচি, রাশিয়ার তুষার চিতাবাঘ সংরক্ষণ কৌশল, নেপালের ২০২৪-২০৩০ সালের সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা, ভুটানের ২০২৪–২০৩৪ সালের কর্মপরিকল্পনা এবং পাকিস্তানের তুষার চিতাবাঘ ও বাস্তুতন্ত্র সুরক্ষা কর্মসূচি। পশ্চিম তিয়েন শান ও পামির-আলাই অঞ্চলে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের সমরখন্দ প্রস্তাব জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন ও সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

তুষার চিতাবাঘ সংরক্ষণ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিশেষ করে লক্ষ্যমাত্রা-৬ বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, লক্ষ্যমাত্রা-১৩ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং লক্ষ্যমাত্রা-১৫ স্থলজ বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অর্জনে পাহাড়ি পরিবেশ রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়কে এশিয়ার বহু মানুষের পানির ভান্ডার বলা হয়। এসব অঞ্চলের বন, তৃণভূমি, হিমবাহ ও নদীর স্বাভাবিক কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে সুস্থ বাস্তুতন্ত্র অপরিহার্য।

আন্তর্জাতিক তুষার চিতাবাঘ দিবসে ডব্লিউডব্লিউএফ, স্নো লেপার্ড ট্রাস্টসহ বিভিন্ন সংস্থা সচেতনতামূলক প্রচার, গবেষণা, সংরক্ষণ তহবিল সংগ্রহ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেও সচেতনতা ছড়ানো যায়। তবে দিবসটি পালনের সার্থকতা শুধু প্রচারে সীমাবদ্ধ নয়; অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বন্ধ, আবাসস্থল সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য। তুষার চিতাবাঘ বাঁচলে পাহাড়ি প্রকৃতির অসংখ্য প্রাণ ও উদ্ভিদ রক্ষার সুযোগ বাড়বে। তাই আসুন, তুষার চিতাবাঘের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল হই।

 

 

 

 

দ্রুত বিচার, দুর্নীতিমুক্ত আদালত: সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
দ্রুত বিচার, দুর্নীতিমুক্ত আদালত: সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সাতক্ষীরা জেলা জজ কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাম্প্রতিক মামলার পরিসংখ্যান যেকোনো সচেতন নাগরিককে ভাবিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। জেলাজুড়ে বর্তমানে মোট বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার থেকে ৭৭ হাজার। একটি সীমান্তবর্তী জেলায় মামলার এই বিশাল সংখ্যা শুধু বিচারব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপই তৈরি করছে না, বরং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের জীবনকে করে তুলছে স্থবির।

‎মামলার এই বিভাজন বিশ্লেষণ করলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়। জেলা জজের আওতাধীন আদালতে (দেওয়ানি ও ফৌজদারি) বিচারাধীন রয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার-এর বেশি মামলা। এর মধ্যে দেওয়ানি মোকদ্দমার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি-প্রায় ২৪ হাজার ৮৯৩টি। বছরের পর বছর ধরে চলা ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ এবং পারিবারিক ও সম্পত্তিসংক্রান্ত জটিলতাও এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। এর বাইরে ফৌজদারি মামলা রয়েছে ১৩ হাজার ২৮৭টি এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আটকে আছে ৭ হাজার ২৩৬টি মামলা। অন্যদিকে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (আমলি ও বিচারিক) মামলার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৮১০টি।

‎এই পরিসংখ্যানের পেছনের গল্পটি বেশ বেদনাদায়ক। একটি মামলার পেছনে বছরের পর বছর ঘুরতে গিয়ে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ আজ নিঃস্ব। জমিজমার বিরোধ কিংবা ফৌজদারি অপরাধের সুরাহা পেতে দিনের পর দিন আদালতের বারান্দায় জুতো ক্ষয় করছেন বিচারপ্রার্থীরা। মামলা পরিচালনার খরচ, যাতায়াত ব্যয় এবং বারবার আদালতে হাজির হওয়ার কারণে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ছে।

‎এর মধ্যে আদালতকেন্দ্রিক ঘুষ-বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে নিঃস্ব, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের অনিয়ম ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। ‎সময়মতো বিচার না পাওয়া বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্তা হারাচ্ছে।

‎এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মামলাজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বিচারকের শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন মামলাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সাক্ষীদের সময়মতো হাজির করা, তদন্তে অযথা বিলম্ব কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় মুলতবি এড়ানোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেওয়ানি বিরোধের ক্ষেত্রে আইনসম্মত মধ্যস্থতার সুযোগ কাজে লাগানো গেলে কিছু মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিও সম্ভব।

‎সাতক্ষীরার মামলাজট শুধু আদালতের সমস্যা নয়; এটি হাজারো বিচারপ্রার্থীর জীবন, সময় ও অর্থের সঙ্গে জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা। আদালতের দীর্ঘ বারান্দায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করা মানুষের দীর্ঘশ্বাস যেন ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বস্তিতে রূপ নেয় এটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা।