মেসির কোলের সেই শিশুই বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষ
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আবেগঘন লড়াইগুলোর একটি অপেক্ষা করছে আগামী রোববার। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। এই ম্যাচে একদিকে যেমন আছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। তবে এই দুই ফুটবলারের সম্পর্কের শুরু আজকের নয়—প্রায় দুই দশক আগে যখন ইয়ামাল ছিলেন মাত্র কয়েক মাসের শিশু।
নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফাইনালে ৩৯ বছর বয়সী মেসির বিপক্ষে খেলবেন ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল। এটি হবে মাঠে তাদের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো একসময় এই ইয়ামালকেই কোলে নিয়েছিলেন এবং গোসল করিয়েছিলেন তরুণ মেসি।
২০০৭ সালে বার্সেলোনা ও জাতিসংঘের শিশু তহবিলের যৌথ উদ্যোগে একটি দাতব্য বর্ষপঞ্জির জন্য বিশেষ আলোকচিত্র ধারণের আয়োজন করা হয়েছিল। লটারিতে বিজয়ী হয়ে ইয়ামালের পরিবার ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পায়। সেই খেলোয়াড় ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। ওই আয়োজনেই তোলা হয়েছিল ইতিহাস হয়ে যাওয়া ছবিগুলো।
দুই বছর আগে স্পেনের হয়ে ইয়ামালের উত্থানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো নতুন করে ভাইরাল হয়। ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ‘দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু।’ এরপর থেকেই ছবিগুলো ফুটবল বিশ্বে বিশেষ আলোচনার জন্ম দেয়।
আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত স্মৃতিচারণ করে জানান, প্রথমদিকে পরিস্থিতি কিছুটা অস্বস্তিকর ছিল। স্বভাবগতভাবেই লাজুক মেসি বুঝতে পারছিলেন না কীভাবে ছোট্ট শিশুটিকে কোলে নেবেন। কিন্তু সেই মুহূর্তই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী ছবিতে পরিণত হয়।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে বার্সেলোনার মূল দলে অভিষেকের পর ইয়ামাল অবিশ্বাস্য গতিতে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি বার্সেলোনার হয়ে একাধিক লিগ শিরোপা এবং স্পেনের হয়ে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে ফাইনালে তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে মেসি নিজের শেষ বিশ্বকাপ অভিযানে আরও একটি শিরোপা জিতে ক্যারিয়ারের সোনালি অধ্যায়ে নতুন সংযোজন করতে চান। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোল ও সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়া খেলোয়াড়দের অন্যতম এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আবারও প্রমাণ করেছেন বয়স কেবল একটি সংখ্যা।
অনেকেই ইয়ামালকে মেসির উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। তবে সেই তুলনার যথার্থতা প্রমাণ করতে হলে তাকে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। আর সেই যাত্রার সবচেয়ে বড় পরীক্ষাই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ফাইনাল। যে কিংবদন্তির কোলে বসে একসময় ছবি তুলেছিলেন এবার সেই মেসির বিপক্ষেই শিরোপার লড়াইয়ে নামবেন ইয়ামাল।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একদিকে কিংবদন্তির শেষ অভিযাত্রা, অন্যদিকে ভবিষ্যতের নতুন নক্ষত্রের আত্মপ্রকাশ—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অনন্য এক আবেগঘন গল্প।












