ম্যাপের ফেরে কুলিয়ার সরকারি জমি ও গাছ নিয়ে বিতর্ক
কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সীমানাসংলগ্ন জমি নিয়ে চলছে ম্যাপ ও মাপের লড়াই। উত্তর কুলিয়ার মাসুদ হোসেন ও দক্ষিণ কুলিয়ার কামরুল ইসলাম গংদের মালিকানাধীন জমির সঙ্গে পরিষদের সীমানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় গাছ কাটার ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি কোনো অপরাধ নয় বরং সরকারি সার্ভেয়ারের দেওয়া ভুল সীমানার ফল।
জানা গেছে, গত বছরের ৮ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পাঠানো সার্ভেয়ার লিজা খাতুন জমিটি পরিমাপ করেন। সেই মাপে কামরুল ও মাসুদ হোসেনের অংশে ৬.৭৩ শতক জমি নির্ধারিত হয়। সরকারি সেই সীমানা অনুযায়ী তাঁরা নিজেদের প্রাপ্ত জায়গায় থাকা কয়েকটি গাছ কেটে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
বিপত্তি ঘটে গত ২ এপ্রিল। মালিকপক্ষ নিজস্ব সার্ভেয়ার দিয়ে পুনরায় মেপে অতিরিক্ত জায়গা দাবি করলে পরিষদ কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর ৬ এপ্রিল ইউএনও’র পাঠানো সার্ভেয়ার নতুন ম্যাপ অনুযায়ী পুনরায় পরিমাপ করলে দেখা যায়, আগে পরিষদের অংশে ২৩ শতক জমি থাকলেও নতুন ম্যাপে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ শতকে। এতে মালিকপক্ষের জায়গা ৪ শতক কমে যায় এবং আগে কাটা গাছগুলো হঠাৎ করেই পরিষদের সীমানার ভেতরে পড়ে যায়।
জমির মালিক মাসুদ ও কামরুল ইসলাম বলেন, “প্রথমবারের সরকারি মাপে গাছগুলো আমাদের সীমানায় পড়েছিল বলেই আমরা সেগুলো অপসারণ করেছিলাম। নতুন ম্যাপে সীমানা বদলে যাওয়ায় এখন সেগুলো পরিষদের জায়গায় দেখাচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং কারিগরি ভুলের ফসল। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, সুষ্ঠু সমাধান চাই।”
কুলিয়ার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাষ মন্ডল বর্তমানে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয়দের মতে, একই জমিতে সরকারি সার্ভেয়ারের দুই ধরনের মাপে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি ‘ইচ্ছাকৃত অপরাধ’ না হয়ে ম্যাপের জটিলতাজনিত ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। প্রশাসনিকভাবে ম্যাপের এই অসামঞ্জস্য দূর না হলে এ ধরনের সীমানা বিরোধ আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।









