শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

শাকিরার জাদুতে মাতল অ্যাজটেকা: ঐতিহ্যের ক্যানভাসে বিশ্বকাপের বর্ণিল সাংস্কৃতিক মহোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ণ
শাকিরার জাদুতে মাতল অ্যাজটেকা: ঐতিহ্যের ক্যানভাসে বিশ্বকাপের বর্ণিল সাংস্কৃতিক মহোৎসব

মেক্সিকো সিটির আকাশ তখন উৎসবের আলোয় রঙিন। ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। ফুটবল বিশ্বের চোখ তখন মেক্সিকোতে। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দা উঠল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। তবে প্রথম বাঁশি বাজার আগের ৯০ মিনিট ফুটবলপ্রেমীরা ডুবে রইলেন এক অনন্য সাংস্কৃতিক মহোৎসবে, যেখানে ল্যাটিন ঐতিহ্য, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং আধুনিক পপ মিউজিকের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন দেখল বিশ্ব।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি ভিন্ন দেশে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে, যার প্রথমটি সম্পন্ন হলো মেক্সিকোতে। আর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং উত্তর আমেরিকার সংস্কৃতির এক বিশাল প্রদর্শনী হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

 

আদিবাসী ঐতিহ্যের নান্দনিকতা ও ‘পাপেল পিকাডো’র জাদু
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতেই গ্যালারি ও মাঠজুড়ে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প ‘পাপেল পিকাডো’ (কাগজ কেটে তৈরি বিশেষ নকশা)-এর আদলে তৈরি চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল ফুটিয়ে তোলা হয়। মেক্সিকোর নিজস্ব সাংস্কৃতিক শেকড়কে সম্মান জানাতে মঞ্চে হাজির হন দেশটির আদিবাসী পারফর্মাররা। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তাদের লোকনৃত্য এবং সমসাময়িক ফোকলোর অ্যাক্টের নান্দনিক কোরিওগ্রাফি পুরো স্টেডিয়ামকে এক মায়াবী আবহে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণিল পোশাক আর প্রযুক্তিনির্ভর থ্রিডি মঞ্চসজ্জা উদ্বোধনী আয়োজনের নান্দনিকতাকে নিয়ে যায় এক ভিন্ন উচ্চতায়।

 

মঞ্চ মাতালেন শাকিরা-বার্না বয়: প্রথমবার লাইভে ‘দাই দাই’
বিশ্বকাপের মঞ্চ আর কলম্বিয়ান পপ কুইন শাকিরা—এই দুটি নাম যেন একে অপরের পরিপূরক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণই ছিল এই পপ তারকার উপস্থিতি। মঞ্চে তার নাম ঘোষণা হতেই গ্যালারিতে রীতিকতো করতালির ঝড় ওঠে। নাইজেরিয়ান সুপারস্টার বার্না বয়ের সাথে মঞ্চে এসে শাকিরা পরিবেশন করেন ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যান্থেম বা থিম সং ‘দাই দাই’ । এই প্রথম গানটি কোনো লাইভ মঞ্চে পরিবেশন করলেন এই দুই গ্লোবাল আইকন। আফ্রোবিট আর ল্যাটিন পপের এই অনবদ্য ফিউশন দর্শকদের নাচতে বাধ্য করে।

 

ল্যাটিন ও মেক্সিকান তারকাদের মেলা
শুধু শাকিরা বা বার্না বয়-ই নন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে রঙিন করতে মেক্সিকোর ঘরের তারকা এবং বিশ্বখ্যাত ল্যাটিন শিল্পীদের এক বিশাল লাইনআপ জড়ো করেছিল ফিফা। কলম্বিয়ান তারকা জে বালভিন মঞ্চে ঝড় তোলেন তার জনপ্রিয় ট্র্যাকগুলো দিয়ে। বিশেষ করে তরুণদের ক্রেজ রায়ান কাস্ত্রো মঞ্চে এসে জে বালভিনের সাথে এক যুগল পরিবেশনায় মেতে ওঠেন।

মেক্সিকোর নিজস্ব সঙ্গীত ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে মঞ্চে আসেন গ্র্যামি জয়ী কিংবদন্তি পপ-রক ব্যান্ড ‘মানাঁ’। এছাড়া বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, লিলা ডাউনস এবং লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলসের মতো জনপ্রিয় মেক্সিকান ও ল্যাটিন শিল্পীদের একের পর এক পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ দেয়।

আবেগঘন জাতীয় সঙ্গীত ও সালমা হায়েকের উপস্থিতি
সাংস্কৃতিক আয়োজনের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন মেক্সিকোর অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ স্বদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অন্যদিকে উদ্বোধনী ম্যাচের অপর দল দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে শোনান দক্ষিণ আফ্রিকান তরুণ সেনসেশন টাইলা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই বিশাল আয়োজনে বিশেষ অতিথি ও ফিফা বিশ্বকাপের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মাঠে উপস্থিত ছিলেন মেক্সিকান-আমেরিকান একাডেমি অ্যাওয়ার্ড মনোনীত বিখ্যাত অভিনেত্রী ও পরিচালক সালমা হায়েক পিনল্ট। তিনি স্টেডিয়ামে উপস্থিত বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল ভক্তকে মেক্সিকোর মাটিতে স্বাগত জানান এবং ফুটবলের একতার বার্তা ছড়িয়ে দেন।

বিশ্বরেকর্ড ও তিন দেশের ত্রয়ী আয়োজন
মেক্সিকোর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইতিহাস গড়ে ফেলল অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম। বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) উদ্বোধনী ম্যাচ বা অনুষ্ঠান আয়োজনের অনন্য কীর্তি গড়ল পেলে-ম্যারাডোনার স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক মাঠ।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজনকে ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শো’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। মেক্সিকোর এই বর্ণিল সাংস্কৃতিক যজ্ঞের পর বিশ্বকাপের উদ্বোধনী রেশ ছড়াবে কানাডার টরন্টো এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে। যেখানে মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং কেটি পেরির মতো তারকারা নিজ নিজ দেশের সংস্কৃতির ডালি নিয়ে হাজির হবেন। তবে প্রথম রাতটি যে শাকিরা, বার্না বয় এবং মেক্সিকোর চোখধাঁধানো লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে রইল, তা বলাই বাহুল্য।

Ads small one

সারা দেশে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের আভাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
সারা দেশে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের আভাস

অনলাইন ডেস্ক: সারা দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সই করেন আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক।

 

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ভারতের ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন বিহার এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হতে পারে।

 

তিনি আরও জানান, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এ অবস্থায় আগামী শুক্র, শনি ও রোববার (২১-২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

 

সেই সঙ্গে এই তিন দিনে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে শনিবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও শুক্রবার ও রোববার তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

 

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাতক্ষীরার সুন্দরবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাতক্ষীরার সুন্দরবন

শ্যামল শীল

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু একটি বনাঞ্চল নয়, এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি প্রাকৃতিক অস্তিত্ব। এটি একাধারে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে, বিপন্ন প্রজাতির আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে, আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ।

সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশের ভেতরে অবস্থিত। এই বিস্ময়কর বনাঞ্চল ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বনের অভ্যন্তরে থাকা অসংখ্য নদী, খাল ও জলাশয় এটিকে একটি জটিল ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলেছে।

বাংলাদেশ প্রতিবছর নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়। বিশেষত ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সুন্দরবন একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে এসব দুর্যোগের তীব্রতা কমিয়ে আনে। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডর, ২০০৯ সালের আইলা, এবং সাম্প্রতিক ২০২৩ সালের মোখা সুন্দরবনের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল। এসব ঘূর্ণিঝড়ে বহু গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, বনের গঠনগত অবস্থান এবং ঘনত্ব উপকূলের জনবসতিকে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচিয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবনের গাছপালা জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা কমাতে সাহায্য করে এবং বায়ুর গতি শ্লথ করে, যার ফলে ঝড়ের প্রভাব অনেকটাই প্রশমিত হয়। তাই সুন্দরবনকে অনেকেই ‘প্রাকৃতিক ব্রেকওয়াল’ বা ঢাল বলে অভিহিত করেন।

সুন্দরবন রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত। এছাড়াও এখানে রয়েছে চিত্রা হরিণ, গাঙ্গেয় ডলফিন, মিঠা পানির কুমির, নানা জাতের পাখি ও কীটপতঙ্গ। বর্তমানে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির মুখে পড়েছে। পরিবেশগত বিপর্যয়, অবৈধ শিকার এবং প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংসের কারণে বহু প্রজাতি হুমকির মুখে। বনে রয়েছে ৩৩৪টিরও বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি, ৩৭৫টির মতো বন্যপ্রাণী এবং প্রায় ২৭০ প্রজাতির পাখি। এসব প্রাণী ও উদ্ভিদ সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করছে।
সুন্দরবন বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বনজ সম্পদ, মধু সংগ্রহ, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, নৌ-পর্যটনসহ নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে লক্ষাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এছাড়া সুন্দরবন প্রচুর পরিমাণে কার্বন শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সাহায্য করছে। এটি বাংলাদেশের জলবায়ু ভারসাম্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

দুঃখজনকভাবে, সুন্দরবন বর্তমানে নানা হুমকির মুখে। বন উজাড়, চোরাকারবারি, অযাচিত শিল্পায়ন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত পর্যটনের কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, লবণাক্ততা বাড়ছে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ হ্রাস পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন যে, এখনই যদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

সুন্দরবন রক্ষায় সরকার, পরিবেশবাদী সংস্থা ও সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। বন সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, বনাঞ্চলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উন্নয়ন সুন্দরবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সুন্দরবন বাংলাদেশের প্রাণ। এটি শুধু গাছপালার বন নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক জীবনবিন্দু, যা দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং প্রাণবৈচিত্র্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। সুন্দরবন বাঁচলে আমরা বাঁচব-এই বিশ্বাস নিয়ে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে সুন্দরবন রক্ষার দায়িত্বে।

লেখক: সাবেক, জবি শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা।

পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই: জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই: জেলা প্রশাসক

পত্রদূত ডেস্ক: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় বৃক্ষরোপণ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশ-এর কনসোর্টিয়াম গোফরইম্প্যাক্ট কর্মসূচির আওতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে গোফরইম্প্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি উপজেলা ও সাতক্ষীরা পৌরসভায় মোট ৫০ হাজার গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সাতক্ষীরায় সবুজায়ন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ বিষয়ে জনসচেতনতা আরও জোরদার হবে।