যুদ্ধবিরতির ঘণ্টা না পেরোতেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ৫
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামলায় ধ্বংস হয়েছে একাধিক আবাসিক ভবন। যুদ্ধবিরতির পরও হামলা অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টা নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পরও দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও সশস্ত্র ড্রোন থেকে একাধিক হামলা চালানো হয়। এছাড়া ভোরের আগে ওই এলাকায় গোলন্দাজ বাহিনীর গোলাবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে কয়েকটি বাড়িঘর ও স্থাপনা। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও নাবাতিয়েহ এলাকায় এক ডজনের বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বিবিসি তাদের লাইভ আপডেটে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। নাবাতিয়েহ এলাকার হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি উল্লেখ করেছে, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শুরু হওয়ার পরও একাধিক বিমান হামলা অব্যাহত ছিল।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগ মুহূর্তে এবং পরে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ইসরায়েলি হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েল আগেও একাধিকবার হামলা চালিয়েছে এবং সাম্প্রতিক হামলা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা শান্তি প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও সীমান্তে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, যা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বাস্তবে সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফলে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছিল। তবে হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকও অনিশ্চয়তায় পড়ে। পরিস্থিতির কারণে কূটনৈতিক তৎপরতায়ও প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। এজন্য প্রয়োজন হলে তারা অভিযান অব্যাহত রাখবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় তাদের কার্যক্রম চলবে।
অন্যদিকে লেবানন ও হিজবুল্লাহপন্থী সূত্রগুলোর অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও হামলা চালিয়ে ইসরায়েল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এতে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হামলা প্রমাণ করে যে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত এখনও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।









