বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

যে হাত একদিন নতুন প্রাণের স্পর্শ দিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
যে হাত একদিন নতুন প্রাণের স্পর্শ দিত

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ কোনো বাড়ি থেকে ছুটে আসে খবরÑ“দাই মাকে ডাকো, সময় হয়ে গেছে।” মুহূর্তেই ঘুম ভেঙে যেত তাঁর। হাতে একটি কাপড়ের ব্যাগ, সঙ্গে প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম। কাঁধে দায়িত্ব, মনে সাহস। কাদা মাড়িয়ে, বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে কিংবা নৌকায় নদী পার হয়ে তিনি পৌঁছে যেতেন প্রসূতি মায়ের কাছে। কয়েক ঘণ্টার উদ্বেগ শেষে যখন নবজাতকের প্রথম কান্না ভেসে উঠত, তখন শুধু একটি পরিবার নয়, যেন গোটা গ্রামই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলত। সেই মানুষটিই ছিলেন গ্রামের সবার প্রিয় দাই মাÑকোথাও তিনি পরিচিত ছিলেন ধরনী মা নামে। আজ সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না।

 

সময় বদলেছে, চিকিৎসাব্যবস্থা আধুনিক হয়েছে। হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী ও চিকিৎসকের হাতেই এখন অধিকাংশ সন্তান জন্ম নেয়। ফলে একসময় গ্রামীণ জনপদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা দাই মায়েরা আজ নীরবে হারিয়ে যাচ্ছেন ইতিহাসের পাতায়। একসময় আশাশুনি উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই একজন বা একাধিক অভিজ্ঞ দাই মা ছিলেন। কোনো নারী গর্ভবতী হওয়ার খবর পেলেই পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। গর্ভকালীন নানা পরামর্শ দেওয়া থেকে শুরু করে প্রসবকালীন সেবাÑসবই তিনি করতেন নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে।

 

চিকিৎসাবিজ্ঞানের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও মানবিকতা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। গ্রামের মানুষের কাছে দাই মা শুধু একজন সেবাদানকারী ছিলেন না; তিনি ছিলেন পরিবারের একজন আপনজন। প্রসব শেষে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হতো নতুন শাড়ি, চাল-ডাল, ফলমূল কিংবা সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার। অনেক সময় প্রসূতির বাবার বাড়ি থেকেও তাঁর জন্য আলাদা উপঢৌকন আসত। সেই সম্মান ছিল আন্তরিকতার, কৃতজ্ঞতার এবং সামাজিক স্বীকৃতির। প্রসব সফল হলে পরিবারের আনন্দে দাই মায়ের চোখেও জল আসত।

 

নবজাতককে কোলে নিয়ে তিনি আশীর্বাদ করতেন। সেই শিশুটি বড় হয়ে তাঁকে “দাই মা” বলেই চিনত। অনেকেই কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তাঁর খোঁজ নিতেন। আজ সেই সম্পর্কও অনেকটাই অতীত। প্রবীণ কয়েকজন দাই মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় মাসের অধিকাংশ দিনই তাঁদের ব্যস্ততায় কাটত। রাত-বিরাতের কোনো হিসাব ছিল না। মানুষ ডাকলেই ছুটে যেতেন। এখন মাসের পর মাস কোনো ডাকই আসে না। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই নারীরা অনেকেই আজ আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।

 

একজন প্রবীণ দাই মা আক্ষেপ করে বলেন, “আমার হাতে এই এলাকার শত শত সন্তান জন্ম নিয়েছে। আজ তারা বড় হয়েছে, অনেকেই চাকরি করে, কেউ ডাক্তার, কেউ শিক্ষক। কিন্তু আমাকে মনে রাখার সময় যেন কারও নেই।” তাঁদের এই কথায় শুধু ব্যক্তিগত কষ্ট নয়, ফুটে ওঠে একটি সমাজের স্মৃতিভ্রংশের চিত্র। অবশ্য এটিও সত্য, আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুহার কমাতে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। জটিল প্রসব, অস্ত্রোপচার, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যাÑএসব ক্ষেত্রে হাসপাতালের বিকল্প নেই।

 

তাই নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার প্রসার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑএই পরিবর্তনের মধ্যেও কি দাই মায়েদের অভিজ্ঞতার কোনো মূল্য নেই? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞ দাই মায়েদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তাঁরা গর্ভবতী নারীদের সচেতন করা, প্রসবপূর্ব ঝুঁকি চিহ্নিত করা, জরুরি রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো এবং নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও স্থানীয় ধাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজে লাগানোর নজির রয়েছে। দুঃখজনক হলো, আমাদের সমাজে দাই মায়েদের অবদান নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়। তাঁদের কোনো তালিকা নেই, নেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা সামাজিক নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা। অথচ কয়েক দশক আগেও গ্রামের পর গ্রামে নিরাপদ মাতৃত্বের প্রধান ভরসা ছিলেন তাঁরাই। সমাজ এগোবে, প্রযুক্তি বদলাবেÑএটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ভিড়ে যদি হারিয়ে যায় মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা, তবে উন্নয়ন পূর্ণতা পায় না।

 

যে নারীরা নিজের ঘুম, স্বাচ্ছন্দ্য আর ব্যক্তিগত জীবন বিসর্জন দিয়ে হাজারো শিশুকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন, তাঁদের অবদান ইতিহাসের প্রান্তে ঠেলে দেওয়া কোনো সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। আশাশুনির মতো উপকূলীয় জনপদের বহু দাই মা আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিঃশব্দে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের মুখে এখন আর বিজয়ের হাসি নেই, আছে শুধুই স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস। অথচ এই জনপদের অসংখ্য মানুষের জীবনের শুরু হয়েছিল তাঁদেরই স্নেহমাখা হাতের স্পর্শে। তাই সময় এসেছে এই মানুষগুলোর প্রতি নতুন করে তাকানোর।

 

তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানানো, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের কাজে লাগানো এবং অন্তত মানবিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কারণ, দাই মায়েরা কেবল একটি পেশার নাম নন; তাঁরা গ্রামবাংলার স্বাস্থ্য-ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ইতিহাস, যাঁদের অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়।

 

 

 

Ads small one

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪০ অপরাহ্ণ
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে

পত্রদূত রিপোর্ট: বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল আজ। মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ স্মরণ করে দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে পালন করছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা।
সাতক্ষীরায়ও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া আজ সংবাদপত্রের প্রকাশনাও বন্ধ রয়েছে।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাওহিদ, ন্যায়, সত্য, দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর প্রচারিত ইসলামের শান্তি, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী মানবসমাজে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করে।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কার কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের আগেই বাবা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। ছয় বছর বয়সে তিনি মা আমিনা (রা.)-কেও হারান। এতিম অবস্থায় বেড়ে উঠলেও তাঁর চরিত্রে সততা, আমানতদারি, সংযম ও উত্তম নৈতিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠে। এ কারণে মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত ও আমানতদার হিসেবে অভিহিত করেন।

মহানবী (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজ নানা ধরনের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত ছিল। পৌত্তলিকতা, কুসংস্কার, গোত্রীয় সংঘাত, হিংসা, অন্যায় ও বৈষম্য তখন সমাজ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীরভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে মহান আল্লাহ তাঁকে মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেন।

চল্লিশ বছর বয়সে মক্কার হেরা গুহায় মহানবী (সা.)-এর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়। এর মধ্য দিয়ে তাঁর নবুওয়াতের দায়িত্ব শুরু হয়। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মিথ্যা, জুলুম, শোষণ, অন্যায় ও বৈষম্য পরিহার করে ন্যায়, সততা, দয়া ও মানবিকতার পথে চলার শিক্ষা দেন।

মক্কার জীবনে মহানবী (সা.) ও তাঁর অনুসারীদের কঠিন নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদিনায় হিজরত করেন। সেখানে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মদিনার সমাজব্যবস্থায় পারস্পরিক দায়িত্ববোধ, সহাবস্থান, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রায় ২৩ বছর নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করে মহানবী (সা.) মানুষকে সত্য ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেন। তাঁর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের প্রতি দয়া, ক্ষমাশীলতা, সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এতিম, দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু ও সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ শুধু ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে ন্যায়, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার শিক্ষা রয়েছে। তাঁল আদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে আজকের দিনেও।
মহানবী (সা.) ৬৩ বছর বয়সে মদিনায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাত মুসলিম উম্মাহর জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাবিধুর ঘটনা। তাঁর সাহাবিদের কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর পার্থিব জীবনের অবসান তাঁদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, দোয়া, দান-খয়রাত ও বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি পালন করছেন। অনেকে নফল রোজাও রাখছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ-মাহফিল, ওয়াজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার রইচপুরে জশনে জুলুস র‌্যালি
সাতক্ষীরার রইচপুরে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে জশনে জুলুস র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ২৬ শে আগস্ট বুধবার সকাল ৬টায় রইচপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে সাতক্ষীরার রইচপুর আব্দুর রাজ্জাকের মোড় থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি সাতক্ষীরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে রইচপুর রাজ্জাকের মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আশেকে রসূল মাহবুব আলম, আলিপুর বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মো. আজগার আলী এবং সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মহসিন আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভা শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বাইতুল মামুর জামে মসজিদ (রইচপুর পশ্চিম পাড়া)-এর ইমাম ও খতিব হাফেজ মো. আব্দুল্লাহ।

দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশন
সাতক্ষীরার দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মদনমোহন পাল সভাপতিত্ব করেন।
বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সাবেক মৌলভী শিক্ষক মোঃ সিরাজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ছিদ্দিক আহম্মেদ, মোঃ আব্দুল্লাহ, আশরাফুজ্জামান, তাছলিমা পারভীন, রোজী সুলতানা, ফজলুল হক, বৈদ্যনাথ মন্ডল, চিরঞ্জিব ঘোষ, আলমগীর রহমান, জাকির হোসেনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়
সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বুধবার (২৬ মার্চ) অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও মানবতার শিক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সেলিমুল ইসলাম, শিক্ষক নাজমুল লায়লা, তৈবুর রহমান, কবীর আহমেদ, এম এম নওরোজ, শামীম পারভেজ, মো. সিরাজুল ইসলাম, বেগম রোজিনা বুলু, লিপিকা রানী মন্ডল, আমিনা খাতুন, বিপাশা রানী, পূর্ণ্যদেব পাল, তন্দ্রা মল্লিক প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক মো. আকারুজ্জামান। আলোচনা শেষে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কেক কাটা হয়।

সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে হাম-নাত প্রতিযোগিতা, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনের উপরে রচনা প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯ টায় কলেজের হলরুমে এ আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ফেরদৌস আরেফীন এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন চীপ ইন্সট্রাক্টর রঞ্জন কুমার সরকার, চীপ ইন্সট্রাক্টর মো. আনিসুর রহমান, ইনসট্রাক্ট মোস্তাফিজুর রহমান, মোস্তফা বাকি বিল্লাহ, মো. শরিফুল ইসলাম, মুস্তাকিন ইজাজ রসুল, আসাদুজ্জামান, আসমাতুল্লাহ, রেজওয়ানা সুলতানা, মিফতাহুল জান্নাত, স্বপ্না রানী ঘোষ, ধর্ম শিক্ষক মাওলা রুহুল কুদ্দুস প্রমুখ।

 

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন

সংবাদদাতা: পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, হিজরি ১৪৪৮ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসনের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ও সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের প্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর জীবন ও কর্মে রয়েছে মানবতা, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, শান্তি ও সম্প্রীতির অনন্য শিক্ষা।

বক্তারা আরও বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অতিথিরা। বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ ও চরিত্র তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়ন সাতক্ষীরার তৌফিকুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
ঢাকার পূর্বাঞ্চলে ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়ন সাতক্ষীরার তৌফিকুজ্জামান

সংবাদদাতা: ঢাকার পূর্বাঞ্চলে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়াইল্ড ৭০.৩ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন সাতক্ষীরার কৃতী ক্রীড়াবিদ তৌফিকুজ্জামান। তিনি সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা এম এম আব্দুর রউফের ছেলে।
বিশ্বের অন্যতম কঠিন সহনশীলতাভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় এমটিভি ক্যাটাগরিতে সাঁতার, সাইক্লিং ও দৌড়—তিনটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে প্রথম স্থান অর্জন করেন তৌফিকুজ্জামান।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১ দশমিক ১ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। দীর্ঘদিনের কঠোর অনুশীলন, শারীরিক সক্ষমতা, আত্মনিবেদন ও দৃঢ় মানসিকতার মাধ্যমে তৌফিকুজ্জামান এ সাফল্য অর্জন করেন।
এর আগে একই প্রতিযোগিতায় ২০২৪ সালে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২৫ সালে প্রথম রানারআপ হওয়ার কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর। ধারাবাহিক এই সাফল্যে সাতক্ষীরার ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৌফিকুজ্জামানের এই সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনধারার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তৌফিকুজ্জামান বলেন, এই অর্জন শুধু আমার নয়; এটি আমার পরিবার, কোচ ও সকল শুভাকাঙ্খীর। ভবিষ্যতে দেশের জন্য আরও বড় সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে আমি নিরলস পরিশ্রম করে যাব।