সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

অফসিজন তরমুজ চাষ: উপকূলীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
অফসিজন তরমুজ চাষ: উপকূলীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

Oplus_131072

সম্পাদকীয়

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার লবণাক্ততা-কবলিত অঞ্চল দেবহাটায় অসময়ে বা অফসিজনে তরমুজ চাষের যে সুবাতাস বইছে, তা নিঃসন্দেহে স্থানীয় অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা এবং মাটিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে যেখানে প্রচলিত দানাদার শস্য বা শাকসবজি ফলানো ক্রমেই দুরূহ হয়ে উঠছিল, সেখানে বিকল্প ও লাভজনক এই তরমুজ চাষে স্থানীয় বেকার যুবক, শিক্ষার্থী, সাধারণ কৃষক এবং বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ এক আশাব্যঞ্জক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

সাধারণত দেবহাটার মতো এলাকায় মৎস্যঘেরের প্রাচুর্য বেশি। ফলে চাষযোগ্য সমতল জমির অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও স্থান-সংকুলান পদ্ধতির অংশ হিসেবে ঘেরের পাড়ে মাচা তৈরি করে তরমুজ চাষের যে কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও উদ্ভাবনী। এতে বাড়তি কোনো জমির প্রয়োজন হচ্ছে না, আবার এক সময়ের অনাবাদী কিংবা অনুৎপাদনশীল ঘেরের পাড়গুলো মূল্যবান কৃষিপণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে উপজেলাটিতে বিগত বছরের ৩০ হেক্টরের জায়গায় ৩৭ হেক্টর জমিতে তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন ও বাংলালিংক জাতের তরমুজ চাষ হওয়া প্রমাণ করে যে, এই অসময়ের ফসলটির জনপ্রিয়তা ও উপযোগিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এই ইতিবাচক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সঠিক সময়ে নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপ। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার, মাচা তৈরির খরচ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার কারণে সাধারণ কৃষক ও বেকার তরুণরা ঝুঁকিমুক্তভাবে এই চাষে উৎসাহিত হয়েছেন। বিশেষ করে, উপকূলীয় লবণাক্ত মাটিতে যেখানে সাধারণ সবজি বেঁচে থাকা কঠিন, সেখানে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষ করা অফসিজন তরমুজ ফলিয়ে কৃষকদের কয়েক লাখ টাকা মুনাফা অর্জনের গল্পগুলো আমাদের কৃষি ব্যবস্থার রূপান্তরের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

অফসিজন তরমুজ চাষের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি। প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া এই ফল একদিকে কৃষকদের হাতে ভালো আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিচ্ছে, অন্যদিকে নারী ও শিক্ষার্থীদের আত্মকর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি বা গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে তরমুজ চাষে অংশ নিয়ে গ্রামীণ নারীরা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে এই উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই এবং আরও সম্প্রসারিত করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি। তা হলোÑ ১. বাজারজাতকরণ ও হিমাগার সুবিধা: অসময়ে উৎপাদিত তরমুজ যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সরাসরি বাজারজাতকরণের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। ২. মানসম্পন্ন বীজ ও উপকরণের নিরবচ্ছিন্ন জোগান: সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে যেন সস্তা ও নি¤œমানের বীজ প্রবেশ করতে না পারে, তা নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। ৩. প্রযুক্তি ও গবেষণার সম্প্রসারণ: লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পেলেও যেন ফলন ব্যাহত না হয়, সে জন্য পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কৃষি বিজ্ঞানীদের নিয়মিত গবেষণা জারি রাখতে হবে।

অফসিজন তরমুজ চাষের সাফল্য স্রেফ একটি আঞ্চলিক অর্জন নয়; এটি দেশের জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল। স্থানীয় প্রশাসনের সময়োপযোগী সহায়তা, কৃষি কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী পরামর্শ এবং কৃষকদের কঠোর পরিশ্রমÑএ তিনে মিলে যেভাবে বেকারত্ব দূর হচ্ছে ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তা জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সরকারি সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে উপকূলীয় এই কৃষি বিপ্লব রূপ নেবে জাতীয় আত্মনির্ভরশীলতার এক অনন্য উদাহরণে।

 

Ads small one

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শ্যামনগরে ‘বারসিক এনগেজ প্রকল্প’র ক্যাম্পেইন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শ্যামনগরে ‘বারসিক এনগেজ প্রকল্প’র ক্যাম্পেইন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২৬ উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে উন্নয়ন সংগঠন বারসিক’র এনগেজ প্রকল্প’র উদ্যোগে পরিবেশ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১০টা থেকে দিনব্যাপী উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে উক্ত ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও নেটজ বাংলাদেশের অর্থায়নে দিনব্যাপী আয়োজিত ক্যাম্পেইন কর্মসুচির মধ্যে ছিল প্রদর্শনী, নাটক, র‌্যালী ও আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পেইনের শুরুতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত র‌্যালি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এছাড়া বারসিক এনগেজ প্রকল্পের সুশীল সমাজ সংগঠন ও শিক্ষার্থী ফোরামের উদ্যোগে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জলবায়ু অভিযোজন এবং পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যসমৃদ্ধ স্টল প্রদর্শন করা হয়। স্টলগুলো পরিদর্শন করে অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থী ও সিএসও সদস্যদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারসিক এনগেজ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী কুমারেশ চন্দ্র। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্যামনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির, শ্যামনগর উপজেলার এনজিও সমন্বয়কারী গাজী আল ইমরান
বক্তারা পরিবেশ দূষণ রোধ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশগত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় সুশীল সমাজ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী ফোরামের সদস্যবৃন্দ, বারসিক এনগেজ প্রকল্পের রোকসানা পারভীন, সুপর্ণা মিত্র, মাহুয়া পারভীন এবং বারসিকের সকল কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সুশীল সমাজ সংগঠন ও শিক্ষার্থী ফোরামের উদ্যোগে জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক একটি সচেতনতামূলক পথনাটক (থিয়েটার) পরিবেশিত হয়। নাটকটির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র, পরিবেশ ধ্বংসের কারণ এবং অভিযোজনমূলক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের ব্যাপকভাবে মুগ্ধ করে।
সবশেষে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশগত মানবাধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে উপস্থিত সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী ও প্রতিনিধিরা একটি স্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। ক্যাম্পেইন সঞ্চালনা করেন বারসিক এনগেজ প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর শরিফুল ইসলাম।

বিচালি কাটা মেশিনে কেটে গেল কলেজছাত্রের হাতের ৫টি আঙুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
বিচালি কাটা মেশিনে কেটে গেল কলেজছাত্রের হাতের ৫টি আঙুল

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে বিদ্যুৎচালিত বিচালি (খড়) কাটা মেশিনে ডান হাত ঢুকে খায়রুল ইসলাম (২৮) নামের এক কলেজছাত্রের পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে বাড়িতে পোষা গাভীর খাবারের জন্য প্রতিদিনের মতো বিচালি কাটছিলেন খায়রুল। এ সময় অসাবধানতাবশত তাঁর ডান হাতটি বিদ্যুৎচালিত মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায়। এতে তাঁর ডান হাতের পাঁচটি আঙুলই কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ডাকচিৎকারে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন।
প্রথমে খায়রুলকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (বার্ন ইউনিট) পাঠানো হয়। খায়রুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কালিগঞ্জে জামায়াতের লিডারশিপ প্রশিক্ষণ কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে জামায়াতের লিডারশিপ প্রশিক্ষণ কর্মশালা

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে ইউনিয়ন আমির, সেক্রেটারি এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে লিডারশিপ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কালিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ।
কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আমির ও সেক্রেটারি ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদপ্রার্থীরা অংশ নেন। এতে নেতৃত্বের দায়িত্ব, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।