বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারেন না মিমি, কীসের ভয় অভিনেত্রীর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারেন না মিমি, কীসের ভয় অভিনেত্রীর

ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় পার করেও নতুন সিনেমার শুটিংয়ের আগে অজানা এক ভয়ে রাতে ঘুম আসে না অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর। নতুন চরিত্র, নতুন সেট ও নতুন টিম, সবকিছু নিয়ে শুটিং শুরুর আগে এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করে তার।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই ভয় নিয়ে কথা বলেছেন মিমি।

অভিনেত্রী জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে বহু বছর ধরে কাজ করলেও নতুন কোনও ছবির শুটিং শুরুর আগে এখনও তার মনে অজানা ভয় কাজ করে। এমনকি শুটিংয়ের আগের রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না তিনি।

মিমি বলেন, ‘শুটিংয়ের প্রথম দিন একটু আগেভাগেই সেটে পৌঁছে যাই। সেখানে গিয়ে কে কে কাজ করছেন, সবাই ঠিকঠাক প্রস্তুত কিনা এসব দেখি। এভাবে আগে থেকে পুরো পরিবেশটা দেখতে পারলে নিজের অস্বস্তি ও ভয় কিছুটা কমে যায়।’

সিনেমার প্রচারণায় শুভশ্রীকে চুমু খেলেন দেব, তোলপাড় নেটদুনিয়াসিনেমার প্রচারণায় শুভশ্রীকে চুমু খেলেন দেব, তোলপাড় নেটদুনিয়া
এদিকে আগামী দুর্গাপূজায় মুক্তি পাবে সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবিটির। এতে আবির চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করবেন মিমি। এর আগে ‘রক্তবীজ’ ছবিতেও একসঙ্গে দেখা গেছে এই জুটিকে।

Ads small one

ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ: সাতক্ষীরার প্রাণের গুড়পুকুর মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ: সাতক্ষীরার প্রাণের গুড়পুকুর মেলা

দীপঙ্কর বিশ্বাস

সাতক্ষীরা জেলার ইতিহাস, সামাজিক রূপরেখা আর সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে জড়িয়ে রয়েছে গুড়পুকুরের মেলা। তিন শত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব কেবল পণ্য কেনাবেচার কোনো বাণিজ্যিক হাট নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের আবেগ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শিকড়ের টানের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।

দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ১ অক্টোবর থেকে শুরু বহুল প্রতীক্ষিত এই আয়োজন, যা চলবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। থমকে যাওয়া এই মেলা পুনরায় ফিরে আসায় পুরো সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক অভূতপূর্ব উৎসব-উদ্দীপনা ও প্রাণের স্পন্দন। গৃহস্থের আঙিনা থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি সর্বত্রই এখন আনন্দের গুনগুন সুর।

কালের আবর্তে ও পারিপার্শ্বিক নানা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবারের মেলায় হয়তো আগের মতো বিস্তীর্ণ পরিসর কিংবা সার্কাস, যাত্রা, হাউজি, জাদুপদ্যা, মৃত্যুকূপ কিংবা বিচিত্রা অনুষ্ঠানের মতো বিনোদনের সেই গমগমে রূপ দেখতে পাওয়া যাবে না। তবে বিনোদনের অনুষঙ্গে কিছুটা কাটছাঁট হলেও শত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়ে পুনর্জীবিত হতে চলেছে, এতেই অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, জাঁকজমকের চেয়ে মেলার আসল সত্তা ও মূল চেতনাকে টিকিয়ে রাখাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক লেনদেনের পাশাপাশি গুড়পুকুর মেলা যুগ যুগ ধরে কাজ করে আসছে সামাজিক মেলবন্ধনের এক অদৃশ্য সুতো হিসেবে।

গুড়পুকুরের মেলার দিনগুলোতে সাতক্ষীরার সামাজিক চিত্রে এক দারুণ রূপান্তর ঘটে। জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আত্মীয়স্বজনেরা এ সময় সাতক্ষীরায় সমবেত হন। ঘরে ঘরে যেন এক অচেনা অতিথিপরায়ণতার ধুম পড়ে যায়। পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়ানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে মাটি ও কাঠের তৈরি লোকশিল্পের কেনাকাটা এবং মেলা থেকে জিলাপি-খাজা কিংবা মন্ডা কিনে নেওয়ার যে আনন্দ, তা আধুনিক ডিজিটাল বিনোদনের যুগেও অতুলনীয়। সবচেয়ে বড় কথা, আধুনিক প্রযুক্তির কৃত্রিম দুনিয়ায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সামনে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য, মৃৎশিল্প ও নিজস্ব লোকজ সংস্কৃতিকে প্রত্যক্ষভাবে তুলে ধরার সবচেয়ে চমৎকার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয় এই মেলা।

দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এই মিলনমেলা যেন কোনোভাবেই যেন বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনায় মলিন না হয়ে যায়, সে বিষয়েও সতর্ক নজর রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো, চাঁদা আদায়, ইভটিজিং কিংবা মব সৃষ্টির মতো অপচেষ্টা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেলা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বাভাবিক ও ভীতিহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সকলের প্রত্যাশা সুরক্ষিত ও আনন্দঘন পরিবেশে এই আয়োজন রূপ নেবে একটি সার্থক সামাজিক উৎসবে, যা আমাদের হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতিকে আবারও স্বমহিমায় পুনরুজ্জীবিত করবে।

সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার সিংহলাল গ্রামে পানিতে ডুবে দুই সহোদর শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার কলারোয়া থানার সিংহলাল গ্রামে পানিতে ডুবে দুই সহোদর শিশুর মৃত্যু

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের সিংহলাল গ্রামে পানিতে ডুবে দুই সহোদর শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার দিকে এই দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু হলো সিংহলাল গ্রামের আব্দুল বারিকের ছেলে মুহাম্মদ ইকবাল হোসেনের কন্যা জান্নাতুল (৩) ও পুত্র সানজাদুল (২)। বয়সের ব্যবধান মাত্র এক বছর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের অগোচরে কোনো একসময় দুই শিশু পানিতে পড়ে যায়। পরে তাদের খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পানিতে ভাসতে দেখে স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও পরিবারের সদস্যরা। মায়ের বুকফাটা কান্না আর স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো সিংহলাল গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

বাজারের চাপে জনজীবন, জ্বালানি সংকটে অর্থনীতি, নিরাপত্তাহীন জনগণ: সমাধান কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
বাজারের চাপে জনজীবন, জ্বালানি সংকটে অর্থনীতি, নিরাপত্তাহীন জনগণ: সমাধান কোথায়?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত আগস্টের হিসাবে দেশের মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

 

খাদ্য মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে আগস্টে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে। তবে একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে। এদিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পূর্বাভাসে বাংলাদেশের ২০২৭ সালের মূল্যস্ফীতি নিয়ে আগের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী চাপের কথা বলা হয়েছে। এডিবি বলছে, বাংলাদেশে খাদ্যদামের চাপ কিছুটা কমলেও অ-খাদ্য ও জ্বালানি ব্যয়ের চাপ মূল্যস্ফীতিকে ঝুঁকির মধ্যে রাখছে। তাই মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় শুধু পরিসংখ্যানের হার কমানোর দিকে তাকালে হবে না, মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা, বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

জনজীবনের ব্যয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আরেকটি বড় বিষয় হলো জ্বালানি তেলের দাম। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সরকার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা লিটার দরে রেখেছিল। কিন্তু ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দরে ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, অকটেন ১৬৫ এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু গাড়ির মালিকের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন, কৃষি, পণ্য পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে এর একটি অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপরও চাপ সৃষ্টি করে।

 

একই সাথে ‎২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালগুলোর সমস্যার পাশাপাশি আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ে। আগস্টে কোনো কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের খবর প্রকাশিত হয়, ১২ আগস্ট জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী কোনো কোনো সময়ে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেয়।

‎পরবর্তীতে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি গ্যাস সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও সংকট পুরোপুরি দূর হয়নি। ১৫ সেপ্টেম্বর দুই এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রায় ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হয়ে মোট সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছিল। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর মহেশখালী এলাকায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হলে সরবরাহ আবার প্রায় ৬৮০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে যায় এবং মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়ায়। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সুশাসন ও জননিরাপত্তার বিষয়টিও জনজীবনের স্বস্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

 

সেপ্টেম্বর মাসে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ চাঁদাবাজি, দখল ও সহিংসতার কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির আহ্বান জানিয়েছে।
‎অন্যদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সন্ত্রাসী, সশস্ত্র অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে।

‎‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, গবেষক ও উদ্যোক্তা