শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

লন্ডনে সপ্তাহব্যাপী ২৭তম রেইনবো চলচ্চিত্র উৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
লন্ডনে সপ্তাহব্যাপী ২৭তম রেইনবো চলচ্চিত্র উৎসব

শুরু হতে যাচ্ছে ২৭তম রেইনবো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। আগামী ১৭-২৩ মে শনিবার পর্যন্ত উৎসবটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক জেনেসিস সিনেমা হলে।

রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির আয়োজনে এবারের উৎসবে বাংলাদেশ, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া এবং ইরানসহ মোট ১০টি দেশের ৪০টিরও বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

উৎসবের উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা ‘আগন্তুক’, যার প্রদর্শনী হবে ১৭ মে দুপুর ১২টায়. অন্যদিকে, ২৩ মে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ভারতের চলচ্চিত্র ‘স্বার্থপর’ (Sharthopor) প্রদর্শনের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী এই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।

উৎসবে ‘আগন্তুক’ ছাড়াও প্রদর্শিত হবে বাংলাদেশের আরও পাঁচটি চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রগুলো হলো— ‘নয়া মানুষ’, ‘উড়াল’, ‘নয়া নোট’, ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অফ চাংখারপুল’ এবং ‘পাথর হওয়ার গল্প’।

উৎসবটি প্রসঙ্গে রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি আহমাদ মুজতবা জামাল বলেন, “অনেকদিন ধরেই এ উৎসবটি আয়োজিত হচ্ছে। আশা করছি এবারও সফল হবে। তবে, স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আহ্বান জানাবো, উৎসবটিকে সফল করতে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে। তাহলে দেশের চলচ্চিত্রগুলা যেমন উৎসাহিত হবে, উৎসবটিও সফল হবে।”

নয়া মানুষ চলচ্চিত্রের দৃশ্য

উৎসবে অংশগ্রহণ করছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘নয়া মানুষ’। চলচ্চিত্রটির নির্মাতা সোহেল রানা বয়াতি বলেন, “বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যখন কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করে তখন একজন চলচ্চিত্র কর্মী হিসেবে গর্ব করি. ‘নয়া মানুষ’ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেয় এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই চলচ্চিত্র এক ধরনের প্রতিবাদ”।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে ইরানের ‘দে লাভড মি’, রাশিয়ার ‘দ্য মিস্ট্রি অফ ব্ল্যাক হ্যান্ড’, ভারতের ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’ ও ‘গৃহ প্রবেশ’, চীনের ‘দ্য শোর অফ লাইফ’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ড্রেইনড বাই ড্রিম’ প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে ফিলিপাইনের ‘রেপুব্লিকা এনজি পিলিপিলিপিনাস’ এবং তাজাকিস্তানের ‘মোহি দার’ সহ আরও বেশ কিছু প্রশংসিত সিনেমা।

সমাপনী অনুষ্ঠান ছাড়া জেনেসিস সিনেমা হলের বাকি সকল প্রদর্শনী সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।