শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

শফিকুলের বিদেশ যাওয়ার ঋণই শোধ হয়নি, পরিবারের সামনে এখন শুধুই অন্ধকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
শফিকুলের বিদেশ যাওয়ার ঋণই শোধ হয়নি, পরিবারের সামনে এখন শুধুই অন্ধকার

পত্রদূত রিপোর্ট: দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে কোনো রকমে চলছিল সংসার। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী আর দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে ছোট্ট সেই পরিবারে ছিল না স্বচ্ছলতার ছোঁয়া। তবুও বুকভরা স্বপ্ন ছিল শফিকুল ইসলামের-দুই মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করবেন, মাথার ওপর জমে থাকা ঋণের বোঝা নামাবেন, আর পরিবারের মুখে ফোটাবেন হাসি। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই মাত্র দুই মাস আগে সুদূর লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাতক্ষীরার শফিকুল। কিন্তু নির্মম এক ইসরায়েলি ড্রোন হামলা মুহূর্তেই শেষ করে দিল তার সব স্বপ্ন, সব আশা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর একমাত্র ছেলে শফিকুল ইসলাম। সংসারের অভাব দূর করতে এনজিও, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গত ৩ মার্চ লেবাননে যান তিনি। বিদেশের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্নই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

স্বজনরা জানান, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের জেবদিন এলাকায় ফলের বাগানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন শফিকুল। গত সোমবার রাত ৮টার দিকে কর্মস্থলে কাজ করার সময় হঠাৎ ইসরায়েলি ড্রোন হামলা হয়। ভয়াবহ সেই হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল শফিকুলের। ফোনে স্ত্রী রুমা খাতুনকে বলেছিলেন, মেয়েদের লেখাপড়ার দিকে খেয়াল রেখো। ওদের যেন কোনো কষ্ট না হয়। আর কিছুদিন কষ্ট করলেই সব ঋণ শোধ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই কথাই হয়ে রইল শেষ কথা।

এখন শফিকুলের বাড়িতে গেলে শুধু কান্নার শব্দ শোনা যায়। স্বামী হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী রুমা খাতুন বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাথর হয়ে গেছেন বাবা আফসার আলী। বুকফাটা আহাজারিতে ভেঙে পড়েছেন মা আজেয়া খাতুন। ছোট দুই মেয়েও বুঝে গেছে-তাদের বাবা আর কোনোদিন ফিরবেন না।
বড় মেয়ে তামান্না আক্তার মৌ বাবার কথা মনে করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আব্বু বলছিলেন আমাকে অনেক পড়াশোনা করাবেন। এখন আমাদের কে দেখবে? তামান্না আক্তার মৌ ভালুকা চাঁদপুর ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী।

ছোট মেয়ে তন্নি আক্তার বৃষ্টির চোখেও শুধু অশ্রু। বাবার সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে নির্বাক হয়ে বসে আছে সে। তন্নী আক্তার ও কেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর মেধা বিষয়ক শিক্ষার্থী।

শফিকুল পেশায় ছিলেন একজন দিনমজুর। তিন কাঠা জমির ওপর ছোট্ট একটি আধাপাকা বাড়িই ছিল তাদের একমাত্র সম্বল। সংসারের অভাব ঘোচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বিদেশে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য বদলাতে গিয়ে এখন লাশ হয়ে ফিরছেন দেশে।

একদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু, অন্যদিকে মাথার ওপর প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণের বোঝা-সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত যেন শফিকুল ইসলামের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখতে চান তার বাবা-মা। গ্রামের মাটিতেই তাকে দাফন করার আকুতি জানিয়েছেন তারা।

ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী বলেন, শফিকুল খুবই ভালো ও পরিশ্রমী ছেলে ছিল। পরিবারের জন্যই বিদেশে গিয়েছিল। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকাহত। সরকার যেন পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারটিকে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: “ঘুষ নয় সেবা চাই, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই” এবং “দুর্নীতি থামান… এখনই”- এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন বিষয়ক এক অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সাতক্ষীরার আয়োজনে আজ শনিবার (২৭ জুন), সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা শহরের একটি রিসোর্টের হল রুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সনাক, সাতক্ষীরার সভাপতি মোঃ তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন টিআইবি, খুলনার ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর (সিই) ফিরোজ উদ্দীন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইয়েস সদস্য শিলা জারিন তাসনিম।

সভায় বক্তারা বলেন, টিআইবি’র অংশগ্রহণমূলক দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০০৫ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকে সনাক, সাতক্ষীরা স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এবারের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিগত দিনের অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষা আদান-প্রদানের মাধ্যমে আগামী দিনের দুর্নীতিবিরোধী নাগরিক আন্দোলনকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তোলা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সনাক সাতক্ষীরার সহ-সভাপতি মোমেনা খানম, ও মোঃ ইয়াছিন ছিদ্দীকী, প্রথম আলোর সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, এবং সনাক সদস্য হেনরী সরদার, ভারতেশ্বরী বিশ্বাস, প্রফেসর মোঃ আব্দুল হামিদ, অ্যাডভোকেট এ.কে.এম শহীদউল্যাহ, পবিত্র মোহন দাশ, ডাঃ সুশান্ত কুমার ঘোষ, কিশোরী মোহন সরকার, মোঃ আবুল বাসার, মোঃ অলিউর রহমান, জেসমিন আখতার, রেবেকা সুলতানা, মোঃ মনিরুজ্জামান মুন্না ও সৈয়দা সুলতানা শিলা।

এছাড়া সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) এবং অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি)-এর সদস্যবৃন্দসহ শিক্ষা (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক), স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভূমি বিষয়ক উপ-কমিটির সকল সদস্য সভায় অংশ নেন।

উপস্থিত সুধীজন ও সনাক নেতৃবৃন্দ স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং একটি বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরান-মার্কিন চুক্তির ১ সপ্তাহ: সুফল পাচ্ছে কারাইরান-মার্কিন চুক্তির ১ সপ্তাহ: সুফল পাচ্ছে কারা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাহরাইনে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটি পুনর্গঠন এবং কুয়েত ও সৌদি আরবে তাদের উপস্থিতি কমিয়ে আনার কথা ভাবছে। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দুজন কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন তাদের কিছু ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৮৯
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আঘাত হানে ইরান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে জুন মাস পর্যন্ত বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিটি বারবার হামলার শিকার হয়েছে। এতে ঘাঁটিটির কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্তত এক ডজন অন্যান্য ভবনসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পেন্টাগন এখনও এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত মাত্রা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন জনগণের মনোভাবে তীব্র পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের শর্তাবলি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা করার সময়ে আগামী ৬০ দিনের জন্য সব ধরনের শত্রুতা ও লড়াই বন্ধ থাকবে।

কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির একটি জাতীয় জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান ‘যৌক্তিক ছিল না’।

তৃণমূল ছাড়া বিধায়করা বিদ্রোহী নয়, গাদ্দার: মহুয়া মৈত্রতৃণমূল ছাড়া বিধায়করা বিদ্রোহী নয়, গাদ্দার: মহুয়া মৈত্র
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠীর আসন্ন হুমকি দূর করতে’ ইরানের বিরুদ্ধে এই যৌথ যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল তাদের ঘোষিত প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর অন্যতম।

চিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু রোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কেনচিকিৎসায় যুগান্তকারী আবিষ্কার হচ্ছে, কিন্তু রোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না কেন
তবে নতুন জরিপটি দেখাচ্ছে, পরবর্তী সময়ে হওয়া এই চুক্তিটি প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতার প্রতি জনমানুষের ধারণাকে দুর্বল করে দিয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে। এ বিষয়ে ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেই তেমন কোনও মতভেদ নেই। দুই রাজনৈতিক দলেরই অধিকাংশ সমর্থক বিশ্বাস করেন, ইরানের পক্ষে এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’ অথবা ‘কিছুটা’ রয়ে গেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখার রহস্য কী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১৮৯৩’ লেখার রহস্য কী

বিশ্বফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে লক্ষ্য করলে একটি বিশেষ সংখ্যা চোখে পড়ে ‘১৮৯৩’। ফুটবল বিশ্বকাপের যাত্রা যেখানে শুরু হয়েছিল ১৯৩০ সালে, সেখানে বিশ্বকাপ শুরুরও ৩৭ বছর আগের এই সালটি জার্সিতে থাকার কারণ নিয়ে অনেকের মনেই কৌতুহল রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বিশ্বকাপেরও বহু বছর আগের এই সালটির গুরুত্ব কী?

আসলে জার্সিতে থাকা ‘১৮৯৩’ কোনো রহস্যময় সংখ্যা নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার প্রতিষ্ঠাবর্ষ। দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শেকড় এবং দীর্ঘ ইতিহাসকে সম্মান জানাতেই জার্সিতে এই সালটি ব্যবহার করা হয়।

উনিশ শতকের শেষভাগে আর্জেন্টিনায় ফুটবল ছিল একেবারেই নতুন একটি খেলা। ব্রিটিশ অভিবাসী, ব্যবসায়ী ও রেলওয়ে কর্মীদের হাত ধরে দেশটিতে ফুটবলের প্রচলন শুরু হয়।

সেই সময় স্কটল্যান্ডের শিক্ষক আলেকজান্ডার ওয়াটসন হাটন আর্জেন্টিনায় এসে খেলাটির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা ও খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া এই শিক্ষক স্কুলপর্যায়ে ফুটবল চালু করেন এবং তরুণদের মধ্যে খেলাটির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেন।

তারই উদ্যোগে ১৮৯৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় আর্জেন্টাইন অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল লীগ। পরবর্তীতে এই সংস্থাই রূপ নেয় বর্তমানের আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এ। দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম জাতীয় ফুটবল সংস্থা।

আজকের দিনে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ফুটবল দেশ হিসেবে পরিচিত আর্জেন্টিনার সংগঠিত ফুটবল যাত্রার আনুষ্ঠানিক শুরু হয়েছিল সেই বছরেই। এই কারণেই ‘১৮৯৩’ সালটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ মর্যাদা পায়।

দেশের ফুটবল ঐতিহ্য, শিকড় ও দীর্ঘ পথচলার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় দলের জার্সিতে এই সংখ্যাটি ব্যবহার করা হয়। জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসও বিভিন্ন সংস্করণের জার্সিতে ‘১৮৯৩’ যুক্ত করে সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে তুলে ধরেছে।

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রাচীন সংগঠন হিসেবেও এএফএর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের ফুটবল ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা সংগঠিত ফুটবল কাঠামো গড়ে তুলেছিল। ফলে ‘১৮৯৩’ শুধু একটি সাল নয়, এটি দেশটির দীর্ঘ ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতীক।