বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকেরা দাম পাচ্ছেন ভাল। দেখছেন লাভের মুখ। বাড়ছে পাটের চাষ। খুশি চাষিরা।

কৃষি প্রধান উপজোলা শার্শা। চলতি মৌসুমে টার্গেট অতিরিক্ত হয়েছে পাটের আবাদ। ফলনও হয়েছে ভাল। প্রতি বিঘায় ফলছে ১০ থেকে ১২ মন পাট। কেউ কাটছেন পাট, আবার কোথাও চলছে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ।

 

সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময পার করছেন এলাকার কৃষকেরা। প্রতিমন পাট বিাক্রি হচ্ছে ৩৫ শ থেকে ৩৬ শ টাকা। পাটখড়ির দামও পাচ্ছেন ভাল। ফলে পাটের দাম ভাল সহ বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকেরা।

চলছে পাটের আশ ছাড়ানোর কাজ। এবার পাটের ফলন ও দাম ভাল থাকায় শ্রমিকদের বাড়ছে উপার্যন। পরিবার পরিজন নিয়ে ভাল দিন কাটছে তাদের।

যশোরের শার্শা উপজেলায় এবার চাহিদার অতিরিক্ত পাটের চাষ হয়েছে। ফলন ও দাম ভাল পাচ্ছে কৃষকেরা। ফলে বাড়ছে চাষ। আগামীতে আরো পাট চাষের আশা কৃষি অধিদপ্তরের।

অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো পরিচর্যায় এবার পাটের ফলন হয়েছে ভালো। উপজেলায় সাত হাজার ৫ শ৩০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

Ads small one

বিশ্ব হ্রদ দিবস: মিঠাপানির ভাণ্ডার রক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
বিশ্ব হ্রদ দিবস: মিঠাপানির ভাণ্ডার রক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার
সাকিবুর রহমান বাবলা 
২৭ আগস্ট পালিত হয় ‘বিশ্ব হ্রদ দিবস’। পৃথিবীর হ্রদ, জলাধার ও মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং এর সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে জাতিসংঘ এই দিবস ঘোষণা করেছে। ​২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত রেজোলিউশন (এ/আর‌ইএস/৭৯/১৪২)-এর মাধ্যমে ২৭ আগস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর আগে, ২০২৪ সালের মে মাসে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ১০ম বিশ্ব জল ফোরামে এই সুপারিশ উত্থাপিত হয়েছিল। দিবসটির কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি।
হ্রদ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এগুলো শুধু জলাধার নয়; বরং পরিবেশ, জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও মানবজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র। পৃথিবীতে বর্তমানে ১১ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি হ্রদ রয়েছে, যা বিশ্বের স্থলভাগের প্রায় ৪ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পৃথিবীর অধিকাংশ মিঠাপানি হিমবাহ ও ভূগর্ভে সঞ্চিত থাকলেও বরফমুক্ত ভূপৃষ্ঠে বিদ্যমান তরল মিঠাপানির প্রায় ৯০ শতাংশই হ্রদে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে পানীয় জল, কৃষি, শিল্প, মৎস্যসম্পদ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য হ্রদের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রকৃতির অমূল্য রত্ন হ্রদগুলো অতিরিক্ত পানি ধারণ করে বন্যা রোধ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমৃদ্ধ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত বাড়িয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। একই সঙ্গে, এগুলো অতিরিক্ত তাপ শোষণ ও কার্বন সংরক্ষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়, বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এবং পর্যটন ও মৎস্য শিকারের মতো কার্যক্রমে লাখো মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে। এবং এর জলজ ও তীরবর্তী পরিবেশ নানা ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল টিকিয়ে রাখে।
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি। দ্রুত নগরায়ন, শিল্পায়ন, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও অতিরিক্ত কীটনাশক  ব্যবহার, অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গমন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের অনেক হ্রদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত বর্জ্যজলের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অপরিশোধিত অবস্থায় নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে প্রবেশ করে। এর ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে এবং মানবস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন হ্রদগুলোর জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হ্রদের পানির তাপমাত্রা বাড়ছে, বাষ্পীভবনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক হ্রদের আয়তন সংকুচিত হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বরফে আচ্ছাদিত হ্রদগুলোর বরফস্তর দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ফলে জলচক্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে এবং খরা ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অস্থিতিশীল ভূমি ব্যবহার ও বন উজাড়ের কারণে অনেক হ্রদের স্বাভাবিক পুনর্ভরণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বিশ্বব্যাপী পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক দেশের নদী, হ্রদ ও জলাধারের মতো মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রগুলো দ্রুত অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে, যা পরিবেশগত সংকটের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এক বড় বাধা। এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রায় তিন দশক ধরে ইউএনইপি-ডিএইচআই সেন্টার ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট ও টেকসই হ্রদ ব্যবস্থাপনার প্রসারে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি নীতিগত পরামর্শ প্রদান, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মিঠাপানির টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক অর্থে বড় আকারের হ্রদ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও দেশের অসংখ্য বিল, হাওর, বাঁওড়, দিঘি, জলাধার, জলাভূমি এবং কৃত্রিম লেক একই ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ভূমিকা পালন করে। কাপ্তাই হ্রদ দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম মিঠাপানির জলাধার হিসেবে মৎস্যসম্পদ, পর্যটন ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এছাড়া সিলেট অঞ্চলের হাওরসমূহ, গোপালগঞ্জের বিলাঞ্চল, খুলনা-সাতক্ষীরার বাঁওড়সমূহ এবং দেশের বিভিন্ন জেলার দিঘি ও জলাধার স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
কিন্তু বাংলাদেশের জলাশয়গুলোও নানা সমস্যার সম্মুখীন। দখল, ভরাট, দূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, প্লাস্টিক বর্জ্য, কৃষিজ রাসায়নিকের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বহু জলাশয় হারিয়ে যাচ্ছে বা পরিবেশগত সক্ষমতা হারাচ্ছে। নগরাঞ্চলের অনেক লেক ও খাল দূষণের চাপে তাদের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে। ফলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পরিবেশের অবনতি ঘটছে। যদিও বাংলাদেশ পরিবেশ আইন, ১৯৯৫, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭’সহ সংশ্লিষ্ট আরো কয়েকটি প্রচলিত আইন থাকার শর্তেও এসব প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
পৃথিবীর সুন্দর প্রাকৃতিক লেকগুলোর মধ্যে কানাডার লেক মোরাইন তার বরফঢাকা পাহাড় ও নীল পানির জন্য, ক্রোয়েশিয়ার প্লিতভিসে লেক জলপ্রপাতসমৃদ্ধ ১৬টি লেকের দলের জন্য এবং স্লোভেনিয়ার লেক ব্লেড মাঝের দ্বীপ ও আল্পস পর্বতের সুন্দরের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া গুয়াতেমালার লেক আতিতলান আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে তৈরি হওয়ার কারণে এবং নিউজিল্যান্ডের লেক টেকাপো স্বচ্ছ নীল পানি ও ফুলের তীরের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
বিশ্ব হ্রদ দিবসের মূল বার্তা হলো—মিঠাপানির এই অমূল্য ভাণ্ডারকে রক্ষা করা এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়িত্ব নয়; এটি মানবজাতির টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। হ্রদ ও জলাশয় সংরক্ষণে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, টেকসই কৃষি চর্চা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৬.৬ নম্বর লক্ষ্য অনুযায়ী জল-সম্পর্কিত বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম
নিজস্ব প্রতিনিধি: যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ভলান্টিয়ার্স স্পার্ক আদারস (ভিএসও) বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ভলান্টিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (ভিডিএফ) সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচন-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনে জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে মো. হোসেন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইব্রাহিম খলিল নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচন-২০২৬-এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. আবুল হোসেনের আদেশক্রমে নির্বাচন কমিশনার নাজিয়া তারান্নুম স্বাক্ষরিত পত্রে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) সারাদেশে একযোগে ভিডিএফের জেলা নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে ভিডিএফ সাতক্ষীরা জেলা কমিটির ৫৭ জন সদস্য ভোট প্রদান করেন। ভোটগ্রহণ শেষে পরদিন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে জেলা নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি-১ (কৌশল ও পরিকল্পনা) পদে মিলন কুমার বিশ্বাস, সহসভাপতি-২ (কার্যক্রম ও পরিচালনা) পদে মো. ইলিয়াস হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে উম্মে ফুয়ারা, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অর্পণ বসু এবং কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম সাজেদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
ফলাফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সভাপতি মো. হোসেন আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, সাতক্ষীরার যেকোনো স্থানীয় সংকট ও সমস্যা সমাধানে এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং তরুণ ভলান্টিয়ারদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। যেকোনো মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সফলতা অর্জন করতে তারা স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজ এবং সকল ভলান্টিয়ারের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন তারা।
উল্লেখ্য, ভলান্টিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (ভিডিএফ) ভিএসও বাংলাদেশের সরাসরি সহযোগিতায় পরিচালিত বাংলাদেশব্যাপী তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক। দেশের ৬৪টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা এ সংগঠনটি যুব নেতৃত্বের বিকাশ, জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে টেকসই সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

৭৭ বছরে পা রাখলেন প্রবীণ সাংবাদিক শেখ আব্দুল ওয়াজেদ কচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
৭৭ বছরে পা রাখলেন প্রবীণ সাংবাদিক শেখ আব্দুল ওয়াজেদ কচি

পত্রদূত রিপোর্ট: ৭৬ পেরিয়ে ৭৭ বছরে পা রাখলেন সাতক্ষীরার প্রবীণ সাংবাদিক, দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার ও দ্য এডিটরস এর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুল ওয়াজেদ কচি।

বাংলা ১৩৫৮ সালের ১০ ভাদ্র তিনি নড়াইল জেলার কামালপ্রতাপ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তৎকালীন ইউনিয়ন কৃষি সহকারী (ইউ.এ.এ) মরহুম শেখ মিরাজ উদ্দিন ও গৃহিনী মরহুম কায়ামন নেছা দম্পতির আট ছেলে-মেয়ের মধ্যে সাংবাদিক কচি মেজ।

তিনি ১৯৭০ সালে কাশিপুর অম্বিকা চরণ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৭১ সালে ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নড়াইল জেলার (৮নং সেক্টর) কালিয়ায় মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন। তিনি গেরিলা ট্রেনিংপ্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

১৯৭২ সালে ঢাকায় গিয়ে সেকেন্দার হায়াত মজুমদার সম্পাদিত সাপ্তাহিক ও পরবর্তীতে দৈনিক পূর্বাভাস পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন শেখ আব্দুল ওয়াজেদ কচি।

সাংবাদিক কচি দৈনিক পূর্বাভাস পত্রিকায় ‘অধম’ নামে সপ্তাহে চারদিন ‘ডোন্ট মাইন্ড’ শিরোনামে কলাম লিখতেন।

তৎকালীন দেশের চারটি পত্রিকা ছাড়া সব পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি গ্রামে ফিরে যান। পরে পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি হলে নড়াইল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক প্রান্তিক পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করার পর যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক রানার পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেন।

তিনি ঢাকায় থাকাকালীন দৈনিক আজাদ পত্রিকায় মাঝে মধ্যে কলাম লিখতেন এবং খুলনা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক গণবার্তার ঢাকা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

১৯৭৮ সালে তিনি সাতক্ষীরায় আসেন এবং সাতক্ষীরা পৌরসভার রাজার বাগান এলাকায় জমি কিনে স্থায়ী হন ও তৎকালীন সময়ে সাতক্ষীরার একমাত্র পত্রিকা আব্দুল মোতালেব সম্পাদিত কাফেলায় (সাপ্তাহিক, পরবর্তীতে দৈনিক) যোগ দেন। কাফেলায় কর্মরত অবস্থায় তিনি যশোরের দৈনিক স্ফুলিংগ পত্রিকায় কিছুদিন কাজ করেছেন। এরপর তিনি ১৯৮৬ সালের ৪ জুন দৈনিক ইনকিলাব বাজারে আসলে সাতক্ষীরা জেলা সংবাদদাতা হিসেবে যোগ দেন এবং অদ্যাবধি তিনি দৈনিক ইনকিলাবের স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি আব্দুল মোতালেব সম্পাদিত দৈনিক কাফেলায় টানা প্রায় ১৭ বছর কর্মরত ছিলেন। পরে কিছুদিন সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের বার্তায় কাজ করেছেন।

বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা থেকে পরিচালিত মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল দ্য এডিটরস এর সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

তার নেতৃত্বে দ্য এডিটরস সাতক্ষীরা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ সাংবাদিক কচির এখন দিন কাটছে পত্রিকা পড়ে, এডিটরসকে পরামর্শ দিয়ে।

জন্মদিনে তার জন্য অজস্র শুভ কামনা।