মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ: সাতক্ষীরায় শয্যাসংকটে হাসপাতালের বারান্দায় শিশুরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ: সাতক্ষীরায় শয্যাসংকটে হাসপাতালের বারান্দায় শিশুরা

মো. সিরাজুল ইসলাম: সাতক্ষীরায় ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুদের সর্দি-জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত ২৩ দিনে জেলা সদর হাসপাতালে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৩২ শিশু। একই সময়ে ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ২৪২ জন। রোগীর আকস্মিক চাপে শয্যাসংকট দেখা দেওয়ায় অনেক শিশুকে হাসপাতালের বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ২৩ দিনে ১ হাজার ১৩২ জন শিশু সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ৬৭ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২২ জন চিকিৎসাধীন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী আসায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। শয্যা না পেয়ে অনেক অভিভাবক তাঁদের অসুস্থ শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের মেঝে বা বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন। তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের সবুজ গাজী তাঁর পাঁচ বছরের ছেলে মাহিম হুসাইনকে নিয়ে তিন দিন ধরে বারান্দায় আছেন। তিনি বলেন, “জ্বরের সঙ্গে বাচ্চার খিঁচুনি শুরু হওয়ায় দ্রুত এখানে আনি। কিন্তু বেড খালি না থাকায় বারান্দার মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে।”
একই চিত্র দেখা গেছে আটুলিয়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের ক্ষেত্রেও। তাঁর সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়ে আজমিরাকে শয্যা ছাড়াই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শ্যামনগর ও সদর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা অনেক অভিভাবকই এমন ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রিয়াদ হাসান দৈনিক পত্রদূতকে জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়টা শিশুদের জন্য বেশ সংবেদনশীল। তিনি বলেন, “ঠান্ডা-গরমের তারতম্য এবং আবহাওয়ার অস্থিরতার কারণে শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হচ্ছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো অভিভাবক সচেতনতা। অনেকে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা না নিয়ে ঘরে বসে থাকেন, যার ফলে শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে যখন আসেন, তখন রোগটি জটিল বা নিউমোনিয়ায় রূপ নেয়।”
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শামছুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে দৈনিক পত্রদূতকে বলেন, পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে এবং সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
চিকিৎসকরা বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো হলোÑহঠাৎ গরম বা হঠাৎ ঠান্ডা থেকে শিশুকে রক্ষা করতে হবে। রোদ থেকে ফিরে সরাসরি এসি বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা যাবে না। শিশুর হাত ধোয়ার অভ্যাস করা এবং খাওয়ার আগে ও মলত্যাগের পর সাবান ব্যবহার নিশ্চিত করা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শিশুকে প্রচুর পানি, তরল খাবার ও ভিটামিন-সি যুক্ত ফলমূল খাওয়ানো। শিশুর উচ্চ তাপমাত্রা, ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া, বুক দেবে যাওয়া বা খিঁচুনি দেখা দিলে কবিরাজি বা হাতুড়ে চিকিৎসার অপেক্ষা না করে সরাসরি হাসপাতালে নিতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা সেবা স্বাভাবিক রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মৌসুমে ঘরোয়া প্রতিকার ও প্রাথমিক সচেতনতাই হতে পারে শিশুদের সুরক্ষাকবচ।

Ads small one

আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসে সমন্বয় সভা

আশাশুনি প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার আশাশুনিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় আশাশুনি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের আর্থিক সহায়তায় এবং ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ‘আইসিআরডিসিভি-৩’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
ইএসডিওর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. শামসুল হক মৃধার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক সম হেদায়েতুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুসা তারিকুজ্জামান তুষার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিতীশ চন্দ্র গোলদার, কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবহান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মণ, এবং সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির।
এ ছাড়া সভায় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাস, বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. রিজাউল করিম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী ও আবু বক্কর সিদ্দিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিপিপি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছানো এবং টেকসই অভিযোজন কৌশলের ওপর জোর দেন বক্তারা। দুর্যোগ পূর্ববর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ ও ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

আশাশুনির কাদাকাটিতে এক রাতে ৩ স্থানে চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির কাদাকাটিতে এক রাতে ৩ স্থানে চুরি

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে একরাতে ৩ স্থানে চুরি সংঘটিত হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত রাতে হলদেপোতা ব্রীজের কাছে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
কয়েকটি ইউনিয়ন ও উপজেলার সাথে সংযোগ সৃষ্টিকারী হলদেপোতা ব্রীজের কাছে কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল হান্নান গাজীর ছেলে ভোলা ও সাবুদ আলী সরদারের ছেলে আব্দুল আলিমের দোকান এবং আরার গ্রামের মৃত সমজেল সরদারের ছেলে আব্দুল কাদেরের মৎস্য ঘেরের বাসা রয়েছে। সোমবার রাতে ভোলা ও আলিম দোকানে তালা লাগিয়ে প্রতিদিনের ন্যায় বাড়িতে চলে যান। মঙ্গলবার সকালে দোকানে গিয়ে দেখেন ভোলার দোকান ঘরের চালের অ্যাডবেস্টারের টিন ফাঁকা। এবং দোকানে থাকা ৩টি বালতি, মূল্যবান মালপত্র (মূল্য অনুমান ১ লক্ষ টাকা) ও নগদ ২৫০০ টাকা চুরি হয়েছে। পাশে আলিমের স্টল দোকানে তালা ভেঙ্গে পাশের মসজিদের ৮৫০ টাকা ও অনুমান ৫০০০ টাকার মালপত্র চুরি হয়ে গেছে। একই স্থানে আব্দুল কাদের তার মৎস্য ঘেরের বাসায় সোমবার রাতে ক্রয়কৃত ১০হাজার টাকার মাছ রেখে বাড়িতে যান। চোরেরা বাসার দরজা ভেঙ্গে মাছগুলো নিয়ে যায়। এলাকাবাসী মোড়ে অবস্থিত সিসি ক্যামেরা সচল করা ও স্ট্রিট লাইটটি মেরামত করে চালু করার ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

আমাদী ইউনিয়নে মিষ্টি বিতরণ নিয়ে মারামারি, পরে সালিসে সমাধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আমাদী ইউনিয়নে মিষ্টি বিতরণ নিয়ে মারামারি, পরে সালিসে সমাধান

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে রসমলাই বিতরণকে কেন্দ্র করে হিসাব সহকারী ও গ্রাম পুলিশের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
পরিষদ সূত্র জানায়, বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে গ্রাম পুলিশ প্রসেনজিৎ পরিষদের কর্মচারীদের মধ্যে রসমলাই বিতরণ করছিলেন। এ সময় হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর কু-ু ও প্রসেনজিতের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এতে গ্রাম পুলিশ প্রসেনজিৎ আহত হন।
ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে উদ্যোগ নেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে এক জরুরি বৈঠকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।