বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ভবঘুরে পারুল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রতিবন্ধী ভবঘুরে পারুল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারুল রানী(৫০) নামে এক প্রতিবন্ধী ভবঘুরে নারী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সদরের কৃষি অফিস সংলগ্ন সড়কে ঘটনাটি ঘটে। উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা পারুল দীর্ঘদিন ধরে শ্যামনগর পৌরসদরে অবস্থান করছিল। খবর পেয়ে ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ সাতক্ষীরা মর্গে প্রেরণ করে।

ঘটনার প্রতক্ষদর্শী জাকির হোসেন ও গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয়রা জানান বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে পারুল সরকারি পুকুর থেকে গোসল করে উপরে উঠছিলেন। এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাড়ী নিয়ে চালক গ্যারেজের দিকে ফিরছিলেন। একপর্যায়ে পারুল কাপড় নেয়ার জন্য দ্রুত রাস্তা পারাপারের চেষ্টার মুহুর্তে অসতর্কতার কারনে গাড়ির সামনে চলে আসে।

 

এসময় চালক প্রচল্ড চেষ্টায় গাড়ী ব্রেক করতে পারলেও তাৎক্ষনিক ধাক্কায় পারুল পাশের রাস্তায় ছিটকে পড়ে। এসময় চালক তার গাড়ীযোগে ঐ নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে বর্তি করে। তবে দুপুর তিনটার দিকে চিকিৎসকরা পারুলের মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করে।

এদিকে দুঘৃটনার খবর পেয়ে পারুল রানীর ভাতিজা শ্যামনগরে পৌছে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ বাড়ি নিতে চাইলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। এবিষয়ে নিহত পারুলের ভাতিজা ফনিন্দ্র জানান তার ফুফুর সকল নিকটজন ভারতে বসবাস করে। ফুফুর একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তিনি। লিগ্যাল অভিভাবক হিসেবে তিনি পারুল রানীর স্ম্যার্ট ও প্রতিবন্ধী কার্ডসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফুফুর অসতর্কতায় ফুফুর মৃত্যুর ঘটনায় তিনি কাউকে দায়ী করতে চান না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান পারুলেরন বুকের ডানপাশে আঘাত লাগে এবং ধাক্কায় হাঁড় ফেঙে গেছে। বয়স্ক হওয়ার কারনে তিনি আগে থেকে অনেক দুর্বল ছিলেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করার চেষ্টা চলছে। নিহতের একমাত্র স্বজন ফনি ময়না তদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ দাবি করেছে।

Ads small one

লাবসায় জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে সদর ইউএনও, বেড়িবাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
লাবসায় জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শনে সদর ইউএনও, বেড়িবাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা, তালতলা, কৈখালী ও মথুরাপুর গ্রামের জলবায়ুজনিত টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত। বুধবার বিকেল পাঁচটায় তিনি এসব এলাকা ঘুরে দেখেন এবং শৈলকুর বিলে অপরিকল্পিত মৎস্যঘেরের বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানোর তদারকি করেন।
পরে লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় ইউপি সদস্য, ঘের ব্যবসায়ী ও গ্রামবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন ইউএনও। তিনি বলেন, ক্যানেল তৈরি ও মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া ভবিষ্যতে ঘের পরিচালনা করা যাবে না। একই সঙ্গে রাস্তার সুরক্ষায় ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরে বসতবাড়ি নির্মাণে পর্যাপ্ত জায়গা ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ

oplus_0

সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আসিফ চত্বরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এনসিপির জেলা ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
হবিগঞ্জে এনসিপির আহ্বায়ক সারজিস আলম ও সদস্যসচিব নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ স্থানীয় নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী মো. কামরুজ্জামান বুলু ও যুগ্ম সমন্বয়কারী শেখ আহসান উল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক মুজাহিদুল ইসলাম। বক্তারা হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

সামাজিক অবক্ষয় ও জাগরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
সামাজিক অবক্ষয় ও জাগরণ

 

‎তারিক ইসলাম
‎প্রতিদিন পত্রিকার পাতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দেওয়ালে চোখ রাখলেই এক ধরনের অস্বস্তি চেপে বসে। বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি অশ্রদ্ধা, শিক্ষকদের লাঞ্ছনা, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ আর সামান্য স্বার্থের জন্য যেকোনো সীমা অতিক্রম করার প্রবণতা যেন আমাদের নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সামাজিক ব্যাধি ও যুবসমাজের একাংশের নৈতিক অবক্ষয় দেখে বারবার মনে পড়ে কবি আলফ্রেড টেনিসনের সেই অমূল্য বাণী— ‘যে অন্যকে সম্মান করতে জানে না, সে প্রকৃতপক্ষে কিছুই করতে জানে না।’
‎‎আজকের যুগে আমরা প্রযুক্তির দিক থেকে চরম উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছি ঠিকই, কিন্তু মানবিক মূল্যবোধের জায়গায় কতটা পিছিয়ে পড়েছি? সম্মান জানানোর যোগ্যতা কেবল একটি বাহ্যিক শিষ্টাচার নয়; এটি একজন মানুষের রুচি ও শিক্ষার মাপকাঠি। যে তরুণ সমাজ অন্যকে সম্মান দিতে শেখে না, তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সমাজ গঠন আশা করা কঠিন।
‎‎আমাদের সমাজে গুণীজনদের অবমূল্যায়ন আরও এক বড় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বহু বছর আগে জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এক গভীর আক্ষেপ নিয়ে বলেছিলেন, ‘যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সে দেশে গুণী জন্মাতে পারে না।’ আজ যখন আমরা দেখি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা বা ‘ভাইরাল’ সংস্কৃতিই মূল্যায়নের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর প্রকৃত শিক্ষক, গবেষক, বিজ্ঞানী বা গুণী শিল্পীরা নীরবে আড়ালে পড়ে থাকছেনÑতখন ড. শহীদুল্লাহ্র সেই উক্তিটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক ও প্রখর হয়ে ওঠে। মেধার অবমূল্যায়ন হলে মেধাবীরা হয় দেশত্যাগী হয়, না হয় তাদের মেধার বিকাশ থমকে যায়।
‎শ্রদ্ধাবোধ ও গুণীজনের কদরের পাশাপাশি আমাদের যুবসমাজে আরেকটি বড় অভাব দেখা যাচ্ছে, তা হলো ‘কৃতজ্ঞতাবোধ’। মহাকবি শেখ সাদী (রহ.) তাঁর সুবিমল চেতনার গভীরতা থেকে লিখেছিলেন, ‘একটি কৃতজ্ঞ কুকুরও অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে শ্রেয়।’ বর্তমানের আত্মকেন্দ্রিক ও ভোগবাদী সমাজকাঠামো মানুষকে অকৃতজ্ঞ হতে শেখাচ্ছে। পরিবার, সমাজ বা দেশের অবদানের কথা ভুলে গিয়ে কেবল ‘আমি’ কেন্দ্রিক ভাবনায় বুঁদ হয়ে থাকা তরুণ প্রজন্মকে এই অমোঘ বাণী স্মরণ করিয়ে দেয়Ñকৃতজ্ঞতাহীনতা মানুষের পশুর চেয়েও অধঃপতনের লক্ষণ।
‎যখন এই অমূল্য নীতিবাক্যগুলো কেবল বইয়ের পাতায় বা পরীক্ষার খাতায় বন্দি না থেকে আমাদের অন্তর ছুঁয়ে যায়, তখনই আমরা অনুধাবন করতে পারি আমাদের ভুলগুলো। মনের গহিন থেকে তখন এই আশাবাদই জেগে ওঠে—মহাজাগতিক এই প্রজ্ঞা ও মহান মনীষীদের মহাজ্ঞান যেন বিশ্বমানবের, বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মহত্তর অঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ে।
‎মানুষ কেবল শরীর বা ক্ষণস্থায়ী বস্তু দিয়ে গঠিত নয়, তার একটি আত্মা রয়েছে। পরমাত্মার সাথে বা সৃষ্টির গভীর সত্যের সাথে আত্মার যখন সত্যিকার মিলন ঘটে, তখনই মানুষের অনুভূতির প্রতিটি কোণে জেগে ওঠে জীবনের আসল স্পন্দন। প্রকৃতির সেই চিরায়ত দৃশ্যÑ‘জল পড়ে, পাতা নড়ে’- যেমন আমাদের মনের সুপ্ত সংবেদনশীলতাকে জাগিয়ে তোলে, তেমনই বিবেক জাগ্রত হলে শুরু হয় জীবনকে অর্থপূর্ণভাবে যাপন করার এক অদম্য আকুলতা।
‎যুবসমাজকে সামাজিক এই অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে হলে আবার ফিরতে হবে নৈতিক ভিত্তির কাছে। পারস্পরিক সম্মান, গুণীর কদর এবং পরম কৃতজ্ঞতাবোধের চর্চাই পারে আমাদের তরুণদের আত্মিক মুক্তি এনে দিতে এবং একটি সুস্থ, সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে। ‎লেখক: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি