শ্যামনগরে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে জ¦ালানীবাহী গাড়ি লুট ও পাম্প মালিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মটরসাইকেলের জ¦ালানী না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের তেলবাহী গাড়ী লুটসহ মালিককে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শহীদুন-নবী নামের এক যুবদল নেতা প্রায় ৪০/৫০ জন কর্মী-সমর্থক নিয়ে শ্যামনগরের খানপুর এলাকার অবস্থিত শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে পৌছে এমন হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
এঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুর একটায় ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে হুমকিদাতাসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
হুমকিদাতা কাজী শহিদুন-নবী বাবু সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বিলাল হোসেন।
তিনি বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারা শ্যামনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসহ জনগুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ করছেন। এছাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে তাদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেচকার্য্য সম্পাদনের জন্য বরাদ্দ অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ করছেন।
লিখিত বক্তব্যে বিলাল হোসেন দাবি করেন, আকস্মিকভাবে শনিবার সকালে পাশর্^বর্তী কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের শতাধিক ব্যক্তি ৫০টি মটরসাইকেল নিয়ে জ¦ালানী নিতে ভিড় করে। এসময় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারা শ্যামনগরবাসীর জন্য জ¦ালানী সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন- বলে জানালে তারা উত্তেজিত হয়ে উশৃঙ্খল আচারণ শুরু করে। একপর্যায়ে যুবদল নেতা শহীদুন-নবী বাবু নিজ এলাকায় খবর পাঠিয়ে আরও দুই শতাধিক মটরসাইকেল আনিয়ে গোটা ফিলিং স্টেশনের জ¦ালানী সরবরাহ ব্যবস্থাসহ মহাসড়ক বন্ধ করে দেয়।
এসময় শ্যামনগর থানা পুলিশের কাছে বার বার সহযোগীতা চেয়েও পাওয়া যায়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে শহীদুন-নবী বাবু ও তার কর্মী সমর্থকরা ফিলিং স্টেশনে অবস্থান করে ইচ্ছামত জ¦ালানী সংগ্রহ করেন এবং পরবর্তীতে তাদের তেলবাহী গাড়ী লুটের হুমকি দেন।
বিলাল হোসেনের অভিযোগ ফিলিং স্টেশনে অবস্থানকালে যুবদল নেতা শহীদুন-নবী ও তার অনুসারীরা যাতায়াতের পথে মৌতলা পৌছোলে মালিকের ব্যক্তিগত গাড়ী ভাংচুরসহ তেলবাহী গাড়ী লুট করবে বলে হুমকি দেয়। এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে নিজেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন- উল্লেখ করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের তদারকিতে জ¦ালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ করবেন বলেও জানান।
জনাকীর্ণ এ সংবাদ সম্মেলনে বিলাল হোসেন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ পুলিশ সদস্যদের ব্যবহারের কথা বলে কয়েকটি রেজিষ্ট্রেশনহীন মটরসাইকেলের জন্য প্রত্যায়নপত্র দিয়ে সুপারিশ জানিয়েছিল। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা মেনে জ¦ালানী সরবরাহের কারনে রেজিষ্ট্রেশন না থাকা মটরসাইকেলে পেট্রোল দিতে না পারায় তারা ক্ষুব্ধ হন। যারপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় মুহুর্তে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও অফিসার ইনচার্জের সহযোগীতা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
এসময় অন্যান্যের শ্যামনগর ফিলিং স্টেশনের অফিস সহকারী আবু তাহের ও কর্মচারী পরিষদের নেতা শিমুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এসব বিষয়ে জানতে যুবদল নেতা শহীদুন-নবী বাবুর ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মুটোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাকে ম্যাসেজ পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।






