সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

সময়ের সন্ধিক্ষণে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
সময়ের সন্ধিক্ষণে

গাজী হাবিব
ধোঁয়ার মতো ভাসে খবর, অস্থিরতায় ঢেকে যায় দিন।
বিভ্রান্ত সংলাপ ভাঙনের শব্দ তোলে নীরব রাতের দেয়ালে।
রাজপথে নামে লোভ, দাউ দাউ জ্বলে সময়ের দাবানল।
ক্ষমতার দোলাচলে কাঁপে ক্লান্ত দুপুর,
অচেনা ছায়ায় ঢাকে মহল্লা।
রোষানলের প্রতিধ্বনি হয় ঠোঁট আর দৃষ্টিতে।

তবে, পেরিয়ে যাবে তুমুল সময়- থামবে ঝড়,
এদেশও একদিন ঠিক খুঁজে নেবে ‘পথ।

Ads small one

ভারতের ‘কাঁঠাল রাজধানী’ পানরুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ভারতের ‘কাঁঠাল রাজধানী’ পানরুটি

মুচমুচে চিপস, সুগন্ধি তরকারি থেকে শুরু করে জিভে জল আনা মিষ্টি কিংবা স্মুদি; সবখানেই ভারতীয় রান্নাঘরে কাঁঠালের কদর বহু পুরোনো। গাছের সবচেয়ে বড় ফল হিসেবে পরিচিত এই কাঁঠাল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উৎপাদিত হলেও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল তার বিশাল উৎপাদন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে এক অনন্য স্বীকৃতি পেয়েছে। স্থানটি হলো তামিলনাড়ুর কুড্ডালোর জেলার পানরুটি শহর, যাকে বলা হয় ভারতের ‘কাঁঠাল রাজধানী’।

যদিও এটি কোনও প্রাতিষ্ঠানিক খেতাব নয়, তবুও ব্যাপক চাষাবাদ ও জমজমাট বাণিজ্যের কারণে পানরুটি ভারতের কাঁঠাল রাজধানী হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। এখানকার উষ্ণ আবহাওয়া ও উর্বর মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পানরুটির কাঁঠালের বিশেষত্ব হলো এর প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ, শক্ত ও রসালো কোয়া, তীব্র সুগন্ধ এবং বিশাল আকৃতি। এখানকার কাঁঠাল শুধু কাঁচা বা পাকা ফল হিসেবেই বিক্রি হয় না, বরং এটি দিয়ে চিপস ও হরেক রকমের মিষ্টিও তৈরি করা হয়।

ভরা মৌসুমে পানরুটির পাইকারি বাজার, রাস্তার ধারের দোকানগুলো কাঁঠালে ভরে ওঠে এবং তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। কেরালা, কর্ণাটক বা আসামের মতো রাজ্যেও প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদিত হয়, তবে পানরুটি তার সুনির্দিষ্ট চাষ পদ্ধতি এবং শক্তিশালী বাজার নেটওয়ার্কের কারণে আলাদা। এখানকার বহু কৃষক পরিবারের কাছে কাঁঠাল চাষের ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে। কাঁঠালের পাশাপাশি পানরুটি কাজুবাদাম চাষের জন্যও বিখ্যাত, যা তামিলনাড়ুর অন্যতম প্রধান কৃষি কেন্দ্র হিসেবে এই অঞ্চলের পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে রাস্তায় ১৩ ‘চারপেয়ে’ ফুটবল ভক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে রাস্তায় ১৩ ‘চারপেয়ে’ ফুটবল ভক্ত

বিশ্বকাপ ফুটবলের জ্বরে কাঁপছে পুরো আর্জেন্টিনা। শুক্রবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জিতে শেষ ষোলতে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসির দল। শিরোপা ধরে রাখার এই মিশনকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের রাস্তায় দেখা মিললো এক অদ্ভুত ফুটবল ভক্ত দলের। তবে এই ১৩ জন ভক্ত দুই পায়ে হাঁটে না, তারা চার পায়ে চলে এবং মাঝে মাঝে ঘেউ ঘেউ করে ডাক ছাড়ে!

পেশায় ডগ ওয়াকার ৩৩ বছর বয়সী নাহুয়েল মেনেঘিনি (যিনি ‘নানো’ নামে পরিচিত) আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি, কলার ও লিশ (কুকুর বাঁধার দড়ি) পরিয়ে একদল কুকুরকে নিয়ে প্রতিদিন রাজধানীর সান ক্রিস্তোবাল এলাকার রাস্তায় বের হচ্ছেন। নানো বলেন, দেশ, বিশ্বকাপ এবং এই কুকুরগুলোর প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি এটি করেছি।

ডগ ওয়াকারের নিজের পরনেও ছিল ভক্তদের মতো পোশাক। সরু ফুটপাত দিয়ে একসঙ্গে এতগুলো কুকুরকে দক্ষ হাতে সামলে নিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা হেসে উঠছেন এবং মুঠোফোনে ছবি তুলছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দলটিকে ডাকা হচ্ছে ‘লা পেরোনেতা’ নামে। নামটির মাধ্যমে মূলত কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে থাকা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডাকনাম ‘লা স্ক্যালোনেতা’কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। দলটির এই কাণ্ড দেখে ৮০ বছর বয়সী এদগার্দো পেরেস ছবি তুলতে তুলতে বলেন, শ্রমিক বা পেনশনভোগী আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনে এখন কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। আমাদের ভালো থাকার একমাত্র আনন্দ এখন এগুলোই।

গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার পর নানোর মাথায় এই ভাবনা আসে। তিনি নিয়মিত যে কুকুরগুলোকে নিয়ে হাঁটেন, তাদের মধ্যে ‘সিরিও’ ও ‘রবার্তা’ নামের দুটি কুকুরের মালিক মেসির ১০ নম্বর জার্সি কিনে দিয়েছিলেন। তা দেখে নানো অনুপ্রাণিত হয়ে একটি পোষা প্রাণীর দোকান থেকে বিভিন্ন আকারের আর্জেন্টিনার জার্সি কিনে বাকি কুকুরগুলোকেও পরিয়ে দেন। শুধু তা-ই নেই, আর্জেন্টিনার পতাকার সঙ্গে মিলিয়ে হালকা নীল ও সাদা রঙের লিশ এবং কলারও তৈরি করেন তিনি। লিশের মধ্যে তিনি তিনটি রিভেট বা বোতাম যুক্ত করেছেন, যা যথাক্রমে ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক। আর কলারে ঝুলিয়ে দিয়েছেন ‘নানোর কুকুর’ লেখা ট্যাগ।

প্রতিদিন প্রায় ৬০টি ব্লক চষে বেড়ানো এই কুকুরগুলো এখন স্থানীয় সেলিব্রিটি। ৭৩ বছর বয়সী দোরা মাইসানো এদের দেখে বলেন, সবাই ১০ নম্বর জার্সি পরে আছে। একেই বলে দেশপ্রেম! দেখতে ভীষণ মিষ্টি লাগছে।

নানো জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ থেকে বাদও পড়ে, তবুও এই কুকুরগুলো ‘চিরকাল’ এই জার্সি পরে থাকবে। তবে তার বিশ্বাস দল এবার চতুর্থ ট্রফি জিতবে এবং সেটি হলে তিনি কুকুরের দড়িতে আরেকটি বোতাম যুক্ত করবেন।

সূত্র: এপি

১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ সাবাড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ সাবাড়

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নিউ ইয়র্কের কোনি আইল্যান্ডে বসেছিল ঐতিহ্যবাহী হটডগ খাওয়ার প্রতিযোগিতা। তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের সামনে মাত্র ১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ সাবাড় করে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রেখেছেন বিখ্যাত প্রতিযোগী জোয়ি ‘জজ’ চেস্টনাট। নারীদের বিভাগেও নিজের শিরোপা ধরে রেখেছেন মিকি সুডো।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত নাথানস ফেমাস ফোর্থ অব জুলাই প্রতিযোগিতায় ২১ বার অংশ নিয়ে ৪২ বছর বয়সী চেস্টনাট এ নিয়ে ১৮ বারের মতো চ্যাম্পিয়নের প্রতীক ‘মাস্টার্ড বেল্ট’ জিতলেন। চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৩ জন প্রতিযোগীকে হারিয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতা শেষে স্পোর্টস বেটিং কোম্পানি পলিমার্কেট-এর লোগোযুক্ত জমকালো নেকলেস গলায় জড়িয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে চেস্টনাট বলেন, এটি একটি স্বপ্ন, অসাধারণ অনুভূতি। পৃথিবীর আর কোথাও এর চেয়ে ভালো জায়গা নেই।

প্রতিযোগিতার আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিওতে একে তিনি ‘সবচেয়ে দেশপ্রেমমূলক খেলা’ বলে আখ্যা দেন।

প্রতিযোগিতায় চেস্টনাট দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ৪১ বছর বয়সী প্যাট্রিক বার্টোলেত্তিকে (যিনি ৫০টি হটডগ খেয়েছেন) সহজেই পরাজিত করেন। তবে তিনি ২০২১ সালে নিজের গড়া ৭৬টি হটডগ খাওয়ার রেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি।

অন্যদিকে, নারীদের বিভাগে ফ্লোরিডার ৪০ বছর বয়সী মিকি সুডো ৩৮টি হটডগ খেয়ে দ্বাদশবারের মতো গোলাপি রঙের মাস্টার্ড বেল্টটি নিজের করে নেন। ২০২৪ সালে তিনি রেকর্ড ৫১টি হটডগ খেয়েছিলেন। খেলা শেষে সুডো তার স্বামীর পারফরম্যান্স দেখতে দর্শকদের সঙ্গে যোগ দেন। উল্লেখ্য, তার স্বামী ২০২১ সালে মাত্র ৩ মিনিটে ৫০টি সেদ্ধ ডিম খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পর সুডোকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ব্রুকলিনের প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং তীব্র আর্দ্রতার কারণে হটডগের নরম ভাব পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় এবার প্রতিযোগিতা বেশ কঠিন ছিল বলে জানান দুই চ্যাম্পিয়নই। ১৯৭২ সাল থেকে কোনি আইল্যান্ডে থাকা মূল নাথানস ফেমাস রেস্তোরাঁর বাইরে মাথায় ফোমের হটডগ আকৃতির ক্যাপ পরে ভক্তরা ভিড় করেছিলেন। মঞ্চের সবচেয়ে কাছে থাকা অতি-উৎসাহী ভক্তরা আবার রেইনকোট পরে এসেছিলেন, যাতে কোনও প্রতিযোগী বমি করে দিলে গা বেঁচে যায়।

সূত্র: এপি