সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ অসমাপ্ত কপোতাক্ষ সেতু: জনগণের দুর্ভোগের দায় কে নেবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ অসমাপ্ত কপোতাক্ষ সেতু: জনগণের দুর্ভোগের দায় কে নেবে?

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেরশা এবং খুলনার পাইকগাছার লাড়ুলি ইউনিয়নের সীমানায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ অর্ধেক শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদের ওপর ৮০ মিটার সেতু ও ৪৪ মিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণের যে শুভ সূচনা হয়েছিল, আজ তা মাঝপথে থমকে গেছে। রাতের আঁধারে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে চম্পট দিয়েছে, তা কেবল ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনাই প্রকাশ করে না, বরং পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরে।

এই সেতুটি কেবল সাতক্ষীরা ও খুলনার দুটি প্রত্যন্ত অঞ্চলকে যুক্ত করার অবকাঠামো নয়, এটি লাখো মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তালা, পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দাদের জেলা শহরগুলোর সঙ্গে সহজে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হওয়ার কথা ছিল এই সেতু। কিন্তু বর্তমানে নদের বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা মাত্র চারটি অসম্পূর্ণ পিলার এখন যেন স্থানীয় অধিবাসীদের হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক। বিগত আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা বিলসংক্রান্ত জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে এভাবে পণবন্দী করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দিনের পর দিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে গিয়ে কৃষক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

 

পাইকগাছা উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারবার চিঠি দিয়েও ঠিকাদারের সাড়া না পাওয়ায় চুক্তি বাতিলের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে জনগণের ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হওয়া উচিত নয়। কেবল চুক্তি বাতিলই যথেষ্ট নয়; কাজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সটে পড়া এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে আমাদের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত নিরসন করে পুনর্দরপত্রের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তালা ও পাইকগাছাÑউভয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এলজিইডি’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করবেন, এটাই ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। কপোতাক্ষের পাড়ের মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান হোক।

Ads small one

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাতে কুড়িকাহুনিয়া ভাঙন পরিদর্শনে এসিল্যান্ড মিঠুন মৈত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাতে কুড়িকাহুনিয়া ভাঙন পরিদর্শনে এসিল্যান্ড মিঠুন মৈত্র
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়াপদা বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের নির্দেশে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আশাশুনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র।
সোমবার রাতে তিনি সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নদীর তীব্র স্রোতে বাঁধের ভাঙন ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশের অবস্থা দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিঠুন মৈত্র বলেন, “সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ভাঙন সরেজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছি। বাঁধের যে অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
স্থানীয়রা জানান, বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে দিনভর প্রায় চার শতাধিক মানুষ কাজ করেন এবং অতিরিক্ত মাটি ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সংস্কার করা অংশের একটি বড় অংশ ফের নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় মসজিদগুলোতে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় রাতে হ্যালোজেন বাতি স্থাপন করে ভাঙনকবলিত এলাকায় কাজ চালানো হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ ও বাঁধ সংস্কার করা না হলে জোয়ারের পানিতে মাছের ঘের, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে বাঁধের ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
পরিদর্শনকালে প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ, সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক বিএম আলাউদ্দীনসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত ফিফা আসিয়ান কাপের ‘গ্রুপ এ’-র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ।

এই হারের ফলে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় হারের স্বাদ পেয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে টমাস ডুলির শিষ্যরা।

এর আগে, মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে ফিফা আসিয়ান কাপে মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। ২ ম্যাচে ২ হারে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে টেবিলের তলানিতে বাংলাদেশ।

ম্যাচের ৩৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর এগিয়ে যায়। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে নুর আবদুল্লাহর ক্রসে হেডে গোল করেন হারিস স্টুয়ার্ট।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমার্ধে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে সিঙ্গাপুর। পাঁচটি শট নেয় সিঙ্গাপুর। যার মধ্যে চারটিই ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে একটিও শট নিতে পারেনি বাংলাদেশ।

বিরতির পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত গোলের জন্য চেষ্টা চালিয়েও সমতাসূচক গোল আদায় করতে পারেননি জামাল ভূঁইয়া ও তার সতীর্থরা।

অন্যদিকে, দ্বিতীয়ার্ধে কোনো গোল করতে পারেনি সিঙ্গাপুরও। ফলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় সিঙ্গাপুর।

আজকের ম্যাচের শুরুর একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন কোচ টমাস ডুলি। একাদশের পরিবর্তন বাংলাদেশকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দিতে সহায়তা করলেও, সমতাসূচক গোলটি করতে ব্যর্থ হয় এবং টানা দ্বিতীয় হার বরণ করে নেয় বাংলাদেশ।

আগামী ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেলেন শান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
এশিয়ান গেমস থেকে ছিটকে গেলেন শান্ত

জ্বরের কারনে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া হলোনা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্য নাজমুল হোসেন শান্তর। দেশে থেকে জাপানে আসার পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের চিকিৎসক, বিসিবির ফিজিওথেরাপিস্ট এবং স্থানীয় মেডিকেল টিমের পর্যবেক্ষনের পর তাকে এশিয়ান গেমসে দলের বাইরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নাজমুল হোসেন শান্ত আগামীকাল যথাসম্ভব দ্রুততম ফ্লাইটে দেশে ফিরে যাবেন।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশন মেজর ইমরোজ আহমেদ (অব.) নাজমুল হোসেন শান্তর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার নিরাপদে দেশে পৌঁছানোর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।

মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ এই সম্পর্কে বলেন, ‘শান্তর প্রচন্ড জ্বর, সঙ্গে বমিও করছেন। তাই এই ক্রিকোটারকে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আজ সকালে সে অসুস্থ বোধ করলে তাকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় নেওয়া হয়। সে সকালে দলের নির্ধারিত অনুশীলনে অংশ নেননি। আগেরদিনও শান্ত অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন।