সম্পাদকীয়/ অসমাপ্ত কপোতাক্ষ সেতু: জনগণের দুর্ভোগের দায় কে নেবে?
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খেরশা এবং খুলনার পাইকগাছার লাড়ুলি ইউনিয়নের সীমানায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ অর্ধেক শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক। ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদের ওপর ৮০ মিটার সেতু ও ৪৪ মিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণের যে শুভ সূচনা হয়েছিল, আজ তা মাঝপথে থমকে গেছে। রাতের আঁধারে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে চম্পট দিয়েছে, তা কেবল ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনাই প্রকাশ করে না, বরং পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরে।
এই সেতুটি কেবল সাতক্ষীরা ও খুলনার দুটি প্রত্যন্ত অঞ্চলকে যুক্ত করার অবকাঠামো নয়, এটি লাখো মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তালা, পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দাদের জেলা শহরগুলোর সঙ্গে সহজে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হওয়ার কথা ছিল এই সেতু। কিন্তু বর্তমানে নদের বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা মাত্র চারটি অসম্পূর্ণ পিলার এখন যেন স্থানীয় অধিবাসীদের হতাশা আর দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক। বিগত আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা বিলসংক্রান্ত জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে এভাবে পণবন্দী করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দিনের পর দিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে গিয়ে কৃষক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, তার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।
পাইকগাছা উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারবার চিঠি দিয়েও ঠিকাদারের সাড়া না পাওয়ায় চুক্তি বাতিলের সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগে জনগণের ভোগান্তি আরও দীর্ঘায়িত হওয়া উচিত নয়। কেবল চুক্তি বাতিলই যথেষ্ট নয়; কাজের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে সটে পড়া এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে আমাদের দাবি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত নিরসন করে পুনর্দরপত্রের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তালা ও পাইকগাছাÑউভয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং এলজিইডি’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করবেন, এটাই ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। কপোতাক্ষের পাড়ের মানুষের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান হোক।









