সাংবাদিক আইয়ুব হোসেনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আইয়ুব হোসেনের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার (১৩ মে)। ২০০৬ সালের এই দিনে দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিক আইয়ুব হোসেন স্মৃতি পরিষদ খুলনায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পরিষদের পক্ষ থেকে শুভানুধ্যায়ীদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
খুলনার সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন আইয়ুব হোসেন। তিনি খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের (কেইউজে) সভাপতি এবং খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিনিধি হিসেবেও তার দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতা ছিল।
আইয়ুব হোসেনের পরিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক দীপক রায় চৌধুরীর সঙ্গে মিলে তিনি সম্পাদনা করতেন সাপ্তাহিক ‘বাংলার ডাক’ পত্রিকা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাট থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকায় তিনি ‘রণাঙ্গণ থেকে আইয়ুব হোসেন’ ছদ্মনামে নিয়মিত রিপোর্ট করতেন, যা যুদ্ধের ময়দানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা জোগাত। তার বাবা মরহুম আব্দুল জলিল বিশ্বাস ছিলেন মাগুরার দক্ষিণ অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক। রাজাকাররা তার পৈতৃক ভিটা দুইবার পুড়িয়ে দিয়েছিল। তার মেজ
ভাই ও ‘মোহন বাহিনীর’ প্রধান কমান্ডার মোক্তার হোসেন মোহন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে নিখোঁজ হন, যার সন্ধান আজও মেলেনি। আরেক ভাই মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন টুকুও যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দোসরদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন। তার ভাতিজা আব্দুর রউফ বিশ্বাসসহ পরিবারের ৮জন সদস্যকে রাজাকাররা জীবন্ত কবর দিয়ে হত্যা করে। এত ত্যাগ ও সক্রিয় ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও বিনয়ী আইয়ুব হোসেন জীবদ্দশায় কখনোই নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেননি। পেশাগত কাজের বাইরেও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। খুলনার সাংবাদিক সমাজে তিনি আজও এক সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে অম্লান হয়ে আছেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি










