শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘জামান ট্রেডিং ব্রিকস’ নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে যুবদলের নেতাকর্মীরা তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী বড়কুপোট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৮)কে মারপিটসহ হামলায় জড়িতরা প্রায় তিন লাখ টাকা মুল্যের ইট, খোয়া, বালু লুট করে বলে অভিযোগ।
এর আগে তারা ঐ প্রতিষ্ঠানে ঢুকে সিসি ক্যামেরাসহ মুল ফটকের তালাগুলো একে একে ভেঙে ফেলে তারা। খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক মোরসালিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জামান ট্রেডিং ব্রিকস এর মালিক মোঃ কামরুজ্জামানের ভাষ্য বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব (বহিস্কৃত) আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০/১২ জন যুবক তার প্রতিষ্ঠানে যায়। এসময় নিজেদের বালুভর্তি ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য তারা জামান ট্রেডিং ব্রিকস এর মুল ফটকের তালাগুলো খুলে দিতে বলে।
তবে ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের নির্দেশ না মানায় কিছুক্ষণ পরে যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান, আলমগীর, রোকনুজ্জামান, বিল্লাল ও মহসীনসহ অপরিচিত সাত/আটজন সেখানে পৌছে গালিগালাজ শুরু করে।
একপর্যায়ে তারা হুইল রেন্স ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মুল ফটকের তালাগুলো একে একে ভেঙে ফেলে এবং ইঞ্জিন ভ্যানযোগে ইট, বালু, খোয়াসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এসময় বেশকিছু গাছ-গাছালি কাটার পাশাপাশি তারা বাধা দিতে যাওয়া ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বেপরোয়া মারপিট করে। এঘটনায় শুক্রবার দুপুরে তিনি পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিন/চারজনকে আসামী করে এজাহার জমা দিয়েছেন।
কামরুজ্জামানের অভিযোগ, গত ৫ আগষ্টের দুই সপ্তাহ পর মিজান ও আলমগীরের নেতৃত্বে তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যাপক লুটপাট করা হয়। সে ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাইরে সরবরাহ করায় পরবর্তীতে পুনরায় তারা হামলা চালিয়ে সিসি ক্যামেরাগুলো ভাংচুর করে হুমকি দিয়েছিল।
পরবর্তীতে ২১ জুন ২০২৫ তারিখে দলবল নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বদখলীয় প্রায় ১৭ শতক জায়গা দখল করে নিয়েছে। সে ঘটনায় আদালতে মামলা (১০৯৫/২৫) চলমান থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পুনরায় একই দুবৃর্ত্তরা তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। এর আগে একই গ্রুপের সদস্যরা ব্যাংকের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা চাঁদা গ্রহনের পাশাপাশি তার ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবদলের (বহিস্কৃত) সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান কল রিসিভ করেননি।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক এসআই মোরছালিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান মালিক মোঃ কামরুজ্জামান কয়েকজনকে আসামী করে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।