বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে সম্মানি প্রদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে সম্মানি প্রদান

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মানি প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সভা থেকে এসময় ৪ জন শহিদ পরিবারের মাঝে মাথাপিছু ১৫০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং আহতদের মাঝে মাথাপিছু ৫০০ টাকার প্রাইজবন্ড প্রদান করা হয়। ৪ জন শহীদ পরিবারসহ সর্বমোট ১০১ জনের মাঝে এ সম্মানী প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহবায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল ও সেক্রেটারি মাওঃ আজিজুর রহমানসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলোচনা সভার শেষ পর্যায়ে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৪ জন শহিদ পরিবার ও আহত ৯৭ জন জুলাই যোদ্ধাকে সম্মানি প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বক্তব্য শেষ করার পর পুলিশ সুপার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলমকে মঞ্চে ডেকে নেয়া হয়। সম্মানি বিতরণের সময় জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার দুইজন মঞ্চে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের উক্ত সম্মানী উপহার বিতরণ করেন।

 

এসময় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন। এরআগে সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন ডাবাংলোয় অবস্থিত জুলাই স্মৃকিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পন করেন।

 

Ads small one

পানি নয়, ঢুকছে প্লাস্টিকও/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
পানি নয়, ঢুকছে প্লাস্টিকও/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

এক বোতল পানি হাতে নেওয়ার সময় আমরা সাধারণত ভাবি, তৃষ্ণা মেটাতে নিরাপদ পানি পেয়েছি। কিন্তু সেই পানির সঙ্গে অদৃশ্য প্লাস্টিক কণাও শরীরে প্রবেশ করছে কি নাÑএই প্রশ্নটি এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। প্লাস্টিক দূষণ এত দিন আমরা দেখেছি নদী-খাল, সমুদ্র, রাস্তা কিংবা ড্রেনের বর্জ্য হিসেবে। এখন বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এর ক্ষুদ্র কণা মানুষের খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গেও শরীরে প্রবেশ করছে। থাইল্যান্ডের বিখ্যাত ফি ফি দ্বীপে বেড়াতে গিয়ে সারা সাজেদির সামনে বিষয়টি নতুনভাবে ধরা দেয়। আন্দামান সাগরের নীল জল ও অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝেও সৈকতে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য প্লাস্টিকের বোতল তাঁকে ভাবিয়ে তোলে।

 

পরিবেশবিষয়ক সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও সেই সফর তাঁকে উপলব্ধি করায়Ñপ্লাস্টিকের সমস্যা শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা নয়; এটি মানুষের জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। পরবর্তী সময়ে কানাডার কনকর্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতে ডক্টরাল গবেষণার অংশ হিসেবে প্রায় ১৪০টি বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিশ্লেষণ করেন তিনি। উদ্দেশ্য ছিল প্লাস্টিকের বোতলে রাখা পানির সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া। সেই গবেষণার তথ্য নিঃসন্দেহে উদ্বেগ তৈরি করে। একজন মানুষ বছরে খাবার ও পানির মাধ্যমে গড়ে ৩৯ হাজার থেকে ৫২ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন।

 

আর যারা নিয়মিত বোতলজাত পানি পান করেন, তাঁদের শরীরে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৯০ হাজার মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা প্রবেশ করতে পারে। সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়; এগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতা সামনে আনে। আমরা যে জিনিসটিকে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্নতার প্রতীক মনে করছি, সেটিই যদি অদৃশ্য প্লাস্টিক কণার বাহক হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতেই হবে। মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। এর চেয়েও ছোট কণাকে বলা হয় ন্যানোপ্লাস্টিক। এগুলো খালি চোখে দেখা যায় না।

 

প্লাস্টিকের বোতল উৎপাদন, ব্যবহার, ঘর্ষণ, সংরক্ষণ ও পরিবহনের সময় ক্ষুদ্র কণা তৈরি হতে পারে। তাপমাত্রা বেশি হলে কিংবা বোতল দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রচ- গরমে দোকানের সামনে, বাজারে কিংবা পরিবহনের সময় পানির বোতল অনেকক্ষণ রোদে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

 

একজন ভোক্তা বোতলটি কেনার সময় জানতেও পারেন না, সেটি কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ শুধু পানির মান পরীক্ষা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। পানি যে পাত্রে রাখা হচ্ছে, সেই পাত্রের মান এবং সংরক্ষণব্যবস্থাও জনস্বাস্থ্যের অংশ। মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের শরীরে এসব কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

 

শরীরে প্রবেশের পর এগুলো বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছাতে পারে এবং প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্য ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিছু গবেষণায় ক্যানসারের সঙ্গেও সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।তবে এখানেই সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা জরুরি। মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলেই নির্দিষ্ট রোগ হবেÑএমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বিজ্ঞান দেয়নি। দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।

 

কিন্তু অনিশ্চয়তা মানেই নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নয়। যখন কোনো পদার্থ নিয়মিতভাবে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরোপুরি জানা যাচ্ছে না, তখন ঝুঁকি কমানোর পথ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শুধু বোতলকে দায়ী করলে সমস্যার গভীরে যাওয়া হবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ভোগের সংস্কৃতি। ‘ব্যবহার করো, ফেলে দাও’Ñএই সংস্কৃতি আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কয়েক মিনিটের সুবিধার জন্য আমরা এমন একটি বস্তু ব্যবহার করছি, যা পরিবেশে বছরের পর বছর থেকে যায়।

 

একটি প্লাস্টিকের বোতল হাতে নেওয়ার সময় আমরা তৃষ্ণা মেটানোর কথা ভাবি। কিন্তু সেটি ব্যবহারের পর কোথায় যাবে, কীভাবে পুনর্ব্যবহার হবে কিংবা শেষ পর্যন্ত নদী-খাল বা সমুদ্রে গিয়ে কী ক্ষতি করবেÑতা নিয়ে খুব কমই ভাবি। ফলে প্লাস্টিকের বোতলের সংকট একই সঙ্গে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসংকট। বাংলাদেশে নিরাপদ পানির প্রশ্ন এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহর থেকে গ্রাম, উপকূল থেকে চরাঞ্চলÑঅনেক মানুষ নিরাপদ পানির জন্য নানা বিকল্পের ওপর নির্ভর করেন।

 

দুর্যোগ বা বন্যার সময় বোতলজাত পানি অনেকের জন্য জীবনরক্ষাকারীও হয়ে ওঠে। তাই বোতলজাত পানি পুরোপুরি পরিত্যাগের কথা বলা বাস্তবসম্মত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি প্রয়োজনীয়। কিন্তু যেখানে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা আছে, সেখানে প্রতিদিন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতলের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও জনসমাগমের স্থানে নিরাপদ পানি ও রিফিলের ব্যবস্থা করা গেলে মানুষও সহজে বিকল্প বেছে নিতে পারবেন।

 

প্লাস্টিক দূষণের দায় কেবল সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। একজন মানুষ কেন বোতলজাত পানি কিনছেন, তার পেছনে নিরাপদ পানির অভাব যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, বাজারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির প্রশ্ন। পানির মানের পাশাপাশি বোতলের মান, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, সংরক্ষণ ও পরিবহনব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। বিশেষ করে তীব্র গরমে প্লাস্টিকের বোতল কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেটি নজরদারির আওতায় আনা জরুরি।

 

একই সঙ্গে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নিরাপদ বোতল ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, সহজ ও সাশ্রয়ী বিকল্পও তৈরি করতে হবে। সমস্যাটি বড় হলেও সমাধানের শুরু হতে পারে ছোট একটি অভ্যাস থেকে।যেখানে নিরাপদ পানি পাওয়া যায়, সেখানে প্রতিদিন নতুন প্লাস্টিকের বোতল কেনার পরিবর্তে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নিরাপদ বোতল ব্যবহার করা যায়। বাইরে গেলে নিজের বোতল সঙ্গে রাখার অভ্যাস করা যায়। ব্যবহৃত বোতল যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা যায়।

 

এসব হয়তো খুব ছোট পদক্ষেপ। কিন্তু কোটি মানুষ একই অভ্যাস গ্রহণ করলে তার প্রভাব ছোট থাকে না। ফি ফি দ্বীপের সৈকতে পড়ে থাকা একটি প্লাস্টিকের বোতল থেকে যে প্রশ্নের জন্ম হয়েছিল, তা এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পানির বোতল পর্যন্ত এসে পৌঁছেছে। এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। পানি বিশুদ্ধ হলেই হবে না; পানি কীভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে, কী পাত্রে রাখা হচ্ছে এবং সেই পাত্র থেকে কী আমাদের শরীরে যাচ্ছেÑসেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

প্লাস্টিক আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু সেই সুবিধার বিনিময়ে যদি ধীরে ধীরে আমাদের শরীর ও পরিবেশকে মূল্য দিতে হয়, তাহলে সেই সুবিধার হিসাব নতুন করে করা দরকার। পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। সেই পানি যেন আমাদের তৃষ্ণা মেটায়, অদৃশ্য ঝুঁকি না বাড়ায়Ñএ দায়িত্ব রাষ্ট্রের, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের এবং আমাদের সবার। আজ একটি প্লাস্টিকের বোতল কম ব্যবহার করা হয়তো পৃথিবী বদলে দেবে না। কিন্তু কোটি মানুষ যদি একটি করে বোতল কম ব্যবহার করেন, নিরাপদ পানির বিকল্প তৈরি হয় এবং প্লাস্টিক ব্যবহারের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসে, তাহলে সেই ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। বিশুদ্ধ পানির নামে আমরা যেন অদৃশ্য প্লাস্টিক না পান করিÑএখনই সচেতন হওয়ার সময়।

সুত্র: বিভিন্ন বিঞ্জান সামযিকী

বিশ্ব হ্রদ দিবস: মিঠাপানির ভাণ্ডার রক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
বিশ্ব হ্রদ দিবস: মিঠাপানির ভাণ্ডার রক্ষায় বৈশ্বিক অঙ্গীকার
সাকিবুর রহমান বাবলা 
২৭ আগস্ট পালিত হয় ‘বিশ্ব হ্রদ দিবস’। পৃথিবীর হ্রদ, জলাধার ও মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং এর সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে জাতিসংঘ এই দিবস ঘোষণা করেছে। ​২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত রেজোলিউশন (এ/আর‌ইএস/৭৯/১৪২)-এর মাধ্যমে ২৭ আগস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর আগে, ২০২৪ সালের মে মাসে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত ১০ম বিশ্ব জল ফোরামে এই সুপারিশ উত্থাপিত হয়েছিল। দিবসটির কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি।
হ্রদ পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এগুলো শুধু জলাধার নয়; বরং পরিবেশ, জলবায়ু, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও মানবজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি জটিল বাস্তুতন্ত্র। পৃথিবীতে বর্তমানে ১১ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি হ্রদ রয়েছে, যা বিশ্বের স্থলভাগের প্রায় ৪ শতাংশ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পৃথিবীর অধিকাংশ মিঠাপানি হিমবাহ ও ভূগর্ভে সঞ্চিত থাকলেও বরফমুক্ত ভূপৃষ্ঠে বিদ্যমান তরল মিঠাপানির প্রায় ৯০ শতাংশই হ্রদে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে পানীয় জল, কৃষি, শিল্প, মৎস্যসম্পদ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য হ্রদের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রকৃতির অমূল্য রত্ন হ্রদগুলো অতিরিক্ত পানি ধারণ করে বন্যা রোধ, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সমৃদ্ধ এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত বাড়িয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। একই সঙ্গে, এগুলো অতিরিক্ত তাপ শোষণ ও কার্বন সংরক্ষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায়, বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এবং পর্যটন ও মৎস্য শিকারের মতো কার্যক্রমে লাখো মানুষের জীবিকার উৎস হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে। এবং এর জলজ ও তীরবর্তী পরিবেশ নানা ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খল টিকিয়ে রাখে।
তবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি। দ্রুত নগরায়ন, শিল্পায়ন, কৃষিতে রাসায়নিক সার ও অতিরিক্ত কীটনাশক  ব্যবহার, অপরিশোধিত বর্জ্য নির্গমন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের অনেক হ্রদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন মূল্যায়নে দেখা যায়, বিশ্বব্যাপী উৎপাদিত বর্জ্যজলের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অপরিশোধিত অবস্থায় নদী, হ্রদ ও অন্যান্য জলাশয়ে প্রবেশ করে। এর ফলে পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে, জলজ প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে এবং মানবস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন হ্রদগুলোর জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হ্রদের পানির তাপমাত্রা বাড়ছে, বাষ্পীভবনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক হ্রদের আয়তন সংকুচিত হচ্ছে। বিভিন্ন অঞ্চলে বরফে আচ্ছাদিত হ্রদগুলোর বরফস্তর দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ফলে জলচক্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে এবং খরা ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অস্থিতিশীল ভূমি ব্যবহার ও বন উজাড়ের কারণে অনেক হ্রদের স্বাভাবিক পুনর্ভরণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
বিশ্বব্যাপী পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক দেশের নদী, হ্রদ ও জলাধারের মতো মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রগুলো দ্রুত অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে, যা পরিবেশগত সংকটের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এক বড় বাধা। এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রায় তিন দশক ধরে ইউএনইপি-ডিএইচআই সেন্টার ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট ও টেকসই হ্রদ ব্যবস্থাপনার প্রসারে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি নীতিগত পরামর্শ প্রদান, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সক্ষমতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মিঠাপানির টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক অর্থে বড় আকারের হ্রদ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও দেশের অসংখ্য বিল, হাওর, বাঁওড়, দিঘি, জলাধার, জলাভূমি এবং কৃত্রিম লেক একই ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ভূমিকা পালন করে। কাপ্তাই হ্রদ দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম মিঠাপানির জলাধার হিসেবে মৎস্যসম্পদ, পর্যটন ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এছাড়া সিলেট অঞ্চলের হাওরসমূহ, গোপালগঞ্জের বিলাঞ্চল, খুলনা-সাতক্ষীরার বাঁওড়সমূহ এবং দেশের বিভিন্ন জেলার দিঘি ও জলাধার স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
কিন্তু বাংলাদেশের জলাশয়গুলোও নানা সমস্যার সম্মুখীন। দখল, ভরাট, দূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, প্লাস্টিক বর্জ্য, কৃষিজ রাসায়নিকের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বহু জলাশয় হারিয়ে যাচ্ছে বা পরিবেশগত সক্ষমতা হারাচ্ছে। নগরাঞ্চলের অনেক লেক ও খাল দূষণের চাপে তাদের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে। ফলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পরিবেশের অবনতি ঘটছে। যদিও বাংলাদেশ পরিবেশ আইন, ১৯৯৫, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন, ২০১৭’সহ সংশ্লিষ্ট আরো কয়েকটি প্রচলিত আইন থাকার শর্তেও এসব প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
পৃথিবীর সুন্দর প্রাকৃতিক লেকগুলোর মধ্যে কানাডার লেক মোরাইন তার বরফঢাকা পাহাড় ও নীল পানির জন্য, ক্রোয়েশিয়ার প্লিতভিসে লেক জলপ্রপাতসমৃদ্ধ ১৬টি লেকের দলের জন্য এবং স্লোভেনিয়ার লেক ব্লেড মাঝের দ্বীপ ও আল্পস পর্বতের সুন্দরের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া গুয়াতেমালার লেক আতিতলান আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে তৈরি হওয়ার কারণে এবং নিউজিল্যান্ডের লেক টেকাপো স্বচ্ছ নীল পানি ও ফুলের তীরের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
বিশ্ব হ্রদ দিবসের মূল বার্তা হলো—মিঠাপানির এই অমূল্য ভাণ্ডারকে রক্ষা করা এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়িত্ব নয়; এটি মানবজাতির টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত। হ্রদ ও জলাশয় সংরক্ষণে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, টেকসই কৃষি চর্চা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৬.৬ নম্বর লক্ষ্য অনুযায়ী জল-সম্পর্কিত বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
ভিডিএফের সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে সভাপতি হোসেন আলী, সম্পাদক ইব্রাহিম
নিজস্ব প্রতিনিধি: যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ভলান্টিয়ার্স স্পার্ক আদারস (ভিএসও) বাংলাদেশের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ভলান্টিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (ভিডিএফ) সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচন-২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনে জেলা নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে মো. হোসেন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইব্রাহিম খলিল নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে জেলা নির্বাহী কমিটি নির্বাচন-২০২৬-এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ড. আবুল হোসেনের আদেশক্রমে নির্বাচন কমিশনার নাজিয়া তারান্নুম স্বাক্ষরিত পত্রে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) সারাদেশে একযোগে ভিডিএফের জেলা নির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল ৯টা থেকে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে ভোট গ্রহণ করা হয়। এতে ভিডিএফ সাতক্ষীরা জেলা কমিটির ৫৭ জন সদস্য ভোট প্রদান করেন। ভোটগ্রহণ শেষে পরদিন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে জেলা নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি-১ (কৌশল ও পরিকল্পনা) পদে মিলন কুমার বিশ্বাস, সহসভাপতি-২ (কার্যক্রম ও পরিচালনা) পদে মো. ইলিয়াস হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে উম্মে ফুয়ারা, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অর্পণ বসু এবং কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম সাজেদুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।
ফলাফল প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সভাপতি মো. হোসেন আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, সাতক্ষীরার যেকোনো স্থানীয় সংকট ও সমস্যা সমাধানে এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। একই সাথে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং তরুণ ভলান্টিয়ারদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। যেকোনো মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সফলতা অর্জন করতে তারা স্থানীয় প্রশাসন, সুশীল সমাজ এবং সকল ভলান্টিয়ারের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন তারা।
উল্লেখ্য, ভলান্টিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (ভিডিএফ) ভিএসও বাংলাদেশের সরাসরি সহযোগিতায় পরিচালিত বাংলাদেশব্যাপী তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের একটি জাতীয় নেটওয়ার্ক। দেশের ৬৪টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা এ সংগঠনটি যুব নেতৃত্বের বিকাশ, জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে টেকসই সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।