শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি সচেতনতায় ভিবিডির স্বেচ্ছাসেবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি সচেতনতায় ভিবিডির স্বেচ্ছাসেবকেরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাড়ির আঙিনা থেকে ছাদ, কোথাও জমে থাকা পানি আছে কি না, তা দেখছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। সাতক্ষীরায় ডেঙ্গর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংসে বাড়ি বাড়ি সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরা।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর, কামালনগর, মুনজিতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি যান তারা। বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে বাড়ির আশপাশে পানি জমে আছে কি না, ফুলের টব, বালতি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার কিংবা অন্য কোনো জায়গায় এডিস মশার প্রজননের সুযোগ আছে কি না, তা দেখার বিষয়ে সচেতন করা হয়।

স্বেচ্ছাসেবকেরা বাসিন্দাদের বলেন, ডেঙ্গণ প্রতিরোধের বড় একটি কাজ শুরু করতে হবে নিজের বাড়ি থেকেই। বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত ফেলে দিতে হবে। যেসব পাত্রে পানি রাখা হয়, সেগুলো ঢেকে রাখতে হবে। ছাদ, বারান্দা, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।

শুধু নিজের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই হবে না, আশপাশের জায়গাগুলোর দিকেও নজর দিতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং পরিত্যক্ত পাত্র বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলার বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে।

ভিবিডি সাতক্ষীরার সভাপতি এস এম সাজেদুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গণ প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক পরিবার যদি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেয় এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে, তাহলে সংক্রমণ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতেই তাঁরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) সাতক্ষীরার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব হোসেন বলেন, ডেঙ্গণ প্রতিরোধ শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমেছে কি না, নিয়মিত দেখতে হবে এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য ভিবিডির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কারও জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা বা ডেঙ্গণর অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তবে রোগী হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ খুলনা ডিভিশন বোর্ডের কমিউনিকেশন সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্টের হিউম্যান রিসোর্স অফিসার তানজিল আলম, ট্রেজারার নাজমুল হাসান, সদর উপজেলা কমিটির করিমুন্নেসা শান্তা, কমিটি মেম্বার গোলাম হোসেন, তানভীর আঞ্জুম খান, সামির চৌধুরী, শিশু সদস্য ফালাকসহ সংগঠনের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকেরা।

সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গণর বিস্তার রোধ করতে এমন বার্তা নিয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে ভিবিডি সাতক্ষীরা।

 

Ads small one

পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। টাটা ক্রপকেয়ার কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেশব সাধু শুক্রবার সকাল দশটায় তার নিজ গ্রাম তৈলকুপিতে প্রায় হাজার পরিবারের মাঝে উক্ত শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

 

কেশব সাধু বলেন, প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন।

 

কেবশ সাধু বলেন, আমি এলাকার মানুষের ভালবাসায় সিক্ত। গতবছর পুজায় আমার বাবা আনন্দ সাধু নিজ হাতে বিতরণ কাজ করেছিলেন। এ বছর বাবা নেই, বাবা থাকলে তিনি নিজ হাতে এ কাজ করতেন। তিনি সকলের কাছে বাবার জন্য আর্শিবাদ কামনা করেন, বাবা যেন পরপারে সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাটা ক্রপকেয়ারের স্বত্বাধিকারী গোবিন্দ সাধু, ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র সাধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: মশার বংশবিস্তার রোধ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জমা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পরবর্তীতে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত-সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ডালটন সানা, ডা. তন্ময় মন্ডল, ডা. মাম্পি মন্ডল এবং ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রহমান রাজ।

উপস্থিত চিকিৎসকরা বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি সচেতনতার বিকল্প নেই। ঘরের চারপাশ ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝাতেই আমরা রোগী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলছি। এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

মেরুদন্ডের চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমাতে সরকারি হাসপাতালে স্পাইন ইউনিটের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
মেরুদন্ডের চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমাতে সরকারি হাসপাতালে স্পাইন ইউনিটের দাবি

এসএম বিপ্লব হোসেন: মেরুদন্ডের উন্নত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালুর দাবি জানিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। একই সঙ্গে স্পাইন সার্জনদের জন্য পৃথক পদ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে সাতক্ষীরা স্পেশালাইজড হসপিটালের উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্পাইন হেলথ ফর লাইফ’ অর্থাৎ আজীবন মেরুদন্ডের সুস্বাস্থ্য।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থোপেডিকস, ট্রমা ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। বক্তব্য রাখেন কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বাপ্পী কুমার দাশ, প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রাসেল, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ-দৌলা সাগর, ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওশন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁসহ অন্যরা।

সভায় ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ বলেন, মেরুদন্ড সুস্থ না থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। হাঁটাচলা, দৈনন্দিন কাজকর্ম ও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে মেরুদন্ডের সুস্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই মেরুদন্ড সুস্থ রাখতে সচেতনতা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি। ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড পরিহার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।

মেরুদন্ডের ব্যথাকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে সেবন করেন। এতে কিডনি ও যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। মেরুদন্ডের ব্যথার পেছনে ডিস্কের সমস্যা ছাড়াও যক্ষ্মা, ক্যানসার, হাড়ের ক্ষয়, কাইফোসিস, স্কলিওসিস ও অস্টিওপোরোটিক ফ্র্যাকচারের মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সরকারি পর্যায়ে উন্নত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে মেরুদন্ডের চিকিৎসা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে। ফলে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালে এ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালু, স্পাইন সার্জনদের জন্য স্বতন্ত্র পদ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বিদেশে যেতে হচ্ছে। দেশে মানসম্মত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো গেলে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে এবং দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। এ লক্ষ্যে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. পলাশ জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পাইন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরাতেও এ ধরনের সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিতে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন।