সাতক্ষীরায় দেশি-বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহ হলেও কমেনি দাম
এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরা শহর ও শহরতলীর হাট-বাজারগুলো এখন ইলিশে ভরপুর। পর্যাপ্ত ইলিশ সরবরাহের রমরমা খবর ছড়াতে শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদে চালানো হচ্ছে মাইক প্রচার। ইলিশের স্বাদ নিতে প্রচারাভিযানে আকর্ষণ বাড়ানো হচ্ছে ভোক্তাদের। বছরে একবার ইলিশের স্বাদ পেতে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভোগতারা ছুটে আসছে শহরের মাছ বাজারে।
বিপুল পরিমাণ ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দাম আকাশ ছোঁয়া। মাছ কেনার অদম্য ইচ্ছা থাকলেও অর্থাভাবে কিনতে পারছে না সাধারণ ক্রেতারা। সামর্থবানরা পছন্দের মাছ কিনলেও বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া হতদরিদ্র মানুষ। ওজন ও আকারভেদে ইলিশের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। দেশে ভরা মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার যোগান দিতে ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে পর্যাপ্ত ইলিশ। গত দুই মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ মেট্রিকটন ইলিশ আমদানি হয়েছে। আরো ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি করা এসব ইলিশের বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া পাইকারি মাছ বাজার হয়ে গুজরাটের ভরুচ থেকে দেশে এসেছে। ভারত থেকে আসা এসব ইলিশ দেশীয় বরিশাল ও পদ্মার ইলিশ দেখিয়ে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশি বিদেশি ইলিশের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাম কম হওয়ার কথা থাকলেও কারসাজি আর অতি মুনাফা লাভের কারণে দামের স্থিতিশীল প্রভাব পড়েনি বাজারে। সুতরাং ইলিশের চড়া দামে নাকাল সাধারণ ক্রেতা। মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা বলছেন, বাংলাদেশের ইলিশ ভারতের বাজারে বিশেষ আকর্ষণের পণ্য ছিল, সেই বাংলাদেশের বাজারে এখন ভারতীয় ইলিশ ডুকছে।
বাণিজ্যের এই বিপরীতমুখী প্রবাহ বিস্ময়কর হলেও গত দুই বছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র বলছেন, ১৯৮৭ সাল থেকে ২০২২-২৩, অর্থবছর পর্যন্ত দেশে ইলিশ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। কিন্তু ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো উৎপাদন প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে যায়। ওই দুই অর্থ বছরে ইলিশের উৎপাদন কমেছে যথাক্রমে ৭ দশামিক ৩৩ শতাংশ এবং ৫ দশামিক ৫১ শতাংশ।
তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উৎপাদনের তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি মৎস্য অধিদপ্তর। এদিকে ইলিশের উৎপাদন কমার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে জাটকা রক্ষায় দুর্বল আইন প্রয়োগ, নদী দূষণ ও পলি জমার বিষয় রয়েছে। জাটকা আহরণ বন্ধে আইন প্রয়োগ যথাযথ না হওয়ায় ইলিশের উৎপাদন এর প্রভাব পড়েছে।






