শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় পুড়ছে জনজীবন, হাসপাতালেও জায়গা নেই শিশুদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় পুড়ছে জনজীবন, হাসপাতালেও জায়গা নেই শিশুদের

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: অনাবৃষ্টির আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। উপকূলে বইছে তপ্ত লু হাওয়া। তীব্র গরমে সাতক্ষীরায় ঘরে ঘরে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়ায়। প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শিশু রোগীর ভিড়। শয্যাসংকট আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই চলছে জীবন বাঁচানোর লড়াই।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র এখন অভিন্ন। তিল ধারণের জায়গা নেই শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডগুলোতে। শয্যা না পেয়ে অনেক মা তাঁদের কোলের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের মেঝে কিংবা বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন।

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় শহরের মুনজিতপুর থেকে আসা ময়না খাতুনের সঙ্গে। ১১ মাসের শিশু আবু রায়হানকে নিয়ে গতকাল ভর্তি হয়েছেন তিনি। ময়না খাতুন বলেন, “হাসপাতাল থেকে শুধু স্যালাইন পাচ্ছি, বাকি সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ওষুধের টাকা জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি।” একই দশা তালা উপজেলার পাপিয়া খাতুনের। ১০ মাসের শিশু মোছাব্বিরকে নিয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে জায়গা হয়েছে তাঁর। তাঁর অভিযোগ, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর যে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে।

হাসপাতালগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে। গত ৫০ দিনে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বেসরকারি শিশু হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৭১৮ জন শিশু ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার শিশু। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন ভিড় করছে শত শত ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সামছুর রহমান বলেন, “মার্চ-এপ্রিল থেকেই গরমের তীব্রতা বাড়ে। অতিরিক্ত ঘাম ও রোদে শিশুদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে ডায়রিয়ার পাশাপাশি জ্বর ও বমির প্রকোপ বাড়ছে।” তিনি অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোনোভাবেই শিশুদের পচা-বাসি খাবার দেওয়া যাবে না। পর্যাপ্ত পানি ও খাওয়ার স্যালাইনের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ চালিয়ে যেতে হবে।

এদিকে অবকাঠামোগত সংকটের কথা স্বীকার করেছেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান। তিনি জানান, অপর্যাপ্ত শয্যা নিয়ে শিশু রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নার্স ও চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শয্যা বাড়ানোর জন্য সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে।

প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ থেকে শিশুদের বাঁচাতে সচেতনতা আর সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের জন্য।

 

 

 

Ads small one

হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন বিষয়ক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন বিষয়ক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সৌদি আরব ও বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত হজ ও ওমরাহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান নাঈম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস এন্ড টুরস (লাইসেন্স নং-৫১৮)-এর উদ্যোগে ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকায় একাডেমি মসজিদ রোডস্থ আল-আকসা মসজিদ সংলগ্ন নাঈম ইন্টারন্যাশনালের নিজস্ব হজ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন, সরকারি নীতিমালা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া, হজের পূর্বপ্রস্তুতি, হজের গুরুত্ব এবং ওমরাহ সেবাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, হজ পালনে আগ্রহীদের সময়মতো প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে হজ পালন নিশ্চিত করতে সরকার অনুমোদিত হজ এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাঈম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস এন্ড টুরসের স্বত্বাধিকারী আলহাজ মাওলানা আব্দুল হাদী, ড. মুফতি আক্তারুজ্জামান, আলহাজ নজরুল ইসলাম, আলহাজ আব্দুল রাজ্জাক, আলহাজ গোলাম মোর্তজা, আলহাজ মাওলানা মহাসীনুর রহমান, আলহাজ কাজী শামসুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন ও বুকিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। আগ্রহী হজযাত্রীদের দ্রুত প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য নাঈম ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস এন্ড টুরসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

বজ্রধ্বনি ও সাতক্ষীরার অরক্ষিত জনপদ/ আখলাকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
বজ্রধ্বনি ও সাতক্ষীরার অরক্ষিত জনপদ/ আখলাকুর রহমান

আখলাকুর রহমান

‘শুনলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাই তখনই’-খনা যখন তাঁর চিরন্তন বচনে এই সাবধানবাণী উচ্চারণ করেছিলেন, তখন বাঙালির বিজ্ঞানচেতনা হয়তো আজকের মতো ল্যাবরেটরির কাচে বন্দি ছিল না, কিন্তু প্রকৃতির মেজাজ চেনার এক মায়াময় প্রজ্ঞা তাঁদের ছিল। আজ ২৮শে জুন, আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস। জলবায়ু পরিবর্তনের এই চরম সংকটের দিনে ক্যালেন্ডারের এই তারিখটি আমাদের কাছে কেবলই এক লৌকিক আয়োজন হয়ে আসে, অথচ খোদ জাতিসংঘের জলবায়ু বিজ্ঞানীরা এই বজ্রপাতকে অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

 

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে প্রতি এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার কারণে বজ্রপাতের আশঙ্কা প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। আজ এই দিবসের আলোয় যখন আমাদের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, বিল আর নদীপাড়ের প্রান্তিক মানুষের দিকে তাকাই, তখন প্রকৃতির এই রুদ্র রূপকে এক অনিবার্য মরণফাঁদ বলে মনে হয়।

 

বাঙালি সাহিত্যের দিকে তাকালে দেখা যায়, আমাদের ঔপন্যাসিকরা প্রকৃতির এই রুদ্রলীলাকে মানুষের নিয়তির সাথে বারেবারে এক সুতোয় বেঁধেছেন। কালজয়ী কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কবি’ উপন্যাসের সেই অমোঘ ট্র্যাজেডির কথা কি আমরা ভুলতে পারি? ঝুমুর দলের নর্তকী বসন্ত যখন নিতাইয়ের জীবনের সমস্ত আলো কেড়ে নিয়ে অকাল বসন্তেই বিদায় নিল, তার আগে সেই কালবোশেখীর রাতে আকাশ চিরে নেমে আসা বজ্রপাত যেন তাদের নিয়তিরই এক নিষ্ঠুর অট্টহাসি ছিল।

 

আবার বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’তে কিংবা রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে ঝড়ের রাতের যে বর্ণনা, তা কেবল রোমান্টিকতা নয়, প্রকৃতির এক আদিম ও অমোঘ শক্তির জানান দেয়। বজ্রপাত তো আসলে কোনো আকস্মিক দৈব দুর্ঘটনা নয়, এটা আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করার এক চরম প্রতিশোধ। সাতক্ষীরার সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে আজ অপরিকল্পিতভাবে তালগাছসহ সব বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে মাঠের কৃষক আর মৎস্যজীবীদের। খোলা বিলে বা মৎস্য ঘেরে কাজ করার সময় একটু অসচেতনতার কারণেই প্রতি বছর কতশত তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে, কত সোনার সংসার মুহূর্তের মধ্যে ছাই হয়ে যাচ্ছে।

আইনের শুষ্ক বিধি বা লিফলেট বিলি করে প্রকৃতির এই মরণকামড় থেকে মানুষকে বাঁচানো যাবে না, এর জন্য প্রয়োজন আমাদের মজ্জাগত অভ্যাসের আমূল পরিবর্তন। খনার সেই প্রাচীন সূত্রকে আজ আমাদের আধুনিক জীবনের বর্ম বানাতে হবে; আকাশে মেঘের প্রথম গুড়গুড়ানি শুনলেই সমস্ত অবহেলা দূরে ঠেলে নিরাপদ আশ্রয়ে বা পাকা দালানের নিচে চলে যাওয়াটাই বেঁচে থাকার একমাত্র পথ। ইসলামে বজ্রপাতকে আল্লাহর মহিমার এক পরম নিদর্শন ও সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এই সময়ে বিশেষ দোয়া পড়ার নির্দেশ রয়েছে, যা মানুষের মনকে শান্ত ও সচেতন করে।

 

স্থানীয় প্রশাসনের উচিত কেবল কাগজে-কলমে দিবস পালন না করে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে, বিশেষ করে আমাদের সাতক্ষীরার ঘের অঞ্চল ও কৃষিমঠে বজ্রপাত নিরোধক দন্ড স্থাপন এবং ব্যাপক হারে তালগাছ রোপণের এক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। এই আন্তর্জাতিক দিবসে আমরা সর্বস্তরের মানুষ একটাই প্রতিজ্ঞা করি, প্রকৃতির নিয়মকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং নিজস্ব সচেতনতাকে ঢাল বানিয়ে আমরা এই অদৃশ্য মরণ আঘাত থেকে আমাদের প্রিয়জনদের রক্ষা করবই।

লেখা : আখলাকুর রহমান, উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা

হারিয়ে যাচ্ছে ‘ডেউয়া’, হারাচ্ছি খাঁটি পুষ্টি/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে ‘ডেউয়া’, হারাচ্ছি খাঁটি পুষ্টি/ ‎তারিক ইসলাম

তারিক ইসলাম

‎জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ের কড়া রোদে গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে হাঁটলে একসময় যে চেনা সুবাস নাকে আসত, তা এখন অনেকটাই স্মৃতির পাতায়। আম-কাঁঠালের এই মৌসুমে গ্রামীণ জনপদে কচিকাঁচাদের আরও একটি ফলের জন্য উন্মুখ অপেক্ষা থাকত-তা হলো টক-মিষ্টি স্বাদের ‘ডেউয়া’। অঞ্চলভেদে এটি ডেউফল, ঢেউয়া বা বঁড়হর নামেও পরিচিত। রূপ-রঙে বিদেশি ফলের মতো অতটা আকর্ষণীয় না হলেও, এর পুষ্টিগুণ ও ওষুধি ক্ষমতা অনন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন আর বিদেশি ফলের আগ্রাসনে আমাদের চিরচেনা এই দেশি ফলটি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।

‎দেখতে কিছুটা এবড়োথেবড়ো ও অসমান হলেও ডেউয়ার ভেতরের প্রতিটি কোয়া পুষ্টির একেকটি আধার। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ডেউয়া ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং পটাশিয়াম। প্রতি ১০০ গ্রাম ডেউয়ায় প্রায় ১৩৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী।

‎কেন খাদ্যতালিকায় ডেউয়া রাখা জরুরি?
‎হজম ও লিভারের সুরক্ষায়: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ও যকৃতের (লিভার) কার্যকারিতা বাড়াতে ডেউয়া ঐতিহ্যগতভাবেই অত্যন্ত কার্যকরী।

‎ওজন ও মেদ নিয়ন্ত্রণে: শরীরের অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি ঝরাতে (লিপোলাইসিস প্রক্রিয়ায়) ডেউয়ার রস দারুণ উপকারী।

‎রুচি ফেরাতে: দীর্ঘ রোগভোগের পর বা প্রচন্ড গরমে মুখের অরুচি কাটাতে ডেউয়া ভর্তা বা চাটনির জুড়ি নেই।
‎ত্বক ও চুলের যতœ: উচ্চ মাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অকালে চুল পাকা রোধ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
‎বিগত কয়েক দশকে দেশের ফল চাষের ধরনে এক বিশাল বাণিজ্যিক রূপান্তর এসেছে। নার্সারি ও চাষিদের বড় অংশই এখন বিদেশি ড্রাগন ফল, মাল্টা, কিংবা রামবুটান চাষে ঝুঁকছেন। অধিক ও দ্রুত মুনাফার আশায় গ্রামীণ ঝোপঝাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে, যার প্রথম শিকার হচ্ছে ডেউয়া, গাব বা আতার মতো দেশি গাছগুলো।

‎বর্তমানে রাজধানীর কাঁচাবাজার কিংবা সুপারশপগুলোতে থরে থরে সাজানো বিদেশি ফলের ভিড়ে ডেউয়া খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ (যেমন: জ্যাম, জেলি বা ক্যান্ডি তৈরি) নিয়ে ব্যাপক গবেষণা ও বিপণন হচ্ছে।

‎দেশি ফলের এই বিলুপ্তি কেবল আমাদের খাদ্যতালিকা থেকে একটি নাম মুছে যাওয়া নয়, বরং আমাদের জীববৈচিত্র্য ও লোকজ চিকিৎসার এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
‎উন্নত জাতের উদ্ভাবন: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইঅজও) বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যদি ডেউয়ার কলম ও দ্রুত ফলনশীল জাত তৈরি করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়, তবে এর বাণিজ্যিক চাষ সম্ভব।

‎ছাদ কৃষিতে অন্তর্ভুক্তি: বর্তমানের জনপ্রিয় ‘ছাদ কৃষি’র তালিকায় ডেউয়াকে অন্তর্ভুক্ত করতে ছাদবাগানিদের সরকারি-বেসরকারিভাবে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

‎তরুণ প্রজন্মে সচেতনতা: নতুন প্রজন্মের কাছে দেশি ফলের পুষ্টিগুণ তুলে ধরতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘দেশি ফল উৎসব’-এর আয়োজন করা প্রয়োজন।

‎বিদেশি ফলের চাকচিক্যের মোহে পড়ে আমরা যেন আমাদের মাটির খাঁটি পুষ্টিকে ভুলে না যাই। আসুন, বাড়ির পরিত্যক্ত কোণে, ফসলের আইলে বা ছাদবাগানে অন্তত একটি হলেও ডেউয়া গাছের চারা রোপণ করি। আমাদের সুস্থতা আর প্রকৃতির ভারসাম্য-উভয় রক্ষার্থেই দেশি ফলকে ফিরিয়ে আনতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়।
‎‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।