সাতক্ষীরায় পুড়ছে জনজীবন, হাসপাতালেও জায়গা নেই শিশুদের
এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: অনাবৃষ্টির আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। উপকূলে বইছে তপ্ত লু হাওয়া। তীব্র গরমে সাতক্ষীরায় ঘরে ঘরে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়ায়। প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শিশু রোগীর ভিড়। শয্যাসংকট আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই চলছে জীবন বাঁচানোর লড়াই।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র এখন অভিন্ন। তিল ধারণের জায়গা নেই শিশু ডায়রিয়া ওয়ার্ডগুলোতে। শয্যা না পেয়ে অনেক মা তাঁদের কোলের শিশুকে নিয়ে হাসপাতালের মেঝে কিংবা বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন।
সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় শহরের মুনজিতপুর থেকে আসা ময়না খাতুনের সঙ্গে। ১১ মাসের শিশু আবু রায়হানকে নিয়ে গতকাল ভর্তি হয়েছেন তিনি। ময়না খাতুন বলেন, “হাসপাতাল থেকে শুধু স্যালাইন পাচ্ছি, বাকি সব ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। ওষুধের টাকা জোগাতে হিমশিম খাচ্ছি।” একই দশা তালা উপজেলার পাপিয়া খাতুনের। ১০ মাসের শিশু মোছাব্বিরকে নিয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে জায়গা হয়েছে তাঁর। তাঁর অভিযোগ, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর যে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়বে।
হাসপাতালগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে। গত ৫০ দিনে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বেসরকারি শিশু হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৭১৮ জন শিশু ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার শিশু। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন ভিড় করছে শত শত ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সামছুর রহমান বলেন, “মার্চ-এপ্রিল থেকেই গরমের তীব্রতা বাড়ে। অতিরিক্ত ঘাম ও রোদে শিশুদের শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে ডায়রিয়ার পাশাপাশি জ্বর ও বমির প্রকোপ বাড়ছে।” তিনি অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোনোভাবেই শিশুদের পচা-বাসি খাবার দেওয়া যাবে না। পর্যাপ্ত পানি ও খাওয়ার স্যালাইনের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ চালিয়ে যেতে হবে।
এদিকে অবকাঠামোগত সংকটের কথা স্বীকার করেছেন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান। তিনি জানান, অপর্যাপ্ত শয্যা নিয়ে শিশু রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে নার্স ও চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শয্যা বাড়ানোর জন্য সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে।
প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ থেকে শিশুদের বাঁচাতে সচেতনতা আর সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো এখন জরুরি হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষের জন্য।









