শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

সাতক্ষীরার স্কুলে পরীক্ষার প্রস্তুতি, জীবনের প্রস্তুতি কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার স্কুলে পরীক্ষার প্রস্তুতি, জীবনের প্রস্তুতি কোথায়?

মো: মামুন হাসান

প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের দেখি। তাদের চোখে স্বপ্ন আছে, প্রশ্ন আছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা কৌতূহল আছে। কেউ চিকিৎসক হতে চায়, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, কেউ সরকারি কর্মকর্তা, কেউ উদ্যোক্তা, আবার কেউ জানেই না ভবিষ্যতে সে কী হতে চায়। একজন শিক্ষক হিসেবে তখন একটি প্রশ্ন আমাকে ভাবায়, আমরা কি আমাদের শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করছি, নাকি জীবনের জন্যও প্রস্তুত করছি?

 

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরীক্ষার প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। পাঠ্যসূচি শেষ করা, গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন চিহ্নিত করা, মডেল টেস্ট নেওয়া, ভালো ফলের জন্য বাড়তি অনুশীলন, পরীক্ষার খাতায় কীভাবে উত্তর লিখতে হবে এসব নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ব্যস্ততা থাকে সারা বছর। ভালো ফলাফল অবশ্যই শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু শিক্ষা যদি কেবল পরীক্ষার খাতায় ভালো নম্বর পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়। পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়ার পর শিক্ষার্থী যে বাস্তব জীবনের মুখোমুখি হবে, সেই জীবনের জন্য আমরা তাকে কতটা প্রস্তুত করছি?

 

জীবনের পরীক্ষার কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। সেখানে প্রশ্ন আগে থেকে জানা যায় না। সেখানে কোনো প্রশ্নের পাশে নম্বর বরাদ্দ থাকে না। সেখানে কখনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কখনো ব্যর্থতা সামলাতে হয়, কখনো নতুন কাজ শিখতে হয়, কখনো মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়, কখনো প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়, আবার কখনো নিজের জন্য নিজেকেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হয়। ফলে শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য শুধু একজন শিক্ষার্থী কত নম্বর পেল, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সে কতটা চিন্তা করতে পারে, সমস্যা বিশ্লেষণ করতে পারে, সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নতুন কিছু শিখতে পারে এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে নিজের জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারে, সেটিও শিক্ষার বড় পরিমাপক।

 

সাতক্ষীরার বাস্তবতা এই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই জেলা শুধু একটি প্রশাসনিক অঞ্চল নয়। এটি কৃষি, মৎস্য, চিংড়ি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সীমান্ত অর্থনীতি, সুন্দরবন, পর্যটন এবং উপকূলীয় জীবনের একটি বৈচিত্র্যময় ভূখণ্ড। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, দুর্যোগ ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এই জেলার মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। তাই সাতক্ষীরার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা যদি জেলার বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে, তাহলে সেই শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ হবে না।

 

শ্যামনগরের একজন শিক্ষার্থী সুন্দরবনকে শুধু ভূগোলের একটি অধ্যায় হিসেবে পড়বে কেন? সুন্দরবন তার জন্য জীবন্ত শিক্ষাগার হতে পারে। সে জানতে পারে বন কীভাবে স্থানীয় মানুষের জীবিকা, পরিবেশ, পর্যটন ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত। সে পর্যটন ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সংস্কৃতি, নৌপরিবহন কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করতে পারে। একইভাবে উপকূলের একজন শিক্ষার্থী জলবায়ু পরিবর্তনকে শুধু বইয়ের সংজ্ঞা হিসেবে না পড়ে নিজের এলাকার বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে বুঝতে পারে।

 

একজন শিক্ষক হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক শিক্ষা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের এলাকার সমস্যা নিয়ে গবেষণা করতে শেখে, তাহলে তাদের মধ্যে একই সঙ্গে জ্ঞান, পর্যবেক্ষণশক্তি ও দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। কেন একটি এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে, কেন তরুণরা কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে যাচ্ছে, কীভাবে স্থানীয় কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়, কীভাবে চিংড়ি শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়, কীভাবে সুন্দরবনকে রক্ষা করে পর্যটনের বিকাশ ঘটানো যায় এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একজন শিক্ষার্থী বইয়ের বাইরে গিয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

 

শিক্ষার অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রশ্ন করতে শেখানো। আমরা অনেক সময় শিক্ষার্থীর সঠিক উত্তর দেওয়ার ক্ষমতাকে যতটা গুরুত্ব দিই, তার প্রশ্ন করার ক্ষমতাকে ততটা গুরুত্ব দিই না। অথচ বিজ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুই হয় প্রশ্ন থেকে। যে শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে শেখে, সে একসময় সমস্যার ভেতরে সম্ভাবনাও খুঁজে নিতে শেখে।

 

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন শিক্ষার এই প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন তথ্য খোঁজা, লেখা, বিশ্লেষণ, অনুবাদ, নকশা, ব্যবসা ও গবেষণার বহু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে। আগামী দিনের শিক্ষার্থী এমন একটি পৃথিবীতে প্রবেশ করবে যেখানে তথ্যের অভাব থাকবে না। বরং বড় চ্যালেঞ্জ হবে কোন তথ্য সত্য, কোন তথ্য গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই তথ্য কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়। তাই মুখস্থ জ্ঞানের পাশাপাশি তথ্য যাচাই, বিশ্লেষণ, যুক্তি, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার শেখানো জরুরি।

 

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেন শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তির বিকল্প না হয়। বরং এটি যেন তার চিন্তার সহায়ক হয়। একজন শিক্ষার্থী যদি নিজের চিন্তা না করে প্রযুক্তির তৈরি উত্তর শুধু মুখস্থ করে, তাহলে প্রযুক্তি তার দক্ষতা বাড়াবে না। কিন্তু সে যদি প্রযুক্তির সাহায্যে তথ্য সংগ্রহ করে, তথ্য যাচাই করে, নিজের যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ করে এবং নতুন কিছু তৈরি করে, তখন প্রযুক্তি সত্যিকার অর্থে তার শিক্ষার শক্তি হয়ে উঠবে।

 

আমাদের শিক্ষার্থীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা শেখানো প্রয়োজন, সেটি হলো কাজ শেখার মানসিকতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি কিংবা পরীক্ষার ভালো ফল ভবিষ্যতের একটি পথ খুলে দিতে পারে, কিন্তু পরিবর্তনশীল অর্থনীতিতে শুধু চাকরির অপেক্ষায় থাকা যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীকে জানতে হবে কীভাবে নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করা যায়, কীভাবে ছোট উদ্যোগ শুরু করা যায়, কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন সেবা তৈরি করা যায়। সাতক্ষীরার বাস্তবতায় কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, ই কমার্স এবং বিভিন্ন কারিগরি সেবায় তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।

 

এই জায়গায় সাধারণ শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে দূরত্ব কমানো দরকার। একটি শিক্ষাব্যবস্থা তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেখানে জ্ঞান ও দক্ষতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হয়। একজন সাধারণ শিক্ষার্থীও প্রযুক্তি সম্পর্কে জানবে, একজন কারিগরি শিক্ষার্থীও ভাষা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা পাবে। কারণ ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে একজন মানুষকে শুধু একটি যন্ত্র চালাতে জানলেই হবে না, তাকে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হবে, সমস্যা বুঝতে হবে এবং পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।

 

অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। সন্তান কত নম্বর পেল, কোন স্কুলে প্রথম হলো, কার সন্তানের চেয়ে বেশি নম্বর পেল এসব প্রশ্নের বাইরে আরও কিছু প্রশ্ন করা দরকার। সন্তান কী শিখছে, কী করতে ভালোবাসে, কোন কাজে তার দক্ষতা বেশি, সে ভবিষ্যতে কী করতে চায়, বাস্তব জীবনের কোনো সমস্যা নিয়ে সে কখনো ভেবেছে কি না এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি শিশুর মেধা একই পথে বিকশিত হয় না। কেউ একাডেমিক শিক্ষায় এগিয়ে যাবে, কেউ কারিগরি দক্ষতায়, কেউ সৃজনশীল কাজে, কেউ উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। শিক্ষার দায়িত্ব হলো এই বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়া।

 

শিক্ষকদের ভূমিকাও এখানে নতুন করে ভাবতে হবে। শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই শেষ করার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি নন। একজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা আবিষ্কার করতে পারেন, তাকে প্রশ্ন করতে শেখাতে পারেন, ব্যর্থতার পর আবার দাঁড়াতে উৎসাহ দিতে পারেন এবং তার সামনে নতুন পথের দরজা খুলে দিতে পারেন। শ্রেণিকক্ষ তাই শুধু পাঠদানের জায়গা নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্মাণের জায়গা।

 

আমাদের বিদ্যালয়ে যদি নিয়মিত ছোট গবেষণা, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে প্রকল্প, হাতে কলমে কাজ, প্রযুক্তি ব্যবহার, বিতর্ক, উপস্থাপনা, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং দলগত সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের শেখার ধরন বদলে যাবে। তারা শুধু পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে না, বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানও খুঁজবে।

 

সাতক্ষীরার জন্য এমন শিক্ষা আরও জরুরি, কারণ এই জেলার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে তার তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হতে পারে দক্ষ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ। সেই মানবসম্পদ তৈরি হবে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকেই।

 

একজন শিক্ষক হিসেবে আমার বিশ্বাস, পরীক্ষার ফলাফল একটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের একটি মাইলফলক মাত্র। এটি তার পুরো ভবিষ্যতের পরিচয় নয়। জীবনের পরীক্ষায় সফল হতে হলে তাকে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে হবে, মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হবে, প্রযুক্তি বুঝতে হবে, নিজের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

 

আজ সাতক্ষীরার যে শিশু শ্রেণিকক্ষে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে, আগামী দিনের সাতক্ষীরা তার হাতেই তৈরি হবে। সে কেমন সাতক্ষীরা তৈরি করবে, তার একটি বড় অংশ নির্ধারিত হচ্ছে আজকের শ্রেণিকক্ষে। তাই এখন সময় এসেছে শিক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে ভাবার।

 

আমরা কি এমন শিক্ষার্থী তৈরি করতে চাই, যে পরীক্ষার খাতায় সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনের একটি সমস্যার সমাধান করতে পারে না? নাকি এমন মানুষ তৈরি করতে চাই, যে বইয়ের জ্ঞানকে জীবনের কাজে ব্যবহার করতে পারে, নিজের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে এবং সমাজের জন্যও মূল্য সৃষ্টি করতে পারে?

 

এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে আছে সাতক্ষীরার শিক্ষার আগামী দিনের পথ।পরীক্ষার প্রস্তুতি অবশ্যই থাকবে। কিন্তু তার পাশাপাশি থাকতে হবে জীবনের প্রস্তুতি। কারণ একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য হতে পারে, কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় নিজের জ্ঞান, দক্ষতা, সততা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারাই হবে প্রকৃত শিক্ষার সার্থকতা।

লেখক: মো: মামুন হাসান,বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

Ads small one

পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। টাটা ক্রপকেয়ার কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেশব সাধু শুক্রবার সকাল দশটায় তার নিজ গ্রাম তৈলকুপিতে প্রায় হাজার পরিবারের মাঝে উক্ত শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

 

কেশব সাধু বলেন, প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন।

 

কেবশ সাধু বলেন, আমি এলাকার মানুষের ভালবাসায় সিক্ত। গতবছর পুজায় আমার বাবা আনন্দ সাধু নিজ হাতে বিতরণ কাজ করেছিলেন। এ বছর বাবা নেই, বাবা থাকলে তিনি নিজ হাতে এ কাজ করতেন। তিনি সকলের কাছে বাবার জন্য আর্শিবাদ কামনা করেন, বাবা যেন পরপারে সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাটা ক্রপকেয়ারের স্বত্বাধিকারী গোবিন্দ সাধু, ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র সাধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ণ
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু সচেতনতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: মশার বংশবিস্তার রোধ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা মানুষকে ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযানকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জমা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পরবর্তীতে বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত-সে বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ডালটন সানা, ডা. তন্ময় মন্ডল, ডা. মাম্পি মন্ডল এবং ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রহমান রাজ।

উপস্থিত চিকিৎসকরা বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি সচেতনতার বিকল্প নেই। ঘরের চারপাশ ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝাতেই আমরা রোগী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলছি। এ ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

মেরুদন্ডের চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমাতে সরকারি হাসপাতালে স্পাইন ইউনিটের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
মেরুদন্ডের চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমাতে সরকারি হাসপাতালে স্পাইন ইউনিটের দাবি

এসএম বিপ্লব হোসেন: মেরুদন্ডের উন্নত চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালুর দাবি জানিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্পাইন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। একই সঙ্গে স্পাইন সার্জনদের জন্য পৃথক পদ সৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে সাতক্ষীরা স্পেশালাইজড হসপিটালের উদ্যোগে আয়োজিত র‌্যালি ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্পাইন হেলথ ফর লাইফ’ অর্থাৎ আজীবন মেরুদন্ডের সুস্বাস্থ্য।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থোপেডিকস, ট্রমা ও স্পাইন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ। বক্তব্য রাখেন কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বাপ্পী কুমার দাশ, প্রাইভেট হসপিটাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলা, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রাসেল, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ শফিক উদ-দৌলা সাগর, ধানদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড়বাজার কাঁচা ও পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওশন আলী এবং সাধারণ সম্পাদক রজব আলী খাঁসহ অন্যরা।

সভায় ডা. মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ বলেন, মেরুদন্ড সুস্থ না থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। হাঁটাচলা, দৈনন্দিন কাজকর্ম ও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে মেরুদন্ডের সুস্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই মেরুদন্ড সুস্থ রাখতে সচেতনতা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটাচলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি। ফাস্ট ফুড ও জাঙ্ক ফুড পরিহার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।

মেরুদন্ডের ব্যথাকে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে ব্যথানাশক ওষুধ কিনে সেবন করেন। এতে কিডনি ও যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। মেরুদন্ডের ব্যথার পেছনে ডিস্কের সমস্যা ছাড়াও যক্ষ্মা, ক্যানসার, হাড়ের ক্ষয়, কাইফোসিস, স্কলিওসিস ও অস্টিওপোরোটিক ফ্র্যাকচারের মতো বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সরকারি পর্যায়ে উন্নত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালে মেরুদন্ডের চিকিৎসা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে। ফলে সাধারণ ও দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালে এ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে পৃথক স্পাইন ইউনিট চালু, স্পাইন সার্জনদের জন্য স্বতন্ত্র পদ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকে বিদেশে যেতে হচ্ছে। দেশে মানসম্মত স্পাইন চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো গেলে রোগীদের বিদেশমুখিতা কমবে এবং দেশের অর্থ সাশ্রয় হবে। এ লক্ষ্যে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. পলাশ জানান, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্পাইন চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরাতেও এ ধরনের সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব স্পাইন ডে উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালিতে চিকিৎসক, ইন্টার্ন চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকেরা অংশ নেন।