শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা যুব নেতৃত্বে “জাস্ট ট্রানজিশন ও গ্রিণ জবস” বিষয়ক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা যুব নেতৃত্বে “জাস্ট ট্রানজিশন ও গ্রিণ জবস” বিষয়ক প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

সংবাদদাতা: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থানে তরুণদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগষ্ট-২০২৬) সকাল ৯ টায় সাতক্ষীরা ইয়ূথ হাবে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো, সাতক্ষীরার বাস্তবায়নে একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এফরটি প্রকল্পের আওতায় যুব নেতৃত্বে “জাস্ট ট্রানজিশন ও গ্রিণ জবস” বিষয়ক ৩দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণটিতে স্বাগত বক্তব্য ও উদ্বোধন করেন সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস।

‘জাস্ট ট্রানজশিন ও গ্রিণ জবস’ র্শীষক এ প্রশিক্ষণে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী, বক্ষ্ররাজপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং তালা উপজেলার ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়নের ১৩টি যুব সংঘ থেকে তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণটি ৩ দিন চলবে।

উদ্দেশ্য ছিল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী যুব সদস্যরা ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর, সবুজ কর্মসংস্থান, সবুজ ব্যবসা, জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই অনুশীলন বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধি করা। অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, সমস্যা বিশ্লেষণ এবং ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশগত ও জীবিকা সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত ও মোকাবিলা করার জন্য যুবকদের সক্ষমতা শক্তিশালী করা। সাতক্ষীরায় সবুজ জীবিকা, সবুজ উদ্যোক্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরকে উৎসাহিত করে এমন ৩-৪টি যুব-নেতৃত্বাধীন সামাজিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করা। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকের সাটিফিকেট প্রদান করা হবে।

উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষের জীবন-জীবিকা, প্রতিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণদের জলবায়ু বিষয়ে সচেতন করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণে ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ বা ন্যায্য রূপান্তর ধারণাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে। সবুজ ও টেকসই অর্থনীতিতে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, সবুজ দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এ ধারণার আওতাভুক্ত।

গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের সেশন পরিকল্পনা ও সহায়ক উপকরণের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু ন্যায্যতা, জ্বালানি রূপান্তর, ন্যায্য রূপান্তর, সবুজ কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সবুজ অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি টেকসই কৃষি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব খাতে কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।

অংশগ্রহণমূলক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক পদ্ধতিতে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে আলোচনা, দলীয় অনুশীলন, স্থানীয় প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ, অংশীজন মানচিত্রায়ণ, কেস স্টাডি, প্রতিফলনমূলক অধিবেশন ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মতো কার্যক্রম থাকছে। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার জলবায়ু ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত সমস্যা ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে সবুজ কর্মসংস্থান ও ন্যায্য রূপান্তর বিষয়ে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবেন।

এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে একই বিষয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার কৌশলও শেখানো হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণেরা স্থানীয় পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে উঠবেন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নচর্চা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও জলবায়ুবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

আয়োজকেরা মনে করেন, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ কর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকার সুযোগ বাড়াতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ জলবায়ু-সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করবে।

৩ দিন ব্যাপী এই প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন গ্লোবাল প্লাটফর্ম বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী এক্টিভিস্টা সদস্য মারুফুজ্জামান সম্্রাট, জুরায়ের হোসেন ও জ্যোতি সরকার।

 

প্রশিক্ষণের সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহায়ক প্রশিক্ষক হৃদয় মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী, মোঃ তহিদুজ্জামান (তহিদ), ইন্সপেরিটর একশনএইড বাংলাদেশ নয়ন হোসেন প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্রশেখর হালদার, ফাইনান্স অফিসার আব্দুস সাত্তার ইয়ূথ ফেলো স্বপ্না পারভীন প্রমুখ।

 

Ads small one

আন্তঃস্কুল দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বক্তারা: দেশের উন্নতির মূল প্রতিবন্ধকতাই হলো দুর্নীতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
আন্তঃস্কুল দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বক্তারা: দেশের উন্নতির মূল প্রতিবন্ধকতাই হলো দুর্নীতি

‘দুর্নীতি বিরোধী শপথের প্রদীপ্ত স্বাক্ষরে নতুন সূর্য শিখা জ্বলবেই’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণসচেতনতা সৃষ্টি ও সততা চর্চায় শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আন্তঃস্কুল দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার কোয়াটার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১-১৭ আগষ্ট সপ্তাহব্যাপী প্রতিযোগিতায় দুর্নীতি দমন কমিশন, খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যায়লের আয়োজনে ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির বাস্তবায়নে শনিবার ৮টি স্কুলের জমজমাট কোয়াটার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়।

 

শনিবার (১৫ আগষ্ট) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রতিযোগিতায় তুজলপুর গোবিন্দ চন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলীপুর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যায়ল, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এব পিএন বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেন। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীগণ বিষয়ভিত্তিক তথ্য, উপাত্ত, যুক্তি উপস্থাপন করেন।

 

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিছুর রহমানের সঞ্চালনায় ৮টি স্কুলের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহেদ মোস্তফা চৌধুরী, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক আশরাফ হোসেন, দর্শন বিভাগের প্রভাষক প্রিয়া মন্ডল। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য মোঃ নাজমুল হক। সময় নিয়ন্ত্রণ করেন জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম।

 

এ সময় বক্তারা বলেন, আমাদের সমাজে দুর্নীতির সংজ্ঞা অনেক। দেশের উন্নতির মূল প্রতিবন্ধকতাই হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি প্রতিরোধে ও দুর্নীতির বিস্তার রোধে সকলের স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। তাহলে দুর্নীতির মূল উৎপাঠন করা সম্ভব হবে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ওহাব আজাদ, এড. মুনিরউদ্দীন, রেবেকা সুলতানা, মোঃ সাকিবুর রহমান বাবলা, নাজমুল হাসান প্রমুখ। প্রসঙ্গত, রোববার বেলা আড়াউটায় চার স্কুলের অংশগ্রহণে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

 

কালিগঞ্জে ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি জবর দখল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে ৬টি হিন্দু পরিবারের ২৫ শতক জমি জবর দখল

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের গ্রামপুলিশ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ছয়টি হিন্দু পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের তিনটি কাঠঘর, তিনটি শৌচাগার ও বাঁশবাগানসহ ২৫ শতকের বেশি জমি দখল করে নিয়েছে। বানানো হয়েছে একটি খুপড়ি ঘর। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এ জবরদখল কার্যক্রম চালানো হয়। দরজা খুলে বাহিরে এলে রাম দা দিয়ে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ফতেপুর গ্রামের মৃত অরুন রজকের ছেলে জয়দেব রজক জানান, কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর মৌজার এসএ ৩৮৫ দাগের ৬০ শতক জমি তিনিসহ চার সহোদর ও দুই কাকা মিলে মোট সাতটি পরিবার শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ভোগদখলে আছেন। ওই জমির মধ্যে ৫১ শতক জমি তাদের নামে রেকর্ড হলেও বর্তমান মাঠ জরিপে বিআরএস ৮০১ নং খতিয়ানের ২৮৭ দাগে সাত শতক ও ৬১৫ খতিয়ানের ২৮৭ দাগে দুই শতক জমি মোট নয় শতক জমি একই এলাকার গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলামের বাবা সাবেক দফাদার গোলাম রসুল ও তার শরীকদের নামে হয়ে যায়। ভুল রেকর্ডকে কাজে লাগিয়ে সাইফুল ইসলাম ও তার সাতটি ভাইসহ অন্য শরিকগণ সম্প্রতি ওই জমি দখলের চেষ্টা করলে তিনিসহ (জয়দেব) পাঁচ ভাই ও দ্ইু কাকা বাদি হয়ে গোলাম রসুলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গত ২১ মে কালিগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে দেঃ ১৫৫/২৬ নং মামলা দায়ের করেন।

 

আদালতের নোটিশ পাওয়ার পরও গত ৪ জুলাই গ্রাম পুলিশ সাইফুল ইসলাম স্থানীয় ইউপি সদস্য আল মামুনের কাছে রেকর্ড মূলে জমি দখলের কথা প্রকাশ করে। সেখানে সুবিধা না করতে পেরে গত ৬ জুলাই সাইফুল ইসলাম দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদে বিরোধপূর্ণ জমি দাবি করে তা ফিরে পেতে অভিযোগ করে। পরদিন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে শালিসি বৈঠকে সাইফুল কোন দলিল না দেখাতে না পারলে পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন সাইফুল ১৯৯৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৭৩২৮ নং রেজিষ্ট্রি কোবালা দলিলের একটি ফটোকপি নিজের হাতে রেখে ওই দলিল মূলে জমি দাবি করেন।

 

ফটোকটি দলিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজি চাইলে সাইফুল দিতে অস্বীকার করলে পরবর্তী ১১ আগষ্ট দিন ধার্য করা হয় মূল দলিলের জন্য। ১১ আগষ্ট সাইফুল ১৯৯৬ সালের ১৩ মে ১৯৭৯ নং দলিলের ফটোকপি মূলে সাত শতক জমি দাবি করলে মূল দলিল নিয়ে আসার জন্য আগামি ৫ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়। একইসাথে ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা না করার জন্য সাইফুল ও তার লোকজনদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাইফুলের উল্লেখিত ফটোকপি দলিলের নাম্বার তুলে সেই দলিল তুলে দেখা যায় সেটি জিরেনগাছা মৌজার। মালিকানা জিরেনগাছার এক ব্যক্তির।

জয়দেব রজক আরো জানান, সাইফুল ইসলাম জমি জবরদখল করতে পারে তার এমন আশঙ্কা হওয়ায় গত ১৪ জুলাই তিনি আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চান। আদালত সাইফুলসহ সকল বিবাদীকে এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এরপরও সাইফুল ও তার শরীকরা আদালতে কারণ দর্শায়নি।

জয়দেব রজক অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার জমি দখল হতে পারে এমন খবর পেয়ে তিনি বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতা, জামায়াত নেতা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যনকে অবহিত করেন। একপর্যায়ে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাম দা, শাবল, লাঠি, লোহার রড হাতে সাইফুল, তার ভাই আজিবর, জামির আলী, আব্দুর রহমান, আশরাফুল, ফারুক, তাদের স্ত্রী ও সন্তানসহ শতাধিক ভাড়াটিয়া লোকজন তাদের বাড়িতে আসে। তাদের উপস্থিতি জানতে পারলে ডাকাত-ডাকাত বলে চিৎকার শুরু করলে তারা জানালা দিয়ে তাদের হাতের অস্ত্র দেখিয়ে দরজা খুলে বাইলে এলে খুন করার হুমকি দেয়।

 

একপর্যায়ে তারা বাসুদেব, শুকদেব, ও প্রদীপের তিনটি বাথরুম, তার (জয়দেব), বাসুদেব ও শুকদেব এর তিনটি কাঠঘর, বাঁশবাগানসহ প্রায় ২৫ শতক জমির পশ্চিম ও উত্তর পার্শে বাঁশ ও কারেণ্ট জাল দিয়ে ঘিরে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই জয়িগায় তারা টিন ও বাঁশ দিয়ে একটি ছোট টোং ঘর বানিয়ে চলে যায়। বিষয়টি পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাবেক জনপ্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। উপ-পরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ ভোর চারটার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন এবং উভয়পক্ষকে শনিবার বিকেলে কাগজপত্রসহ থানায় যেতে বলে যান।

দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান পাড়, সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল মীর, জামায়াত নেতা ওমর ফারুকসহ কয়েকজন জানান, অরুন রজক ও তাদের শরিকদের ওয়ারেশ হিসেবে জয়দেব রজকসহ সাতটি পরিবার বংশপরম্পরায় ওই জমিতে ঘরবাাড়ি বানিয়ে বসবাস করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা থাকলেও গ্রাম পুলিশ সাইফুলের আবেদনের ভিত্তিতে তিন দিন শালিসি বৈঠকে সাইফুল কোন দলিল দেখাতে পারেনি।

 

একপর্যায়ে আগামি ৫ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষের আইনজীবী ও একজন নিরপেক্ষ আইনজীবীর উপস্থিতিতে জমির সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন পক্ষকে জমিতে কোন প্রকার নির্মাণ কাজ না করার জন্য বলা হয়। এরপরও শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে ভোর সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সাইফুলের নেতৃত্বে তার সশস্ত্র ভাড়াটিয়া লোকজন ভুয়া কাগজপত্রের মূলে দাবিকৃত সাত শতক জমির বিপরীতে ২৫ শতকের মত জমি নেট দিয়ে ও ছোট খুপড়ি ঘর বানিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এমদাদুল হক জানান, নিষাধাজ্ঞা প্রাপ্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের শোকজ নোটিশ পাঠানোর পর ও বিবাদী পক্ষ জমি জবরদখলের চেষ্টা চালানো বেআইনি। বিষয়টি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহম্মদ শাহজি জানান, দেওয়ানী আদালতে চলমান মামলা থাকলেও স্থানীয়ভাবে শান্তি বজায় রাখতে তিনি সুধীজনদের নিয়ে তিনবার পরিষদের বসেছেন। গ্রামপুলিশ সাইফুল তাদের আদেশ অমান্য করে গভীর রাতে লোকজন ভাড়া করে রজকদের জমি জবরদখল করেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সাথে কথা বলা হয়েছে।

গ্রামপুলিশ সাইফুল ইসলামের কাছে জমি জবরদখলের চেষ্টা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার না করেই কোথায় আছেন তা না বলে সাক্ষাতে ছাড়া কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মল্লিক মনিরুজ্জামান গ্রাম পুলিশ সাইফুলের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে রজক পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি জবরদখল করার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফতেপুরে পুলিশ পাঠানো হয়। বিরোধ নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেবহাটা ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে দু’জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
দেবহাটা ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে দু’জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার

দেবহাটা/আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে শাহিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ২ হাজার ৯৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশাশুনি থানা পুলিশের একটি টিম উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ফকরাবাদ গ্রামের তেঁতুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন দেলোয়ারের চায়ের দোকানের সামনে অভিযান চালায়। এ সময় ইটের সোলিং রাস্তার ওপর থেকে শাহিনুর রহমানকে আটক করা হয়।

তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ ২ হাজার ৯৬০ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার শাহিনুর রহমান ফকরাবাদ (ব্রিজ সংলগ্ন) গ্রামের রজব আলী গাজীর ছেলে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহিনুর রহমান ও পলাতক হাফিজুল গাজীর বিরুদ্ধে আশাশুনি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার শাহিনুর রহমানকে পুলিশ পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে সিআর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে থানায় কর্মরত এএসআই সাগর আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ১৪ আগস্ট ২০২৬ রাত সাড়ে ১০টার দিকে দেবহাটা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বহেরা গ্রামের অহিদ গাজীর ছেলে বারী গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, বারী গাজী একটি সিআর মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত বারী গাজী সিআর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী। তাকে ১৫ আগস্ট ২০২৬ বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।