শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদকসহ ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদকসহ ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: শুক্রবার (০৮ মে ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ মাদরা, হিজলদী ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় উইন কোরেক্স কফ সিরাপ, ঔষধ, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও শাড়ি আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, মাদরা বিওপির পৃথক দুইটি বিশেষ আভিযানে কলারোয়া থানার উত্তর ভাদিয়ালী ও রাজপুর হতে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার হিজলদী বুজতলা ডারকি রোড হতে ৪০ হাজার ৮০০ টাকার ১০২ বোতল ভারতীয় উইন কোরেক্স কফ সিরাপ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার শালবাগান হতে ৩০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৫ লাখ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

Ads small one

কন্টিকারি ভেষজগুল্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
কন্টিকারি ভেষজগুল্ম

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): কন্টিকারি কন্টকময় গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বাড়ির পরিত্যক্ত অংশ বা অব্যবহৃত কোণে ধীরে ধীরে গজিয়ে ওঠা অসংখ্য ছোটখাটো লতাগুল্মগুলোকে আমরা বাজে উদ্ভিদ বলে কেটে উজাড় করে ফেলি। তেমনি একটি ভেষজগুল্ম কন্টিকারি। তাকে অবশ্য একটি নামে চেনার উপায় নেই।

 

নিসর্গবিদরা বহু নামে নামকরণ করেছেন এ গুল্মটিকে। কন্টালিকা, কন্টকিনী, কণ্টকারী, ধাবনী, ক্ষুদ্রা, দুষ্প্রধার্ষিণী প্রভৃতি নামে ডাকা হয় তাকে।

তবে কন্টিকারী নামটি বিভিন্ন ভাষায় ভিন্ন নামে বহুল পরিচিত: বাংলায় কন্টিকারী কাটাবেগুন, হিন্দিতে বলে কটেরী, মারাঠীতে বিঙ্গনী, ওড়িয়ায় কন্টমারিষ, তেলেগুতে বেরটিমুলঙ্গ, সংস্কৃতে ব্যাঘী।

কন্টিকারী ডালপালা, কান্ড এবং পাতাসহ কন্টকময়। গুলাজাতীয় উদ্ভিদ গাছের মতো মাটিতে ছড়িয়ে থাকে। ডাটা ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং পর্যন্ত চওড়া ৩ ইঞ্চি হয় কিছুটা ডিম্বাকৃতি দেখায়। পাতার স্থানে স্থানে অস্পষ্ট লোমযুক্ত থাকে পুরো গাছে খাড়াভাবে ধারালো কাটা থাকে এবং আধা ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। পুষ্পদও শাখা প্রশাখাবিশিষ্ট। ফুলের রং সাদা ও নীল, ফল পীতবর্ণ বা সাদা আভাযুক্ত সবুজ বর্ণের হয়। ফুলের পাপড়ি ৫টা। পুংকেশরগুলো লম্বা এবং হলুদ রঙের হয়। ফলের আকার খুবই ছোট, অনেকটা বেগুনের মতো দেখায়। ফলের গায়ে সাদা লম্বা লম্বা দাগ থাকে।

 

ফল পাকলে লাল ও হলুদ বর্ণের হয়। গরম পড়ার প্রথম দিকে গাছে ফুল ফোটে এবং পরে ফল ধরে। ফলের মধ্যে অসংখ্য বীজ থাকে। বর্ষার পানি পেলে গাছ মরে যায়। আরও এক ধরণের কন্টকারী গাছ আছে, যার ফুল দেখতে নীল এ কন্টকারী খুব কম দেখা যায়।

কন্টিকারি একটি কাঁটা ধরনের গাছ। এটি হল নাইটশেড প্রজাতির একটি উদ্ভিদ। যা সৌদি আরব, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, ইরান, চিন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। এটা রাস্তার ধারের পতিত জায়গায় বেশি হয়। এখন মোটামুটি সারা পৃথিবীতে এর বিস্তৃতি রয়েছে।

এর ফলটা খাওয়ার যোগ্য। তবে মানুষ কম খায়। এটা বন্যপ্রাণীদের খাবার। এর ফলটি জন্মনিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। এ গুল্মের মূল বা শেকড় উপকারী এবং ভেষজগুণসম্পন্ন থাকায় কবিরাজরা এটিকে বিভিন্ন কাজে লাগায়।

 

সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টায় পুরাতন সাতক্ষীরা মায়ের বাড়ির নাটমন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি অ্যাড. সোমনাথ ব্যাণার্জী।

বার্ষিক সাধারণ সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মন্দির সমিতির উপদেষ্টা বিশ^নাথ ঘোষ, ডাঃ প্রশান্ত কু-ু, সহসভাপতি দীলিপ চ্যাটার্জী, অ্যাড. তারক মিত্র, স্বপন কুমার শীল, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ি মিশন দত্ত, মানবাধিকার কর্মী রঘুনাথ খাঁ, তরুন গুহ, নারায়ন মজুমদার, বিকাশ ঘোষ, সুজন বিশ^াস প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠান শুরুতেই গীতা পাঠ ও বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনার প্রতিবেদন পাঠ করেন মন্দির সমিতির কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার। বিগত এক বছরের আয় ও ব্যয় এর হিসাব তুলে ধরেন মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন।

 

সভায় সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া শ্যামনগরের বৈশখালির ডাঃ অনিমেষ পরমান্য অপহরণ, সদরের মাগুরা বউবাজারের বীথিকা সাধু হত্যা, কালিগঞ্জের চম্পাফুলের মাধবী ম-ল ও তার ছেলে শঙ্কর ম-লকে অমানবিক নির্যাতন করে জমি ও ঘরবাড়ি জবরদখলের চেষ্টা, শ্যামনগরে যশোরেশ^ী কালীমন্দিরে কালী মায়ের মুকুট চুরির ঘটনায় দায়সারা পুলিশ প্রতিবেদন, মন্দিরের প্রধান ফটকের সামনে মন্দিরের জায়গা দখল করে আকবর মোল্লা ও বেল্লাল হোসেন এর দোকার ঘর নির্মাণ, জেলেখালিতে বিষ্টু পরমান্য এর জমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক জহির গাজীর রাস্তা নির্মাণ, হরিণগরের দীলিপ গাইনের ঘরবাড়ি পোড়ানো মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন ও তার তিন ভাইপোর নামে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দেওয়া, সাতক্ষীরার সরকার পাড়ায় শ্যামল রাহার বাড়িতে, কাটিয়ার পিসি জুয়েলাার্সের মালিকের বাড়িতে, মধুমোল্লারডাঙিতে সাংবাদিক রামকৃষ্ণ চক্রবর্তীর বাড়িতে, পুরাতন সাতক্ষীরায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মী গোবিন্দ ঘোষের বাড়িতে, সাতক্ষীরা মায়ের বাড়িতে, কাটিয়া মায়ের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরিসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রতিকার ও বিচার নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

 

এ ছাড়া চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর দ্রুত মুক্তির বিষয়টি ও আলোচনায় স্থান পায়। অনুষ্ঠান শুরুতেই প্রয়াত সদস্যদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

 

সভায় নাটমন্দিরের ছাদ, মন্দিরের প্রাচীর উচ্চকরণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়বহনে সকল উপদেষ্টা ও আজীবন সদস্যদের এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়। একইসাথে বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন।

কয়রায় গুম মামলার আসামীর সংবাদ সম্মেলন, দাবী মামলা মিথ্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
কয়রায় গুম মামলার আসামীর সংবাদ সম্মেলন, দাবী মামলা মিথ্যা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের আল আমিন সরদারকে গুমের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। এই মামলায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামিরা এটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দাবি করলেও বাদীর দাবী তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়রা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন গুম মামলার আসামি বিল্লাল সরদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আল আমিন দীর্ঘদিন সুন্দরবনকেন্দ্রীক দস্যুতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আত্মসমর্পণের পর আবারও তিনি দস্যুতায় ফিরে যান।

বিল্লাল সরদার জানান, গত ১৬ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আল আমিনের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন একটি গুমের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিল্লাল সরদার, তার ভাইসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।
তার ভাষ্য, বর্তমানে আল আমিন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এতে তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

তিনি মামলায় মনগড়া তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আব্দুল হান্নান দাবি করেন, কয়েক মাস আগে সুন্দরবনে মাছ ধরার সময় আল আমিন তাকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে গুলি করে আহত করা হয়। পরে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফেরেন। এ ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল গণি ও মিজানুর রহমান খোকন মন্তব্য করেন, বিল্লাল সরদার ও অন্য আসামিরা নিরীহ মানুষ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আল আমিন আবার সুন্দরবনে গিয়ে দস্যু কর্মকান্ড শুরু করেন। হয়রানির উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।

অন্যদিকে মামলার বাদী রাবেয়া খাতুন দাবি করেন, তার স্বামী আল আমিন ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিল্লাল সরদার ও আব্দুল হান্নান তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। তাদের অত্যাচারের কারণেই তিনি আবার দস্যু কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।

রাবেয়ার অভিযোগ, কয়েক মাস আগে আব্দুল হান্নানের পায়ে গুলির ঘটনার জেরে বিল্লাল ও তার ভাইসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে গুম করেছেন।

তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার এক দিন আগেও স্বামীর সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। সন্তানদের কথা ভেবে আল আমিন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আল আমিন সুন্দরবনের জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফের দস্যুতায় সক্রিয় হন। কয়েক মাস আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি জাহাঙ্গীর বাহিনী ছেড়ে ‘আল আমিন বাহিনী’ নামে পৃথক একটি দল গঠন করে বনজীবীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এক মাস আগে আল আমিনের মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখা গেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ওঠে। তবে পুলিশ ও স্বজনদের খোঁজাখুঁজির পরও এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি।