সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাবেক এমপি শিউলি আজাদ জামিনে মুক্ত, জেলে আছেন ১০৬ জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
সাবেক এমপি শিউলি আজাদ জামিনে মুক্ত, জেলে আছেন ১০৬ জন

ন্যাশনাল ডেস্ক: সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগার থেকে গত মঙ্গলবার মুক্তি পান।

বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. মজিবুর রহমান মজুমদার একটি জাতীয় দৈনিককে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে আদালতের জামিনের আদেশের ভিত্তিতে শিউলি আজাদ কারাগার থেকে মুক্তি পান।

শিউলি আজাদ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি প্রয়াত এ কে এম ইকবাল আজাদের স্ত্রী।
২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ঢাকার নিকেতনের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে সরাইল থানায় করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সরাইল থানা সূত্রের উদ্বৃতি দিয়ে জাতীয় দৈনিকটি জানায়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দায়ের করা ওই হত্যা মামলায় সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীসহ ৬৭ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় শিউলি আজাদ চার নম্বর আসামি।

শিউলি আজাদের আইনজীবী জয়নাল উদ্দিন ঐ জাতীয় দৈনিককে বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় হয়রানি, আগাম গ্রেপ্তার, নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও অন্য কোনো মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশনা চেয়ে তার পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। আবেদনটি প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেন এবং আবেদনকারীকে হয়রানি ও আগাম গ্রেপ্তার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পরও তাকে একাধিক মামলায় ধারাবাহিকভাবে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর একে একে গ্রেপ্তার হতে থাকেন দলটির সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি), মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষপর্যায়ের নেতাকর্মীরা। শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন, বিগত ১৬ বছরের তৎকালীন সরকারের নিয়োজিত শীর্ষ পর্যায়ের পুলিশ, আমলা, স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতিও গ্রেপ্তারের তালিকায় যুক্ত হন। এরই মধ্যে পূর্ণ হয়েছে জুলাই আন্দোলনের দুই বছর। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই বছরে গ্রেপ্তার হওয়া দলটির এমপি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার জেল, জামিন ও সাজার হালচাল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, তাদের কারাজীবন ক্রমেই দীর্ঘ হতে চলেছে।

এরই মধ্যে জুলাই হত্যাকান্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৬টি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রায়ের ফলে কারাগারে থাকা সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ চারজন মন্ত্রী-এমপি ও তৎকালীন নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘাড়ে ঝুলছে সাজার বোঝা। ঢাকার নিম্ন আদালতে বিচারাধীন কয়েকশ মামলার মধ্যে ইতিমধ্যে ৪৩টি মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়েছে। চার্জগঠনের মাধ্যমে এই মামলাগুলো এখন আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিগত দুই বছরে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন ১২ জন মন্ত্রী-এমপি। অন্যদিকে, কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন সাবেক দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে আওয়ামী লীগের শুধু এমপি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলেই আটকে রয়েছেন মোট ১০৬ জন। বন্দিদের অনেকেই অর্ধশতাধিক, আবার কেউ কেউ শতকের কাছাকাছি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন।

কারা অধিদপ্তর সূত্র জানান, দেশের বিভিন্ন কারাগারে আওয়ামী লীগের এমপি, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মিলে ১০৬ জন আটক রয়েছেন। তাদের মধ্যে এমপি ৭৩ জন, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ৩৪ জন। এই তিন শ্রেণির বন্দির মধ্যে সর্বশেষ শিউলি আজাদসহ ১২ জন জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন।

জামিনপ্রাপ্ত ১২ জনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর গ্রেপ্তারের মাত্র দুদিনের মাথায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। এর দুদিনের মাথায় জামিন পান সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ১০ অক্টোবর তিনি কারামুক্ত হন। এর এক মাস পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি মুহিবুর রহমান মানিক সুনামগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ঝিনাইদহ-১ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নায়েব আলী জোয়ারদার ও ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকী সমি অন্তর্বর্তী জামিন পেয়ে জেলা কারামুক্ত হন। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট কারামুক্ত হন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মুক্ত হন সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। অন্যদিকে, আড়াই মাস কারাগারে থাকার পর মুক্ত হন আওয়ামী লীগের সাবেক পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। জাতীয়পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিকালে গ্রেপ্তার হয়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে ওই রাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ৭ এপ্রিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী। গ্রেপ্তারের পাঁচ দিন পর ১২ এপ্রিল জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্ত হন। গত ১৩ জুন কারামুক্ত হন বরিশাল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) গোলাম কিবরিয়া টিপু। এছাড়া গত ১৬ জুন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কারামুক্ত হন। ২০২৫ সালের ৯ মে গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বিএনপি সরকারের আমলে গত ৩ জুন হাইকোর্ট থেকে ১০ মামলায় জামিন পান এবং কারামুক্ত হন।
তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই আন্দোলনের মামলায় জামিন পেয়ে আওয়ামী লীগের ৮ জন এমপি-মন্ত্রী কারামুক্ত হয়েছেন। এছাড়া বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন ৪ জন মন্ত্রী এমপি ও একজন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।

কারা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে যেসব হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কারাগারে রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন-সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ খান মেনন, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, সাবেক পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম, সাবেক মন্ত্রী উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, সাবেক রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ, পার্বত্যবিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এবং সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ।

এ ছাড়া কারাগারে থাকা অন্য এমপিদের মধ্যে রয়েছেন-সাবেক এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক হুইপ আ স ম ফিরোজ, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবদুস সোবহান গোলাপ, মোহাম্মদ আলী, আয়েশা ফেরদৌস, আহমেদ হোসেন, আবদুর রহমান বদি, মো. সাদেক খান, আবদুস সোবহান মিয়া, হাজি মোহাম্মদ সেলিম, মাজহারুল ইসলাম, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, শাহে আলম, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, তানভীর ইমাম, সেলিম আলতাফ জর্জ, কাজী জাফরুল্লাহ, রাহেনুল হক রায়হান, সুলতান মুহাম্মদ মনসুর আহমেদ, জান্নাত আরা হেনরী, মাহবুব আরা বেগম গিনি, আবদুর রউফ, ইকরামুল করিম চৌধুরী, আবদুস সালাম মূর্শেদী, মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, মো. দিদারুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, মহিবুর রহমান মানিক, মো. সোহরাব উদ্দিন, মো. রাশিদুজ্জামান, ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, আলী আজম, মোহাম্মদ সোলাইমান সেলিম, সাফিয়া খাতুন, আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, রাগেবুল আহসান রিপু, কামরুল আশরাফ খান, নাসিমুল আলম চৌধুরী, সফিউল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, আহমেদ নাজমিন সুলতানা, অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজ, চয়ন ইসলাম, আবদুল মজিদ খান, সানোয়ার হোসেন, এম এ মালেক, আফতাব উদ্দিন সরকার, মো. আফজাল হোসেন, মোরশেদ আলম, শাহ সারোয়ার কবির, কাজী মনিরুল ইসলাম, জাফর আলম, আমিরুল আলম মিলন, সেলিনা ইসলাম, শামীমা আখতার খানম, মমতাজ বেগম, কাজিম উদ্দিন আহমেদ, বেগম জেবুন্নেসা ও লায়লা পারভীন সেঁজুতি।

 

Ads small one

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, বাদীপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার আদালতে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী ও এড. আবু বক্কর।

 

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম (৪৮)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার সেহারা গ্রামের মৃত সামত আলীর ছেলে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে থানায় কর্মরত এসআই সোহাগ মিয়া ও এসআই সাহিদুর রহমান মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলেন।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টার দিকে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নওয়াপাড়া ঢালাই রাস্তার মোড় থেকে ওয়াপদার দিকে যাওয়ার পথে জনৈক আব্দুল মান্নানের বাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ রেজাউল ইসলাম (৪৮) কে আটক করে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ১০ আগস্ট সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের মৃত নূর আহম্মদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল মোমিন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলেন- তার নিলাম খরিদা ভূমি ছোট ভাই আব্দুল মালেক ও তার সহযোগী বড় ভগ্নিপতি মোঃ আমজাদ হোসেন ও সেজো ভাইয়ের স্ত্রী শাকিলা বেগম এর বক্তব্য দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমার বৃদ্ধা মাকে ভুল বুঝিয়া এক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কিছু না শুনে- না জেনে তার ও তার স্ত্রীর সম্মান হেয় করায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

একই দিন দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দিলিপ কুমার রায়। তিনি শ্যামনগর উপজেলা মিঠাচন্ডিপুর গ্রামের মৃত কাত্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে। দিলিপ কুমার তার লিখিত বক্তব্যে দাবী করেন, হরিনগর এলাকার দিলিপ মল্লিকের কন্যা চম্পা রানী তার স্ত্রী ছিলেন।

 

উক্ত চম্পা রানীর বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, জনৈক আব্দুল মান্নানকে দিয়ে তার ভিটা বাড়ি লিখে নেওয়ার জন্য হুমকি ও মারপিট করেন। এই ঘনটায় তিনি শ্যামনগর থানায় ১৫৮২ নং জিডি করেন।

 

এই ঘটনায় চম্পা রানী নিজেকে আহত দেখিয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদলতে মামলা করেন। দিলীপ দাবী করেন বর্তমান তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।