বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

দুপুর দেড়টা। সেন্টমার্টিন জেটিঘাটের পাশের একটি মুদির দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন জেলে মনজুর আলম (৬৫) ও মুদিদোকানি হামিদ হোসেন (৬০)। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হাসিমুখে গল্প করছিলেন তারা। কথার ফাঁকে উঠে আসে গত দুই বছরের দুঃসহ দিনগুলোর কথা। পর্যটক কম আসা, দ্বীপে রাতযাপনে বিধিনিষেধ আর বেচাকেনার মন্দায় সংসার চালাতে কতটা হিমশিম খেতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাও শোনান তারা। তবে এবার তাদের চোখেমুখে স্বস্তি আর নতুন আশার ঝিলিক।

এবারের পর্যটন মৌসুম নিয়ে জানতে চাইলে দুই জনের কণ্ঠেই ফুটে ওঠে আনন্দ। তাদের ভাষায়, দীর্ঘদিন পর যেন ‘ঈদের আনন্দ’ ফিরে আসছে দ্বীপে।

কথা হলে মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন বলেন, ‘গত দুই বছর সেন্টমার্টিনে পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধের কারণে সংসারে খুব টানাপোড়েন গেছে। পর্যটকদের রাতযাপন বন্ধ থাকাসহ পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা ছিল খুবই কম। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় আমাদের ঈদের মতো খুশি লাগছে। আগের দুই বছর ঈদেও আমাদের মধ্যে সেই আনন্দ ছিল না।’

 

শুধু মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন নন, পর্যটননির্ভর সেন্টমার্টিনের অনেক বাসিন্দার প্রত্যাশা এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের ব্যবসায়ী, জেলে, হোটেল-মোটেলসংশ্লিষ্ট কর্মী, নৌযান শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশা। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে আবারও সচল হবে দ্বীপের অর্থনীতি এমন প্রত্যাশা তাদের।

এদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরুর কথা ছিল। তবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে তা শুরু হয়নি। ৫ নভেম্বর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে।

সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। রাত্রীযাপনসহ সাড়ে চার মাসে দিনে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণে যাবেন। কিন্তু এর আগে গত দুই বছর নভেম্বরে দিনে গিয়ে দিনে ফেরা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ ছিল। সে সময়ে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতেন।

 

সেন্টমার্টিনে আট বছর ধরে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন মোহাম্মদ ছিদ্দিক। পশ্চিম সৈকতে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। পরিবারের আট সদস্য নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের সবার মধ্যে কর্মব্যস্ততা ফিরেছে। পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা নতুন করে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে ঈদের আগে যেমন ব্যস্ততা দেখা যায়, দ্বীপে এখন অনেকটা তেমন পরিবেশ। আশা করছি, এবার আয় বাড়লে অন্তত কিছুটা ঋণের বোঝা কমাতে পারবো।’

দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন। জীবিকার তাগিদে বছরের বেশির ভাগ সময় তাকে দ্বীপের বাইরে থাকতে হয়। তবে পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এবার ফিরেছেন নিজ দ্বীপে। তিনি বলেন, ‘দ্বীপে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় আমার মতো অনেক যুবকই জীবিকার সন্ধানে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এবার পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় তারা আবার ফিরছেন। কমপক্ষে দুই শতাধিক তরুণ পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু ফটোগ্রাফি নয়, বাইক চালানোসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন আরও অনেকে। এতে দ্বীপে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।’

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা তরুণ রহমত উল্লাহও পর্যটন মৌসুম ঘিরে মোটরসাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিনে এসেছেন। পর্যটকদের পরিবহনসেবা দিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় পুরো মৌসুম দ্বীপে থাকার পরিকল্পনা তার। তিনি বলেন, ‘পুরো পর্যটন মৌসুম সেন্টমার্টিনে অবস্থান করবো। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি টমটমও ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, এবার আগের তুলনায় আয়-রোজগার অনেক বাড়বে। সেই প্রত্যাশা থেকেই মৌসুম শুরুর আগেই দ্বীপে চলে এসেছি।’

স্থানীয়দের মতে, বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত প্রবালদ্বীপটির অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পর্যটননির্ভর। কেউ দোকানপাট, কেউ মাছ ও সামুদ্রিক খাবার বিক্রি, আবার কেউ হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ কিংবা নৌযানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে পর্যটক কমলে সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের আয়ে। গত দুই মৌসুমের স্থবিরতা কাটিয়ে এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন দ্বীপবাসী।

 

দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘জাহাজ চলাচল শুরু হলে দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকায় আবারও গতি ফিরবে। কারণ, এখানকার অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর। পর্যটন মৌসুম অনেকের কাছে ঈদের আনন্দের মতো। এ সময়টিকে ঘিরেই স্থানীয় মানুষের সারা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে। তবে শুধু পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না রেখে দ্বীপের মানুষের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত সরকারি উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ জেলে ও পর্যটননির্ভর। এখানে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেকেই দিনে এনে দিনে খান। পর্যটন বন্ধ বা সীমিত থাকলে তাদের আয়-রোজগারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর পর পর্যটন ঘিরে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। তাদের মধ্যে ঈদের মতো আনন্দ বিরাজ করছে। পর্যটকদের বরণ করে নিতে দ্বীপবাসী প্রস্তুত। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।’

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের আগমন সামনে রেখে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। কারণ, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুমে তাদের কর্মব্যস্ততা ও আয়-রোজগার দুটোই বাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বীপবাসী যেন পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

Ads small one

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

কক্সবাজার টেকনাফে মানবকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে প্রশ্নে বাংলাদেশ পাচারের এক সদস্য যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে রঙ্গীখা ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ে এ প্রচারণা।

চতুষ্পদসদস্যের নাম মো. তাতাস শেখ (২৭)। তিনি একপর্যায়ে বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। নিখুঁত রক্তক্ষরণে কার্যকরী তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান (সিএমএইচ), রাতে নেওয়া হলে ধর্মীয় তাকে মর্যাদা দেন।

আন্তঃ বৃহৎ জনসংযোগ পরিদফের (আইএসপিআর) তথ্যের তথ্য অনুযায়ী, গো মানবা খবরে খবর পাওয়া যায়, রাণীখালী গভীর পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ এর একটি সশস্ত্রী দল প্রায় ১২০ জন ও বাংলাকে জিম্মি করে তুলেছে। এ তথ্যের প্রকাশক বাংলাদেশভির ১০ পদাতিক ডিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিটী) ও স্থানীয় পুলিশ সদস্য গঠিত দল আভিযান বিজানা বিক্রেতা বিক্রেতা আকালানুক্রমিক প্রকাশ্য।

এ সময় পাওয়ার সদস্য সস্ত্রীক উপস্থিতি টেরটি মানবপাচারকারী এপাতাড়ি চালায়। ব্যাঙ্গ পার্টির মধ্যে ব্যবহার করা হয়।

যুদ্ধে সেনা বার থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এ ছাড়া পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যের দল এবং জিম্মিকে ৫৭ পরিস্থিতি উদ্ধার করা হয়।

ধর্মরত সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের কথা বলা বাংলাদেশকে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে। একই সাথে তার বিহীর আত্মার মাগফিরাত কামনা গভীর এবং শোকসন্তান সদস্যদের প্রতি সমবেদনা।

ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিশাল পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতে শোচনীয় হারের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা পরোক্ষভাবে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ ও সতর্ক বার্তায় জেডি ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অনুপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প যেখানে টানা কয়েক মাস ধরে ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, সেখানে ভ্যান্সের প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি মার্কিন সামরিক অভিযানের দেশীয় নেতিবাচক প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, তবে এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই জানিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন।

ভ্যান্সের বিশ্লেষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে বলেন, আমি জানি ও কীভাবে দেখে। আমার মনে হয় এটি ঠিকই ছিল। আমরা জানতাম পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ওদের থামানো গেছে এবং তারা আর কখনও তা পারবে না।

এর পরেই তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্স ‘হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হয়তো সে লড়বে না, আমি জানি না কে লড়বে। তবে যুদ্ধের বিষয়ে আমি বলতে পারি, আমি আলাদা কিছু করতাম না।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেকে খানিকটা আলাদা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও প্রশাসন থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছেন না। অপর দিকে ভ্যান্স ২০২৮ সালে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে কেবল শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে নয়, নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর পুরো রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, দল যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন না করে তবে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনি ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এক পডকাস্টে শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা শোনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শুনতে হবে এবং সাড়া দিতে হবে। টেক্সাস এখন নীল হয়ে যাচ্ছে। শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেও ক্রুজ সুর মিলিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি এক্স-এ ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ‘আবেগপ্রবণ’ যুদ্ধ এবং দৃশ্যমান দুর্নীতির সমালোচনা করে লিখেছেন, বাজে নীতি এবং বাজে চরিত্র কখনও ভালো রাজনীতি তৈরি করে না। দেশ এবং আমার দলের সঠিক পথে ফেরার আশায় রইলাম।

সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলেই দল সামনে এগোবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, সেই লড়াই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। অপরিশোধিত তেলের তীব্র দরপতন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটার জোয়ার এবং মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাবের ওপর ভর করে বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান ঘটেছে। লেনদেন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,৩০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৭৮,৬৩০ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ সূচক ২৪,৩৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। এটি ভারতের শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখলো। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ১,৪০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৭৩৫.৭৯ এবং নিফটি ৪৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৩৮৯.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।

লেনদেন শুরুর সময় সেনসেক্স তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৪৯৩.৪৪ লাখ কোটি রুপি, যা এক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০.৯১ লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপির নিট বৃদ্ধি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওভারনাইট লেনদেনে মার্কিন শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর এই প্রভাব দেখা গেলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার বাড়ার প্রধান ৩ কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

তেলের দামে ৮ শতাংশ ধস: ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান সংঘাত কমানোর দিকে হাঁটবে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে আসে। তেল আমদানিনির্ভর ভারতের জন্য তেলের এই মূল্যহ্রাস আমদানি খরচ ও মূল্যস্ফীতি কমাবে এবং রুপিকে শক্তিশালী করবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন: বুধবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে ৭,২৮৪ কোটি রুপির শেয়ার কেনেন, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ৯০,০০০ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রির পর নভেম্বরে এ পর্যন্ত তারা ১৭,০০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাব: রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১.৬ শতাংশ এবং ডাউ জোন্স প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আয়নিক অ্যাসেটের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রধান অঙ্কিতা পাঠক বলেন, নির্বাচনি ফলাফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমবে। তবে জানুয়ারিতে নতুন আইনপ্রণেতারা শপথ নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বন্ডের সুদ ও ডলার দুর্বল হলে উদীয়মান বাজার ও স্বর্ণ উপকৃত হতে পারে। তা সত্ত্বেও তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নতুন কংগ্রেসে নজরদারি বাড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি