বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
সেন্টমার্টিনে আসছে পর্যটক, দ্বীপে ফিরেছে ‘ঈদের আনন্দ’

দুপুর দেড়টা। সেন্টমার্টিন জেটিঘাটের পাশের একটি মুদির দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন জেলে মনজুর আলম (৬৫) ও মুদিদোকানি হামিদ হোসেন (৬০)। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হাসিমুখে গল্প করছিলেন তারা। কথার ফাঁকে উঠে আসে গত দুই বছরের দুঃসহ দিনগুলোর কথা। পর্যটক কম আসা, দ্বীপে রাতযাপনে বিধিনিষেধ আর বেচাকেনার মন্দায় সংসার চালাতে কতটা হিমশিম খেতে হয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাও শোনান তারা। তবে এবার তাদের চোখেমুখে স্বস্তি আর নতুন আশার ঝিলিক।

এবারের পর্যটন মৌসুম নিয়ে জানতে চাইলে দুই জনের কণ্ঠেই ফুটে ওঠে আনন্দ। তাদের ভাষায়, দীর্ঘদিন পর যেন ‘ঈদের আনন্দ’ ফিরে আসছে দ্বীপে।

কথা হলে মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন বলেন, ‘গত দুই বছর সেন্টমার্টিনে পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধের কারণে সংসারে খুব টানাপোড়েন গেছে। পর্যটকদের রাতযাপন বন্ধ থাকাসহ পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেচাকেনা ছিল খুবই কম। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন পর্যটনের ওপর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় আমাদের ঈদের মতো খুশি লাগছে। আগের দুই বছর ঈদেও আমাদের মধ্যে সেই আনন্দ ছিল না।’

 

শুধু মনজুর আলম ও হামিদ হোসেন নন, পর্যটননির্ভর সেন্টমার্টিনের অনেক বাসিন্দার প্রত্যাশা এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের ব্যবসায়ী, জেলে, হোটেল-মোটেলসংশ্লিষ্ট কর্মী, নৌযান শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশা। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে আবারও সচল হবে দ্বীপের অর্থনীতি এমন প্রত্যাশা তাদের।

এদিকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত শুরুর কথা ছিল। তবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় নির্ধারিত দিনে তা শুরু হয়নি। ৫ নভেম্বর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে।

সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। রাত্রীযাপনসহ সাড়ে চার মাসে দিনে সাড়ে তিন হাজার পর্যটক ভ্রমণে যাবেন। কিন্তু এর আগে গত দুই বছর নভেম্বরে দিনে গিয়ে দিনে ফেরা এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ ছিল। সে সময়ে দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতেন।

 

সেন্টমার্টিনে আট বছর ধরে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন মোহাম্মদ ছিদ্দিক। পশ্চিম সৈকতে যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ। পরিবারের আট সদস্য নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে ঋণের বোঝা দিন দিন বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের সবার মধ্যে কর্মব্যস্ততা ফিরেছে। পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা নতুন করে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন। হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। সবমিলিয়ে ঈদের আগে যেমন ব্যস্ততা দেখা যায়, দ্বীপে এখন অনেকটা তেমন পরিবেশ। আশা করছি, এবার আয় বাড়লে অন্তত কিছুটা ঋণের বোঝা কমাতে পারবো।’

দ্বীপের বাসিন্দা মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন। জীবিকার তাগিদে বছরের বেশির ভাগ সময় তাকে দ্বীপের বাইরে থাকতে হয়। তবে পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে এবার ফিরেছেন নিজ দ্বীপে। তিনি বলেন, ‘দ্বীপে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় আমার মতো অনেক যুবকই জীবিকার সন্ধানে বাইরে চলে গিয়েছিলেন। এবার পর্যটন মৌসুমে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় তারা আবার ফিরছেন। কমপক্ষে দুই শতাধিক তরুণ পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু ফটোগ্রাফি নয়, বাইক চালানোসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন আরও অনেকে। এতে দ্বীপে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।’

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা তরুণ রহমত উল্লাহও পর্যটন মৌসুম ঘিরে মোটরসাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিনে এসেছেন। পর্যটকদের পরিবহনসেবা দিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় পুরো মৌসুম দ্বীপে থাকার পরিকল্পনা তার। তিনি বলেন, ‘পুরো পর্যটন মৌসুম সেন্টমার্টিনে অবস্থান করবো। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি টমটমও ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, এবার আগের তুলনায় আয়-রোজগার অনেক বাড়বে। সেই প্রত্যাশা থেকেই মৌসুম শুরুর আগেই দ্বীপে চলে এসেছি।’

স্থানীয়দের মতে, বঙ্গোপসাগরবেষ্টিত প্রবালদ্বীপটির অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পর্যটননির্ভর। কেউ দোকানপাট, কেউ মাছ ও সামুদ্রিক খাবার বিক্রি, আবার কেউ হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ কিংবা নৌযানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ফলে পর্যটক কমলে সরাসরি প্রভাব পড়ে তাদের আয়ে। গত দুই মৌসুমের স্থবিরতা কাটিয়ে এবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন দ্বীপবাসী।

 

দ্বীপের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, ‘জাহাজ চলাচল শুরু হলে দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকায় আবারও গতি ফিরবে। কারণ, এখানকার অধিকাংশ মানুষ পর্যটননির্ভর। পর্যটন মৌসুম অনেকের কাছে ঈদের আনন্দের মতো। এ সময়টিকে ঘিরেই স্থানীয় মানুষের সারা বছরের আয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে। তবে শুধু পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না রেখে দ্বীপের মানুষের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকারের উচিত সরকারি উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের অধিকাংশ মানুষ জেলে ও পর্যটননির্ভর। এখানে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে জীবিকার তাগিদে অনেকেই দিনে এনে দিনে খান। পর্যটন বন্ধ বা সীমিত থাকলে তাদের আয়-রোজগারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর পর পর্যটন ঘিরে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে। তাদের মধ্যে ঈদের মতো আনন্দ বিরাজ করছে। পর্যটকদের বরণ করে নিতে দ্বীপবাসী প্রস্তুত। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে।’

টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ‘পর্যটকদের আগমন সামনে রেখে দ্বীপের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। কারণ, সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষ পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুমে তাদের কর্মব্যস্ততা ও আয়-রোজগার দুটোই বাড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বীপবাসী যেন পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের পরিবেশ সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

Ads small one

হামজার কাছ থেকে শেখার সুযোগ না পাওয়ায় ভুটান অধিনায়কের আক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
হামজার কাছ থেকে শেখার সুযোগ না পাওয়ায় ভুটান অধিনায়কের আক্ষেপ

বাংলাদেশের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে চায় ভুটান। দলের অধিনায়ক চেঞ্চো গেইলশেনের কণ্ঠে সেই প্রত্যয় স্পষ্ট। তবে ম্যাচের আগে তার মনে কিছুটা আক্ষেপও প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশের তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী প্রথম ম্যাচে খেলছেন না। তাই হামজার মতো ফুটবলারের বিপক্ষে মাঠে নামার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে শেখার সুযোগও হাতছাড়া হচ্ছে ভুটান অধিনায়কের।

বুধবার প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে চেঞ্চো বলেন, ‘হামজা খেললে আমরা তার বিপক্ষে খেলতে পছন্দ করতাম। সবাই জানে, তিনি সাফ অঞ্চলের বড় তারকা। ভালো মানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার খেলা আমাদের জন্য ইতিবাচক হতো। তার কাছ থেকে শেখারও সুযোগ থাকত। দুর্ভাগ্যবশত, শুনেছি প্রথম ম্যাচে তিনি আসছেন না।’

তবে হামজা না থাকলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না ভুটান। চেঞ্চো বলেন, ‘সাফ কাপ জেতা প্রতিটি দলেরই স্বপ্ন। আমরা প্রথম ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব, যেন সেমিফাইনালে যাওয়ার পথে নিজেদের অবস্থান নিরাপদ করতে পারি।’

গতবার ভুটানের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে চোটের কারণে সেই ম্যাচে খেলতে পারেননি চেঞ্চো। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় তিনি।

অন্যদিকে ভুটানের কোচ গ্যারি মাইকেল ফিলিপস স্বীকার করেছেন, সাফের জন্য তাদের প্রস্তুতি আশানুরূপ হয়নি। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচও খেলতে পারেনি দলটি। গত ফিফা উইন্ডোতে ভুটানের জাতীয় লিগ থাকায় খেলোয়াড়দের একসঙ্গে পাওয়াও কঠিন ছিল।

কোচ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিটা ধাপে ধাপে হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা কোনো ম্যাচ খেলিনি। বাংলাদেশের মতো অন্য দলগুলোর যে ধরনের প্রস্তুতি হয়েছে, আমাদের তা হয়নি। তবে আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়েই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি।’

ভুটান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। তাই এই টুর্নামেন্টকে খেলোয়াড়দের যাচাই করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের এএফসি ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের ওপর চাপের বিষয়টিও মাথায় রাখছেন ফিলিপস। তার মতে, ঘরের মাঠে খেলার কারণে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে। তবে এই প্রতিযোগিতা বাছাইপর্বের টুর্নামেন্ট নয়; বরং আঞ্চলিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ।

ভুটান দলে এবার বেশ কয়েকজন তরুণ ও নতুন মুখ রয়েছেন। অধিনায়ক চেঞ্চোও দলের নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য আমরা খুব বেশি সময় পাইনি। ভুটানের মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই জাতীয় দলের খেলোয়াড় নির্বাচন করতে হয়েছে। দলে বেশিরভাগই তরুণ ও নতুন মুখ। তবে কোচের অভিজ্ঞতার কারণে এখন আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী।’

দলে শতভাগ স্থানীয় ফুটবলার থাকায় গর্বের কথাও জানিয়েছেন চেঞ্চো। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোতে প্রবাসী বা বংশোদ্ভূত ফুটবলার থাকলেও ভুটান জাতীয় দলে সবাই স্থানীয়।

চেঞ্চোর ভাষায়, ‘বিশ্ব ফুটবল এখন অনেক বদলে গেছে। শুধু বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কা নয়, অনেক দেশই বিদেশে জন্ম নেওয়া বা অন্য দেশের ফুটবলারদের নাগরিকত্ব দিয়ে দলে নিচ্ছে। আমার মনে হয়, ভুটানই একমাত্র দল, যারা শতভাগ ভুটানি ফুটবলার নিয়ে খেলছে। জাতীয় দলের হয়ে শতভাগ ভুটানিকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত।’

বিক্রি ও মুনাফায় পূর্বাভাসের চেয়ে এগিয়ে অ্যাপল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
বিক্রি ও মুনাফায় পূর্বাভাসের চেয়ে এগিয়ে অ্যাপল

আইফোন বিক্রি ও সেবা খাত থেকে আয় বাড়ায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল রেকর্ড রাজস্ব আয় করেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেমোরি চিপের ব্যয় বাড়ায় আগামী প্রান্তিকে মুনাফার হার কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

গত সেপ্টেম্বরে টিম কুকের কাছ থেকে সিইও-র দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বড় আর্থিক প্রতিবেদনে জন টার্নাস বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পণ্যসম্ভার নিয়ে বছর শেষ করতে যাচ্ছি। তিনি আগামী ছুটির মৌসুমে তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনসহ নতুন পণ্যের বিক্রি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অ্যাপলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) কেভান পারেখ জানান, মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধি ও সিরি এআই সম্প্রসারণের খরচের কারণে মোট মুনাফার হার সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের ৪৭.৯ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশে নামতে পারে। তবে এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে পারেখ বলেন, আমরা মনে করি, এআই গ্রাহকদের নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পেতে নতুন ডিভাইস কেনা বা পুরোনো ডিভাইস পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা তৈরি করবে।

সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো, ১৮ প্রো ম্যাক্স ও ভাঁজযোগ্য ডুয়ো বাজারে আনার পর অক্টোবরে সিরি এআই-চালিত স্মার্ট ডিসপ্লে হোমভিউ এবং টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো উন্মোচন করে অ্যাপল।

প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন ও মেটা এআই অবকাঠামোতে শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করলেও অ্যাপলের মূলধনি ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ১১ বিলিয়ন ডলার। নিজস্ব বিনিয়োগ কম রেখেও গুগলের জেমিনি মডেলের ওপর ভিত্তি করে সিরি পুনর্নির্মাণের মতো কৌশলে লাভবান হচ্ছে অ্যাপল। তবে ২০২৪ সাল থেকে অ্যাপল পণ্যে যুক্ত থাকা চ্যাটজিপিটির উদ্ভাবক ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে গত জুলাইয়ে মামলা দায়ের করেছে অ্যাপল।

সূত্র: এএফপি

জার্সি বিক্রিতে মেসিকে টপকালেন লেভানডোভস্কি, আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
জার্সি বিক্রিতে মেসিকে টপকালেন লেভানডোভস্কি, আছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানও

মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দিয়েই নিজের জনপ্রিয়তার জানান দিয়েছেন রবার্ট লেভানডোভস্কি। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভক্তদের আগ্রহেও বড় প্রভাব ফেলেছেন পোলিশ স্ট্রাইকার। জুনে যুক্তরাষ্ট্রের লিগে পা রাখার পর থেকে তার শিকাগো ফায়ারের জার্সি বিক্রি ছাড়িয়ে গেছে লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামির জার্সিকেও!

তবে পুরো বছরের হিসাবে জার্সি বিক্রির শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন মেসিই। মঙ্গলবার ২০২৬ সালের সর্বাধিক বিক্রীত জার্সির তালিকা প্রকাশ করেছে এমএলএস। সেখানে টানা চতুর্থ মৌসুমের মতো শীর্ষে আছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এমএলএসের অনলাইন স্টোরে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জার্সি বিক্রির হিসাব ধরে তৈরি হয়েছে সেরা ১০-এর এই তালিকা। লেভানডোভস্কি ২৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে শিকাগো ফায়ারে যোগ দেন। ২২ জুলাই ইন্টার মায়ামির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার এমএলএস অভিষেক হয়। এরপর ১৮ ম্যাচে সাত গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে পাঁচটি গোল করিয়েছেন তিনি।

লেভানডোভস্কির পারফরম্যান্সে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে শিকাগো ফায়ার। প্লে-অফেও জায়গা করে নিয়েছে দলটি।

তবে সামগ্রিক জার্সি বিক্রিতে মেসির আধিপত্য অক্ষুণ্ন। ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো জার্সি বিক্রির তালিকায় শীর্ষে উঠেছিলেন তিনি। এরপর টানা চার মৌসুম ধরে এক নম্বর জায়গাটি ধরে রেখেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার।

মেসির পর দ্বিতীয় স্থানে আছেন এলএ এফসির ফরোয়ার্ড সন হিউং-মিন। তৃতীয় হয়েছেন ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের থমাস মুলার। লেভানডোভস্কির অবস্থান চতুর্থ।

তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন অরল্যান্ডো সিটির নতুন সংযোজন আন্তোয়ান গ্রিজম্যান। মার্চে তার ক্লাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা আসে। অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষ করার পর জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এমএলএসে যোগ দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

সেরা দশে জায়গা পেয়েছেন ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ১৭ বছর বয়সী তরুণ কাভান সুলিভানও। গত মাসে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় দলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। তালিকায় তার অবস্থান ষষ্ঠ।

২০২৬ সালে এমএলএসে সর্বাধিক বিক্রীত ১০ জার্সি

১. লিওনেল মেসি — ইন্টার মায়ামি
২. সন হিউং-মিন — এলএএফসি
৩. থমাস মুলার — ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস
৪. রবার্ট লেভানডোভস্কি — শিকাগো ফায়ার
৫. আঁতোয়ান গ্রিজম্যান — অরল্যান্ডো সিটি
৬. কাভান সুলিভান — ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন
৭. দেনিস বুয়াঙ্গা — এলএএফসি
৮. লুইস সুয়ারেজ — ইন্টার মায়ামি
৯. হানি মুখতার — ন্যাশভিল এসসি
১০. রদ্রিগো দি পল — ইন্টার মায়ামি