স. ম. আলাউদ্দীনের ৩১তম হত্যা দিবসে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আলোচনা সভা
নিজস্ব প্রতিনিধি: সময় গড়িয়েছে তিন দশক। তিরিশটি বছর ধরে প্রতিশ্রুতির ধুলো জমেছে আদালতের নথিপত্রে, কিন্তু বিচার মেলেনি। সাতক্ষীরার মাটি ও মানুষের কণ্ঠস্বর, আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার এবং দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক শহীদ স. ম. আলাউদ্দীনের ৩১তম হত্যা দিবসে তাই স্মৃতির বেদনার চেয়েও বেশি মূর্ত হয়ে উঠেছিল বিচারহীনতার দীর্ঘশ্বাসের ক্ষোভ।
শনিবার (২০ জুন) রাতে সাতক্ষীরার ম্যানগ্রোভ সভাঘরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব আয়োজিত এক স্মরণ সভায় বক্তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় সেই পুঞ্জীভূত বেদনা। ১৯৯৬ সালের ১৯ জুনের সেই অভিশপ্ত রাতে, যখন ঘাতকের বুলেট পত্রিকা অফিসে কর্মরত এই নির্ভীক কলমযোদ্ধার বুক ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল, মূলত তখন থেকেই খুলনাঞ্চলে শুরু হয়েছিল সাংবাদিক হত্যার এক অন্ধকার অধ্যায়।
স্মরণ সভায় বক্তারা গভীর শ্রদ্ধা ও শোকাতুর হৃদয়ে স্মরণ করেন এই ক্ষণজন্মা পুরুষ ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মীকে। সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বাতিঘর ‘ভোমরা স্থলবন্দর’ প্রতিষ্ঠার মূল কারিগর ছিলেন তিনি। যুবসমাজের কর্মসংস্থানের আলো জ্বালাতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন আলাউদ্দীন ফুডস্ অ্যান্ড কেমিক্যাল এবং বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের তত্ত্বাবধানে নিজের জমি দান করে তৈরি করেছিলেন নগরঘাটা শিশু হাসপাতাল। পরিকল্পিত চিংড়ি চাষের প্রসার কিংবা বেতনা নদী খননের আন্দোলন—সবখানেই তিনি ছিলেন ধ্রুবতারার মতো পথপ্রদর্শক।
অন্যায়, দুর্নীতি আর শোষণের বিরুদ্ধে গণমানুষের অবরুদ্ধ কণ্ঠস্বরকে ভাষা দিতে ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পাঠকপ্রিয় দৈনিক পত্রদূত। সম্পাদক হিসেবে তাঁর ধারালো কলম অবদমিত মানুষের অধিকার আদায়ের রাজপথকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই আপসহীন সত্যের চর্চায় শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনে অকাল কাল ডেকে আনে। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর অতিবাহিত হলেও সাতক্ষীরাবাসী এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বের হত্যাকা-ের বিচার পায়নি। তাঁরা অবিলম্বে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক ও ঐতিহাসিক শাস্তির দাবি জানান।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় শোকাতুর এই সভায় স. ম আলাউদ্দীনের স্মৃতিচারণ ও বিচার দাবিতে বক্তব্য রাখেনÑ সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কালি দাস রায়, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের আহসান রাজীব, প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ ময়না, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, বাংলা ট্রিবিউনের আসাদুজ্জামান সরদার, মানবজমিনের এস এম বিপ্লব হোসেন, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিল, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান সোহাগ, সাংবাদিক আব্দুল গফুর, সাংবাদিক এস এম তৌহিদুজ্জামান, সাংবাদিক হাবিবুল হাসান, সাংবাদিক আবু সাঈদ, সাংবাদিক রিজাউল করিম, সাংবাদিক মৃত্যুঞ্জয় রায়, সাংবাদিক জিএম আমিনুল হক, সাংবাদিক মেহেদী হাসান শিমুল প্রমুখ।
শোক আর দাবির মেলবন্ধনে সভার সমাপ্তিতে এক বেদনাবিধুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বক্তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যতদিন না এই জঘন্য হত্যাকা-ের বিচার হচ্ছে, ততদিন সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ রাজপথে তাঁদের লড়াই জারি রাখবে।









