সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস। সাইকেলের অনন্যতা, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও বহুমুখীতাকে উদযাপন এবং পরিবহন মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহারকে উৎসাহিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘ এই দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিবছর জুন মাসের ৩ তারিখে সমগ্র বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় সাইকেল দিবস। এর মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে দৈনন্দিন ছোটখাটো যাতায়াতে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করা।

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রসংঘর সাধারণ সভায় ৩ জুন বিশ্ব সাইকেল দিবস হিসেবে উদ্যাপন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এই বাহনটির ব্যবহার বাড়াতে সচেতনতা তৈরি করা দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশে প্রতি বছর এই দিনে বিভিন্ন সাইক্লিং কমিউনিটি এবং পরিবেশবাদী সংগঠন নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। বিশ্ব সাইকেল দিবস বর্তমান সুস্থ জীবন নির্বাহ পদ্ধতিকে প্রচারের জন্য অনুষ্ঠিত করা হয়। সাইকেল চালানো স্বাস্থ্যর জন্য লাভকারক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট সাইকেল চালালে তা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে কমাতে সাহায্য করে। সাইকেল চালালে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন বা সুখ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মনকে ফুরফুরে রাখে এবং ঘুমের গুণগত মান বাড়ায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর অধ্যাপক লেসজেক সিবিলস্কি তার সমাজশাস্ত্রের শ্রেণিতে তৃণমূল পর্যায়ে বিশ্ব সাইকেল দিবসের রাষ্ট্রসংঘর স্বীকৃতির জন্য এক অভিযানের সূচনা করেছিলেন। ২০১৫ সালে সিবিলস্কি একটি একাডেমিক প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরে তার এই অভিযান তুর্কমেনিস্তানকে নিয়ে ৫৬ টি দেশের সমর্থন লাভ করে। এই প্রকল্পটি একটি বড় আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত বাইসাইকেলের জন্য জাতিসংঘ একটি দিন নির্ধারিত করে। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র সর্বসম্মতিক্রমে ৩ জুনকে বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

সাইকেল কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়াই চলে, যা কার্বন নির্গমন এবং বায়ু দূষণ কমাতে সরাসরি সাহায্য করে। নিয়মিত সাইকেল চালালে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে, পেশী শক্তিশালী হয় এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। এটি অত্যন্ত কম খরচে যাতায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য ও সহজ মাধ্যম। যানজট মুক্ত শহর ও টেকসই নগর পরিবহনের মডেল তৈরিতে সাইকেলের ভূমিকা অপরিসীম।

নিয়মিত সাইকেল চালানো বা সাইক্লিং শারীরিক ও মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি অ্যারোবিক ব্যায়াম। সাইক্লিং হৃৎপিন্ড, ফুসফুস ও রক্ত সঞ্চালনকে উন্নত করে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তীব্র গতিতে সাইকেল চালালে ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ ক্যালোরি পর্যন্ত বার্ন করা সম্ভব, যা শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখে। এটি পায়ের মাংসপেশি শক্তিশালী করে এবং জয়েন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ না ফেলেই হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে।

বিশ্ব সাইকেল দিবস সমগ্র বিশ্বে জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, বয়স ভেদে উদ্যাপন করা হয়। সাইকেল মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের এক প্রতীক। বাইসাইকেল এমন একটি যানবাহন যা সমাজের একজন ধনী থেকে গরিব পর্যন্ত সবাই বহন করতে পারে। এটি বায়ু দুষণ কমায়। ট্রাফিক যানজট নিরসন করে। সমাজের বিভিন্ন দিকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ইহা সহনশীলতা, পারস্পরিক বোঝাবুঝি এবং শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সামাজিক সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক শান্তি প্রদান করে।

সাইকেল মানব সভ্যতার ক্রমবিকাশের প্রতীক। এটা সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়ানো, সামাজিক বন্ধন এবং সংস্কৃতির বাহন হিসেবে কাজ করে। জাতিসংঘ সাইকেলকে শান্তি, সহনশীলতা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য উপযুক্ত যানবাহন হিসেবে পরিচয় করিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে বাইসাইকেল। বিশেষ করে উন্নত দেশের মানুষ সাইকেলের দিকে ঝুঁকছে বেশি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

লাঙ্গলদাড়িয়ায় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
লাঙ্গলদাড়িয়ায় মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় ডিডকৃত (চুক্তিভিত্তিক লিজ) ও পৈতৃক সম্পত্তির একটি মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘের ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী জানান, তিনি লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় পৈতৃক ও ডিডকৃত ২১০ বিঘা জমিতে ২০২১ সাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে মৎস্য চাষ করে আসছেন। ২০২৬ সালে হিসাব অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অংশ বাদ দিয়ে ১৭৬.৫৭ বিঘা জমি তার পাওনা হয়, যার মধ্যে ১৫৯ বিঘা জমি তিনি বুঝে পেয়ে গত ৬ মাস ধরে ভোগদখল করছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই হিসাব চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু গত ১৪ জুন অধ্যাপক সিরাজুল কবির ঘেরের জমি নিজের দাবি করে আকস্মিক দখলের চেষ্টা চালান এবং ১৫ জুন শ্রমিক নিয়ে ঘেরে নামেন।
এই বিষয়ে শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অধ্যাপক সিরাজুল কবিরের জমি আগেই তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইউসুফের ঘেরে তার নতুন কোনো জমি নেই। দখলের চেষ্টা করা হয়ে থাকলে তা অন্যায় হয়েছে।
তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক সিরাজুল কবির জবরদখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, এর আগে কোনো সালিস-মিমাংসা হয়নি বা কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি ইউসুফের ঘের দখল করতে যাননি।

কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে চাচার মামলা ও হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় এতিম ভাই-বোন

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে মায়ের হত্যাকারী ও আপন চাচার করা ‘মিথ্যা’ মামলা ও জীবননাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুই এতিম ভাই-বোন। সোমবার সকালে কাশিমনগর বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ইটভাটার শিশু শ্রমিক মো. রিফাত গাজী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিফাত গাজী বলেন, ২০২১ সালে তাদের বাবা এনামুল গাজী মারা যান। এরপর ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তার মা রাশিদা বেগমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রিফাত বাদী হয়ে চাচা মহিদুল গাজীকে আসামি করে পাইকগাছা থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সেদিনই মহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পেয়েই মহিদুল মামলা তুলে নেওয়ার জন্য রিফাত ও তার ছোট বোন তাসমিরা খাতুনসহ (১৪) সাক্ষীদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১১ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রিফাত।
রিফাত আরও অভিযোগ করেন, মায়ের হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে চাচা মহিদুল গাজী উল্টো তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। সম্প্রতি তিনি পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিফাতসহ ৭ স্বজনের নাম উল্লেখ করে একটি ‘মিথ্যা’ মামলা (সিআর-৪০৪/২৬) দায়ের করেছেন। মামলায় দাবি করা হয়েছে—তার মা আত্মহত্যা করেছেন এবং রিফাত ও অন্যরা মিলে চাচার ঘরের আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, পুকুরের মাছ ও কলাসহ প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল চুরি ও ক্ষতিসাধন করেছে। রিফাত এই দাবিকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে পুলিশ জানায়, রাশিদা বেগম আত্মহত্যা করেছেন। ফলে মামলাটি হত্যা (৩০২ ধারা) থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার (৩০৬ ধারা) অপরাধে রূপ নেয়।
রিফাত গাজীর দাবি, তার বাবার মৃত্যুর পর থেকে চাচা মহিদুল তার মাকে নানাভাবে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস হলেও মহিদুল উপস্থিত হননি। ঘটনার রাতে তার মাকে বাইরে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘরের বাইরে থেকে শিকল আটকে দেওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে লিচু গাছ থেকে মায়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও সুরতহাল রিপোর্টে শরীরের নানা অসঙ্গতি ছিল। তাই মায়ের মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটনে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এই এতিম তরুণ।

 

 

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: নাগরিক দুর্ভোগের অবসান হবে কবে?

oppo_0

একটি আধুনিক ও প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় নাগরিকরা নিয়মিত কর পরিশোধ করবেন, আর বিনিময়ে পাবেন ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাÑএটাই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যকাটিয়া এলাকার চিত্র দেখলে মনে হয়, সেখানকার বাসিন্দারা যেন কোনো পরিত্যক্ত জনপদে বসবাস করছেন। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মধ্যকাটিয়ার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাব এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে কার্যত একটি উন্মুক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। কাদা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ড্রেনের উপচে পড়া কালো, দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। একই চিত্র সাতক্ষীরা তুফান কোম্পানীর মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়টির। এ সড়কটির কোথাও আস্ত নেই।
একটি সভ্য সমাজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম সড়ক যদি এমন নরককু-ে পরিণত হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও বিষাক্ত পানি উপচে রাস্তায় জমে থাকছে। রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো এই নোংরা পানির নিচে লুকিয়ে থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ ও নারীদের প্রতিদিন যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয়; এই জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার কারণে এলাকায় মশা-মাছির উপদ্রব মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা। এলাকার মানুষ ঘরের দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারছেন না দুর্গন্ধের কারণে। অথচ নাগরিকরা নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করে যাচ্ছেন। ট্যাক্স দিয়েও কেন মানুষকে এমন আদিম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করতে হবেÑএই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে, এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও কতটা ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে, তা সহজেই অনুমেয়।
পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই “বিষয়টি অবগত আছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে” ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি, শুধু মুখের আশ্বাস বা আশ্বাসের চাদরে দুর্ভোগ ঢেকে রাখার সময় আর নেই। মধ্যকাটিয়াবাসীর এই দুর্ভোগ লাঘবে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাধান।
আমরা সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে মধ্যকাটিয়া এলাকার ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। নাগরিকদের সুস্থ ও নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা পৌরসভার আইনি ও নৈতিক দায়িত্ব। আশা করি, কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত মাঠে নামবেন এবং মধ্যকাটিয়াবাসীকে এই দুঃসহ নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবেন।