নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে (কেন্দ্র কোড: সাতক্ষীরা- ২৬২) এক নজিরবিহীন ও চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই ২০২৬ সালের নিয়মিত এক পরীক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে বাংলা প্রথম পত্র (বিষয় কোড: ১০১) পরীক্ষা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, যশোর বোর্ডের অধীনে সাতক্ষীরা সিটি কলেজের নিয়মিত বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো: এজাজ আহমেদ (রোল নং: ৫২০০৮০, রেজিস্ট্রেশন নং: ২১১৩৩১৫২৬৬, সেশন: ২০২৪-২০২৫) সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে বসেন। পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি একজন সম্পূর্ণ নিয়মিত পরীক্ষার্থী। অথচ পরীক্ষার হলে তাকে ২০২৬ সালের নিয়মিত সিলেবাসের পরিবর্তে [২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী] মুদ্রিত ‘ঘ’ সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।
এদিকে শিক্ষা বোর্ডের জরুরি নির্দেশনাবলী সম্বলিত অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল যে নিয়মিত (সেশন: ২০২৪-২০২০) পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের অনুমোদিত পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। অনিয়মিত/মানোন্নয়ন (সেশন: ২০২৩-২০২৪ ও পূর্বের) পরীক্ষার্থীরাই কেবল ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
কিন্তু কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণে নিয়মিত পরীক্ষার্থীর হাতে অনিয়মিতদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অভিভাবক আবুল কালাম বলেন, বোর্ডের এত কড়া নির্দেশনার পরও কেন্দ্র সচিব আর হল পরিদর্শকরা কীভাবে এত বড় ভুল করলেন, তা আমাদের মাথায় আসছে না। আমার ছেলের পুরো বছরের কষ্ট, পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ এখন এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা এখন তীব্র উদ্বেগের মধ্যে আছি। আমরা যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আমার ছেলের খাতা যেন বিশেষ বিবেচনায় সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীর পরীক্ষা হয়তো পুরোটা বাতিল হবে না, তবে ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হবে। যেহেতু সে নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাই নিয়মানুযায়ী বোর্ডের কম্পিউটারে তার উত্তরপত্র ২০২৬ সালের নিয়মিত সিলেবাসের সেট কোড অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু তার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নে। দুই সিলেবাসের মধ্যে বেশ কিছু অধ্যায়ের পার্থক্য রয়েছে, যার কারণে ২০২৬ সালের উত্তরপত্রের সমাধানের সাথে তার দেওয়া উত্তর মিলবে না। ফলে ফলাফল বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা শতভাগ।
তিনি আরও বলেন, এখানে সরাসরি কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত বোর্ডে যোগাযোগ করতে হবে। সাতক্ষীরা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ এবং সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজের কেন্দ্র সচিবের মাধ্যমে দ্রুত যশোর শিক্ষা বোর্ডে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে হবে। পরীক্ষার্থীর রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং খাতার নম্বর উল্লেখ করে কলেজের অফিসিয়াল প্যাডে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে যে, অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে এই শিক্ষার্থী ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছে। বোর্ডকে আগে থেকে লিখিতভাবে না জানালে রেজাল্ট প্রকাশের সময় এটি আর সংশোধন করা সম্ভব হবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা ডে-নাইট কলেজের অধ্যক্ষ একেএম সফিকুজ্জামান বলেন, পরীক্ষার হলে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের বিষয়টি আমাকে আগে জানানো হয়নি। এ ধরনের ক্ষেত্রে যদি কোনো কক্ষ পরিদর্শক ভুলক্রমে ভুল সিলেবাসের প্রশ্ন দিয়েও থাকেন, তবে পরীক্ষার্থীর নিজেরই তো সবার আগে বোঝার কথা। কারণ, পরীক্ষার শুরুতে কক্ষ পরিদর্শকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানতে চাওয়া হয় যে, কারা কোন সিলেবাসের পরীক্ষার্থী এবং সেই অনুযায়ীই প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। একই বেঞ্চে দুই সিলেবাসের শিক্ষার্থী পাশাপাশি বসে পরীক্ষা দেওয়ার সময় কোনো শিক্ষার্থী ভুল প্রশ্ন পেলে তাৎক্ষণিকভাবেই তার পরিদর্শককে জানানো উচিত ছিল যে সে এই সিলেবাসের শিক্ষার্থী নয়।
পরীক্ষা শেষে এখন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের আর কিছু করার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীর প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর ২-১০ মিনিটের মধ্যেই ভুলটি বুঝে ওঠার কথা ছিল। এখন পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমাদের আসলে কিছু করার নেই। এটি পরীক্ষার্থীর অসচেতনতা ও ত্রুটি হিসেবেই গণ্য হবে। পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষে এখন এই ভুল সংশোধন বা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তবে আগামী দিনের পরীক্ষাগুলোতে যাতে এ ধরনের ভুল আর না ঘটে, সে ব্যাপারে আমরা কক্ষ পরিদর্শক ও শিক্ষকদের আরও বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেব।