মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

খেলার জন্য জীবন বিসর্জন-ক্ষতি কার/ এম.এম হায়দার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
খেলার জন্য জীবন বিসর্জন-ক্ষতি কার/ এম.এম হায়দার আলী

এম.এম হায়দার আলী

ফুটবল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। এই খেলাকে ঘিরে মানুষের আবেগ, উচ্ছ্বাস, উদযাপন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই আবেগ একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, এ ক্ষতি কার? একটি ফুটবল দলের পরাজয় কি কখনও একজন মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হতে পারে? কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্রাজিলের এক তরুণ সমর্থক রতনের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের পরাজয়ের পর প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকদের উপহাস ও নেতিবাচক ট্রল সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদি তদন্তে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়, তবে এটি কেবল একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য গভীর সতর্কবার্তা।

 

রতনের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। জীবনের স্বপ্ন তখনও শুরুই হয়েছিল। পেছনে রেখে গেলেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং মাত্র দুই মাসের একটি নিষ্পাপ সন্তান। একটি পরিবারের হাসি মুহূর্তেই পরিণত হলো আজীবনের কান্নায়। একটি ফুটবল ম্যাচ শেষ হয়েছে, কিন্তু এই পরিবারের দুঃখের কোনো শেষ নেই। আমাদের সমাজে খেলাকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ঠাট্টা-মশকরা নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন সেই ঠাট্টা অপমান, মানসিক নির্যাতন, সামাজিক হেনস্তা কিংবা অনলাইন ট্রলে রূপ নেয়, তখন তা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা প্রায়ই ভাবি, এ তো মজা করলাম। কিন্তু সেই ‘মজা’ অন্য একজনের কাছে অসহনীয় যন্ত্রণা হয়ে উঠতে পারে।

মনে রাখতে হবে, ফুটবল একটি খেলা। আজ ব্রাজিল হারবে, কাল আর্জেন্টিনা হারবে, অন্যদিন অন্য কোনো দল। জয়-পরাজয় খেলারই অংশ। কিন্তু একজন মানুষ হারিয়ে গেলে তিনি আর কখনও ফিরে আসেন না। কোনো ট্রফি, কোনো জয়, কোনো তর্ক একটি মানুষের জীবনের সমান নয়। এই ঘটনার জন্য শুধু ব্যক্তিকে দায়ী করলে চলবে না। পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সবারই দায়িত্ব রয়েছে। পরিবারে সন্তানদের শেখাতে হবে, খেলা বিনোদনের বিষয়; কোনো দলের জয়-পরাজয় ব্যক্তিগত সম্মান বা জীবনের মূল্য নির্ধারণ করে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার পাশাপাশি সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও সংযত হতে হবে। কাউকে হেয় করা, অপমান করা বা দলবদ্ধ ভাবে ট্রল করা কখনোই সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতির অংশ নয়। মতভেদ থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু মানবিকতা হারিয়ে গেলে সেই সমর্থনের কোনো মূল্য থাকে না।

প্রশাসন, ক্রীড়া সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে পারে। খেলা হোক আনন্দের, বিদ্বেষের নয়, এই বার্তাটি সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি, মানসিক চাপে থাকা মানুষ যেন সহজেই পরামর্শ ও সহায়তা পেতে পারেন, সে ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা, আমরা প্রত্যেকে নিজের আচরণের দিকে তাকাই। একটি কটূক্তি, একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য বা একটি ট্রল কারও মনে কতটা আঘাত দিতে পারে, তা আমরা জানি না। তাই কথা বলার আগে ভাবা উচিত, আমার এই কথায় যদি একজন মানুষের জীবন অন্ধকার হয়ে যায়, তবে সেই কথার কোনো মূল্য নেই। রতনের মৃত্যু যেন আরেকটি পরিসংখ্যান হয়ে না থাকে। এটি হোক আমাদের বিবেক জাগ্রত করার একটি উপলক্ষ।

 

ফুটবল ভালোবাসি, খেলাকে ভালোবাসি, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভালোবাসি মানুষকে। কারণ খেলার আসল সৌন্দর্য প্রতিপক্ষকে ঘৃণা করা নয়, প্রতিযোগিতার মধ্যেও মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সম্মান বজায় রাখা। আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ ড়ে তুলি যেখানে কোনো ফুটবল ম্যাচের ফল, কোনো ট্রল বা উপহাস আর কোনো রতনের জীবন কেড়ে নিতে না পারে। খেলার আনন্দ থাকুক মাঠে, আর মানবতার জয় হোক প্রতিটি হৃদয়ে সেই আশায়…।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান দীঘি

শিশুশিল্পী হিসেবেই বেশ জনপ্রিয়তা পান প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। তবে এখন নায়িকা হিসেবেই তিনি নিয়মিত কাজ করছেন। এর মধ্যে কয়েকটি সিনেমাতে প্রধান নায়িকা হিসেবে দেখা গেছে তাকে।

সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দীঘি জানান, জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণির বায়োপিকে তিনি কাজ করতে চান। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ হবে বলেও মন্তব্য করেন নায়িকা।

কেন পরীমণির বায়োপিকে কাজ করতে চান সেটিও তিনি জানান। তার কথায়, কোনও একটি অনুষ্ঠানে পরীমণি জানিয়েছেন তার বায়োপিকে তিনি নিজেই অভিনয় করবেন। কারণ অন্য কেউ পারবে না। সে চ্যালেঞ্জ থেকেই দীঘি কাজটি করতে আগ্রহী।

দীঘির ভাষ্য, ‘আমার মনে হয় তার (পরীমণি) বায়োপিক যদি হয় তাহলে এটি দারুণ একটি এন্টারটেইমেন্ট বায়োপিক হবে।’

নায়িকা হিসেবে দীঘির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো-‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’, ‘তুমি আছো তুমি নেই’ ও ‘শ্রাবণ জ্যোৎস্নায়’। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত ‘বিদায়’ সিনেমাটি। এটি পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান হৃদয়।

আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৩ পূর্বাহ্ণ
আরব আমিরাত ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ নারীদের এশিয়া কাপে বাঁচা মরার ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে ১০৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে । তবে এদিন শুরুতেই বাংলাদেশকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তুলনামূলক খর্ব শক্তির দল।

বিশেষ করে আগে ব্যাট করতে নেমে চাপে থাকা বাংলাদেশ যখন ৫৫ রানের মধ্যেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে। তবে শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তার ৩১ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে ভর করে লড়াই করার মতো পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের।

টাইগ্রেস ওপেনার দিলারা আক্তার রানের খাতা খোলার আগে প্রথম ওভারেই বিদায় নিয়েছেন। ৩ বলে ০ রান করেন দিলারা। তিনে নেমে ব্যর্থ ছিলেন সোবহানা মোস্তারীও। ৬ বলে ৩ রান করেছেন তিনি। টিকে থাকা ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস কিছুটা চেষ্টা চালিয়েছেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে মাত্র ২১ রান তোলে বাংলাদেশ।

পাওয়ারপ্লে শেষে ২০ বলে ১৬ রান করে সাজঘরে ফিরে গেছেন জুয়াইরিয়া। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি থেমেছেন ২৮ বলে ২৩ রান করে। স্বর্ণা আক্তার এবং ফাহিমা খাতুন মেরেছেন গোল্ডেন ডাক। আউট হন পরপর দুই বলে। মাত্র ৫ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।

শেষ দিকে শারমিন আক্তার সুপ্তা ঝড় তোলেন। ৩১ বলে ৩৮ রানের ক্যামিও খেলেন শারমিন। তাতেই একশ পার করার রসদ পায় বাংলাদেশ। এছাড়া নাহিদা আক্তার ২৬ বলে ১৬ রান করে টিকে ছিলেন। ৪ বলে ৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন রাবেয়া খান। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রানের পুঁজি দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

 

পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
পাকিস্তান অধিনায়কের দ্বিতীয় অপরাধে আইসিসির শাস্তি

আইসিসি পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানাকে জরিমানা করেছে এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে। ফাতিমা আইসিসির খেলোয়াড় এবং সহযোগী স্টাফদের আচরণবিধির ২ দশমিক ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন বলে প্রমাণিত হয়। এতে পাকিস্তানি এই অধিনায়ককে ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি, ফাতিমার শৃঙ্খলা রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়েছে। ২৪ মাসের মধ্যে এটি ছিল তার দ্বিতীয় অপরাধ, যার ফলে এই ২৪ মাসের সময়সীমার মধ্যে তার মোট ডিমেরিট পয়েন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইয়ে। ফাতিমা তার আগের ডিমেরিট পয়েন্টটি পেয়েছিলেন ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ চলাকালীন।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে, যখন ফাতিমা ওপেনার শেফালি বর্মাকে আউট করার পর প্যাভিলিয়নের দিকে ইশারা (অঙ্গভঙ্গি) করেছিলেন।

ফাতিমা নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এবং এমিরেটস আইসিসি ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অব ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানী দাসের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন, যার ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। অন-ফিল্ড আম্পায়ার নিমালি পেরেরা ও সাথিরা জাকির জেসী, তৃতীয় আম্পায়ার রোকেয়া সুলতানা এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাবাব আহসান এই অভিযোগটি আনেন।