শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গাবুরায় সকারফাইট ফুটবলে গাইনবাড়ী গোল্ডেন বয়েজ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
গাবুরায় সকারফাইট ফুটবলে গাইনবাড়ী গোল্ডেন বয়েজ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার গাবুরায় জমজমাট আয়োজনে সকারফাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট সিজন-৪-এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে গাবুরা গোপাললক্ষী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই ফাইনালে পাতাখালী সোনার তরী একতা যুব সংঘকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে গাইনবাড়ী গোল্ডেন বয়েজ ক্লাব।

গাইনবাড়ী গোল্ডেন বয়েজ ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন আক্তার হোসেন। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য একই দলের সুমন ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।

গাইনবাড়ী গোল্ডেন বয়েজ ক্লাবের সভাপতি ফয়সাল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১২ নম্বর গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাছুদুল আলম।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব খায়রুল ইসলাম মিলন, উপকূলীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম এ হালিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জি এম ইমাম হাসান, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খান হাবিবুল্লাহ বাহার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহসভাপতি শাহিনুর রহমান শাহীন, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এস এম দিদারুল ইসলাম এবং সাউদার্ন চ্যারিটি যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. হাবিবুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। খেলা দেখতে মাঠে ফুটবলপ্রেমীদের ঢল নামে। খেলা শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ বাল্যবিয়েকে ‘লাল কার্ড’: দেবহাটার আলো ছড়াক সর্বত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বাল্যবিয়েকে ‘লাল কার্ড’: দেবহাটার আলো ছড়াক সর্বত্র

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার দেবহাটায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কিশোরী ও অভিভাবক সমাবেশের চিত্রটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ভাবনার জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ‘আর নয় বাল্যবিয়ে, এগিয়ে যাব স্বপ্ন নিয়ে’Ñএই দৃঢ় অঙ্গীকারকে পাথেয় করে সখীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যখন কিশোরীরা বাল্যবিবাহকে সামাজিক ও সামাজিকভাবে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছে, তখন তা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছে আত্মনির্ভরশীলতার এক প্রদীপ্ত ঘোষণা। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পরিচালিত ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় সঞ্চয়ের বিপরীতে শিক্ষা-স্বাস্থ্য উপকরণ ও প্রণোদনার চেক হস্তান্তরের এই উদ্যোগ প্রান্তিক সমাজে নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় জেলাগুলোতে বাল্যবিয়ের ঝুঁকি ঐতিহাসিকভাবেই বেশি। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক অসংরক্ষিত পরিবেশ এবং দারিদ্র্যের কারণে বহু পরিবার কন্যাশিশুকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার তাগিদ অনুভব করে। এই বাস্তবতা বদলাতে প্রথাগত প্রশাসনিক তৎপরতা বা আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রেষণা ও অর্থনৈতিক প্রণোদনা যে কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে, দেবহাটার ঘটনাটি তারই প্রমাণ। প্রকল্পের অধীনে কিশোরীদের ২০০ টাকা সঞ্চয়ের বিপরীতে সরকারের ৪০০ টাকা অনুদানের যে কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, তা কেবল একটি আর্থিক সহায়তা নয়; এটি তাদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং আত্মপরিচয় গড়ার জোরালো প্রেরণা। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের হাত ধরে জমাকৃত সঞ্চয় ও প্রণোদনার অর্থ তুলে দেওয়ার ঘটনাটি স্পষ্ট করে যে, একটু সচেতনতা ও আর্থিক অনুঘটক থাকলে অভিভাবকেরাও কন্যাশিশুকে বিয়ের পিঁড়িতে না বসিয়ে শিক্ষাঙ্গনে ধরে রাখতে আগ্রহী হন।

দেবহাটার দুটি বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক কিশোরী যে একযোগে বাল্যবিয়ে না করার শপথ নিয়েছে, তা তাদের মানসিক ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ নির্দেশ করে। তবে এটি কেবল শুরু। বাল্যবিয়ে রুখতে হলে প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা, মেয়েদের সুরক্ষা, স্থানীয় পর্যায়ে ঝরে পড়া রোধ এবং কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।

প্রশাসনিক কঠোরতা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের এই মডেলটি যদি জেলার প্রতিটি প্রান্তিক ইউনিয়ন এবং সারা দেশে সম্প্রসারিত করা যায়, তবেই বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে স্থায়ী মুক্তি সম্ভব। সখীপুরের কিশোরীদের এই লাল কার্ড যেন কেবল প্রতীকী না থেকে সমাজ পরিবর্তনের এক অপ্রতিরোধ্য হাতিয়ারে পরিণত হয়Ñসেজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রতিনিধি ও সর্বস্তরের নাগরিক সমাজকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যেতে হবে।

 

রঙের আগে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
রঙের আগে মানুষ

 

ইরফানুল আহছান জীম
জন্মের পর প্রথম কান্নাটুকুতে
কেউ জিজ্ঞেস করেনি-
“শিশুটির গায়ের রং কেমন?”
তখন সে শুধু মানুষ,
মায়ের বুকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সন্তান।
কিন্তু একটু একটু করে বড় হতে হতে
শুনতে পায়-
“ও তো বেশ কালো!”
“রোদে এত ঘোরো কেন?”
“একটু ফর্সা হলে দেখতে ভালো লাগত!”
শব্দগুলো তখনও ছোট,
কিন্তু শিশুটির মনে
দাগগুলো বড় হতে থাকে।
স্কুলের অনুষ্ঠানে
ফর্সা মেয়েটি সামনে দাঁড়ায়,
কালো মেয়েটিকে কেউ বলে-
“তুমি একটু পেছনে দাঁড়াও।”
খেলার মাঠে সে-ও দৌড়ায়,
স্বপ্ন দেখে, হাসে, কাঁদে-
তবু তার পরিচয়ের আগে
কেন যেন তার গায়ের রংটাই আসে?
বয়স বাড়ে,
স্বপ্নও বড় হয়।
কেউ মঞ্চে উঠতে চায়,
কেউ নাটকে অভিনয় করতে চায়,
কেউ সিনেমার পর্দায় নিজের মুখ দেখতে চায়,
কেউ মডেলিংয়ের আলোয় দাঁড়িয়ে
নিজের গল্প বলতে চায়।
কিন্তু অডিশনের দরজায়
কখনো কখনো প্রতিভার আগে
আয়নায় খোঁজা হয় রং।
চোখের ভাষার আগে
ত্বকের ছায়া মাপা হয়।
অভিনয়ের আগে
মুখের উজ্জ্বলতা নিয়ে কথা হয়।
যেন চরিত্রের প্রয়োজন নেই,
প্রয়োজন শুধু একটি নির্দিষ্ট রং!
তারপর একদিন
বিয়ের প্রস্তাব আসে।
ঘরে চায়ের কাপ সাজে,
মিষ্টির প্লেট আসে,
দুই পরিবার মুখোমুখি বসে।
কেউ জিজ্ঞেস করেÑ
“মেয়েটা কী পড়েছে?”
“কী করতে ভালোবাসে?”
“মানুষ হিসেবে কেমন?”
কিন্তু সব প্রশ্নের আগেই
কারও চোখ গিয়ে থামে তার মুখেÑ
তারপর ফিসফিস করে ওঠে,
“রংটা একটু চাপা না?”
একটি মানুষের
শিক্ষা, স্বপ্ন, সততা, মায়া,
হাসি, হৃদয়Ñ
সবকিছু যেন মুহূর্তেই হারিয়ে যায়
দুটি শব্দের কাছেÑ
“গায়ের রং।”
কী অদ্ভুত এই পৃথিবী!
যে রং নিয়ে এত অহংকার,
সে রং তো আমরা নিজেরা বেছে নেয়নি।
যে রং নিয়ে কাউকে ছোট করি,
সেই রঙও তো আমাদের হাতে আঁকা নয়।
তবু মানুষ মানুষকে মাপে
ত্বকের রঙ দিয়ে;
কেউ সুন্দর হয় বিজ্ঞাপনের ভাষায়,
কেউ সুন্দর হয় আয়নার বিচারে,
আর কেউ সারাজীবন
নিজের স্বাভাবিক রংটাকে
অপরাধ ভেবে বয়ে বেড়ায়।
অথচ-
একদিন সবাইকে যেতে হবে
একটি অন্ধকার ঘরে।
সেখানে কোনো ক্যামেরা থাকবে না,
মডেলিংয়ের র‌্যাম্প থাকবে না,
সিনেমার পর্দা থাকবে না,
বিয়ের আসর থাকবে না,
কেউ দাঁড়িয়ে বলবে নাÑ
“এই মানুষটি ফর্সা,
ওই মানুষটি কালো।”
সেখানে
সবাই একই মাটির নিচে,
একই নীরবতায়।
যে মুখের রং নিয়ে
পৃথিবীতে এত বিচার হয়েছিল,
মাটির নিচে সে মুখও
একদিন মিশে যাবে মাটির সঙ্গে।
সেদিন কেউ জিজ্ঞেস করবে নাÑ
“গায়ের রং কী ছিল?”
হিসাব হবে অন্য কিছুরÑ
কতটা মানুষ ছিলে,
কতটা ভালো ছিলে,
কতটি হৃদয় ভাঙোনি,
কতটি চোখের জল মুছেছিলে,
কতটা ন্যায় নিয়ে বেঁচেছিলে।
তাই, মানুষকে রঙে নয়Ñ
মানুষ হিসেবে দেখো।
কারণ আয়নার সামনে
গায়ের রং হয়তো পরিচয় হতে পারে,
কিন্তু জীবনের শেষে
পরিচয় হবে শুধু একটাইÑ
সে একজন মানুষ ছিল।

পথের কোলে তাহাদের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
পথের কোলে তাহাদের মৃত্যু

 

সুজন হোসেন
তোমাদের পিতার ছায়া মিলিয়াছে, মিলিতেছে আজও;
তবে যাহার পিতার অস্তিত্ব নাই এই পৃথিবীতে আর?
তাহাদের তরে কি শুধুই মৃত্যু আসে দিনরাত্রে?
তাহাদের শেষ আলিঙ্গন শুধু মৃত্যু পক্ষ থেকেই আসে।

তোমাদের দেওয়া গালি হইয়াছে সমাজের কাছে দোয়া,
আর তাহাদের করা প্রার্থনাও মনে হয় যেন অশ্লীল গালমন্দ!
বদলাতে দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের,মোদের ডাকিতে হইবে মিছিল;
অত্যাচারীর মতো নির্বাসন দিতে হইবে বিবেককেও,
হত্যা করিতে হইবে পৃথিবীর যত গোলাপের কাঁটা।
ওডিসিয়াস ঘরে ফিরিল তাহার, আপন মাতার কোলে শুইয়া;
তবে যাহাদের নাই মাতা, তাহাদের কোন কোল আছে ধরায়?

ধনিকের গালমন্দগুলো মোদের কাছে লাগে দোয়ার মতন,
তবে তাহাদের আওয়াজেই যেনো রহিয়াছে বড় অভিশাপ।
তোমাদের পিতা যবে আনিয়াছিল পুতুল, খেলিয়ারে তাহা লয়ে;
যবে তোমরা খেলো, পুতুলের বিবাহ দাও আরেকটির লগে,
তখন তাহারা ফুটপাতে তোমার পিতার কাছে বেচে আরেকটা পুতুল।
রাত্রি যবে গভীর হয়, পৃথিবী যবে হইয়া যায় নীরব দর্শক;
যবে রাত্রি দখলে যায় হুতুম পেঁচা আর কোনো অশরীরীর,
তোমাদের শহর যখন নীরবতার দখলেÑতখন তাহারা জাগিয়া রয়
ক্ষুধার পীড়নে! অবিক্রীত রহিয়াছে পুতুল আর হাতের মমত্ববোধ।
ভালোবাসা আর বেচা হইল না এ সভ্য সমাজের শহরে তাহার;
যখন তোমরা ঘুমে,বিভোর হইয়াছ অপার্থিব এক কামে, তখনও
তাদের চলাচলÑচলিতেছে অবিরত নৈশভোজের সংস্থান অন্বেষণ।
তাদের চক্ষে ঘুম নাই, তাদের সুখ নাই, সময় নাই;
জীবন নাই, আত্মহত্যা করিয়া মরিবার মতো মরণও নসিবে নাই।

তবে তাহাদের রহিয়াছে আত্মসম্মান অঢেল, হিমালয় সম!
কাটিয়া যাইবে গলা, তবু তাহাদের চক্ষু রহিবে আকাশ পানে চাহিয়া;
কোটরচ্যুত হইবে দু-চক্ষু, তবে দেখা যাইবে না সে চক্ষে সামান্য ভয়।
তাদের দৃষ্টি ফুঁড়িয়া যায় মহাকাশ, ছিঁড়িয়া ফেলে কবির হৃৎপি-!
কাটিয়া যাইবে হস্তযুগল,তবু ভিক্ষাবৃত্তিতে নামিতে নারাজ একেবারই;
কাটিবে মস্তক, তবু আত্মমর্যাদা ক্ষুণœ হইবে না সামান্যতম।
তাহাদের সম্মানে ধনিক শ্রেণীর উপর দেখাই আমি মধ্যমাঙ্গুলি!

তাহাদের সংগ্রাম বীরশ্রেষ্ঠ অপেক্ষাও কোনো অংশে কম নহে;
তাদের জীবন ত্যাগ কোনো যুদ্ধে লাঞ্ছিতার চেয়ে কম নহে।
তাহাদের আত্মসম্মান আমার প্রেমিকার অপেক্ষাও অধিক;
তাহার কর্মস্পৃহা কোনো যন্ত্রমানবের অপেক্ষাও উন্নততর।