গুড়পুকুর মেলা: কেনাবেচায় ভাটা, সময় বাড়ানোর আকুতি
মিলন বিশ্বাস: শরতের মেঘমুক্ত নীলাকাশ আর কাশের শুভ্রতার মাঝে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা ঘিরে শুরু হয়েছিল উৎসবের আমেজ। দুই বছর পর ফিরে পাওয়া এ মেলার তৃতীয় দিন ৩ অক্টোবর শনিবার কেনাবেচায় কিছুটা ঢিল লক্ষ্য করা গেছে। তবে আশ্বিনের হালকা বাতাসে মেলার আঙিনায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কোনো খামতি ছিল না।
বিকেল গড়াতেই শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে জমে ওঠে প্রাণের মেলা। চুড়ি, গয়না, রঙিন প্রসাধন, থ্রি-পিস ও নানা বাহারি তৈজসপত্রের স্টলে মেতে ওঠেন কেনাকাটায় আগ্রহী রূপসীরা। বাদ পড়েনি খাবারের দোকানগুলোও। ঢাকার জুরাইন থেকে আসা কসমেটিকস ব্যবসায়ী নেয়াজুল শেখ জানান, ছুটির দিন শুক্রবারে বিক্রির পারদ যতখানি উঁচুতে ছিল, শনিবার তা কিছুটা নেমে আসে। একই সুর শোনা গেল যশোর থেকে আসা কুকারিজ ও থ্রি-পিসের বিক্রেতাদের কণ্ঠেও।
তবে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মূল কারণ মেলার নির্দিষ্ট সময়সীমা। রাত ৮টা বাজতেই মেলা প্রাঙ্গণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্টল মালিকেরা। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতারা প্রতিদিনের দোকান ভাড়া ও কর্মীদের খরচ সামলাতে মেলার সময়সীমা অন্তত এক ঘণ্টা বাড়ানোর আকুল দাবি জানান।
এ বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য হাসান শিকদার জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনেই সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মেলা সচল রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের আনন্দঘন আমেজ অন্যরকম আবহ তৈরি করেছে। দুই বছর পর স্বামীকে নিয়ে মেলায় কেনাকাটা করতে আসা সুরাইয়া ইয়াসমিন শোনালেন শৈশবের স্মৃতিঘেরা দিনগুলোর কথা। গুড়পুকুরের ঐতিহ্য যেন শরতের আবহাওয়ার মতোই রঙিন হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সবার মনে। গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক এই গুড়পুকুর মেলা আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।






