শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

গ্রন্থ আলোচনা/ সাদা-কালো: হৃদয়ে রক্তক্ষরণের অনন্য বয়ান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
গ্রন্থ আলোচনা/ সাদা-কালো: হৃদয়ে রক্তক্ষরণের অনন্য বয়ান

রফিকুর রশীদ
সাদা-কালো।
উপন্যাসের নাম। লেখক ফেরদৌস হাসান। নাটকের মানুষ। সিনেমারও। আবার উপন্যাসেও দুর্দান্ত শক্তিমান। বছরে বছরে একটি করে জীবনঘষা আগুনের স্পর্শমাখা উপন্যাস আমরা পাই তাঁর কাছ থেকে। এবারেরটি সাদা-কালো। যথার্থই সাদা-কালো। কৃত্রিম রঙের কোনো ছোঁয়া নেই। পাঠকের চিন্তা বা দৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করে গোলকধাঁধায় ফেলার কোনো চেষ্টা নেই। যা দেখেছেন, তা-ই বিশ্বস্তার সঙ্গে এঁকেছেন। তবু সেটা ফটোগ্রাফি নয়, আবার ইতিহাস লেখাও নয়; হয়েছে শিল্প। লেখকের উদ্দিষ্ট লক্ষ শিল্পের সুউচ্চ এবং আধুনিক মাধ্যম উপন্যাস রচনা করা। সেই কাজটি তিনি অতিশয় নিপুণ হাতে করেছেন সাদা-কালোতে। সময়কে পাঠ করার এবং মানুষকে বুকের ভেতরে ধারণ করার সংবেদনশীল এবং প্রখর দৃষ্টিভঙ্গি লেখকের আছে। মস্তিষ্কশাসিত নয়, শিল্পের প্রায় সব শাখার শ্রেষ্ঠ যা কিছু আমরা পেয়েছি, নিঃসন্দেহে তা মানবহৃদয়ের জারকরসে জারিত হয়ে এসেছে বলেই শ্রেষ্ঠ। হৃদয়শাসিত সাহিত্যই জয়ের পতাকা উড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক অর্জন করে। ফেরদৌস হাসানের সাদা-কালো তেমনই ব্যঞ্জনাময় একটি উপন্যাস।
গল্প-উপন্যাস কিংবা নাটকের একটি কালপরিধি বা টাইমফ্রেম থাকে। সাদা-কালো উপন্যাসের জন্য লেখক এমন একটি ধোঁয়াশামাখা সময়কে ধরেছেন, যে সময়টা একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ছিল বিপুল সম্ভাবনাময়, আবার অপরিমেয় দুঃখ দারিদ্র্য দুর্নীতি ও হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত সময়। সম্ভাবনার এত বড় এত করুণ অপচয় বোধ করি আর কখনো হয়নি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ তো সহসা একদিনের বাঁশি বাজানোর ফসল নয়, বাঙালির বহু বছরের সংগ্রামে সাধনায় রচিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিত, ফলে বহুকালের বঞ্চিত বাঙালি স্বপ্নও দেখেছে অনেক বড় করে। যুদ্ধোত্তর সময়ে বাঙালি শক্তি সাহস শৌর্য এবং উদ্যমকে নতুন রাষ্ট্র যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি বলেই বাঙালির বহুযুগের স্বপ্ন চোরাবালিতে তলিয়ে গেছে। একদিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও স্বপ্নভঙ্গের কারণে হতাশ যুবসমাজ, অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা এবং বিরোধিতাকারী বিভ্রান্ত রাজনীতির মধ্যে বেড়ে ওঠা সশস্ত্র যুবশক্তি রাষ্ট্রীয় নিষ্পেষণের ফলে একই সমতলে এসে দাঁড়ায়। সেই সময়ে গণপ্রত্যাশার অনুকূলে তারা অবস্থান গ্রহণ করে। ‘সাদা-কালো’ উপন্যাসের ভূগোল রচিত হয়েছে যে এলাকার প্রেক্ষাপটে সেখানকার কৃষিজীবী মানুষ তখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলছে খেতের কুশার ( আঁখ) সরকার নির্ধারিত অন্যায্য মূল্যে চিনিকলের কাছে বিক্রি করা না করার প্রশ্নে। এ উপন্যাসের নায়ক রবি ততোটা রাজনীতিসক্রিয় না হয়েও তার দুলাভাই কাজল মাস্টারের কারণে এ আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়েছে। সত্যিকারের কথায় বাংলাদেশে নীল-আন্দোলন, চা-আন্দোলন, তামাক-আন্দোলনের মতোই কুশার-আন্দোলনও হয়েছে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে, কিন্তু এমন প্রেক্ষাপট নিয়ে উপন্যাস কিংবা নাটকের সম্ভাবনা থাকলেও শক্তিমান কোনো লেখক এগিয়ে আসেননি, এ ক্ষেত্রে ফেরদৌস হাসানের সাদা-কালো স্মারক মর্যাদা পেতেই পারে। হতে পারে পথিকৃৎ সূচকও। উপন্যাসের সূচনা হয়েছে রাজশাহীর আড়ানী অঞ্চলের কুশার-আন্দোলনকে ঘিরেই। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরো সব শাখাপ্রশাখাবিস্তারী ঘটনাবলী লেখক সাদা চোখে দেখেছেন এবং কোনো রঙের আড়াল তৈরী না করে সাদা-কালো ভঙ্গিতেই তা উপস্থাপন করেছেন এই অসামান্য উপন্যাসে।
এ উপন্যাসের চরিত্র চিত্রণের ক্ষেত্রে অসামান্য মুন্সিআনার পরিচয় দিয়েছেন লেখক। কাজল মাস্টার নয়ক নয়, উপন্যাসের খুব অল্প জায়গা জুড়ে তার অবস্থান, তবু এত বড় উপন্যাসের চৌম্বকশক্তির কেন্দ্রে তার শারীরিক উপস্থিতি না থাকলেও আদর্শিক উপস্থিতি এমনই অনতিক্রম্য যে তার শ্যালক রবি রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হওয়া সত্ত্বেও শেষপর্যন্ত কাজল মাস্টারের আদর্শের অনুগামী থেকেছে। ঘটনাচক্রে রবি নানান জটিল কুটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কাজল মাস্টারের ভক্ত নার্স নীরার সহানুভূতি লাভ করে, অযাচিত ভালোবাসা পায়। সরকারি বাহিনীর সম্ভাব্য রোষানল থেকে বাঁচাতে নীরাই প্রচ- ঝুঁকি নিয়ে তাকে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। সে বৈরী পরিবেশ থেকে নিজেকে আড়াল করতে গিয়ে আটকা পড়ে যায় মিন্টু চৌধুরীর মতো ধুরন্ধর দুর্বৃত্তের ফাঁদে। সেখানেও তার জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দেয় তার আরাধ্য স্বপ্নের রানি স্বপ্না। মুক্তিযুদ্ধে সে তার বাবাকে হারিয়েছে, সর্বোপরি পাকিস্তানি সৈন্যের পাশবিক নির্যাতনে সম্ভ্রম হারিয়ে সে প্রিন্সেস রতœা হয়ে যাত্রাপালায় নিজেকে আড়াল করেছে। পিতৃপরিচয়হীন তার গর্ভজাত সন্তানের জন্য তার বুকের ভেতরে মাতৃত্বের যে হাহাকার গুমরে মরে, সেই ছবি লেখক এঁকেছেন অপরিসীম মমতায়। সেই সন্তানের জন্য নিজেকেই সে উৎসর্গ করতে উদ্যত হয়েছে। সে বীরাঙ্গনা হয়েও কোথাও কোনো মর্যাদা পায়নি। রবিকে সে ভালোবাসে, খুবই ভালোবাসে, তবু সুস্থ স্বাভাবিক গার্হস্হ জীবন দাবি করতে পারে না। রবি নিজে মুখে জানিয়েছে সে তাকে ভালোবাসে, তবু যেন ভরসা হয় না। তাদের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন। তবু কত অবলীলায় সে বলতে পারে, ‘ ভগবান যদি একজনই হন, তাহলে আমি আলাদা কীভাবে? ‘
আহা, বুক ভরা এত প্রেম, তবু দিনশেষে এ উপন্যাসে আমরা এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখে চমকে উঠি — রবির হাতেই ছবিকে আত্মাহূতি দিতে হয়েছে। মানবহৃদয়ের দৃশ্যাতীত রক্তক্ষরণের চিত্র সাদা-কালো উপন্যাসটিকে শেষপর্যন্ত প্রেমের উপন্যাসই করে তুলেছে।
উপন্যাসের শুরুতেই আমরা জেনেছি কাজল মাস্টারের স্ত্রী তাপসী গর্ভবতী। প্রথম পোয়াতি বলেই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সে স্বামীর কানে সুসংবাদটি জানাতে পারেনি, কিন্তু এই মাতৃত্বে সে প্রবল অহংকার বোধ করে। মনে পড়ে যায়-সমরেশ মজুমদারের ‘গর্ভবতী’ উপন্যাসের নায়িকা জয়িতা সন্তানের আদলে তার গর্ভে ধারণ করেছিল সম্ভাব্য বিপ্লবকে। ভাবনা হয় তাপসীও কি তার গর্ভে কাজল মাস্টারের আদর্শকেই মাতৃস্নেহে লালন করে চলে? স্বামীর অবর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় জোটেনি তার, কাজল মাস্টারের অনুসারী গ্রামবাসী তাকে পরম যতেœ ও মমতায় তাকে আশ্রয় দিয়েছে ; সে কি কাজল মাস্টারের আদর্শের প্রতি শুধুই শ্রদ্ধা দেখানোর জন্য, নাকি সেই আদর্শ সবাই মিলে লালন করার জন্য? উপন্যাসের অন্যতম এক উজ্জ্বল নারী চরিত্র রবি এবং তাপসীর মায়ের মা জোহরা। এই মাতৃচরিত্রটিতেও যেনবা শেষপর্যন্ত আদর্শিক উত্তরণ ঘটে, তাই তো সর্বহারাদের প্রবল চাপের মুখেও সে অসম্ভব দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে পারে।
ফেরদৌস হাসানের উপন্যাসের সব চেয়ে বড় ঐশ্বর্য হচ্ছে তাঁর নিজস্ব ভাষাভঙ্গি। ছোট ছোটো বাক্যে কী যে স্বাদু গদ্য তিনি নির্মাণ করেন, আমাদের অনেকের কাছেই তা ঈর্ষণীয়। দীর্ঘকাল নাটকের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি সংলাপ রচনায় অর্জন করেছেন জাদুকরী দক্ষতা। গতিময় এই গদ্যরীতি কথাসাহিত্যিক ফেরদৌস হাসানকে বাংলা কথাসাহিত্যে স্থায়ী আসন এনে দেবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। পাঠকসমাজ এরই মাঝে তাঁকে সেই মর্যাদা দিয়েছে শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়।

Ads small one

ভক্তদের কৌতূহল: সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
ভক্তদের কৌতূহল: সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি

অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির নীল জলরাশি, বিস্তীর্ণ বালুচর আর সমুদ্রের নির্মল বাতাস- কক্সবাজারের এমন মনোরম পরিবেশে হঠাৎই দেখা মিলল । সমুদ্র সৈকত থেকে নিজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবে নিছক ঘুরতে নয়, শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দুটি ছবি শেয়ার করেন দীঘি। ছবিতে সমুদ্রের পাড়ে স্বাভাবিক ও ছিমছাম সাজে দেখা গেছে তাকে। সাগরের নীল জল আর বালুচরের আবহে অভিনেত্রীর নতুন লুকও নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। ছবির ক্যাপশনে দীঘি লিখেছেন, ‘আমি এসেছি সাগর পাড়ে ‘গো প্লান’-এর সাথে।’ এরপর থেকেই তার কক্সবাজার সফরের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। কমেন্ট বক্সে অনেকেই অভিনেত্রীর প্রশংসা করার পাশাপাশি জানতে চেয়েছেন, সেখানে নতুন কোনো কাজের শুটিং করছেন কি না।

দীঘি অবশ্য বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাইছেন না। জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন প্রজেক্টের জন্য সেখানে গেছেন, সেটি আপাতত গোপনই রাখছেন অভিনেত্রী। নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীঘি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সময় হলে জানতে পারবেন।’ ফলে তার নতুন কাজটি সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রজেক্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও শেয়ার করেন দীঘি। এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপাড় থেকে প্রকাশ করা ছবিগুলোও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। ছবির পাশাপাশি নতুন কাজের রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আগ্রহ।

শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন দীঘি। ছোটবেলায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এখন নতুন এই কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে কী চমক নিয়ে হাজির হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

 

ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

বিপিএল স্থগিত হওয়ায় দেশের ক্রিকেটারদের আয়ে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এক লাফে বড় অঙ্কে বাড়ানো হলো ম্যাচ ফি। তবে বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালের দাবি, এটি শুধু বিপিএল না হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার সাময়িক উদ্যোগ নয়; বরং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আয় দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এ ঘোষণা দেন।

নতুন ম্যাচ ফি কাঠামো অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটাররা এখন প্রতিটি প্রথম-শ্রেণির ম্যাচের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ৭০ হাজার টাকা। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তামিম নিজেই এই ফি বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন।

‘লিস্ট এ’ ম্যাচের ফি-ও দ্বিগুণ করা হয়েছে। এখন খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচের জন্য ১ লাখ টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নারীদের চার দিনের ম্যাচের ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একদিনের ম্যাচের ক্ষেত্রে তা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

তামিম ইকবাল বলেন, খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এক দুটি প্রস্তাব এসেছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা আসলে আমি এটাকে দুটি পক্ষ হিসেবে দেখি না। পক্ষ একটাই, আমরা সবাই এক। ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড, পরিচালক, সভাপতি সবাই আমরা এক।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিপিএলে সব মিলিয়ে ৫০, ৬০, ৬৫ বা ৭০ জন স্থানীয় ক্রিকেটার খেলবেন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যদি তাকান ফার্স্ট-ক্লাস, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এখন ঢাকা লিগ থেকে তারা দুই-তিন বছর আগে যে আয় করতেন, তা হয়তো কমে গেছে। তার ওপর, এ বছর বিপিএল অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর ফলে আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, আমি কখনোই খেলোয়াড়দের জন্য কেবল এক বছরের কোনো সমাধান চাইনি। আমি এমন একটি সমাধান চেয়েছিলাম, যা ক্রিকেটাররা বছরের পর বছর উপকূত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের ফলে ক্রিকেটাররা কেবল বিসিবি-র টুর্নামেন্ট খেলেই আর্থিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারবেন, কারণ তারা মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করবেন।

সাবেক এই ক্রিকেটার মতে, সবকিছুর খরচই ১০০ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছে। আর এর সুফল কী? সেটাই আসল প্রশ্ন। এখন একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার যদি পুরো মৌসুম খেলেন, তবে বেতনসহ আমার হিসাব যদি ভুল না হয় তারা বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করবেন। এটাকে ১২ দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায়, একজন খেলোয়াড়ের মাসিক আয় ৩ লাখ টাকারও বেশি হবে। পরিবার চালানোর জন্য তাদের আর কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না বলেই আমার মনে হয়। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, এখন তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পেশাদারিত্ব আশা করছেন।

প্রীতি জিনতা প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা শুটিং করেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
প্রীতি জিনতা প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা শুটিং করেন

ভারতীয় চলচ্চিত্র বলিউডে দীর্ঘ শিফটে কাজ করা নিয়ে একের পর এক বিতর্ক চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। এ নিয়ে দীপিকা পাড়ুকোনসহ বেশ কয়েকজন তারকা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। এই বিতর্কের মধ্যেই বলিউডের ‘ডিম্পল গার্ল’ প্রীতি জিনতা টানা দীর্ঘ সময় শুটিং করে আলোচনায় এসেছেন।

সম্প্রতি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমা দিয়ে প্রায় এক দশকের বিরতি ভাঙেন বলিউডে এক সময়ের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। এবার তাকে দেখা যাবে কুনাল খেমুর পরিচালনায় ‘ভাইব’ সিনেমায়। সিনেমাটির শুটিং করতে গিয়ে প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টার মতো কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই। ২ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে ভাইব’র জমকালো ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠান হয়।

এ সময় বলিউডে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে কথা বলেন প্রীতি। সেখানে তিনি জানান, শুটিং দ্রুত শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের কাছে ফিরতেই প্রতিদিন লম্বা সময় কাজ করেছেন। প্রীতি জিনতার ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইব’র শুটিংয়ের সময় প্রতিদিনই দীর্ঘ শিফটে কাজ করতে হয়েছে। তবে এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। অভিনেত্রী জানান, তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতে এসেছিলেন।

তাই যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের কাছে ফিরতে চেয়েছিলেন। বলিউডে অভিনেতাদের কর্মঘণ্টা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত বছর দীপিকা পাড়ুকোনের ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে সরে যাওয়ার খবরের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এমনকি তিনি ‘কালকি’র মতো বড় সিনেমায় বাদ দেন। দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার শর্ত নিয়ে নির্মাতাদের সঙ্গে তার মতবিরোধের খবর প্রকাশ পেয়েছিল।

ভাইব সিনেমাটিতে প্রীতি জিনতার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ‘লাপাত্তা লেডিজ’ খ্যাত স্পর্শ শ্রীবাস্তব, বংশিকা ধীর, যশপাল শর্মা ও দিনেশ লাল যাদব। ড্রঙ্গো ফিল্মসের ব্যানারে কুনাল খেমু ও চিরাগ নিহালানি প্রযোজিত সিনেমাটি অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওসের।