বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে

যানজট যেন রাজধানীবাসীর নিত্যদিনের অবধারিত সঙ্গী। বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পা রাখলে যানজটের মুখোমুখি হতে হবে না— এই দৃশ্য যেন ঢাকা শহরের মানুষের কাছে এক অলীক কল্পনা। তবে এবার সত্যিকার অর্থেই রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কগুলোকে সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত করতে এবং সিগন্যালের দীর্ঘ লাল-হলুদ-সবুজ বাতির অপেক্ষা দূর করতে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ নামের এই বিশেষ প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম বরাবর মোট ১০৫ কিলোমিটার সড়ককে সংযুক্ত করে একটি সমন্বিত এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এই রুটে কোনও ধরনের প্রথাগত ট্রাফিক সিগন্যাল থাকবে না; ফলে যানবাহন একবার এই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে কোনও বাধা বা থামা ছাড়াই সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এতে করে একদিকে যেমন বিপুল কর্মঘণ্টা বাঁচবে, অপরদিকে সাশ্রয় হবে কোটি কোটি টাকার জ্বালানি। রাজধানী ঘিরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে যা থাকছে

যানজট নিরসনে সরকারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে আসলে কী কী থাকছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। জানা গেছে, এই বিষয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিগন্যাল ম্যানেজমেন্ট মডেল টেকনিক্যাল সাবকমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বেশ কিছু সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।

স্বল্পমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ: প্রস্তাবিত ১০৫ কিলোমিটার ‘জিরো সিগন্যাল’ মূল সড়ক ছাড়া রাজধানীর বাকি সংযোগ সড়কগুলোতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক লাইট ও স্মার্ট সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। শহরের সার্বিক যানজট নিয়ন্ত্রণে দিনের বেলায় সব ধরনের কাভার্ডভ্যান ও ভারী ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

মধ্যমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ: ১০৫ কিলোমিটার রাস্তায় সংকেতবিহীন (জিরো সিগন্যাল) ব্যবস্থা স্থাপনে দ্রুত একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি টেস্ট) সম্পন্ন করা হবে। এর মাধ্যমে শহরের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন কানেকটিভিটি (সংযোগ) তৈরি করা হবে।

একটি মাত্র একক কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত ‘সিটি বাস সার্ভিস’ পরিচালনা করা হবে। এই ব্যবস্থার আওতায় আন্তঃজেলা বাসগুলোর রাজধানীতে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

সড়কের নির্দিষ্ট স্থানে আধুনিক বাস স্টপেজ স্থাপন করা হবে এবং কেবলমাত্র সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে— সিসিটিভির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ, রিকশা ও ধীরগতির যানবাহনকে স্থানীয় বা ফিডার সড়কেই সীমাবদ্ধ রাখা, পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু এবং পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী শক্তিশালী কর্তৃপক্ষ গঠন।

যানজট নিরসনে বদ্ধপরিকর প্রধানমন্ত্রী

সরকার গঠনের পর থেকেই রাজধানীর যানজট নিরসনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার (প্রায়োরিটি) দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “সরকার গঠনের পরপরই যানজট নিরসনের বিষয়ে নীতিগত কথা হয়েছে। কীভাবে দ্রুত রাজধানীর যানজট সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশেষ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিক উন্নয়ন, সড়কে পূর্ণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও যানজট কমাতে কী কী জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। রাজধানীর মানুষ যেন একটি যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন শহর দেখতে পারে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তারই অংশ এই মহাপরিকল্পনা।”

ইনোভেশন টিমের হিসাব অনুযায়ী, ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ মডেলে রাজধানীর পাঁচটি প্রধান সড়ককে ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করতে মোট ৩৭টি বিশেষ অবকাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এই ৩৭টি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে— ১৬টি ওভারপাস বা আন্ডারপাস, ১৩টি ‘ইউ-লুপ’ ওভারপাস, ৭টি ওভারপাস বা আন্ডারপাস ইন্টারচেঞ্জ সার্কেল ও ১টি বিশেষ ‘ইউথ ইউ-লুপ’ ইন্টারচেঞ্জ।

পুরো মডেলটি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নে চূড়ান্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৬৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ঢাকায় এই ‘সংকেতবিহীন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা মডেল’ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন (স্টেকহোল্ডার) একমত পোষণ করলেও, মূল কাজ শুরুর আগে একটি আন্তর্জাতিক মানের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা (ফিজিবিলিটি টেস্ট) করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পকে ইতিবাচক দেখছেন নগরবিদেরা

যানজট নিরসনে সরকারের এই ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নগর পরিকল্পনাবিদেরা। তাদের মতে, এই প্রকল্প যদি নকশা অনুযায়ী সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে রাজধানীর চেনা যানজট অনেকটাই হ্রাস পাবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন কোনও ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক ‘নয়ছয়’ না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান  বলেন, “রাজধানীর ট্রাফিক সমস্যাটা অনেক পুরোনো এবং এর বড় কারণ হলো কাঠামোগত ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা। এই জিরো সিগন্যাল প্রকল্প সঠিকভাবে মাঠপর্যায়ে নামানো গেলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার যে ঘাটতি বা লুপহোল রয়েছে, তা লাঘব পাবে এবং যানজট ক্রমান্বয়ে কমে আসবে।”

তিনি আরও একটি সফল উদাহরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, রাজধানীর যেসব নির্দিষ্ট পয়েন্টে ইতোমধ্যে আধুনিক এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তার সুফল কিন্তু দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এটি আমাদের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ইমপ্যাক্ট ফেলেছে। গাড়ি চালক এবং বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা এখন জরিমানার ভয়ে হলেও আইনকানুন মেনে চলছেন। এর সঙ্গে যদি এই আড়াই হাজার কোটি টাকার ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ যুক্ত করা যায়, তবে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব।”

Ads small one

ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কারওয়ান বাজার এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁর রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা।
এর আগে সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ রূপ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে মঙ্গলবার তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কারওয়ান বাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপ। বিকেলবেলা মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে আসামিদের ছোড়া গুলি তাঁর ডান চোখে লাগে। আন্দোলনকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কাঁঠালবাগানের একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রূপের বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ তেজগাঁও থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। বনে ‘বাঘের কেল্লা’ নির্মাণ ও ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকেরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এখনো উদ্বেগজনক।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং খালের নাব্য হ্রাসের ফলে মিঠাপানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে হরিণসহ তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা কমায় বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বনজীবী নুর ইসলাম ও হরিনগর এলাকার জেলে আকবর আলী জানান, আগের মতো বনে হরিণ বা বাঘের বিচরণ এখন আর দেখা যায় না। তা ছাড়া বনদস্যু ও চোরাশিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা ঘটছে। শিকারের কারণে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বাঘ মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা মানুষ-বাঘ সংঘাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাতক্ষীরা উপকূলে বাঘের আক্রমণে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কাঠুরে, জেলে ও মৌয়াল।

জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ বলেন, বাঘকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখলে হবে না। বাঘ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি। লবণাক্ততা বাড়া ও মিঠাপানির অভাবের পাশাপাশি মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বাঘের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই পরিবেশ ও স্থানীয়দের জীবিকাÑ সব মিলিয়েই সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনে ৬২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সুলজ কুমার দ্বীপ বলেন, “মিঠাপানির সংকট দূর করতে বনের ভেতরে কৃত্রিম পুকুর খনন করা হয়েছে। চোরাশিকার প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে বাঘের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১২৫টিতে পৌঁছেছে।”

 

 

 

 

 

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।