শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
ঢাকার যানজট কাটাতে আড়াই হাজার কোটির মেগা প্রকল্পে যা থাকছে

যানজট যেন রাজধানীবাসীর নিত্যদিনের অবধারিত সঙ্গী। বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় পা রাখলে যানজটের মুখোমুখি হতে হবে না— এই দৃশ্য যেন ঢাকা শহরের মানুষের কাছে এক অলীক কল্পনা। তবে এবার সত্যিকার অর্থেই রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়কগুলোকে সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত করতে এবং সিগন্যালের দীর্ঘ লাল-হলুদ-সবুজ বাতির অপেক্ষা দূর করতে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ নামের এই বিশেষ প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম বরাবর মোট ১০৫ কিলোমিটার সড়ককে সংযুক্ত করে একটি সমন্বিত এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। এই রুটে কোনও ধরনের প্রথাগত ট্রাফিক সিগন্যাল থাকবে না; ফলে যানবাহন একবার এই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করলে কোনও বাধা বা থামা ছাড়াই সরাসরি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এতে করে একদিকে যেমন বিপুল কর্মঘণ্টা বাঁচবে, অপরদিকে সাশ্রয় হবে কোটি কোটি টাকার জ্বালানি। রাজধানী ঘিরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাথমিক আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা।

আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে যা থাকছে

যানজট নিরসনে সরকারের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে আসলে কী কী থাকছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। জানা গেছে, এই বিষয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিগন্যাল ম্যানেজমেন্ট মডেল টেকনিক্যাল সাবকমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি বেশ কিছু সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।

স্বল্পমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ: প্রস্তাবিত ১০৫ কিলোমিটার ‘জিরো সিগন্যাল’ মূল সড়ক ছাড়া রাজধানীর বাকি সংযোগ সড়কগুলোতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক লাইট ও স্মার্ট সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। শহরের সার্বিক যানজট নিয়ন্ত্রণে দিনের বেলায় সব ধরনের কাভার্ডভ্যান ও ভারী ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

মধ্যমেয়াদি বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ: ১০৫ কিলোমিটার রাস্তায় সংকেতবিহীন (জিরো সিগন্যাল) ব্যবস্থা স্থাপনে দ্রুত একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি টেস্ট) সম্পন্ন করা হবে। এর মাধ্যমে শহরের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন কানেকটিভিটি (সংযোগ) তৈরি করা হবে।

একটি মাত্র একক কর্তৃপক্ষের অধীনে সমন্বিত ‘সিটি বাস সার্ভিস’ পরিচালনা করা হবে। এই ব্যবস্থার আওতায় আন্তঃজেলা বাসগুলোর রাজধানীতে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

সড়কের নির্দিষ্ট স্থানে আধুনিক বাস স্টপেজ স্থাপন করা হবে এবং কেবলমাত্র সেখান থেকেই যাত্রী ওঠানামা নিশ্চিত করা হবে।

এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় থাকবে— সিসিটিভির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ, রিকশা ও ধীরগতির যানবাহনকে স্থানীয় বা ফিডার সড়কেই সীমাবদ্ধ রাখা, পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু এবং পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিচালনার জন্য একটি স্থায়ী শক্তিশালী কর্তৃপক্ষ গঠন।

যানজট নিরসনে বদ্ধপরিকর প্রধানমন্ত্রী

সরকার গঠনের পর থেকেই রাজধানীর যানজট নিরসনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার (প্রায়োরিটি) দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “সরকার গঠনের পরপরই যানজট নিরসনের বিষয়ে নীতিগত কথা হয়েছে। কীভাবে দ্রুত রাজধানীর যানজট সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বিশেষ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিক উন্নয়ন, সড়কে পূর্ণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও যানজট কমাতে কী কী জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। রাজধানীর মানুষ যেন একটি যানজটমুক্ত পরিচ্ছন্ন শহর দেখতে পারে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তারই অংশ এই মহাপরিকল্পনা।”

ইনোভেশন টিমের হিসাব অনুযায়ী, ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ মডেলে রাজধানীর পাঁচটি প্রধান সড়ককে ১০৫ কিলোমিটারজুড়ে এক্সপ্রেসওয়েতে রূপান্তর করতে মোট ৩৭টি বিশেষ অবকাঠামো নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এই ৩৭টি স্থাপনার মধ্যে রয়েছে— ১৬টি ওভারপাস বা আন্ডারপাস, ১৩টি ‘ইউ-লুপ’ ওভারপাস, ৭টি ওভারপাস বা আন্ডারপাস ইন্টারচেঞ্জ সার্কেল ও ১টি বিশেষ ‘ইউথ ইউ-লুপ’ ইন্টারচেঞ্জ।

পুরো মডেলটি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নে চূড়ান্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৬৭২ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ঢাকায় এই ‘সংকেতবিহীন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা মডেল’ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন (স্টেকহোল্ডার) একমত পোষণ করলেও, মূল কাজ শুরুর আগে একটি আন্তর্জাতিক মানের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা (ফিজিবিলিটি টেস্ট) করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পকে ইতিবাচক দেখছেন নগরবিদেরা

যানজট নিরসনে সরকারের এই ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পকে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী হিসেবে দেখছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নগর পরিকল্পনাবিদেরা। তাদের মতে, এই প্রকল্প যদি নকশা অনুযায়ী সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে রাজধানীর চেনা যানজট অনেকটাই হ্রাস পাবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেন কোনও ধরনের অনিয়ম বা আর্থিক ‘নয়ছয়’ না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান  বলেন, “রাজধানীর ট্রাফিক সমস্যাটা অনেক পুরোনো এবং এর বড় কারণ হলো কাঠামোগত ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা। এই জিরো সিগন্যাল প্রকল্প সঠিকভাবে মাঠপর্যায়ে নামানো গেলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার যে ঘাটতি বা লুপহোল রয়েছে, তা লাঘব পাবে এবং যানজট ক্রমান্বয়ে কমে আসবে।”

তিনি আরও একটি সফল উদাহরণের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, রাজধানীর যেসব নির্দিষ্ট পয়েন্টে ইতোমধ্যে আধুনিক এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, তার সুফল কিন্তু দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এটি আমাদের সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ইমপ্যাক্ট ফেলেছে। গাড়ি চালক এবং বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা এখন জরিমানার ভয়ে হলেও আইনকানুন মেনে চলছেন। এর সঙ্গে যদি এই আড়াই হাজার কোটি টাকার ‘জিরো সিগন্যাল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’ যুক্ত করা যায়, তবে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব।”

Ads small one

এবার নদীপথে পুশইন, বিজিবির প্রতিরোধে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হলো বিএসএফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
এবার নদীপথে পুশইন, বিজিবির প্রতিরোধে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হলো বিএসএফ

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে শনিবার (১৩ জুন) মধ্যরাতে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধীনে রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ১৫ জনকে নদীপথে নৌকাযোগে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে।

বিজিবির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে অবৈধ পুশইনের প্রচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এ সময় উল্লেখিত ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্য লাইন বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল। পরে বিজিবির দৃঢ় অবস্থান ও কঠোর তৎপরতায় কয়েক ঘণ্টা পর বিএসএফের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা তাদেরকে সীমান্ত পিলার ২২০/এমপি সংলগ্ন ভবানীপুর এলাকা দিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

পুশইনের চেষ্টা চালানো ১৫ জনের মধ্যে দুই জন পুরুষ, ৮ জন নারী ও ৫ জন শিশু ছিল।

নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবৈধ পারাপার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসচেতনতা মূলক মাইকিং, স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ পুশইন টেকাতে আগামীতেও এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার কথা জানান এই কর্মকর্তা।

সামনে তহবিল আরও কমতে পারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
সামনে তহবিল আরও কমতে পারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে তহবিলের প্রাপ্যতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত এক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন ও উন্নয়ন ব্যয়ে। বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তহবিল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এর ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামী বছরগুলোতে তহবিল আরও কমে যাওয়ার দ্বিতীয় দফা প্রভাব দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সমিতির সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বর্তমান জ্বালানি সংকটের মাত্রা আগের তিনটি বড় তেল সংকটের চেয়েও বিস্তৃত হতে পারে। এমন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার স্থিতিশীলতা, সংস্কার ও উন্নয়নকে কেন্দ্র করে নতুন সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরি। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব হিসেবে তুলে ধরতে হবে।

তিনি বলেন, একই ধরনের চ্যালেঞ্জ অনেক দেশই মোকাবিলা করছে। রফতানি সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং তা সম্প্রসারণে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও সতর্ক কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি বিনিয়োগ পরিবেশকে প্রভাবিত করছে। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো তুলনামূলক কম সুদে ঋণ নিতে পারলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অনেক বেশি হারে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা অর্থায়নকে সীমিত করছে।

তিনি জলবায়ু ঝুঁকির কথাও তুলে ধরে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো অতিরিক্ত সুদের বোঝায় পড়ছে, যা বৈদেশিক ঋণ ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলের উদ্দেশ্য মানুষকে বিভ্রান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং মানুষকে বিভ্রান্ত করাই বিরোধীদের মূল উদ্দেশ্য। তারা দেশে অস্থিরতা ও অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতিলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে, তারা এই বাজেট মানে না, এটিকে গণবিরোধী বাজেট বলছে। কিন্তু আমি দেশের মানুষের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই—যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও তাদের পছন্দ নয়। যে বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও তারা মানে না। তাহলে তাদের উদ্দেশ্য কী, সেটা নিশ্চয়ই দেশের মানুষ বুঝতে পারছেন।’

তিনি বলেন, ‘তাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। তাদের উদ্দেশ্য একটাই দেশের মধ্যে অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টি করা, মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ৬০টি পণ্যে কর কমিয়েছে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে। ‘অথচ বিরোধী দল সেই বাজেটেরও বিরোধিতা করছে,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপির রাজনীতি মানুষের উন্নয়নের জন্য বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘সারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১০ হাজার করে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। কারণ এই দেশের মানুষ স্বাবলম্বী না হলে দেশ কখনও সত্যিকারের উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। ইতোমধ্যে সরকার কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার এই দেশের মালিক নয়, এই দেশের মালিক জনগণ। তাই জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্যই সরকার কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে।’

এ সময় তিনি জনগণকে কোনও ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।