সংবাদদাতা: জমি দখল করতে ৮৯ বছরের মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে সংখ্যলঘুদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কুমার রায় জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার কৃষ্ণকিশোর বন্দোপাধ্যায় সিএস ৩২ খতিয়ানের ২৭৮৫ দাগের এক একর জমিতে ১৯৩৭ সালে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। একতলা বিশিষ্ঠ মন্দিরের বারান্দার চারিধারে বাঁশের চটার রেলিং রয়েছে। মন্দিরের পূর্ব পাশে পাকা প্রাচীর দেওয়া ছিলো। মন্দিরের জায়গাটুকু বাদ দিয়ে বাকী জমিতে ক’টি মাছের ঘের রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই মন্দিরে পুজা অর্চনা ছাড়াও ঘেরে গলদা, বাগদা, রুই , কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। ওই জমি ক্রয়সূত্রে দাবি করে বাবর আলী ফকির আদালতে দেঃ ১/৯৫ মামলা করলে ১৯৯৬ সালের ৩ এপ্রিল তা খারিজ হয়ে যায়।
অনিমেষ কুমার রায় আরো জানান, সম্প্রতি মন্দিরের ৯৯ শতক জমির মধ্যে ৮৫ শতক জমি মাটিকুমড়া গ্রামের কলিমউদ্দিনের ছেলে আজিবর রহমান ও মুজিবর রহমানের কাছ থেকে পাইকাড়া গ্রামের বাবুরালী গাজীর ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারা খাতুন কিনেছেন দাবি করে মন্দির কর্তৃপক্ষকে জমি ছেড়ে দিতে বলে। প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ওই জমি দখলে নেওয়ার হুমকি দেয় বাবুরালী গাজী ও তার ছেলেরা। বাধ্য হয়ে তার (অনিমেষ) জ্যাঠাত ভাই তপন রায় বাদি হয়ে গতবছরের ৬ মার্চ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পিটিশন ৩৩৩/২৫ নং মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাবুরারী গাজীসহ তার ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারাসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ মার্চ গভীর রাতে জনাব আলী গাজীর ছেলে বাবুরালী গাজীর নেতৃত্বে তার ছেলে জামাল ফারুক, মাহামুদুল হাসান, নজরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫/৪০ জন সন্ত্রাসী হাতে দা, লাঠি, শাবল, লোহার রড, বাঁশের লাঠি নিয়ে মন্দিরের চারিপাশের বাঁশের বেড়া ও পূর্ব পাশের ইটের প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পরে তারা বেড় জাল দিয়ে গলদা ও বাগদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটপাট করে। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তিনজন নারীসহ ছয়জনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গতবছরের ১৫ জুলাই মন্দিরের পুকুর ও ঘের থেকে তাদের চাষকৃত মাছ ধরে নিলে জামাল ফকির বাদি হয়ে আদালতে সিআরপি-১৪৬/ ২৬ নং মামলা করা হয়। মামলায় হীরুলাল,প্রভাস রায়সহ চারজনকে বিবাদী করা হয়।পিবিআই কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান দুটি দলিলের ফটোকপি মূলে জালাল ফারুক ৫৮০৩ দাগের ৩৫ শতক জমি দাবি করলেও ওই জমি ও পুকুরে বিবাদীগণ মাছ চাষ ও বিক্রি করে বলে উল্লেখ করেন। এরপরও তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিকার আইনের তিনটি ধারায় ও পেনাল কোর্ড এর ১৪৩ ও ৫০৬ ধারা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলে সমন পেয়ে সোমবার আদালত থেকে জামিন নেন। এতে ক্ষুব্ধ জামাল ফারুক, মহিদ, বাবর আলী, মিন্টু, এলা ঢালীসহ ১০/১২ জন সোমবার বিকেলে মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে জমি জবরদখলের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ৯৯৯ এ ফোন দিলে দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক বিপ্লবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইকাড়া গ্রামের জামাল ফারুক বলেন, জমি কিনেছেন তাই দখল করতে সাইনবোর্ড তুলে ফেলেছেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।