শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দেবহাটায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সময়ে এর ধারাবাহিকতায় দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চৌধুরী আল মাহমুদ, জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য ও দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ওলিউল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আশরাফুজ্জামান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার মন্ডল, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, দৃষ্টিপাতের নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্লা, সরকারি খান বাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু তালেব, দেবহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আকবর আলী।

এ ছাড়া দেবহাটা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাইজিদ বোস্তামি উজ্জ্বল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন, সাহিত্য ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এস এম নাসির উদ্দীন, জুলাই যোদ্ধা মুজাহিদ বিন ফিরোজ, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন হিরা, সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাজু পারভীন, দেবহাটা উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ইয়াছিন আলী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিন আলী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের টিম মানবিক পরিবারের পরিচালক শেখ মনি, দেবহাটা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হযরত আলী টিপু এবং সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দাশ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্কুল-কলেজের স্কাউট দলের সদস্যরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সমন্বয়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে এবং এডিস মশার প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে তিন মাসব্যাপী চলবে।

Ads small one

গোপনে বহুবিবাহ ও বাল‍্যবিয়ের সুযোগ থাকছে না

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৬ অপরাহ্ণ
গোপনে বহুবিবাহ ও বাল‍্যবিয়ের সুযোগ থাকছে না

অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশজুড়ে তথ্য গোপন করে বহুবিবাহ-বাল‍্যবিয়ের ঘটনা রোধ করা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে দশ দিনব্যাপী ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি’ শীর্ষক আবাসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

একইসঙ্গে বিবাহ নিবন্ধনের এই অনলাইন তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সব কাজীকে এই ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আনতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর সুফল অনেক। কোনও এলাকায় বাল‍্যবিবাহ হচ্ছে কি না তা আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দেখাতে হচ্ছে। কেননা, বাল্যবিবাহ নিরোধে আমাদের একটা আইন আছে—সে আইনের আমরা যথাযথ প্রয়োগ করছি। আবার কেউ তথ‍্য গোপন করে একাধিক বিবাহ করছে কি না—তখন যদি তার এনআইডি নিয়ে অনলাইনে সার্চ দেন তখন তার বিস্তারিত চলে আসবে। তখন কাউকে বিবাহিত দেখা গেলে তার কাছে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আসতে বলা যাবে। এভাবে অনেক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এই অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের মাধ্যমে।

পাশাপাশি ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ভাঙতে শিগগিরই সারাদেশে লটারির মাধ্যমে পদায়ন শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান ১ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান ১ দিনের রিমান্ডে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম আসামিকে আদালতে উপস্থিত করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক এসব তথ্য জানান।

ওই আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন। আসামি অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য পালনে বাধা প্রদান, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো এবং আঘাত করার মাধ্যমে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করেন। এতে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাভাবিক আগমন ব্যাহত হয়। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনও কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কি না, তা উদঘাটনের জন্য আসামিকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সময় স্বল্পতার কারণে তাকে এ বিষয়ে যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিষয়ে আসামিকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন ধামাল কোট এলাকার ১০ নম্বর রোডের ৩৫ নম্বরের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তথ্য

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি স্বপরিবারে মদিনা থেকে ঢাকায় আসেন। ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং ৯টা ৮ মিনিটে পার্কিং করে। পরে যাত্রীরা বিমানবন্দরের ২১ নম্বর গেট দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করেন এবং ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় যান।

ওই সময়ে বিমানবন্দরে আগমনী যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ থাকায় ট্রলি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাময়িক সংকট সৃষ্টি হয় এবং ট্রলি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কয়েকজন প্রটোকল সহকারী লাইনের নিয়ম ভঙ্গ করে ট্রলি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে লাগেজ আসতে বিলম্ব হওয়া এবং জমজমের পানি না আসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত ও অশোভন আচরণ করতে থাকেন।

এ সময় ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠান। নির্বাহী পরিচালক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান হঠাৎ তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন এবং অত্যন্ত রূঢ়, অশালীন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।

নির্বাহী পরিচালক অত্যন্ত শান্তভাবে বিমানবন্দরে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ এবং ট্রলি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও আখতারুজ্জামান আরও উত্তেজিত হয়ে প্রকাশ্যে তাকে বলেন, ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘গেট আউট ফ্রম হিয়ার’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’, ‘কাজ জানেন না, তদবির করে পোস্টিংয়ে আসবেন’, ‘মাইর খাইতে চান?’ এ সময় আখতারুজ্জামানের আচরণ ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও মারমুখী।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় মোহাম্মদ কামাল হোসেন নির্বাহী পরিচালককে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যান। আখতারুজ্জামান পুনরায় উত্তেজিত হয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে হুমকি দেন, ‘আপনাদের সবাইকে বিমানবন্দরে বেঁধে পিটানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া দরকার যাতে তারেক রহমান এটি দেখেন, তখন আপনারা সোজা হবেন। আপনাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেবো।’

এ ছাড়া তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সম্পর্কে অত্যন্ত অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন। বলেন, ‘হি ইজ আ বাস্টার্ড, বিমানবন্দরের জন্য কিছুই করছে না।’

এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কতিপয় প্রটোকল সহকারী এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে থাকেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেন। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়

ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বিমানবন্দরের কেপিআই-ভুক্ত এলাকায় ভিডিও ধারণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিষেধ করেন। এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার কাছে এগিয়ে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন।

পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গেও অশোভন ও মারমুখী আচরণ করেন।

এ ছাড়া তিনি অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতল/পাত্র ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ক্ষতি সাধন করেন।

এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আখতারুজ্জামান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো একটি কেপিআই-ভুক্ত ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান, প্রকাশ্যে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, মারমুখী আচরণ এবং একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা সদস্যকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

 

সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় মাদ্রাসা ছাত্র আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কলেজ ছাত্র জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় মাদ্রাসা ছাত্র আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: এইচএসসি ফলপ্রার্থী কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খান হত্যার ঘটনায় মুহিদ হাসান রনি নামের একাদশ শ্রেণীর এক মাদ্রাসা ছাত্রকে আটক করেছে। সে শহরের ইটাগাছার ফিরোজউদ্দিনের ছেলে ও শহরের আলিয়া মাদ্রাসার একাদশ শ্রেণীর ছাত্র।

নিহত জাকারিয়া খান (১৯) সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়ার রুচিরা বেকারী মালিক আব্দুল গফুর খানের ছেলে ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি ফল প্রত্যাশী।

শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকার প্রাণী সম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে থেকে প্রাণী সম্পদ অফিস মোড়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা শুরু হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে ইটাগাছার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে ও বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিনের ভাইপো কিশোর গ্যাং এর সদস্য নাহিদ ইসলাম রনিসহ ৯/১০ জন তার দোকানে সিগারেট কিনতে আসে। তিনি সিগারেট দেননি। এ সময় তার ভাই লিটন হোসেন বাবুর ছেলে পল্লী মঙ্গল স্কুল এ- কলেজ থেকে পাশ করা বাপ্পি হাসান দোকানে চা বানাচ্ছিল। চায়ের বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে রণিসহ তার সহযোগীদের সঙ্গে বাপ্পির বচসা হয়। বাপ্পিকে তারা বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে।

 

এ সময় রুচিরা বেকারীর মালিকের ছেলে জাকারিয়া খান বাপ্পিককে রক্ষায় এগিয়ে এসে প্রতিবাদ করায় রণি তাকে এলোপাতাড়ি ছুরি দিয়ে বুকে ও পেটে আঘাত করে জখম করে। জাকারিয়া ও বাপ্পিকে উদ্ধার করে রাত ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফুসফুসে ছুরির আঘাত লাগায় অবস্থার অবনতি হওয়ায় জাকারিয়াকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

কাটিয়া এলাকার ইসমাইল হোসেন জানান, তার ভাইপো জাকারিয়া খান শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে লাবণী মোড়ের নিজেদের ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠান রুচিরা বেকারী থেকে বের হয়ে ইটাগাছা মামার দোকানে যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় প্রাণী সম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের পাশে রবিউলের চায়ের দোকানে কর্মরত বাপ্পি হাসানকে কিশোর গ্যাং এর সদস্য নাহিদ ইসলাম রনি ও তার সহযোগীদেও হাত থেকে বাঁচাতে গেলে তার বুকে ও পেটে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় জাকারিয়ার ভাই শাহারিয়ার খান বাদি হয়ে শনিবার থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শাহীদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জাকারিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শনিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।