সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

দেবহাটায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৮ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো, পেশা সুরক্ষা, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠনে ৬০ বছর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার দেবহাটায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসতিয়াক আহমেদ অপু।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, সখিপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলী ও হারুন অর রশিদ, দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মদন মোহন পাল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আর.কে. বাপ্পা, দেবহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইয়াছিন আলী, সখিপুর সরকারি কেবিএ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুহাসিন আলী, কেবিএ কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবু তালেব, হাদীপুর আহ্ছানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার এবং দেবহাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার দাস প্রমুখ।

Ads small one

অ্যাড. মহিদুল ইসলামকে প্রধান করে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশন গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
অ্যাড. মহিদুল ইসলামকে প্রধান করে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশন গঠন
পত্রদূত রিপোর্ট : সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৭ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. মহিতুল ইসলাম।
সোমবার (৫ অক্টোবর) জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আহ্বায়ক কমিটির বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে এ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান, অ্যাডভোকেট মো. আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ফারহানা ইয়াসমিন, অ্যাডভোকেট শেখ আবু সাঈদ রাজা এবং অ্যাডভোকেট কাজী আব্দুল্লাহ আল হাবিব।
চিঠিতে সমিতির গঠনতন্ত্রের বিধি-বিধান অনুসরণ করে আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পুনরায় নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পাওয়া অ্যাডভোকেট খায়রুল বদিউজ্জামান বলেন, “পুনরায় নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যেমন সম্মানের, তেমনি এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল কাজ। বিজ্ঞ আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা এবং আস্থার মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমি এবং আমাদের কমিশন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।”
নির্বাচন কমিশন গঠনের চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, সাতক্ষীরার বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সাতক্ষীরার মেয়ে প্রজ্ঞার প্রকৌশল প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার মেয়ে প্রজ্ঞার প্রকৌশল প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়
আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান, মেধা ও মননে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। প্রজ্ঞার এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন তাঁর মা-সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার। যিনি নিজে একজন সফল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সমাজসেবায় অবদান রাখার পাশাপাশি প্রজ্ঞাকে গড়ে তুলেছেন একজন অল-রাউন্ডার হিসেবে। মা নাজমুন নাহারের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই একের পর এক সাফল্য অর্জন করা এই ‘সাতক্ষীরার মেয়ে’ এবার জয় করেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রকৌশল সংগঠন ASHRAE-এর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছেন প্রজ্ঞা। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে তিনি বর্তমানে মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (সিআরসি) অংশগ্রহণ করছেন। গত ১ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশ্বের খ্যাতনামা প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে প্রজ্ঞা পারমিতা রহমানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বুয়েট অটোমোবাইল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট প্রজ্ঞার এই অনন্য সম্মাননা অর্জন পুরো সাতক্ষীরাবাসী তথা পুরো দেশের জন্য এক অভাবনীয় গর্বের বিষয়।
প্রতিযোগিতার কঠিন বাছাই প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে প্রজ্ঞার মা জানান, প্রায় দুই মাস আগে ASHRAE-এর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞপ্তির পর সারা বিশ্বের হাজারো শিক্ষার্থী আবেদন করেন। অত্যন্ত কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং একাধিক ধাপের সাক্ষাৎকার শেষে বিশ্বজুড়ে মাত্র তিনজনকে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এই ৩ জনের মধ্যে ২ জনই বাংলাদেশের বুয়েটের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী (প্রজ্ঞা পারমিতা রহমান ও আফতাব) এবং অপরজন দুবাইয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিজয়ী হওয়ায় আয়োজক সংস্থা ASHRAE প্রজ্ঞার বিমান ভাড়া, ভিসা, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করেছে।
সাতক্ষীরার সন্তান প্রজ্ঞার এই বিশ্বজয়ের পেছনে রয়েছে তাঁর শৈশব থেকেই অল-রাউন্ডার হয়ে ওঠার গল্প। প্রজ্ঞা সাতক্ষীরা কিন্ডার গার্টেন, সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে শিক্ষা শেষ করে বুয়েটে সুযোগ পান। এসএসসিতে জিপিএ-৫ সহ জেলার সর্বোচ্চ নম্বর অর্জনকারী প্রজ্ঞা ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে ছিলেন ঈর্ষণীয়ভাবে সফল।
তিনি জাতীয় শিশু পুরস্কারসহ চার-পাঁচটি জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। ছিলেন সাতক্ষীরা বিতর্ক দলের ক্যাপ্টেন; ২০২১ সালে বিভাগীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি তিনি টানা ৭টি বিতর্কেই ‘শ্রেষ্ঠ বক্তা’ হন। এছাড়া তিনি চ্যানেল আই-এর ‘স্বর্ণকিশোরী’ হিসেবে খুলনা বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং দীর্ঘদিন বিডিনিউজ২৪ ডটকমের হ্যালোর শিশু সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রজ্ঞার বাবা আলহাজ্জ মো. সাহিদুর রহমান সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মার্স ব্যাংকের খুলনা শাখার ম্যানেজার ও সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।
মেয়ের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে আবেগপ্লুত মা নাজমুন নাহার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, প্রজ্ঞা শুধু আমার মেয়ে নয়, সে সাতক্ষীরার মেয়ে, পুরো বাংলাদেশের মেয়ে। একজন মা হিসেবে ওর এই বিশ্বজয়ের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ছোটবেলা থেকেই প্রজ্ঞাকে সময় দেওয়ার পাশাপাশি ওর মেধা বিকাশে সবসময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে ও যেন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে মর্যাদার সাথে তুলে ধরতে পারে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য বড় অবদান রাখতে পারে-এই জন্য আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।

আন্তর্জাতিক ভূ-বৈচিত্র্য দিবস: আমাদের দোরগোড়ায় ভূ-প্রকৃতির বিস্ময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ভূ-বৈচিত্র্য দিবস: আমাদের দোরগোড়ায় ভূ-প্রকৃতির বিস্ময়

সাকিবুর রহমান বাবলা

পৃথিবী শুধু জীবজগতের আবাসভূমি নয়; জীবনের পাশাপাশি রয়েছে এক বিশাল অজীব জগৎ-শিলা, খনিজ, মাটি, জীবাশ্ম, নদী, পাহাড়, উপত্যকা, গুহা, উপকূল ও নানা ভূ-প্রাকৃতিক গঠন। এসব অজীব উপাদান এবং তাদের বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সম্পর্ককে বলা হয় ভূ-বৈচিত্র্য। জীববৈচিত্র্যের ভিত্তি থেকে শুরু করে মানুষের খাদ্য, পানি, আবাসন, শিল্প, প্রযুক্তি ও সভ্যতার বিকাশ-সবকিছুর সঙ্গেই ভূ-বৈচিত্র্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ভূ-বৈচিত্র্য দিবস। ইউনেস্কোর ৪১তম সাধারণ সম্মেলনে ২০২১ সালে দিবসটি ঘোষণা করা হয় এবং ২০২২ সালের ৬ অক্টোবর প্রথমবার আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালিত হয়। ভূ-বৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি, এর সংরক্ষণ, টেকসই ব্যবহার এবং ভূবিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোই দিবসটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য-‘আমাদের দোরগোড়ায় ভূ-বৈচিত্র্য’। প্রতিপাদ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভূ-বৈচিত্র্য কোনো দূরবর্তী বা দুর্বোধ্য বিষয় নয়। আমরা যে মাটিতে দাঁড়াই, যে পানি ব্যবহার করি, যে নদী ও পাহাড় দেখি, যে শিলা ও খনিজ দিয়ে ঘরবাড়ি-সড়ক নির্মাণ করি-সবই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভূ-বৈচিত্র্যের অংশ। প্রতিপাদ্যটি আমাদের নিজস্ব এলাকার ভূ-প্রকৃতি নতুন করে চিনতে ও সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করে।

ভূ-বৈচিত্র্যের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। শিলা ও ভূতাত্ত্বিক স্তর ভূগর্ভস্থ পানি ধারণ, প্রবাহ ও প্রাকৃতিক পরিশোধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিলার ক্ষয় ও পরিবর্তনের মাধ্যমে মাটি গঠিত হয়, আর মাটিই কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের প্রধান ভিত্তি। খনিজ ও শিলা আধুনিক সভ্যতার শিল্প, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর অপরিহার্য কাঁচামাল। ফলে মানবকল্যাণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নও ভূতাত্ত্বিক সম্পদের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।

দুর্যোগ মোকাবিলাতেও ভূ-বৈচিত্র্যের জ্ঞান অপরিহার্য। ভূমিকম্প, ভূমিধস, বন্যা, সুনামি ও আগ্নেয়গিরির মতো ভূ-প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বোঝার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং ভূমি ব্যবহার ও অবকাঠামো পরিকল্পনা করা সম্ভব। বাঁধ, সড়ক, সেতু, সুড়ঙ্গ, ভবন, বন্দর ও পাইপলাইন নির্মাণেও ভূবৈজ্ঞানিক জ্ঞান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে; অত্যন্ত নগরায়িত ও ডিজিটাল এই পৃথিবীতে আমরা হয়তো ভূবৈচিত্র্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি বলে মনে করতে পারি।

অতীতের শিলা, পলি ও জীবাশ্ম পৃথিবীর দীর্ঘ ইতিহাস এবং অতীত জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের অতীত ধারা বুঝতে পারেন এবং ভবিষ্যতের পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা পান। একই সঙ্গে পাহাড়, গুহা, উপকূল ও অনন্য ভূদৃশ্য ভূ-পর্যটনের ভিত্তি তৈরি করে; যা স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গেও যুক্ত।

বাংলাদেশের ভূ-বৈচিত্র্যও বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। নদীবাহিত পলিতে গড়ে ওঠা বিস্তীর্ণ বদ্বীপ ও প্লাবনভূমির পাশাপাশি রয়েছে বরেন্দ্র ও মধুপুরের সোপানভূমি, সিলেটের টিলা-পাহাড়, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল এবং দক্ষিণে বিস্তীর্ণ উপকূল ও সুন্দরবন। নদী, পলি, মাটি, পাহাড়, উপকূল ও ম্যানগ্রোভ ভূ-প্রকৃতির এই বৈচিত্র্য বাংলাদেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

কিন্তু নদীভাঙন, পলি সঞ্চয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পাহাড় কাটা, জলাভূমি ও বনভূমির পরিবর্তন, উপকূলীয় লবণাক্ততা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছে। এর প্রভাব কৃষি, পানি, জীববৈচিত্র্য, বসতি ও মানুষের জীবিকার ওপর পড়ছে। বাংলাদেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকিও ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ; তাই ভূবৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঝুঁকি-সচেতন ভূমি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ভূ-বৈচিত্র্য সম্পর্কে প্রকৃত শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। ভূবিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব ও ভূগোলের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের গবেষণা, ফিল্ডওয়ার্ক, জিআইএস, রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূ-পৃষ্ঠের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং দুর্যোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ বিষয়ে আধুনিক গবেষণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পৃথিবীর পরিবর্তনশীল পরিবেশ বুঝতে সহায়তা করতে পারে। সুইজারল্যান্ড ইটিএইচ জুরিখ গবেষণার বিশ্বের মানদন্ডে ভূবিজ্ঞান এবং ভূতত্ত্ব শিক্ষার জন্য সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়।

ভূ-বৈচিত্র্য তাই কেবল পাথর, মাটি বা পাহাড়ের বৈচিত্র্য নয়; এটি পৃথিবীর সৃষ্টি ও বিবর্তনের নীরব দলিল, জীববৈচিত্র্যের ভিত্তি এবং মানবসভ্যতার অন্যতম অবলম্বন। একটি শিলা কিংবা জীবাশ্মের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে পৃথিবীর কোটি বছরের ইতিহাস। সেই ইতিহাসকে জানা, সম্পদকে বিচক্ষণভাবে ব্যবহার করা এবং ভূ-প্রকৃতিকে সংরক্ষণ করাই টেকসই ভবিষ্যতের অন্যতম শর্ত।

‘আমাদের দোরগোড়ায় ভূ-বৈচিত্র্য’-২০২৬ সালের এই আহ্বান তাই চারপাশের মাটি, নদী, পাহাড়, উপকূল ও ভূদৃশ্যকে নতুন চোখে দেখার আহ্বান। কারণ পৃথিবীর ভূ-বৈচিত্র্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; এটি আমাদের বর্তমান জীবনের ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন।