রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দেশে মে মাসে বেড়েছে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণ চেষ্টাসহ নারী শিশুর প্রতি সহিংসতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
দেশে মে মাসে বেড়েছে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণ চেষ্টাসহ নারী শিশুর প্রতি সহিংসতা

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এপ্রিল ও মে ২০২৬ মাসের তুলনামূলক জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার মাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংবাদপত্রে প্রকাশের লক্ষে এমএসএফ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত উক্ত প্রতিবেদন নিম্নরূপ:

সার-সংক্ষেপ

এপ্রিল ও মে ২০২৬ মাসের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, নারী ও শিশু সহিংসতার সামগ্রিক ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর সহিংসতার ধরনে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যা সামগ্রিক পরিস্থিতির অবনতির একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত বহন করে। একইভাবে, দলবদ্ধ ধর্ষণ ধর্ষণ ও হত্যা এবং ধর্ষণ প্রচেষ্টা বৃদ্ধিও পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, শারীরিক নির্যাতন এবং হত্যার ঘটনা কমে আসা কিছু ইতিবাচক প্রবণতা নির্দেশ করলেও, বেআইনি সালিশ বৃদ্ধি গ্রামীণ বিচারব্যবস্থার ঝুঁকি বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া এসিড নিক্ষেপ, আত্মহত্যা এবং নবজাতক উদ্ধারের ঘটনায় সামান্য বৃদ্ধি সমাজে বিদ্যমান কাঠামোগত ও সামাজিক সংকটের দিকটি তুলে ধরে।

নতুনভাবে অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মৃত্যু এবং আটক বৃদ্ধি একটি উদীয়মান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা ডিজিটাল অপরাধের প্রসার নির্দেশ করে। একইভাবে, মাদকাসক্তি সংশ্লিষ্ট সহিংসতা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি আটক, সংঘর্ষ পরিস্থিতির অবনতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

সার্বিকভাবে, মোট নারী ও শিশু সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি দেখা যায়, গুরুতর অপরাধের বৃদ্ধি, নতুন ঝুঁকির উদ্ভব এবং সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ইঙ্গিতসমূহ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এ প্রেক্ষাপটে, লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জরুরি।


বিশ্লেষণ
১. সামগ্রিক প্রবণতা

এপ্রিল থেকে মে ২০২৬-এর তুলনায় নারী ও শিশু সহিংসতার মোট ঘটনা বৃদ্ধি (৩১২ থেকে ৩২৬) এবং সহিংসতার প্রকৃতি আরও গুরুতর ও নৃশংস হয়েছে।

২. যৌন সহিংসতার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
⦁ ধর্ষণ: ৪০% এর কাছাকাছি বৃদ্ধি (৫৪ → ৭৮)
⦁ ধর্ষণ ও হত্যা: তিনগুণ বৃদ্ধি (২ → ৬)
⦁ দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা: ধারাবাহিক বৃদ্ধি (৪৪ জন)

👉 এটি নির্দেশ করে যে নারী ও শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা কাঠামোগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আইন প্রয়োগ, সামাজিক প্রতিরোধ ও বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে।
৩. শারীরিক সহিংসতা ও হত্যার ক্ষেত্রে মিশ্র প্রবণতা
⦁ শারীরিক নির্যাতন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে (৬৪ → ৪৩)
⦁ হত্যা কমেছে (৮৯ → ৭৯)

👉 এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে প্রকাশ্য সহিংসতা কিছুটা কমলেও যৌন সহিংসতা ও গোপন অপরাধ বেড়েছে।
৪. সামাজিক ও কাঠামোগত সহিংসতার লক্ষণ
⦁ বেআইনি সালিশ বেড়েছে (২ → ৬)
⦁ নবজাতক উদ্ধার বৃদ্ধি
⦁ আত্মহত্যা বৃদ্ধি

👉 এগুলো নির্দেশ করে:
⦁ গ্রামীণ বিচারব্যবস্থার অপব্যবহার
⦁ সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি
⦁ নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান
৫. নতুন ঝুঁকি: অনলাইন জুয়া ও মাদকাসক্তি
মে মাসে নতুনভাবে কিছু ঝুঁকি দৃশ্যমান হয়েছে:
⦁ অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট গ্রেফতার (৫ জন)
⦁ মাদকসংক্রান্ত ব্যাপক আটক (১৫ জন)
⦁ পুলিশের সাথে সংঘর্ষও ঘটছে এবং মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশের সম্পৃক্তাও পাওয়া যাচ্ছে।

👉 এটি দেখায় যে অপরাধের ধরণ বহুমাত্রিক হচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
৬. আইন প্রয়োগ ও প্রতিক্রিয়া
মে মাসে গ্রেফতার ও আইন প্রয়োগমূলক পদক্ষেপ বেড়েছে, বিশেষ করে:
⦁ অনলাইন জুয়া
⦁ মাদক

👉 তবে প্রশ্ন রয়ে যায়:
এই পদক্ষেপগুলো কি সহিংসতা কমাতে কার্যকর হচ্ছে, নাকি কেবল প্রতিক্রিয়াশীল?
নারী, শিশু মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার বিস্তারিত বিবরণ
এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা—যেমন ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা ও যৌন হয়রানি গত মাসের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনা চলতি বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় এ মাসে সবচেয়ে বেশি এবং এ সহিংসতার শিকার সকলেই শিশু।

রামিসা হত্যাকান্ড
উল্লেখ্য যে এ মাসে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন সংগঠনের বিচার দাবির প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র কর্তৃক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা প্রশংসনীয়। তবে এমএসএফ মনে করে, নারী ও শিশুর প্রতি সংঘটিত প্রতিটি সহিংসতাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অন্যথায়, শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ঘটনাগুলোতেই রাষ্ট্রের সক্রিয়তা দেখা গেলে বহু ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা

গণমাধ্যম ও এমএসএফ’র সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী মে, ২০২৬ মাসে ৩২৬ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন । এ মাসে ধর্ষণের শিকার ৭৮জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৬জন, ধর্ষণ ও হত্যা ৬ জন। ধষর্ণের চেষ্টার শিকার ২৮ জন, এসিড সহিংসতার ৩ জন , যৌন হয়রানির শিকার ১৮, শারীরিক নির্যাতন ৪৩, আত্মহত্যা ৩০, অপহরণ ও নিখোঁজ ১২ ও হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৯ জন নারী। বেআইনি সালিশের শিকার ৬ জন ও নবজাতক উদ্ধার ৭ জন।

সালিশে ফৌজদারি অপরাধ মীমাংসা
পাশাপাশি এ মাসে ২ জন কিশোরী ধর্ষণ, ২ টি শিশু ধর্ষণের চেষ্টা, ১ জন কিশোরী ধর্ষণের চেষ্টা, ও ১ জন কিশোরীকে পাশবিক নির্যাতনসহ মোট ৬ টি ঘটনা সমাজপতিরা আপোষ করেছেন যা প্রচলিত আইনকে অবজ্ঞা করে বেআইনিভাবে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছে। এ সকল ঘটনায় ধর্ষণের মামলা হলেও সালিশকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কোন আলাদা মামলা হয়না। যদিওবা কোন ঘটনায় মামলা হয়, তা ও হয় ধর্ষণের সহযোগী হিসেবে, সালিশ করার অপরাধে নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সালিশকারীরা আইনের আওতায় তো আসেই না বা কোন শাস্তি ভোগ করেনা।

নবজাতক শিশু উদ্ধার
এ সময়ে ৫ জন মৃত ২ জন জীবিতসহ মোট ০৭ জন নবজাতক শিশুকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে যা অমানবিক ও নিন্দনীয়। সংস্লিষ্ট থানা থেকে জানা যায় ,অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবজাতক শিশুকে পরিত্যাগের ঘটনায় প্রকৃত অভিভাবক বা দায়ীদের শনাক্তে কার্যকর অনুসন্ধান পরিচালিত হয় না এবং কাউকে আইনের আওতায় আনার ঘটনাও খুবই বিরল। পুলিশ মৃত নবজাতকের ক্ষেত্রে সাধারণত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা (ইউডি) রুজু করে থাকে এবং জীবিত নবজাতক উদ্ধার হলে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এমএসএফ মনে করে, এ ধরনের ঘটনা চরম অমানবিক, নিন্দনীয় এবং শিশু অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। ফলে সমাজে অমানবিকতা, অনাচার ও দায়মুক্তির একটি উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে।

অনলাইন জুয়ার বিস্তার
বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, কিশোর, চাকরিচ্যুত শ্রমিক ও গ্রামের যুবকদের মধ্যে। অনলাইন জুয়া শুধু একটি ধংসাত্বক খেলাই নয় বরং এটি একটি অর্থনৈতিক শোষণ, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, পারিবারিক সহিংসতা, শিশু ঝুঁকি এবং সাইবার অপরাধের মাধ্যমে বহুমাত্রিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হয়ে উঠছে। যদিও বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ অনুযায়ী অনলাইন জুয়া দণ্ডনীয় অপরাধ, তবে আইনের পরিচিতি ও জনসচেতনতার অভাবে এ খেলা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় রাষ্ট্র, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নাগরিক সমাজ, পরিবার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত ২টি ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একটি ঘটনায় কুমিল্লার বরুড়ায় অনলাইন জুয়া নিয়ে বিরোধের জেরে বন্ধুদের হামলায় আহত কিশোর রাকিব হোসেন (১৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ মে ২০২৬ মারা যায়। অন্য ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাব ০৫ জনকে আটক করে। আটককৃতরা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের মধ্যে একজন অনলাইন জুয়ার এজেন্ট বলে জানা যায়।

মাদকাসক্তির বিস্তার ও নাগরিক সুরক্ষার অবনতি
মাদক শুধু একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও জীবনের ক্ষতি করে না; এটি সহিংসতা, অপরাধ, দারিদ্র্য, পারিবারিক ভাঙন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। মাদক সমস্যার সঙ্গে সরকারের নীতি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, সীমান্তপথে মাদক পাচার এবং নানা ধরনের অপরাধ জড়িত। অনেক সময় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগও উঠে আসে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও মানবাধিকারসম্মত আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এমএসএফ কর্তৃক সংগৃহিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে মাদক সংক্রান্ত ১৪ টি ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের আটক সংক্রান্ত ২ টি ঘটনা, পুলিশের মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ২টি, ইয়াবা উদ্ধার সংক্রান্ত ৩টি, জুয়া ও মাদককে কেন্দ্র করে কিশোরদের সংঘর্ষ ১ টি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ২টি ঘটনা। এছাড়া অন্য ৪টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে হত্যা, মাকে হত্যা, মা ও পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং মাদকসেবীকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ঘটনা। এছাড়াও মাদক ব্যবসার সাথে পুলিশের সম্পৃক্ততার ঘটনাও পাওয়া গেছে।

উপরোক্ত ঘটনাগুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ সংকট। তাই মাদক প্রতিরোধে রাষ্ট্র, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

উপসংহার
মে ২০২৬-এ জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার চিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য দেখা যায়:
⦁ মোট ঘটনা সামান্য কমেছে, কিন্তু
⦁ সহিংসতার তীব্রতা ও নৃশংসতা বেড়েছে, বিশেষ করে যৌন সহিংসতায়
👉 এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে:
⦁ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দুর্বল
⦁ বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিদ্যমান
⦁ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এখনও উচ্চ ঝুঁকিতে।

Ads small one

আর্সেনালকে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
আর্সেনালকে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন পিএসজি

টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্সেনালকে ৪–৩ গোলে হারিয়ে ক্লাব ইতিহাসে সাফল্যের নতুন গল্প লিখেছে পিএসজি।
রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে এই শতাব্দীতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ধরে রাখল পিএসজি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে টানা ৩টি শিরোপা জিতেছিল রিয়াল।

বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় পিএসজি-আর্সেনালের এই স্নায়ু পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পিএসজি।

টাইব্রেকারে শেষ শটে পিএসজির লুকাস বেরালদো জাল খুঁজে পেলেও আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস মেরে দেন বারের ওপর দিয়ে। তাতেই রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কীর্তি গড়ে প্যারিসের ক্লাবটি।

ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের। ষষ্ঠ মিনিটে মারকিনিওসের ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পিএসজি গোলকিপার মাতবে সাপোনভ তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে যাওয়া বলটি ধরার সুযোগই পাননি।

পিএসজি এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল গত বছরের ফাইনাল শুরু করা ১০ জন নিয়েই। যে একটি পরিবর্তন, সেটি এই সাপোনভই। এক বছর আগে এই মঞ্চে শিরোপাজয়ের অভিজ্ঞতা আছে বলেই হয়তো পিএসজি শুরুতে গোল হজম করলেও আড়ষ্ট হয়ে যায়নি; বরং গোলের পর আর্সেনাল অনেকটা নিচে নেমে রক্ষণ সামলানোয় বেশি মনোযোগ দিলে আক্রমণের ধার বাড়ান উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস, দিজিয়ের দুয়েরা। যদিও গোলের প্রবল সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি, দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্টই থেকে গেছে।

প্রথমার্ধের বিরতির আগে হাভার্টজ আর্সেনালকে দ্বিতীয় গোলও এনে দিচ্ছিলেন প্রায়, সেটি হয়নি মারকিনিওসের দৃঢ়তায়।

চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে পিএসজির লক্ষ্য ছিল সময় নষ্ট করার। বিরতি শেষে ইংলিশ ক্লাবটি মাঠে ফেরে পিএসজির দুই মিনিট পর। খেলা শুরু হওয়ার পর সময় নষ্ট করার কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ৬৫ মিনিটে স্প্যানিশ এই রাইটব্যাকই সুযোগ করে দেন পিএসজিকে ম্যাচে ফেরার। বল নিয়ে বক্সে ঢোকা খিচা কাভারাস্কেইয়াকে মস্কেরা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। দেম্বেলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইনে সমতা আনতে ভুল করেননি (১-১)।

এরপর ম্যাচে পিএসজির নিয়ন্ত্রণ শুধু বেড়েছেই। কাভারাস্কেইয়ার একটি শট পোস্টে লাগে, বারকোলা দুটি সহজ সুযোগ নষ্টও করেন। তবে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই আধা ঘণ্টার খেলায় অবশ্য আর্সেনালও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। টিম্বার ও গিওকেরেস সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল গড়ায় টাইব্রেকারে।

আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নিতে যাওয়া এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরপরই পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দেন দাভিড রায়া। ৪ শট শেষে তাই টাইব্রেকার ফলও থাকে সমতায়। তবে শেষ শটে আর সমতা রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক মাগালাইসের বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে উৎসব শুরু হয়ে যায় পিএসজি শিবিরে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল। ২০২৫ সালের আগপর্যন্ত একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষায় থাকা পিএসজি এবার টানা ট্রফি জিতে নাম লেখাল রিয়ালেরই পাশে।

ঈদের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ, ঢাকায় ফিরছে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
ঈদের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ, ঢাকায় ফিরছে মানুষ

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। তাই ছুটির শেষ দিন রোববার (৩১ মে) ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরছেন অনেকে। কমলাপুর রেলস্টেশনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফেরা কর্মজীবী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রোববার ভোর থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান করে দেখা গেছে, একের পর এক ট্রেনে রাজধানীতে ফিরছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ।

যাত্রীরা বলছেন, মোটামুটি নির্বিঘ্নেই ফিরতে পারছেন তারা, ট্রেনে খুব বেশি ভিড় নেই। তবে কোনো কোনো ট্রেন কিছুটা বিলম্বে কমলাপুর আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনে সকাল থেকে যে ট্রেনগুলো ছেড়ে এসেছে, সেই ট্রেনগুলোতে বাড়তি ভিড় বা অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়নি। অর্থাৎ, প্রতিটা ট্রেনই বেশ স্বস্তি নিয়ে ঢাকায় এসেছে।

যাত্রীদের অনেকেই জানান, সময়মতো স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়েছে। তবে বিশেষ করে নেত্রকোনা, জামালপুর, ময়মনসিংহ থেকে এই অঞ্চলের যে ট্রেনগুলো ঢাকায় এসেছে, সেই ট্রেনগুলো অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

এর কারণ হিসেবে যাত্রীরা বলছেন, সময়মতো ট্রেন স্টেশন থেকে ছাড়লেও গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছাতে দুই-তিন ঘণ্টা দেরি হয়েছে, কারণ মাঝখানে বেশ কয়েকটি ট্রেনের সঙ্গে ঐ ট্রেনগুলোর ক্রসিং হয়েছে। অর্থাৎ, ডাবল লাইন না থাকায় সিঙ্গেল লাইনের কারণে একটি ট্রেনকে বসিয়ে অন্য একটি ট্রেনকে অতিক্রমের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বেশ কিছু ট্রেনের বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে। তবে ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী না থাকায় বেশ স্বস্তি নিয়েই কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীরা ফিরেছেন।

এখন পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরে ফেরা মানুষের অতিরিক্ত চাপ দেখা যায়নি। বিশেষ করে যাদের আজ অফিস রয়েছে বা ঢাকায় জরুরি কাজ রয়েছে, তারা আজ ঢাকায় ফিরছেন। এখন পর্যন্ত পুরো পরিবার নিয়ে অনেকেই আসেননি।

কমলাপুর রেলস্টেশনে রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ এখন পর্যন্ত ঘরে ফেরা মানুষের জন্য কোনো ঈদ স্পেশাল ট্রেন কোথাও থেকে ছেড়ে আসছে না। সারাদেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে আজ মোট ৪৩টি আন্তঃনগর এবং ২৩টি লোকাল মেইল কমিউটারসহ মোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরবে। সোমবার থেকে এরসঙ্গে যুক্ত হবে ঈদ স্পেশাল ট্রেন, চলবে প্রতিদিন একটি করে।

সকাল থেকে যে কয়েকটি ট্রেন ফিরে এসেছে, দুই-একটি ট্রেন ছাড়া সব ট্রেনই আসলে সময়মতো ফিরেছে। স্টেশন থেকে সময়মতো ছেড়েছে, কমলাপুরে সময়মতো ফিরেছে।

সকাল পৌনে ৮টায় কমলাপুর রেলস্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থামে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। ট্রেনটিতে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ ছিল না।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে সপরিবারে ফিরেছেন আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে আসতে ইচ্ছা করে না তারপরও কর্মের খাতিরে ঢাকায় ফিরতে হয়। কারণ এই চাকরির উপার্জনেই তো পরিবার চলে।

সকাল সোয়া ৮টায় ৫ নম্বর প্যাটফর্মে থামে ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। এ ট্রেনেও যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ ছিল না। নির্বিঘ্নেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

এই ট্রেনের যাত্রী শাহাদাত হোসাইন বলেন, আমি ব্যবসা করি। ব্যবসার একটা কাজে জরুরি প্রয়োজনে চলে আসতে হয়েছে। মোটামুটি ঝামেলাহীনভাবেই এসেছি। ট্রেনেও খুব একটা ভিড় ছিল না। তবে পরিবার নিয়ে আসিনি, পরিবার আসবে আরও কিছুটা কিছুদিন পর। বাচ্চাদের স্কুলও খুলবে আরও ৪ থেকে ৫ দিন পর।

গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়। টানা সাত দিনের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ।

সাতক্ষীরায় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী: দোয়া ও খাদ্য বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী: দোয়া ও খাদ্য বিতরণ

সংবাদদাতা: মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৩১ মে ২০২৬) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা শহরের সংগীতা মোড়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ তারিকুল হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ মানিক, সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভূট্টু, সদস্য সচিব শরিফুজ্জামান সজিব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন পাড়, জেলা কৃষক দলের সাবেক আহবায়ক আহসানুল কাদির স্বপন, আসাদুজ্জামান খোকন, মনজুরুল মোর্শেদ মিলন, মহাসিন আলম, শিবলু রহমান, খালিদ হাসান সুমন, মো. রাজিবুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম সরোয়ার, সদস্য সচিব জাকির হোসেন আফিল, শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলী হাসান খান হাবলু, সদস্য সচিব শেখ আজিজুর রহমান সেলিম, শিমুল, মুকুল, রাজেশ, এডভোকেট জিয়া, ইসমাইল হোসেন নিরব, রাব্বি, মুকুলসহ জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও দলের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।