মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সনদ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সনদ বিতরণ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে নজরুল বর্ষ-২০২৬-২৭ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বর্ষ-২০২৬-২৭ উপলক্ষে কবিতা আবৃত্তি, নজরুল সঙ্গীত, হামদ না’ত, একক অভিনয় ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১১০ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ক্রেস্ট গিফট বক্স ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন।

উপজেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বিমল কুমার কুন্ডু’র অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।

Ads small one

মুক্তমত: সাতক্ষীরার দৃষ্টিসীমা আটকে দিচ্ছে অবৈধ ব্যানার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
মুক্তমত: সাতক্ষীরার দৃষ্টিসীমা আটকে দিচ্ছে অবৈধ ব্যানার

প্রতীকী ছবি

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎একটি জেলার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে যাতায়াতকারী মানুষের সুবিধার্থে সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও মাইলেজ বোর্ড স্থাপন করা হয়। কোন দিকে কোন উপজেলা, কোন সড়ক দিয়ে কোথায় যাওয়া যাবে কিংবা কোন স্থান কত কিলোমিটার দূরে, তা চালক ও পথচারীদের সহজে জানানোর জন্যই এই বোর্ডগুলো তৈরি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই সরকারি নির্দেশনাবোর্ডগুলোকে ঢেকে দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার ব্যানার বা বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

‎সম্প্রতি সাতক্ষীরার বেশ কিছু সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, মূল সরকারি মাইলেজ বোর্ডের ঠিক নিচেই বড় বড় ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দূর থেকে আসা যানবাহন চালকদের মূল নির্দেশনা দেখতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা দূরত্বের হিসাব দেখতে না পেয়ে চালকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, যা বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

সরকারি একটি স্থাপনা বা নির্দেশনামূলক বোর্ডের গায়ে বা ঠিক নিচে এভাবে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত ব্যানার লাগানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং চরম অসচেতনতার বহিঃপ্রকাশ। এটি কেবল সড়কের সৌন্দর্যই নষ্ট করছে না, বরং সরকারি সম্পত্তিরও অবমাননা করছে। নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের প্রচারণার জন্য নির্দিষ্ট বিলবোর্ড বা অনুমোদিত জায়গা ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও, সস্তা প্রচারের আশায় এই পন্থায় জনদুর্ভোগ তৈরি করা হচ্ছে। সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ মনে করছে, অতিসত্বর এই জেলাজুড়ে সড়কের নির্দেশনাবোর্ডগুলো থেকে সমস্ত অবৈধ ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন অপসারণ করা প্রয়োজন।

 

একই সাথে যারা সরকারি নির্দেশনাবোর্ড ঢেকে নিজেদের অ্যাড বা বিজ্ঞাপন প্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

পুলিশ সুপারের সাথে জেলা যুব অধিকার পরিষদের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
পুলিশ সুপারের সাথে জেলা যুব অধিকার পরিষদের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম-এর সাথে মতবিনিময় ও ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন জেলা যুব অধিকার পরিষদের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর, ২০২৬) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান জেলা যুব অধিকার পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ আজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজমির হোসেন পলাশ।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাজারুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল শাহজী, অর্থ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা এবং দপ্তর সম্পাদক সেলিম রেজাসহ যুব অধিকার পরিষদের জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সাক্ষাৎকালে নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরা জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত ও ইতিবাচক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত রাখতে জেলা পুলিশের সাথে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান এবং জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যুবসমাজের সহযোগিতা কামনা করেন।

নদীতে জাল টেনে জীবিকা চলে উপকূলীয় নারীদের, নিত্যদিনের সংগ্রামে কাটে জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
নদীতে জাল টেনে জীবিকা চলে উপকূলীয় নারীদের, নিত্যদিনের সংগ্রামে কাটে জীবন

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগরসহ সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক নারীর জীবন-জীবিকা নির্ভর করে নদীর ওপর। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কেউ সংসারের কাজ শেষ করে, কেউ আবার সন্তানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে নেমে পড়েন নদীতে। হাতে জাল, চোখে পরিবারের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার স্বপ্ন। নদীর পানিতে জাল টেনে মাছ ও চিংড়ি ধরে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে তাঁদের সংসার।

প্রতিকূল পরিবেশ, নদীর জোয়ার-ভাটা, বৈরী আবহাওয়া আর জীবিকার অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করেই দিন কাটে এসব নারীর। তাঁদের কাছে নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়, নদীই বেঁচে থাকার অবলম্বন, সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ভরসা।

নদীতে জাল টানাই তাঁদের জীবিকার অবলম্বন: উপকূলীয় জনপদের অনেক নারী নদী ও নদীসংলগ্ন খালে জাল টেনে ছোট মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য জলজ সম্পদ সংগ্রহ করেন। কেউ পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সঙ্গে মাছ ধরেন, আবার কেউ নিজেরাই নদীতে নেমে জীবিকার সন্ধান করেন। সংগৃহীত মাছ বিক্রি করে পাওয়া সামান্য অর্থ দিয়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনেন তাঁরা।

কোনো দিন জালে ভালো মাছ ধরা পড়লে কিছুটা স্বস্তি আসে সংসারে। আবার কোনো দিন দীর্ঘ সময় নদীতে থেকেও আশানুরূপ মাছ পাওয়া যায় না। তখন পরিবারের খরচ মেটাতে তাঁদের পড়তে হয় বিপাকে। তবুও জীবিকার তাগিদে পরদিন আবারও নদীতে নামতে হয়।

দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই: সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনকে বারবার বিপর্যস্ত করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও বেড়িবাঁধের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব পড়ে এসব নারীর জীবনেও। দুর্যোগের সময় নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে তাঁদের আয় কমে যায়। অনেক পরিবারের সঞ্চয় না থাকায় কয়েক দিনের কর্মবিরতিও বড় সংকট তৈরি করে।

এ ছাড়া নদীতে মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া, মাছ ধরার উপকরণের খরচ বৃদ্ধি এবং ন্যায্য দাম না পাওয়ার মতো সমস্যাও তাঁদের জীবিকাকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি তাঁদের সামলাতে হয় সংসার ও সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব।

উপকূলীয় নারীরা পরিবারের আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাঁদের শ্রম অনেক সময় যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। নদীতে মাছ ধরার পর মাছ বাছাই, বিক্রি এবং সংসারের যাবতীয় কাজও তাঁদের সামলাতে হয়। কিন্তু জীবিকার ঝুঁকি মোকাবিলা, আর্থিক নিরাপত্তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেকের জন্যই সীমিত।

এসব নারীর জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজন সহজ শর্তে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা, মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং দুর্যোগকালীন সামাজিক সুরক্ষা। পাশাপাশি বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা গেলে নদীনির্ভর পরিবারগুলোর ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।

নদী বাঁচলে বাঁচবে উপকূলের জীবন: উপকূলীয় নারীদের জীবনসংগ্রাম শুধু দারিদ্র্যের গল্প নয়; এটি আত্মনির্ভরতা, পরিশ্রম ও পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের গল্প। প্রতিদিন নদীতে জাল টেনে তাঁরা প্রমাণ করছেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও জীবন থেমে থাকে না।

তবে তাঁদের এই সংগ্রামকে টেকসই করতে হলে নদী ও জলজ সম্পদের সুরক্ষা, নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ এবং নারীবান্ধব জীবিকাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। নদীর ওপর নির্ভরশীল এসব নারীর পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু কয়েকটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং উপকূলের অর্থনীতি ও সমাজকে শক্তিশালী করা। উপকূলের নদীতে জাল টানা নারীদের ঘামে ভেজা জীবনের গল্প তাই নতুন করে ভাবতে শেখায়-যাঁদের পরিশ্রমে সংসারের চাকা ঘোরে, তাঁদের জীবিকা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।