রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবীণরা সমাজের অমূল্য সম্পদ, তাঁদের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্র গঠনে কাজে লাগাতে হবে: জেলা প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ অপরাহ্ণ
প্রবীণরা সমাজের অমূল্য সম্পদ, তাঁদের অভিজ্ঞতা রাষ্ট্র গঠনে কাজে লাগাতে হবে: জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিনিধি:সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার সকালে সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জেলা প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।

সংগঠনের নির্বাহী সদস্য শহীদুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান, সাবেক সচিব ও সমাজ সেবক মো. ফজলুর রহমান, প্রফেসর আব্দুল হামিদ, ইঞ্জিনিয়ার আবিদুর রহমান, মিসেস রোকেয়া রহমান, কাজী আবু হেলাল প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রবীণরা সমাজের মূল ভিত্তি এবং আমাদের এক অমূল্য সম্পদ। তাঁদের দীর্ঘদিনের অর্জিত অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের সুচিন্তিত মতামত ও দিকনির্দেশনা নতুন প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে বয়স্ক ভাতার কভারেজ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে মানুষের জীবনযাত্রার মান ও চিকিৎসা সেবার উন্নতির ফলে গড় আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে দেশের মানুষের গড় আয়ু পুরুষের ক্ষেত্রে ৭৩ বছর এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৭৭ বছরেরও বেশি; অথচ আশির ও নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৫০ বছরের কাছাকাছি।

তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবনা পেলে তা স্বাস্থ্য সেবা সচিবের কাছে প্রেরণ করা হবে। এছাড়া প্রবীণদের কল্যাণে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন, কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কমিটিতে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

প্রাণসায়র খালের সৌন্দর্য বর্ধন ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিমধ্যেই ওয়াকওয়ে নির্মাণের অর্থ সংস্থান হয়েছে, অর্থ ছাড় পেলেই পৌরসভা কাজ শুরু করবে। তবে খালের ভেতরের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা দূর করে কাজ এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রবীণসহ সবার বিনোদন ও হাঁটার সুবিধার জন্য ‘ডিসি ইকো পার্ক’-এ ওয়াকওয়ে, বিশ্রামাগার ও রেস্টুরেন্টসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নামে থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নামে থানায় মামলা

পত্রদূত রিপোর্ট: কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদি হয়ে শনিবার রাতে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত জনকে আসামী করেছেন। মামলায় কিশোর গ্যাং এর নেতা নাহিদ হাসানকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে মুহিদ হাসান বনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন, শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে নাহিদ হাসান, ফিরোজউদ্দিনের ছেলে মুহিদ হাসান বনি, তার ভাই জাকির হোসেন রণি, সিরাজুল ইসলামের ছেলে আরিজুল ইসলাম, আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না, রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ জুয়েল, মোঃ হাসানের ছেলে সাগর, শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে সামি, জমিদার মুন্সির ছেলে মোঃ নাঈম, নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে রাশিদুজ্জামান রাশেদ, মোঃ মিঠুর ছেলে হুজাইফা ও মিজানুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলাম।

এদিকে জাকারিয়াকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা ছাড়াও ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখির মাদ্রাসার সুপার মোঃ রমজান আলীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় তার ভাইয়ের দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী নাহিদ। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল শহরের ফুচকা বাংলার পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী নাহিদ। এ ছাড়া শহরতলীর বাঁকাল ইসলামপুর চর এলাকার এক যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে কুপিয়ে হতার চেষ্টাকারি নাহিদ। এ ছাড়া নাহিদের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ৪৭ নং মামলা ও ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল ৮৮ নং মামলা রয়েছে। যাহা আজো বিচারাধীন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, রবিবার সকালে বনিকে আদালতে পাঠানো হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমা- আবেদন জানানো হবে।

প্রসঙ্গত. শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসের প্রধান ফটকের পাশে চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে বিরোধের জেরে নাহিদসহ কয়েকজন তাকে মারপিট শুরু করলে তাকে বাঁচাতে যেয়ে ছুরিকাঘাতে জাকারিয়া মারা যায়। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসের পাশে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল।

 

সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন বলেন, তার ফুফাত ভাই জাকারিয়া হতাকা-ে যে মামলা করা হয়েছে তা সিসি টিভি দেখেই করা হয়েছে। এখানো নাহিদ বা কাউকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকার কথা বলার সূযোগ নেই। নাহিদকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ পরিবীক্ষণ দলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিতকরণসহ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা আজ (রবিবার) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতি জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, বর্তমান সরকারের ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যার মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। এরই অংশ হিসেবে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং একটি পরিবীক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে।

 

সকল স্তরের মানুষ এবং সমাজকে সচেতন করতে এ অভিযান কার্যকর করতে হবে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে প্রতি শনিবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনে জমা দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা: রনী খাতুনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যবিবরণী

ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। অনেক মানুষ মনে করেন, যে কোন সমস্যায় সমাজকল্যাণের কাছে গেলে তার সমাধান পাওয়া যাবে। অথচ এসব সমস্যার সবকিছু সমাধান করা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থারও এসব বিষয় দেখার দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আজ (রবিবার) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের দপ্তর থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে খুলনা সিএসএস আভা সেন্টারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রম অবহিতকরণ শীর্ষক খুলনা বিভাগীয় সেমিনারের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মানুষের চাওয়ার যেমন শেষ নেই, তেমনি বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে চেষ্টা থাকে। ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার। সামনে ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, তার প্রশিক্ষণ আজ থেকে শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচি উপজেলা পর্যায় এবং ইউনিয়ন ও মাঠপর্যায়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুপারভিশন খুবই প্রয়োজন। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনাকাঙ্কিত ঘটনার বিষয়ে কীভাবে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে সবাইকে আরও সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে। মানুষ যত বেশি আধুনিক ও উন্নত হচ্ছে, সমাজেও তত ধরনের বিভিন্ন সমস্যা ও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাজকল্যাণের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। স্বাভাবিক জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনবল বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি বাড়ানো এবং পদোন্নতির বিষয়ে তাঁরা কাজ করছেন। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে, তবে আরও অনেক কিছু দৃশ্যমান হতে হবে। আজকের আয়োজনটি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে একটি ফ্রি ও ফ্রেন্ডলি আলোচনা এবং ইন্টারএকটিভ সেশনের মতো হবে। এর মাধ্যমে সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আয়োজকদের সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান শেষ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

সেমিনারে খুলনা সিএসএস আভাসেন্টারে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) মোহা: কামরুজ্জামান। সেমিনারে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, জেলা সমাজসেবা অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী