মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

বকচরা আহমাদিয়া মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
বকচরা আহমাদিয়া মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বকচরা আহমাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও তাঁদের সফলতা কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মাদ্রাসার হলরুমে এই বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আইয়ুব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক জ্যেষ্ঠ মৌলভী শিক্ষক মাওলানা শাহাদাৎ হুসাইন।
সহকারী শিক্ষক মোজাফফার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষক মোজাম্মেল হক, আবদুল গফুর সরদার, আব্দুস মাজেদ ও শামছুর রহমান, বিএনপি নেতা আফতাবুজ্জামান আফতাব, আমীর আলী ও মাসুম বিল্লাহ। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুসরেফা তাবাসসুম মাওয়া এবং বিদায়ী পরীক্ষার্থী ইউসুফ আলী ও রুমি।
আলোচনা সভা শেষে পরীক্ষার্থীদের সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাবেক সহকারী সুপার মাওলানা আব্দুস সামাদ। অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

তালায় প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ জরিপ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
তালায় প্রতিবন্ধী সনাক্তকরণ জরিপ অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত উপজেলা কমিটির সভা ও প্রতিবন্ধীতা সনাক্তকরণ জরিপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা মডেল মসজিদ হলরুমে এ সভা ও জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় যৌথভাবে এ আয়োজন করে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফয়সাল সরদার, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মোকলেছুর রহমান, সহকারী প্রোগ্রামার মো. মোতাহার হোসেন এবং তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দারসহ সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, তালা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে প্রতিবন্ধীতা সনাক্তকরণের জন্য যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের সনাক্তকরণ জরিপ সম্পন্ন করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত পরিবারের মাঝে বিআরটিএ’র চেক বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত পরিবারের মাঝে বিআরটিএ’র চেক বিতরণ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জন ও আহত ১২ পরিবারের অনুকুলে মঞ্জুরিকৃত অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট ‘২৬) দুপুর ১২ টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হতাহত ২৭ পরিবারের মাঝে ৯৭ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।

সতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবুল হাশেম সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ জমির হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডাঃ আবুল কালাম বাবলা, সাতক্ষীরা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রউফ প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা অফিসের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক, ম্যাকানিকাল এসিস্টান্ট মোঃ ওবায়দুর রহমান, উচ্চমান সহকারি নাসিরউদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশে জনসংখ্যা বেশি, দুর্ঘটনা ও বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। একটি জীবনহানির ক্ষতি পূরণ টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

 

এরপরও পরিবারের একমাত্র আয়ক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেলে বা পঙ্গু হয়ে গেলে ওই পরিবারের যে দুরাবস্থা হয় সেটা কেবল ওই পরিবারের সদস্যরাই অনুভব করতে পারে। তাই সরকার ওই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার প্রদত্ত টাকার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অভিভাবক হারানো পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে চালক ও পথচারীদের সচেতন থাকতে হবে।

সাতক্ষীরা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ কবলেন, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের হাতে টাকা তুলে দেওয়া সরকারের মহতী উদ্যোগ। সকলকে প্রাপ্ত টাকার সঠিক ব্যবহার করতে হবে।

বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ জামির হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিআরটিএ এর ট্রাষ্টি বোর্ড এর সহায়তায় মঞ্জুরীকৃত অর্থের চেক নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মাথাপিছু পাঁচ লাখ টাকার চেক রমেশ চন্দ্র মৃধা, সুমাইয়া পারভীন, সাঈদ আলী, জি এম শাহানুর রহমান, মোঃ ওজিয়ার রহমান গাজী, রিজাউল ইসলাম মিঠু, কামরুন্নাহার, সুকজান খাতুন, এম এস টি এলিজা আক্তার, মমতাজ পারভীন, চপলা কর্মকার, সুপ্রিয়া রানী খাঁ, মোঃ আব্দুস ছালাম, তাপিয়া সুলতানা ও আব্দুস ছালামের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আহত রাজু পাড়, মোঃ কবির উদ্দিন বিশ্বাস, মোঃ জামাল উদ্দিন, মকছেদ সানা, আবুল হোসেন সানা, মোঃ মঈনুর ইসলাম, মোঃ মফিজুল ইসলামকে ১ লাখ করে এবং মো: জনাব আলী, মিতা দাশ, বিউটি খাতুন, মোঃ সাহাদাত গাজী ও সামিমের হাতে ৩ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।

 

সাতক্ষীরা পলিটেকনিকের ট্যুরিজম বিভাগ: সম্ভাবনার বাতিঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা পলিটেকনিকের ট্যুরিজম বিভাগ: সম্ভাবনার বাতিঘর

মো. মামুন হাসান

সাতক্ষীরার কোনো এক গ্রামের ছেলে হয়তো এখন ভাবছে, এসএসসি পাস করার পর কী পড়বে। পরিবারের স্বপ্ন, একটি ভালো চাকরি। সন্তানের স্বপ্ন, নিজের পায়ে দাঁড়ানো। কিন্তু এই দুই স্বপ্নের মাঝখানে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খায়, তা হলো, পড়াশোনা শেষে কাজটা কোথায়? প্রশ্নটির উত্তর হয়তো আমাদের খুব পরিচিত কয়েকটি পেশার বাইরে কোথাও লুকিয়ে আছে।

 

ভাবুন, সাতক্ষীরার একটি ছেলে চার বছর আগে ভর্তি হলো সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। কয়েক বছর পর সেই তরুণ সুন্দরবনে একজন বিদেশি পর্যটকের গাইড। তার কণ্ঠে সুন্দরবনের গল্প, হাতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, কথায় ইংরেজির স্বচ্ছন্দ ব্যবহার। আবার অন্য কোনো দিন তাকে দেখা গেল ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে। আরেকজন হয়তো বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড সার্ভিসে কাজ করছেন। কেউ নিজের ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। কেউ সাতক্ষীরার গ্রামেই হোমস্টে তৈরি করেছেন।আর কেউ হয়তো একদিন মালদ্বীপের কোনো দ্বীপ রিসোর্টে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখছেন।

 

একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে এতগুলো সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে, বিষয়টি এখনো সাতক্ষীরার অনেক শিক্ষার্থীর কাছে যথেষ্ট পরিচিত নয়।বাংলাদেশে ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট কারিগরি শিক্ষার একটি স্বীকৃত চার বছর মেয়াদি শিক্ষাক্রম। কিন্তু এটিকে কেবল আরেকটি ডিপ্লোমা হিসেবে দেখলে এর আসল সম্ভাবনাটাই ধরা পড়ে না। কারণ এই শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মানুষের চলাচল, আতিথেয়তা, ভ্রমণ, খাদ্য, সংস্কৃতি, যোগাযোগ, ব্যবস্থাপনা এবং সেবা অর্থনীতি।সাতক্ষীরার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।কারণ সাতক্ষীরা নিজেই একটি পর্যটন ভূগোল। সুন্দরবনের পশ্চিম অংশ, নদী, উপকূল, গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় খাবার, লোকজ সংস্কৃতি এবং সীমান্তের বাণিজ্যিক অবস্থান মিলে এই জেলার একটি স্বতন্ত্র পর্যটন পরিচয় তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়েও জাতীয় গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে লেখা হয়েছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতিও দেখিয়েছে যে এই অঞ্চলে পর্যটনের চাহিদা কেবল সম্ভাবনার কাগজে নেই, বাস্তবেও তার উপস্থিতি আছে।কিন্তু পর্যটক এলেই পর্যটন শিল্প তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষ মানুষ।

 

একজন পর্যটক সুন্দরবনে এলেন। তিনি শুধু বনের গাছ দেখতে চান না। জানতে চান, এই বন কীভাবে বেঁচে আছে, জোয়ার কীভাবে মানুষের জীবন বদলায়, মৌয়ালরা কীভাবে মধু সংগ্রহ করেন, বাঘকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের ভয় ও বিশ্বাস কী। একজন দক্ষ স্থানীয় গাইড তখন শুধু পথ দেখান না, তিনি একটি ভূখণ্ডের গল্প বলেন। তিনি হয়ে ওঠেন একটি অঞ্চলের অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত।

 

সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য এখানেই বড় সুযোগ।ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট পড়া মানে শুধু হোটেলে চাকরি করা নয়। বরং হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইনস, বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড সার্ভিস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ট্যুর গাইডিংসহ পর্যটন ও সেবাখাতের নানা পেশায় যাওয়ার পথ তৈরি করা। পর্যটনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে পাঁচ তারকা হোটেল এবং বিমান সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগের কথাও জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে।কিন্তু আমার কাছে এই বিভাগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ।

 

সাতক্ষীরার একজন শিক্ষার্থী চাইলে সাতক্ষীরাতেই একটি ছোট ট্যুর কোম্পানি শুরু করতে পারেন। শুরুতে অফিস না থাকলেও চলে। একটি মোবাইল ফোন, একটি ফেসবুক পেজ, কয়েকটি ভালো পর্যটন প্যাকেজ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা দিয়েই শুরু হতে পারে। সাতক্ষীরা থেকে সুন্দরবন, সুন্দরবন থেকে খুলনা, গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় খাবার, নদীভ্রমণ কিংবা হোমস্টে নিয়ে তৈরি হতে পারে ছোট ছোট পর্যটন প্যাকেজ।

 

একজন কাজ শুরু করবেন, তাঁর সঙ্গে যুক্ত হবেন একজন নৌকার মাঝি, একজন গাড়িচালক, একজন স্থানীয় রাঁধুনি, একজন গাইড, একজন ফটোগ্রাফার। অর্থাৎ একজন তরুণের উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত একসময় কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানে পরিণত হতে পারে।এখানেই পর্যটন শিক্ষার সৌন্দর্য।এটি শুধু চাকরি খোঁজার শিক্ষা নয়, চাকরি তৈরি করার শিক্ষাও হতে পারে।

 

সাতক্ষীরার স্থানীয় খাবারও হতে পারে এই অর্থনীতির অংশ। একটি সন্দেশ, এক পাত্র খেজুরের গুড়, উপকূলের শুঁটকি, গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী রান্না কিংবা কোনো কারুশিল্পকে যদি পর্যটকের জন্য একটি অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় সংস্কৃতি আর শুধু স্মৃতির বিষয় থাকে না, হয়ে ওঠে অর্থনৈতিক সম্পদ।

 

রবীন্দ্রনাথের সেই পঙ্‌ক্তি মনে পড়ে, “পথের শেষ কোথায়, শেষ কোথায়, কী আছে শেষে।” ট্যুরিজমের শিক্ষার্থীর পথটিরও কোনো নির্দিষ্ট শেষ নেই। সাতক্ষীরায় শুরু হয়ে সেই পথ যেতে পারে ঢাকায়, কক্সবাজারে, সিলেটে কিংবা সুন্দরবনের নৌপথে। আবার দেশের সীমানা পেরিয়ে যেতে পারে মালদ্বীপ, দুবাই, কাতার, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্রে।

 

পৃথিবীর পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এর ভাষা প্রায় সর্বজনীন। একজন মানুষকে স্বাগত জানানো, তার প্রয়োজন বোঝা, তাকে নিরাপদ ও সুন্দর অভিজ্ঞতা দেওয়া, খাবার পরিবেশন করা, ভ্রমণের ব্যবস্থা করা কিংবা একটি স্থানের গল্প বলা, এগুলো কোনো একটি দেশের একচেটিয়া দক্ষতা নয়। তাই দক্ষতা থাকলে একজন সাতক্ষীরার তরুণও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। আর এখানেই ইংরেজি ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহার ও পেশাদার আচরণের গুরুত্ব। একটি ভালো হোটেলের লবিতে দাঁড়িয়ে শুধু হাসতে জানলেই হয় না, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জানতে হয়। একজন পর্যটকের প্রয়োজন বুঝতে হয়। সমস্যা হলে সমাধান করতে হয়। প্রযুক্তির সাহায্যে রিজারভেশন, টিকিটিং, অনলাইন মার্কেটিং কিংবা পর্যটন ব্যবস্থাপনা করতে হয়। ফলে এই শিক্ষার ভেতর দিয়ে একজন শিক্ষার্থী একই সঙ্গে কারিগরি দক্ষতা ও মানবিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।তবে সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি হতে পারে নিজের শহরকে ঘিরে।সাতক্ষীরার ছেলে সাতক্ষীরাতেই দাঁড়িয়ে যদি বলতে পারে, “আমার চাকরি আমি নিজেই তৈরি করেছি”, তাহলে সেটিই হবে এই শিক্ষার সবচেয়ে বড় সাফল্য।

 

আমরা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকে অনেক সময় বড় শহরের দিকে তাকিয়ে দেখি। মনে করি ভালো ক্যারিয়ার মানেই ঢাকা। অথচ ডিজিটাল যুগে এবং পর্যটনের বিকাশে এই ধারণা বদলানোর সুযোগ এসেছে। একজন দক্ষ ট্যুর অপারেটরের অফিস সাতক্ষীরায় হতে পারে, তাঁর গ্রাহক হতে পারেন ঢাকার মানুষ কিংবা বিদেশি পর্যটক। তাঁর গাইড হতে পারেন স্থানীয় তরুণ। তাঁর খাবারের সরবরাহ দিতে পারেন গ্রামের নারী উদ্যোক্তা। তাঁর পরিবহন দিতে পারেন স্থানীয় চালক। অর্থাৎ একটি পর্যটন উদ্যোগ একটি পুরো স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করতে পারে।

 

সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে তাই শুধু একটি শিক্ষাক্রম হিসেবে দেখার সময় হয়তো পেরিয়ে গেছে। এটিকে দেখতে হবে সাতক্ষীরার মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় ভিত্তি হিসেবে।কারণ সুন্দরবন আমাদের আছে, কিন্তু সুন্দরবনের গল্প বলার মতো দক্ষ মানুষ কতজন তৈরি করেছি?প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে, কিন্তু সেই প্রকৃতিকে পর্যটন পণ্যে রূপ দেওয়ার দক্ষতা কতটা তৈরি করেছি? সাতক্ষীরার তরুণ আছে, কিন্তু তাদের হাতে স্থানীয় সম্ভাবনাকে কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়ার মতো প্রশিক্ষণ কতটা পৌঁছেছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার একটি জায়গা হতে পারে পলিটেকনিকের সেই শ্রেণিকক্ষ। হয়তো কোনো একদিন সেই শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা একজন তরুণই সুন্দরবনের নৌকায় বিদেশি পর্যটককে বলবেন, “ওয়েলকাম টু সুন্দরবন.” কয়েক বছর পর হয়তো সেই একই তরুণ নিজের ট্যুর কোম্পানির মালিক।অথবা কোনো পাঁচ তারকা হোটেলের ব্যবস্থাপক।অথবা বিমানবন্দরের পেশাজীবী।অথবা মালদ্বীপের কোনো রিসোর্টে কর্মরত।অথবা নিজের গ্রামের পাশে গড়ে তোলা একটি হোমস্টের উদ্যোক্তা।শুরুটা কিন্তু একই জায়গা থেকে।সাতক্ষীরার একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে।

 

তাই ট্যুরিজম পড়া মানে শুধু পর্যটক হওয়া নয়। বরং পর্যটনের মানুষ হওয়া। নিজের মাটিকে নতুন চোখে দেখা। নিজের এলাকার গল্পকে অর্থনীতিতে রূপ দেওয়া। আর প্রয়োজন হলে সেই দক্ষতা নিয়ে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করা।শিকড় সাতক্ষীরায় থাকুক, কিন্তু স্বপ্নের সীমানা হোক পুরো পৃথিবী।সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হয়তো এখানেই।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।