বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেন, গড়ল বড় রেকর্ড
স্পেনের অবশেষে নকআউটে জয়ের খরা কাটাল। রাউন্ড অব থার্টি-টুর ম্যাচে আজ অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্পেন। সেইসঙ্গে ২০১০ সালের ফাইনালের পর এই প্রথম নকআউট ম্যাচ জিতল তারা।
স্পেনের হয়ে জোড়া গোল করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। মার্ক কুকুরেয়ার পাসে ম্যাচের প্রথম গোলটি তিনি করেন প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটে। এরপর দ্বিতীয় গোলটি করেন ৮৯ মিনিটে। এটিও এসেছে কুকুরেয়ার সহায়তায়।
ওইয়ারসাবালের দুই গোলের মাঝে অন্য গোলটি করেছেন পেদ্রো পোরো। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আলেক্স বায়েনার ক্রসে জোরাল হেডে বল জালে জড়ান এই ডিফেন্ডার।
৩-০ গোলে জেতা এই ম্যাচটিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়েছে স্পেন। ম্যাচে ৬৪ শতাংশ বলের দখল রাখা স্পেন ২৩ শটের ১০টিই লক্ষ্যে রাখে, অন্য দিকে অস্ট্রিয়া ৫টি শট নিলেও কোনোটি লক্ষ্যে ছিল না। বলা যায়, ম্যাচজুড়ে অস্ট্রিয়া স্পেনকে তেমন কোনো বিপদই তৈরি করতে পারেনি। স্বস্তির এক জয় নিয়েই নকআউটের প্রথম পর্ব পার করল ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা।
২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে একটি নকআউট ম্যাচও জিততে পারেনি স্পেন। অথচ, ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ইউরো ২০০৮, বিশ্বকাপ ২০১০ ও ইউরো ২০১২—টানা তিনটি বড় শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছিল স্পেনের সোনালি প্রজন্ম। কিন্তু সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপে আর ধরে রাখতে পারেনি তারা।
২০১৪ সালে শিরোপাধারী হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় স্পেন। এরপর ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ও ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে যথাক্রমে রাশিয়া ও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের।
এবারও বিশ্বকাপে শুরুটাও প্রত্যাশামতো হয়নি। কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। তবে পরের দুই ম্যাচে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষ দল হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নেয়। এবার নকআউটেও জয়ের স্বাদ পেল তারা।
শুধু তাই নয়? সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন এখন টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত। আজ অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে গড়া নিজেদের টানা ৩৫ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করেছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।






