বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস: চিকিৎসার সুস্থ ভবিষ্যৎ নির্মাণে ফার্মাসিস্টের ভূমিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস: চিকিৎসার সুস্থ ভবিষ্যৎ নির্মাণে ফার্মাসিস্টের ভূমিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস। ওষুধের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে নতুন ওষুধের গবেষণা, উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, রোগীকে পরামর্শ প্রদান, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংকট মোকাবিলাÑফার্মাসিস্টদের ভূমিকা আজ আর কেবল ওষুধ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যপেশাজীবীর পাশাপাশি ফার্মাসিস্টরাও রোগীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যফল উন্নয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

২০২৬ সালের বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থতর ভবিষ্যতের জন্য ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন’। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (এফআইপি) নির্ধারিত এই প্রতিপাদ্য পরিবর্তনশীল স্বাস্থ্যচাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফার্মাসিস্টদের দক্ষতা, স্বীকৃতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। জনসংখ্যাগত পরিবর্তন, অসংক্রামক রোগের বিস্তার, ডিজিটাল স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও জলবায়ুজনিত চাপের যুগে ফার্মাসিস্টদের সক্ষমতা বাড়ানোকে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার অন্যতম উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে এফআইপি। সংগঠনটি ১৯১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে স্মরণ করে ২৫ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় এফআইপি কাউন্সিল। ২০০৯ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এফআইপি কংগ্রেসে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০২০ সাল থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের উদযাপনকে আরও বিস্তৃত করে ‘বিশ্ব ফার্মেসি সপ্তাহ’ চালু করা হয়। ২০২৬ সালে বিশ্ব ফার্মেসি সপ্তাহ পালিত হচ্ছে ১৯ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর। এতে শুধু ফার্মাসিস্ট নয়, ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানী, ফার্মেসি টেকনিশিয়ান এবং সহযোগী কর্মীদের অবদানও শ্রদ্ধাভরে তুলে ধরা হচ্ছে।

একজন রোগীর জন্য সঠিক ওষুধ নির্বাচন, সঠিক মাত্রা, সঠিক সময়ে গ্রহণ এবং ওষুধের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে যথাযথ তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে একাধিক ওষুধ ব্যবহার করলে তাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট রোগীর ওষুধ-নিরাপত্তার প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করেন।

কমিউনিটি ফার্মেসি, হাসপাতাল, ক্লিনিক্যাল সেবা, ওষুধ শিল্প, গবেষণাগার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিÑসব ক্ষেত্রেই ফার্মাসিস্টদের দায়িত্বের পরিধি বিস্তৃত। রোগীকে ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম বোঝানো, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন যাচাই, ওষুধের নিরাপদ সংরক্ষণ, প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরিতেও তাদের অবদান অনস্বীকার্য। এফআইপি-এর ২০২৬ সালের প্রচারণায় বলা হয়েছে; ফার্মাসিস্টদের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে সহায়ক আইন ও নীতি, টেকসই অর্থায়ন, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় তাদের যথাযথ সংযুক্তি এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রয়োজন।

ফার্মেসি মূলত স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি সমন্বিত ক্ষেত্র। নতুন ওষুধের অণু শনাক্তকরণ, ফর্মুলেশন উন্নয়ন, কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব পরীক্ষা, ডোজ-ফর্ম তৈরি, ক্লিনিক্যাল গবেষণা এবং বাজারে আসার পর ওষুধের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে ফার্মাসিস্ট ও ফার্মাসিউটিক্যাল বিজ্ঞানীরা মূল ভূমিকা পালন করেন।

তারা নির্ধারিত মান ও গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাক্টিস (জিএমপি) অনুসরণ করে বৃহৎ পরিসরে ওষুধ উৎপাদন করেন। কাঁচামাল ও প্রস্তুত ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষাগারে যাচাই, উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে মান নিশ্চিতকরণ, ওষুধের নিবন্ধন, অনুমোদন ও নীতিমালা অনুশীলনেও তারা যুক্ত থাকেন। এর পাশাপাশি ওষুধের যথাযথ তাপমাত্রা, পরিবহন, সংরক্ষণ এবং ব্যবহার-পরবর্তী বিরূপ প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ (ফার্মাকোভিজিল্যান্স) তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অর্থাৎ, ফার্মাসিস্টরা কেবল ওষুধের সঙ্গে কাজ করেন না; তারা ওষুধের গুণগত মান, নিরাপত্তা, উৎপাদন দক্ষতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করেন।

আধুনিক ওষুধশিল্পের বিকাশ শিল্পবিপ্লব, রসায়নবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং বৃহৎ পরিসরে মানসম্মত উৎপাদন প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে রাসায়নিক শিল্প ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রসারের ফলে ওষুধ উৎপাদন ধীরে ধীরে হাতে তৈরি থেকে শিল্পভিত্তিক রূপ নেয়।

ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় একটি অবিস্মরণীয় নাম। ১৯০১ সালে কলকাতায় তাঁর উদ্যোগে ‘বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস ওয়ার্কস’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এই অঞ্চলের দেশীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রথম আধুনিক ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশে আধুনিক ফার্মেসি শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটিই দেশে ফার্মেসি শিক্ষার প্রথম প্রধান কেন্দ্র। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৮ সালে এমফার্ম এবং ১৯৯৫ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ অনুষদের রূপ পায়। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে এখানে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘ব্যাচেলর অব ফার্মেসি প্রোফেশনাল’ প্রোগ্রাম চালু রয়েছে।

বর্তমানে ফার্মাসিস্টদের কর্মক্ষেত্র শুধু ওষুধ কারখানায় সীমাবদ্ধ নয়। ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, হাসপাতাল, কমিউনিটি ফার্মেসি, ড্রাগ রেগুলেটরি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, এপিআই শিল্প ও কসমেটিকস শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে ওষুধের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিক্রয়, মজুত, সংরক্ষণ, বিতরণ ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ওষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’ কার্যকর রয়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস উল্লেখযোগ্য। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ২০২৪-২৫ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ উৎপাদক, যাদের ২০২৫ অর্থবছরে সমন্বিত টার্নওভার ছিল প্রায় ৯১.৪৫ বিলিয়ন টাকা এবং বাজার অংশীদারত্ব প্রায় ১৭.৪১ শতাংশ। অন্যদিকে, বৈশ্বিক পরিম-লেও ওষুধ শিল্পের আকার সুবিশালÑযেখানে জনসন অ্যান্ড জনসন, ফাইজার, এলি লিলি কিংবা রোশের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখছে।

ফার্মেসির ভবিষ্যৎ কেবল নতুন ওষুধ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল স্বাস্থ্য, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা, জিনভিত্তিক চিকিৎসা, বায়োলজিক্যাল ওষুধ এবং টেলিহেলথের প্রসার ফার্মাসিস্টদের কাজের ক্ষেত্র দ্রুত বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি, বার্ধক্যজনিত স্বাস্থ্যচাহিদা এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফার্মাসিস্টদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক পেশাগত প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও রোগীকেন্দ্রিক সেবার মানসিকতা।

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস কেবল একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে সম্মান জানানোর দিন নয়; এটি নিরাপদ ওষুধ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, রোগীর অধিকার ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবার তাগিদ দেয়। ‘সুস্থতর ভবিষ্যতের জন্য ফার্মাসিস্টদের ক্ষমতায়ন’Ñ২০২৬ সালের এই প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল ফার্মাসিস্টের ওপরই নির্ভর করে রোগীর নিরাপত্তা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার মান। তাই ফার্মাসিস্টদের শিক্ষা, গবেষণা, পেশাগত মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানে একটি বৈজ্ঞানিক ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত করা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির শুভেচ্ছা বিনিময়

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহম্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম।

এসময় বক্তব্য রাখেন, জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মনিরুজ্জামান প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজসহ অন্যরা। সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সময় টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মমতাজ আহমেদ বাপী, দৈনিক দক্ষিণের মশালের সম্পাদক আশেক ই এলাহী, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ আলী সুজন, রুপালী বাংলাদেশ পত্রিকার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মোমিনুর রহমান, বৈশাখী টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি শামীম পারভেজ, মুক্তস্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালাম, ডা: মহিদার রহমান, হৃদয় বার্তার সম্পাদক জি এম মোশাররফ হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আমিনুর রহমান, শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, মাহমুদ হাসান, ফয়জুল হক বাবু, এস এম জুলফিকার আলী জিন্নাহ, গাজী ফরহাদ, সাইদুল বাসার, সরদার আবু সাঈদ, সাইফুল আযম খান মামুন, শেখ মাসুদ আলীসহ অন্যরা। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি’র সাতক্ষীরা প্রতিনিধি এম.বেলাল হোসাইন।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে গণমাধ্যকর্মীরা নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের কাছে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ভূমিকা রাখা, মাদক, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি মুক্ত জেলা গঠনের দাবি জানান। এর জবাবে যুবদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান বলেন, “অনলাইন জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা সবসময় সোচ্চার রয়েছি। আমাদের দলের কোনো নেতা বা কর্মী যদি মাদক কিংবা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকে এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হব না। এছাড়া সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন তিনি।

 

সাতক্ষীরার দেড় বছরে ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনায় অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার দেড় বছরে ১৬ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনায় অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির ১৬ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহ হয়েছে। গত দেড় বছরের মধ্যে এসব বিয়ে হয় বলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে তিন ছাত্রীর বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় তারা আবার বাবার বাড়িতে ফিরে পড়াশোনা শুরু করেছে।

২৪ সেপ্টেম্বর ওই ১৬ ছাত্রীর অভিভাবককে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন ছাত্রীও উপস্থিত ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনওর কার্যালয়ের সভাকক্ষে গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রী ও অভিভাবকেরা বসে আছেন। সাতক্ষীরা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা তাঁদের তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করছিলেন। পরে ইউএনও অর্ণব দত্ত উপস্থিত হয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বৈঠকে এক অভিভাবক জানান, তাঁর মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করে। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানো ওই অভিভাবক বলেন, কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকতে হওয়ায় মেয়ের ওপর সব সময় নজর রাখা সম্ভব হয়নি। আরেক অভিভাবক জানান, মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁর মেয়ে পঞ্চগড়ের এক যুবকের সঙ্গে গোপনে বিয়ে করে। পরে মেয়েকে ফিরিয়ে এনে পারিবারিকভাবে বিয়ে দিলেও তা নিবন্ধিত হয়নি।

আরেকজন অভিভাবক বলেন, বখাটেদের উপদ্রব থেকে রক্ষা করতেই তিনি তাঁর ১৫ বছরের মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ইউএনও তাঁকে প্রশ্ন করেন, বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল কি না। ওই অভিভাবক জানান, তিনি কাউকেই জানাননি।

ইউএনও অর্ণব দত্ত বলেন, কোনো ছাত্রী বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকলে বিষয়টি প্রথমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে জানতে হবে এবং পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান এ দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।

বৈঠক শেষে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় যে মেয়েদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো যাবে না এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ইউএনও।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘স্মল এরিয়া এস্টিমেশন’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বাল্যবিবাহের হারে সাতক্ষীরা জেলা অষ্টম স্থানে রয়েছে, যেখানে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার ৬২ শতাংশের বেশি।

সাতক্ষীরায় সুপেয় পানি প্রকল্পের শিখন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সুপেয় পানি প্রকল্পের শিখন ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানি নিশ্চিতকরণে পরিচালিত ‘সাতক্ষীরা রেজিলিয়েন্ট ওয়াটার সিস্টেমস পাইলট প্রজেক্ট’-এর শিখন ও অর্জন বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’। সেভ দ্য চিলড্রেন কোরিয়ার অর্থায়ন ও সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রজেক্ট অফিসার নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আলমগীর কবির এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জিত কুমার দাস।
কর্মশালায় প্রকল্পের ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. আবু হাসনাত।

কর্মশালায় জানানো হয়, রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট, গভীর নলকূপ, পিএসএফ ও স্কুলভিত্তিক মিনি আরও সিস্টেমের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকার ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এখন নিরাপদ সুপেয় পানি পাচ্ছে।