মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃষ্টি বিরতির পর শুরু হয়েছে শেষ সেশনের খেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
বৃষ্টি বিরতির পর শুরু হয়েছে শেষ সেশনের খেলা

স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১ ওভারে ৯৩/২ (মুমিনুল ৩৭*, শান্ত ৩৪*; মাহমুদুল ৫, সাদমান ১০)

পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ১০০.৩ ওভারে ৩৮৬/১০ (আব্বাস ৬*; ইমাম ৪৫, আজান ১০৩, শান ৯, সৌদ ০, ফজল ৬০, রিজওয়ান ৫৯, সালমান ৫৮, নোমান ২, শাহীন ১৩, হাসান ৬)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১১৭.১ ওভারে ৪১৩/১০ (নাহিদ ৪*; মাহমুদুল ৮, সাদমান ১৩, শান্ত ১০১, মুমিনুল ৯১, লিটন ৩৩, মিরাজ ১০, তাইজুল ১৭, মুশফিক ৭১, এবাদত ০, তাসকিন ২৮)

বৃষ্টিতে ভেসে গেছে পুরো দ্বিতীয় সেশন। তৃতীয় সেশনের খেলাও শুরু হয়েছে দেরিতে বিকাল পৌনে ৪টায়। ফলে ম্যাচটা পৌনে ৬টা পর্যন্ত চলবে। আলো থাকলে খেলা চলতে পারে সোয়া ৬টা পর্যন্তও।

মিরপুরে থেমেছে বৃষ্টি, খেলা শুরুর অপেক্ষা

লাঞ্চ বিরতির পর বৃষ্টিতে পুরো দ্বিতীয় সেশন ভেসে গেছে। মিরপুরে বৃষ্টি থামলেও মাঠ শুকানোর কাজ চলছে। এখন ম্যাচ শুরুর অপেক্ষা। ক্রিকইনফোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী খেলা শুরু হতে পারে পৌনে ৪টায়।

লাঞ্চ বিরতির পর বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা

লাঞ্চ বিরতির পর বৃষ্টির কারণে মিরপুরে নির্ধারিত সময়ে দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে।

১২০ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের প্রথম ঘণ্টায় দুই ওপেনারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তার পর অবশ্য ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। এই ম্যাচে দ্বিতীয় শক্ত জুটি গড়ে লাঞ্চ বিরতিতে গেছেন তারা। তাদের প্রতিরোধে দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৯৩ রানে প্রথম সেশন শেষ করেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়ে ১২০ রানে। মুমিনুল হক ৩৭ রানে, নাজমুল হোসেন ৩৪ রানে ব্যাট করছেন।

আগের দিন আলোর স্বল্পতায় আগেভাগে ম্যাচ শেষ হওয়ায় এদিন ১৫ মিনিট আগে শুরু হয় খেলা।

এসেই সাদমানকে তুলে নিলেন হাসান আলী

মাহমুদুল হাসান জয়ের পর বেশিক্ষণ ক্রিজে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামও। হাসান আলীর দিনের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই ক্যাচ দিয়ে ১০ রানে ফিরেছেন। তার ২২ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার।

হাসান আলীর বাড়তি বাউন্স ভড়কে দেয় সাদমানকে। বল তার ব্যাটের উপরে লেগে চলে যায় সৌদ শাকিলের হাতে।

চতুর্থ দিনের শুরুতে ফিরলেন মাহমুদুল

স্থায়ী হয়নি বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। চতুর্থ দিনে ৫.১ ওভারে আব্বাসের প্রথম বলেই লেগ বিফোরের শিকার হয়েছেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৫)। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। আম্পায়ার্স কলে কপাল পুড়েছে তার। বাংলাদেশ প্রথম উইকেট হারায় ১৫ রানে।

বড় লক্ষ্যের আশায় চতুর্থ দিন শুরু করেছে বাংলাদেশ

ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় দিনের শেষ বিকালে আলোর স্বল্পতায় বেশিক্ষণ ব্যাট করার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। ১.৫ ওভারে ৭ রানে খেলা শেষ করেছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে আজ চতুর্থ দিন তাই আগেভাগে শুরু হয়েছে খেলা। ৩৪ রানের লিড নিয়ে খেলা শুরু করেছেন দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম।

গতকাল মেহেদী হাসান মিরাজের পাঁচ উইকেট শিকারের দিনে পাকিস্তানকে প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানে থামায় বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে তারা ২৭ রানে পিছিয়ে থেকে অলআউট হয়েছে।

পাকিস্তানের ইনিংসে বড় অবদান ছিল অভিষিক্ত আজান আওয়াইজের। সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। এছাড়া আবদুল্লাহ ফজল, সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান হাফসেঞ্চুরিতে প্রতিরোধ গড়েন।

১০২ রানে মিরাজ নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৫ উইকেট। দুটি করে নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম।

 

Ads small one

ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় রমিজ হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কারওয়ান বাজার এলাকায় এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁর রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা।
এর আগে সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাঁকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ রূপ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তবে মঙ্গলবার তিনি আদালতে উপস্থিত না থাকায় বিচারক রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কারওয়ান বাজার এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপ। বিকেলবেলা মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে আসামিদের ছোড়া গুলি তাঁর ডান চোখে লাগে। আন্দোলনকারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কাঁঠালবাগানের একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত রূপের বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ তেজগাঁও থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যসংকটে সুন্দরবনের বাঘ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। বনে ‘বাঘের কেল্লা’ নির্মাণ ও ক্যামেরা ট্র্যাপের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকেরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এখনো উদ্বেগজনক।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবনে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং খালের নাব্য হ্রাসের ফলে মিঠাপানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে হরিণসহ তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা কমায় বাঘের খাদ্যশৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বনজীবী নুর ইসলাম ও হরিনগর এলাকার জেলে আকবর আলী জানান, আগের মতো বনে হরিণ বা বাঘের বিচরণ এখন আর দেখা যায় না। তা ছাড়া বনদস্যু ও চোরাশিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনা ঘটছে। শিকারের কারণে বাঘের প্রধান খাদ্য হরিণের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনে বাঘের বিচরণক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ায় বাঘ মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে, যা মানুষ-বাঘ সংঘাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সাতক্ষীরা উপকূলে বাঘের আক্রমণে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কাঠুরে, জেলে ও মৌয়াল।

জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এম মনিরুল এইচ বলেন, বাঘকে শুধু একটি প্রাণী হিসেবে দেখলে হবে না। বাঘ সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের শীর্ষ শিকারি। লবণাক্ততা বাড়া ও মিঠাপানির অভাবের পাশাপাশি মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বাঘের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই পরিবেশ ও স্থানীয়দের জীবিকাÑ সব মিলিয়েই সমন্বিত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুন্দরবনে ৬২টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা সুলজ কুমার দ্বীপ বলেন, “মিঠাপানির সংকট দূর করতে বনের ভেতরে কৃত্রিম পুকুর খনন করা হয়েছে। চোরাশিকার প্রতিরোধে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে বাঘের সংখ্যা কিছুটা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১২৫টিতে পৌঁছেছে।”

 

 

 

 

 

চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসকের অবহেলায় যমজ সন্তানের মায়ের জীবন সংকটাপন্ন

মো. জাবের হোসেন: যমজ সন্তান প্রসবের পর জরায়ুতে গর্ভফুলের (ফুল) অংশবিশেষ রেখেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেওয়ার চরম অভিযোগ উঠেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তদারকি ও চিকিৎসার গাফিলতিতে প্রসূতি রিমা খাতুন (১৮) প্রসব-পরবর্তী মারাত্মক রক্তক্ষরণে (সেকেন্ডারি পিপিএইচ) আক্রান্ত হয়েছেন। এতে ইতোমধ্যে তাঁর এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে রিমা নিজেও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। গত ৫ জুলাই সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মেলা বাজারে অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
মেডিকেল রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রসবের পর গর্ভফুল বা প্রসবসংক্রান্ত উপাদান সম্পূর্ণ অপসারণ না করেই প্রসূতিকে ছাড়পত্র দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ফলে জরায়ুতে অবশিষ্ট অংশ থেকে ক্রমাগত রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং তিনি মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় (অ্যানিমিয়া) ভোগেন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর জরায়ু পরিষ্কার ও রক্ত সঞ্চালন করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রসবের পর প্রসূতির জরায়ু সঠিকভাবে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া চরম চিকিৎসাগত অবহেলা, যা রোগীর জীবন বিপন্ন করতে পারতো।
রিমা খাতুনের বাবা শুকুর আলী সরদার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গত ৪ জুলাই তাঁর মেয়ে রিমা ও জামাতা মো. সেলিম খাঁ পরামর্শের জন্য তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে যান। পরদিন ৫ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী বিধান বাবুর পরামর্শে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিধান নিজে উপস্থিত থেকে এক নার্সকে দিয়ে এপিসিওটমি (সাইট কাটা) ও সেলাইয়ের কাজ করান। ওই দিনই রিমা দুটি যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
জন্মের পরপরই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাদের খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে ৭ জুলাই রিমা খাতুনকে ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলে তিনিও খুলনায় সন্তানদের কাছে চলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পরদিন রিমা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তাঁর জরায়ুতে গর্ভফুলের অংশ রয়ে গেছে। পরে জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ু পরিষ্কার করা হয়।
রিমার স্বামী সেলিম খাঁ আক্ষেপ করে বলেন, “ডাক্তারের বদলে ক্লিনিক মালিক নিজে উপস্থিত থেকে নার্সকে দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এই ভুল চিকিৎসার জন্যই আমার স্ত্রীর আজ এই অবস্থা, আর আমাদের একটি সন্তানও মারা গেছে। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।”
এদিকে ২৫ জুলাই সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রসূতির চিকিৎসায় গাফিলতির চিত্রটি সেখানে পরোক্ষভাবে উঠে আসে। স্বত্বাধিকারী বিধান কখনো নিজেকে ‘মালিক’ আবার কখনো ‘ম্যানেজার’ পরিচয় দেওয়ায় কারণ জানতে চাইলে ম্যানেজার মশিউর রহমান দাবি করেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা মানসিকভাবে চাপের মধ্যে রয়েছি, তাই হয়তো তিনি এমন বলছেন।”
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হলে প্রসূতির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সাত হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রসূতির পরিবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
অন্যদিকে, প্রসবের কাজে যুক্ত নার্স রিমা খাতুন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এছাড়া ছাড়পত্র দেওয়ার পর রোগীর জীবনঝুঁকির কথা জেনেও কেন তাঁর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি—সে প্রশ্নের কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।